Banned Chinese apps in India

36 Banned Chinese Apps Return to Indian App Stores: ভারতের অ্যাপ স্টোরে ফিরেছে নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপগুলি

Banned Chinese apps in India: ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার ২০০টিরও বেশি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির পটভূমিতে ৩৬টি নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপ পুনরায় ভারতীয় অ্যাপ স্টোরে (Google Play…

avatar
Written By : Soumya Chatterjee
Updated Now: February 15, 2025 12:14 PM
বিজ্ঞাপন

Banned Chinese apps in India: ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের পর নিরাপত্তা উদ্বেগকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার ২০০টিরও বেশি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির পটভূমিতে ৩৬টি নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপ পুনরায় ভারতীয় অ্যাপ স্টোরে (Google Play Store ও Apple App Store) ফিরে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Xender, Youku, Taobao, এবং Tantan। কিছু অ্যাপ নাম, লোগো বা মালিকানা পরিবর্তন করে ফিরলেও TikTok-এর মতো অ্যাপগুলি এখনও নিষিদ্ধ রয়েছে।

ঘটনার পূর্ণ বিবরণ

কেন নিষিদ্ধ হয়েছিল চীনা অ্যাপ?

২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘাতের পর ভারত সরকার চীনা অ্যাপগুলিকে “জাতীয় নিরাপত্তা ও ডেটা গোপনীয়তার হুমকি” হিসাবে চিহ্নিত করে। Section 69A of IT Act, 2000-এর অধীনে TikTok, PUBG Mobile, UC Browser, Shein-সহ ২৬৭টি অ্যাপ ব্লক করা হয়। চীনা অ্যাপগুলি ব্যবহারকারীর ডেটা চীনের সার্ভারে স্থানান্তর করছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনায় নিরাপদ দেশগুলি: কোথায় পালাবেন?

ফিরে আসা অ্যাপগুলির তালিকা ও কৌশল

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৬টি অ্যাপ পুনরায় ভারতীয় মার্কেটে উপস্থিত হয়েছে। এগুলি মূলত ফাইল শেয়ারিং, স্ট্রিমিং, শপিং, ও ডেটিং ক্যাটাগরির অন্তর্গত। নিচের টেবিলে কিছু পুনরায় চালু হওয়া অ্যাপের বিবরণ দেওয়া হলো:

অ্যাপের নাম (Original)নতুন নাম/ব্র্যান্ডিংক্যাটাগরিপ্ল্যাটফর্ম
XenderXender: File Share, Share Musicফাইল শেয়ারিংApple App Store
TantanTanTan – Asian Dating AppডেটিংAndroid & iOS
TaobaoMobile TaobaoশপিংiOS
SheinSHEIN India Fast Fashionফ্যাশনAndroid & iOS
PUBG MobileBattlegrounds Mobile India (BGMI)গেমিংAndroid & iOS

 

ফিরে আসার পেছনের কারণ

১. কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি: গত কয়েক বছরে ভারত-চীনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা বেড়েছে, যা বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে প্রভাবিত করেছে।
২. রিব্র্যান্ডিং ও মালিকানা পরিবর্তন: অনেক অ্যাপ সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, বা ভারতীয় কোম্পানির সাথে অংশীদারিত্ব করে ডেটা স্থানীয় সার্ভারে সংরক্ষণের শর্ত মেনেছে। যেমন, Shein রিলায়েন্স রিটেলের সাথে যৌথভাবে ফিরেছে।
৩. আইনি ফাঁকি: কিছু অ্যাপ ক্লোন বা ভিন্ন ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অ্যাপ স্টোরে পোস্ট করেছে।

পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিষিদ্ধ অ্যাপের সংখ্যা: ২০২০-২০২২ সালে মোট ২৬৭টি চীনা অ্যাপ ব্লক করা হয়।

ফিরে আসার হার: ১৩.৪% (৩৬টি) অ্যাপ পুনরায় এক্টিভ।

ডেটা কমপ্লায়েন্স: Shein ও BGMI-এর মতো অ্যাপগুলি এখন ভারতীয় ডেটা সেন্টারে ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: Reliance, Krafton-এর মতো কোম্পানির সাথে অংশীদারিত্বে চীনা অ্যাপগুলি ভারতীয় বাজারে $১৫০ মিলিয়ন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ব্যবহারকারী ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

ইতিবাচক দিক: ফাইল শেয়ারিং (Xender), শপিং (Taobao), এবং এন্টারটেইনমেন্ট (Youku) অ্যাপগুলি ফিরে আসায় ব্যবহারকারীদের সুবিধা বেড়েছে।

নেতিবাচক দিক: ডেটা লিক বা সার্ভার এক্সেস নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

বিকল্প অ্যাপের চাপ: TikTok-এর অনুপস্থিতিতে Instagram Reels, Josh, ও MX TakaTak-এর মতো ভারতীয় প্ল্যাটফর্মগুলি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

TikTok ফিরবে কি? বর্তমানে TikTok মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে নিয়ন্ত্রণের মুখে থাকায় ভারতে ফেরার সম্ভাবনা কম।

নতুন নীতিমালা: ভারত সরকার অ্যাপগুলির ডেটা অডিট ও লোকাল সার্ভার বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন জারি করতে পারে।

জিওপলিটিকাল প্রভাব: চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।

আপনার স্মার্টফোন কি নেটওয়ার্কের কারণে সমস্যা করছে? জেনে নিন ৫টি মূল কারণ!

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, MeitY (Ministry of Electronics and Information Technology) নতুন করে কোনো অ্যাপ নিষিদ্ধ করেনি। তবে, CERT-In (Indian Cyber Crime Coordination Center) নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে।

নিষিদ্ধ চীনা অ্যাপগুলির ফিরে আসা ভারত-চীন সম্পর্কের জটিল প্রেক্ষাপটকে নির্দেশ করে। একদিকে ব্যবহারকারীদের সুবিধা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়লেও, অন্যদিকে ডেটা নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সরকারি নজরদারি ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা গেলে এই দ্বন্দ্ব সামলানো সম্ভব।