Guide to Hiring Domestic Workers

গৃহকর্মী নিয়োগে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাথায় রাখা অপরিহার্য: সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে একজন নির্ভরযোগ্য গৃহকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ভারতে প্রায় ৫ কোটি গৃহকর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা এবং তারা মূলত আসাম, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্য থেকে…

avatar
Written By : Ishita Ganguly
Updated Now: February 3, 2026 6:49 PM

আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে একজন নির্ভরযোগ্য গৃহকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ভারতে প্রায় ৫ কোটি গৃহকর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা এবং তারা মূলত আসাম, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্য থেকে আসেন । সরকারি ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধিত ৮.৫৬ কোটি অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮.৮ শতাংশ গৃহকর্মী, যা তাদের কৃষি ও নির্মাণ খাতের পর তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমিক শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করে । তবে সঠিক যাচাইবাচাই ছাড়া গৃহকর্মী নিয়োগ পরিবারের নিরাপত্তায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিয়োগের পূর্বে পরিচয় যাচাইকরণ: প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ

জাতীয় পরিচয়পত্র ও নথিপত্র সংগ্রহ

গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সঠিক পরিচয় না জেনে কাজে রাখা । আপনার ঘর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমেই নিয়োগকৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, আধার কার্ড এবং জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি যাচাই করা অত্যাবশ্যক । পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটার আইডি, রেশন কার্ড বা ইউটিলিটি বিল দিয়ে ঠিকানা নিশ্চিত করুন । শুধুমাত্র মৌখিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে ঘরে ঠাঁই দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও চেহারার সাথে মিল

চাকরিক্ষেত্রে যেমন ছবি জমা দিতে হয়, তেমনি গৃহকর্মীকে কাজে রাখার আগে তার সম্প্রতি তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সংগ্রহ করুন । ছবির সাথে সরাসরি তার চেহারার মিল আছে কি না তা ভালো করে যাচাই করা জরুরি । এই ছবি পরবর্তীতে থানায় জমা দেওয়া এবং নিজের রেকর্ডে রাখার জন্য প্রয়োজন হবে ।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিতকরণ

গৃহকর্মীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বিস্তারিতভাবে লিখে রাখুন এবং তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করুন । সম্ভব হলে পরিচিত কাউকে দিয়ে সেই ঠিকানা সরাসরি নিশ্চিত করুন বা গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে ঠিকানার সত্যতা যাচাই করুন । ঠিকানা যাচাইকরণ পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্যও অপরিহার্য।

শনাক্তকারী ও রেফারেন্স যাচাই

গ্যারান্টরের তথ্য সংগ্রহ

গৃহকর্মীকে ভালোভাবে চেনে এমন অন্তত দুজন শনাক্তকারীর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করুন । এই শনাক্তকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করা উচিত এবং প্রয়োজনে সেই নম্বরগুলোতে ফোন দিয়ে তথ্য যাচাই করে নিন । শনাক্তকারীরা গৃহকর্মীর চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলের রেফারেন্স

পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে গৃহকর্মীর কাজের মান, আচরণ এবং বিশ্বস্ততা সম্পর্কে জানুন । তিনি আগে কোথায় কাজ করেছেন, কতদিন করেছেন এবং কেন ছেড়েছেন – এসব প্রশ্নের উত্তর সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয় । যদি গৃহকর্মী রেফারেন্স দিতে অনিচ্ছুক হন বা তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পরিচিত সূত্র ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা

অপরিচিত লোকের চেয়ে পরিচিত মানুষের সুপারিশের ওপর নির্ভর করা সবচেয়ে নিরাপদ । আপনার বিল্ডিং বা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন কাউকে অগ্রাধিকার দিন । নতুন এলাকায় গেলে বাড়ির মালিক বা কেয়ারটেকারের সুপারিশ নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রেও ছবি ও পরিচয়পত্র সংগ্রহের নিয়মটি এড়িয়ে যাবেন না ।

পুলিশ ভেরিফিকেশন: আইনি বাধ্যবাধকতা ও নিরাপত্তা

থানায় তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া

নিয়োগের পরপরই গৃহকর্মীর নাম, ছবি, স্থায়ী ঠিকানা এবং তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য নিকটস্থ থানায় জমা দিন । ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্ধারিত গৃহকর্মী তথ্য ফরম পূরণ করা এখন সময়ের দাবি । পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম স্থানীয় পুলিশ স্টেশন থেকে সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ জমা দিতে হবে ।

অপরাধমূলক পটভূমি যাচাই

পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে গৃহকর্মীর স্থানীয় পুলিশ স্টেশন চেক, অপরাধমূলক পটভূমি যাচাই এবং কোনো মামলা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায় । চরিত্র সনদপত্র এবং কোর্ট রেকর্ড চেক করলে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় । ভারতে গৃহকর্মী সংক্রান্ত প্রায় ৭০০টি অপরাধ ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যা পটভূমি যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় ।

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা

পুলিশ কর্তৃক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হতে সাধারণত ২-৩ দিন সময় লাগে । এই সময়ের মধ্যে পুলিশ গৃহকর্মীর অতীত, অপরাধমূলক ইতিহাস এবং আধার কার্ড যাচাই করে থাকে । ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর অনুমোদিত ও স্ট্যাম্পযুক্ত ফরম সংগ্রহ করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন ।​

কাজের বিবরণী ও প্রত্যাশা স্পষ্ট করা

কাজের পরিধি নির্ধারণ

নিয়োগের আগে গৃহকর্মীর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করুন – রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শিশু দেখাশোনা, কাপড় ধোয়া বা অন্যান্য কাজ । Domestic Workers (Registration, Social Security, and Welfare) Act, 2008 এর Section 2(f) অনুযায়ী কাজের বিবরণী লিখিতভাবে উল্লেখ করা আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ । কাজের পরিধি স্পষ্ট থাকলে পরবর্তীতে কোনো বিভ্রান্তি বা মতবিরোধ হয় না।

কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের সময়

লিভ-ইন গৃহকর্মীদের জন্য দৈনিক অন্তত ১০ ঘণ্টা বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করতে হবে এবং সপ্তাহে একদিন ছুটি দিতে হবে । কর্মঘণ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা উচিত । ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গৃহকর্মীদের জন্য ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের বিধান রয়েছে ।

লিখিত চুক্তিপত্র

উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত চুক্তিপত্র তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই চুক্তিতে বেতন, কর্মঘণ্টা, কাজের দায়িত্ব, ছুটির নীতি এবং চাকরি শেষ করার শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত । লিখিত চুক্তি ভবিষ্যতে যেকোনো বিরোধ এড়াতে সাহায্য করে এবং আইনি সুরক্ষা প্রদান করে ।

বেতন ও আর্থিক বিষয়

ন্যূনতম মজুরি মেনে চলা

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গৃহকর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে । কর্ণাটকে ২০২৫-২৬ সালের জন্য Zone I এলাকায় রান্না ও পরিষ্কারের কাজের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি ₹২০,১১২.৭৫ এবং কাপড় ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য ₹১৮,২০৯.৪২ নির্ধারিত । Code on Wages (2019) অনুযায়ী গৃহকর্মীদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান করা নিয়োগকর্তার আইনি দায়িত্ব ।

সময়মতো বেতন প্রদান

মাসের নির্দিষ্ট তারিখে নিয়মিত বেতন প্রদান করুন এবং সম্ভব হলে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে দিন । বেতন প্রদানে বিলম্ব হলে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে এবং আলাদা মামলার সম্মুখীন হতে হতে পারে । কর্ণাটক ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স বিল ২০২৫ অনুযায়ী বেতন না দেওয়া বা কম দেওয়ার জন্য ₹৫০,০০০ পর্যন্ত জরিমানা এবং ৩-৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে ।

সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা

নিবন্ধিত গৃহকর্মীরা স্বাস্থ্য বীমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং পেনশনের মতো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী । Domestic Workers Welfare Fund থেকে এই সুবিধাগুলি প্রদান করা হয় । নিয়োগকর্তাদের উচিত গৃহকর্মীদের ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধন করতে সহায়তা করা ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহার

সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন

ঘরোয়া নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা এখন অত্যাবশ্যক । প্রধান কক্ষ, রান্নাঘর এবং প্রবেশপথে ক্যামেরা লাগালে গৃহকর্মীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয় এবং যেকোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্ত করা যায় । তবে ব্যক্তিগত কক্ষ যেমন বাথরুম বা শোবার ঘরে ক্যামেরা লাগানো গোপনীয়তা লঙ্ঘন হতে পারে।​

মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখা

বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র, গহনা, নগদ টাকা এবং আলমারির চাবি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন । অতিরিক্ত বিশ্বাস কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ । লকারের কোড বা চাবি গৃহকর্মীর নাগালের বাইরে রাখুন।

পারিবারিক তথ্যের গোপনীয়তা

আপনার পারিবারিক যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আলাপ গৃহকর্মীর সামনে না বলার চেষ্টা করুন । ট্যুরের পরিকল্পনা, বড় অঙ্কের টাকা আদান-প্রদান বা মূল্যবান কেনাকাটার বিষয়ে আগেভাগে তাদের জানাবেন না । এই তথ্যগুলো অপরাধীদের কাছে পৌঁছে গেলে আপনার বাড়ি চুরি বা ডাকাতির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।​

শিশু শ্রম নিষিদ্ধকরণ

আইনি বিধান

ভারতে ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি Child Labour Act এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ । Domestic Workers Act এর Section 14 এই বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে । শিশু শ্রম নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩ বছর থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ₹৫০,০০০ জরিমানার বিধান রয়েছে ।

বয়স যাচাইকরণ

গৃহকর্মী নিয়োগের সময় জন্ম নিবন্ধন, আধার কার্ড বা স্কুল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বয়স যাচাই করুন । অনানুষ্ঠানিক খাতে আনুমানিক ১.২৬ কোটি নাবালক কাজ করছে, যাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ মেয়ে । শিশু শ্রম নিয়োগ না করে তাদের শিক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করা সামাজিক দায়িত্ব।

অধিকার ও কর্তব্য: উভয় পক্ষের দায়িত্ব

নিয়োগকর্তার দায়িত্ব

নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই নিয়োগের এক মাসের মধ্যে District Board এ গৃহকর্মী নিবন্ধন করতে হবে । নিরাপদ ও শোষণমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করা নিয়োগকর্তার আইনি বাধ্যবাধকতা । কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষা প্রদান POSH Act অনুযায়ী করতে হবে ।

গৃহকর্মীর অধিকার

সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের Ajay Malik মামলায় গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনি কাঠামোর জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে । গৃহকর্মীরা ন্যূনতম মজুরি, স্বাস্থ্য সেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার অধিকারী । তাদের কাজের সময় নির্ধারিত, সাপ্তাহিক ছুটি এবং কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্ত থাকার অধিকার রয়েছে ।

বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা

যেকোনো সমস্যা বা বিরোধের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের কল্যাণ বোর্ড ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ফোরামে যোগাযোগ করা যেতে পারে । কর্ণাটক ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স বিল অনুযায়ী লেবার কাম সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসার নিয়োগ করা হবে যারা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে পারবেন । পরিদর্শককে বাধা দেওয়া তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ₹২০,০০০ জরিমানার কারণ হতে পারে ।

প্রশিক্ষণ ও অভিযোজন

প্রথম দিনের প্রস্তুতি

নতুন গৃহকর্মী যোগদানের পর তাকে পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন এবং ঘরের নিয়মকানুন ব্যাখ্যা করুন । বিশেষ নির্দেশনা যেমন খাবারের পছন্দ-অপছন্দ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিন । একটি সুষ্ঠু অভিযোজন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে তারা প্রথম দিন থেকেই আপনার প্রত্যাশা বুঝতে পারে ।​

দক্ষতা উন্নয়ন

গৃহকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করলে তাদের কাজের মান বৃদ্ধি পায় । রান্নার বিশেষ পদ্ধতি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার বা শিশু যত্নের আধুনিক পদ্ধতি শেখানো উপকারী । অনেক সংস্থা গৃহকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।​

সম্মানজনক আচরণ ও কর্মপরিবেশ

মানবিক ব্যবহার

সুপ্রিম কোর্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে শুধু আইন যথেষ্ট নয়, গৃহকর্মীদের অন্যান্য শ্রমিকদের মতো সম্মান ও অধিকারসহ আচরণ করা প্রয়োজন । তাদের সাথে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করুন এবং কোনোভাবেই অপমানজনক আচরণ করবেন না । মনে রাখবেন, তারাও মানুষ এবং তাদের আত্মসম্মান রয়েছে।

পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রাম

লিভ-ইন গৃহকর্মীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা করুন । অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং জরুরি অবস্থায় সাহায্য করা মানবিকতার দাবি । তাদের ব্যক্তিগত স্থান এবং গোপনীয়তা সম্মান করুন।

আইনি সচেতনতা ও বর্তমান উন্নয়ন

নতুন আইনি কাঠামো

কর্ণাটক রাজ্য ২০২৫ সালে Domestic Workers Bill পাস করেছে যা বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পেনশন প্রদান করে । দিল্লিরও Domestic Workers Regulation of Work and Social Security Bill, 2022 খসড়া পর্যায়ে রয়েছে । এই আইনগুলো গৃহকর্মীদের মর্যাদা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে ।

ই-শ্রম পোর্টাল নিবন্ধন

ভারত সরকারের ই-শ্রম পোর্টাল অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের নিবন্ধনের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ যেখানে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২.৮১ কোটি গৃহকর্মী নিবন্ধিত হয়েছে । নিয়োগকর্তাদের উচিত তাদের গৃহকর্মীদের এই পোর্টালে নিবন্ধন করতে সহায়তা করা যাতে তারা সরকারি সুবিধা পেতে পারে ।

সচেতনতা ও সতর্কতা

সন্দেহজনক আচরণ শনাক্তকরণ

গৃহকর্মীর গতিবিধি নিয়মিত লক্ষ রাখুন । অস্বাভাবিক ফোন কল, অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ, ঘন ঘন অনুপস্থিতি বা মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ সন্দেহজনক লক্ষণ হতে পারে । তবে অযথা সন্দেহ বা অবিশ্বাসও কর্মপরিবেশ নষ্ট করে, তাই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

নিয়মিত যোগাযোগ

গৃহকর্মীর সাথে নিয়মিত কথা বলুন এবং তাদের সমস্যা শুনুন । খোলামেলা যোগাযোগ বিশ্বাস তৈরি করে এবং যেকোনো সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে সমাধান করতে সাহায্য করে । মাসে অন্তত একবার কাজের মান পর্যালোচনা করুন এবং প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিন।​

পরিবর্তন ও সমাপ্তি

চাকরি ছাড়ার নোটিস পিরিয়ড

চুক্তিপত্রে নোটিস পিরিয়ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন । সাধারণত ১৫-৩০ দিনের নোটিস যুক্তিসংগত বলে বিবেচিত হয় । আকস্মিক প্রস্থান এড়াতে এই নিয়ম উভয় পক্ষের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।​

চাকরি শেষে প্রাপ্য অধিকার

চাকরি শেষ হওয়ার সময় সকল বকেয়া বেতন, বোনাস বা অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করুন এবং অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করুন । ভালো কাজের জন্য ইতিবাচক রেফারেন্স দেওয়া তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে সহায়ক হয় । থানায় জমা দেওয়া তথ্য আপডেট করতে ভুলবেন না।​

গৃহকর্মী নিয়োগ একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত যা পরিবারের নিরাপত্তা ও সুবিধা উভয়কেই প্রভাবিত করে। সঠিক পরিচয় যাচাইকরণ, পুলিশ ভেরিফিকেশন, লিখিত চুক্তিপত্র এবং ন্যায্য মজুরি প্রদান করে আপনি একদিকে যেমন পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, অন্যদিকে গৃহকর্মীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করতে পারেন । ভারতে প্রায় ৫ কোটি গৃহকর্মী কর্মরত রয়েছেন যারা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাদের সাথে মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব । সুপ্রিম কোর্ট ও নতুন আইনি কাঠামো গৃহকর্মীদের সুরক্ষার উপর জোর দিচ্ছে, যা নিয়োগকর্তাদেরও অনুসরণ করা উচিত । সঠিক প্রক্রিয়া মেনে, আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গৃহকর্মী নিয়োগ করলে একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশ তৈরি হয় যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।