ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে? আসুন, জেনে নেই!

Ispahani Eye Hospital visiting hours: চোখের সমস্যা নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই ভুগি। আর যখন চোখের সমস্যা গুরুতর হয়, তখন একটি ভালো চক্ষু হাসপাতালের খোঁজ করি। বাংলাদেশে অনেক স্বনামধন্য চক্ষু হাসপাতালের…

Debolina Roy

 

Ispahani Eye Hospital visiting hours: চোখের সমস্যা নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই ভুগি। আর যখন চোখের সমস্যা গুরুতর হয়, তখন একটি ভালো চক্ষু হাসপাতালের খোঁজ করি। বাংলাদেশে অনেক স্বনামধন্য চক্ষু হাসপাতালের মধ্যে ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল একটি অন্যতম। কিন্তু এখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আগে, “ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?” এই তথ্যটি জেনে নেওয়া দরকার। এতে করে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে না।

আজকে আমরা এই হাসপাতাল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনি সহজেই আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো এবং বিশ্বস্ত চক্ষু হাসপাতাল। এটি দেশের মানুষের চোখের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চোখের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার কারণে এই হাসপাতালটি মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয়।

এই হাসপাতালের বিশেষত্ব কি?

  • অভিজ্ঞ ডাক্তার: এখানে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ নিয়মিতভাবে রোগীদের সেবা প্রদান করেন।
  • আধুনিক প্রযুক্তি: আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এখানে চোখের বিভিন্ন রোগের সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়।
  • সাশ্রয়ী চিকিৎসা: অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।
  • বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ: এখানে বহির্বিভাগে সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং জরুরি বিভাগে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যায়।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?

“ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?” এই প্রশ্নের উত্তরটি হলো – এই হাসপাতালটি সাধারণত শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। তবে, জরুরি বিভাগ খোলা থাকে।

চোখের রঙ থেকে ব্যক্তিত্ব: কতটা নির্ভরযোগ্য এই ধারণা?

জরুরি বিভাগ কখন খোলা থাকে?

জরুরি বিভাগ সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। তাই, চোখের কোনো জরুরি সমস্যা হলে আপনি নিশ্চিন্তে এখানে যেতে পারেন।

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে কি কোনো সেবা পাওয়া যায়?

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে সাধারণত বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ থাকে। তবে, জরুরি প্রয়োজনে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল: খোলা ও বন্ধের সময়সূচী

আপনার সুবিধার জন্য, নিচে একটি সময়সূচী দেওয়া হলো:

দিন সময় বিভাগ
সোমবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
মঙ্গলবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
বুধবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
শুক্রবার বন্ধ বহির্বিভাগ (বন্ধ)
শনিবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
রবিবার সকাল ৮:০০ – বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত বহির্বিভাগ (নিয়মিত)
প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ (খোলা)

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে কি কি রোগের চিকিৎসা করা হয়?

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চোখের প্রায় সকল ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয়। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রোগের নাম উল্লেখ করা হলো:

  • ছানি (Cataract)
  • গ্লুকোমা (Glaucoma)
  • কর্ণিয়া রোগ (Corneal Diseases)
  • চোখের আঘাত (Eye Injuries)
  • শিশুদের চোখের রোগ (Pediatric Ophthalmology)
  • ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (Diabetic Retinopathy)
  • দৃষ্টি সমস্যা (Refractive Errors)

ছানি চিকিৎসা

ছানি অপারেশনের জন্য ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল বেশ পরিচিত। এখানে আধুনিক ফেকো সার্জারির মাধ্যমে ছানি অপারেশন করা হয়, যা দ্রুত আরোগ্য লাভে সাহায্য করে।

গ্লুকোমা চিকিৎসা

গ্লুকোমা একটি জটিল রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। এই হাসপাতালে গ্লুকোমার উন্নত চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলো-আপের ব্যবস্থা রয়েছে।

কর্ণিয়া রোগের চিকিৎসা

কর্ণিয়া রোগের মধ্যে রয়েছে কর্ণিয়ার আলসার, ইনফেকশন এবং অন্যান্য সমস্যা। এখানে কর্ণিয়া ট্রান্সপ্লান্টেশনসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা उपलब्ध।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে কিভাবে সিরিয়াল বুকিং করবেন?

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে সিরিয়াল বুকিং করার জন্য আপনি কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন:

  • সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে রিসেপশন থেকে সিরিয়াল দিতে পারেন।
  • হাসপাতালের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন সিরিয়াল বুকিং করতে পারেন।
  • টেলিফোনের মাধ্যমে সিরিয়াল বুকিং করতে পারেন।

অনলাইন সিরিয়াল বুকিং

অনলাইন সিরিয়াল বুকিং করার জন্য আপনাকে হাসপাতালের ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন।

টেলিফোনে সিরিয়াল বুকিং

টেলিফোনে সিরিয়াল বুকিং করার জন্য হাসপাতালের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে হবে। হেল্পলাইন থেকে আপনাকে সিরিয়াল বুকিংয়ের নিয়মাবলী জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের প্রধান শাখাটি ঢাকায় অবস্থিত। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে এর শাখা রয়েছে। নিচে প্রধান শাখার ঠিকানা এবং যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হলো:

  • প্রধান শাখা: ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ।
  • ফোন: +৮৮-০২-৯১১৮০৮১-৮৫
  • ইমেইল: info@iiieh.org

অন্যান্য শাখাগুলোর ঠিকানা কিভাবে জানবেন?

ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের অন্যান্য শাখাগুলোর ঠিকানা এবং ফোন নম্বর জানতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

“ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?” এই প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ):

এখানে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো, যা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে:

প্রশ্ন ১: ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল কি সরকারি?

উত্তর: না, ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়।

প্রশ্ন ২: এই হাসপাতালে কি ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে?

উত্তর: কিছু নির্দিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাথে তাদের চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন ৩: এখানে কি বিদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল বিদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। তাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: এই হাসপাতালে চোখের কোন কোন রোগের জন্য লেন্স ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: এই হাসপাতালে ছানি, মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া এবং অন্যান্য দৃষ্টি সমস্যার জন্য লেন্স ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন ৫: ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে কি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসা হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, এখানে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা उपलब्ध। নিয়মিত চেকআপ এবং লেজার থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের progression কমানো সম্ভব।

কলকাতার সেরা ১০ চক্ষু বিশেষজ্ঞ যাদের কাছে আপনি নিঃসন্দেহে যেতে পারেন

চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু টিপস

চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু সাধারণ টিপস নিচে দেওয়া হলো:

  • নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো: বছরে একবার চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
  • কম্পিউটার ব্যবহারের সময় বিরতি: একটানা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরে তাকানো উচিত।
  • সুষম খাবার গ্রহণ: ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা চোখের জন্য উপকারী।
  • ধূমপান পরিহার: ধূমপান চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • সানগ্লাস ব্যবহার: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচাতে সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ভিটামিন এ, সি, ই এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। গাজর, পালং শাক, কমলা, বাদাম এবং ডিম চোখের জন্য খুবই উপকারী।

কম্পিউটার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মনিটর চোখের থেকে কমপক্ষে ২০ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে। এছাড়াও, প্রতি ঘন্টায় ৫ মিনিটের জন্য বিরতি নেওয়া উচিত।

“ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?” – এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পাশাপাশি আমরা এই হাসপাতালের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করলাম। চোখের যেকোনো সমস্যায়, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া খুবই জরুরি। আশা করি, এই তথ্যগুলো আপনার জন্য সহায়ক হবে এবং আপনি আপনার চোখের সঠিক যত্ন নিতে পারবেন।যদি আপনার চোখের কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

About Author
Debolina Roy

দেবলীনা রায় একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক, যিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত। ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করা দেবলীনা তার লেখায় চিকিৎসা বিষয়ক জটিল তথ্যগুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য এবং উপকারী। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান এবং প্রাঞ্জল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেবলীনা রায়ের লক্ষ্য হল সঠিক ও তথ্যনির্ভর স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।