Maa Manasa Anjali Mantra

মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র কী? অর্থ, নিয়ম, উচ্চারণ ও ঘরোয়া পূজার সম্পূর্ণ বাংলা গাইড

Maa Manasa Anjali Mantra: মা মনসার পুজোর সময় একটা খুব সাধারণ কিন্তু জরুরি প্রশ্ন বারবার উঠে আসে—অঞ্জলি দেওয়ার সময় ঠিক কোন মন্ত্র বলা হয়? অনেকেই ছোটবেলা থেকে দেখেছেন, ফুল হাতে নিয়ে বড়রা মন্ত্র বলছেন, তারপর “জয় মা মনসা” বলে অঞ্জলি…

avatar
Written By : Ishita Ganguly
Updated Now: April 20, 2026 10:05 AM
বিজ্ঞাপন

Maa Manasa Anjali Mantra: মা মনসার পুজোর সময় একটা খুব সাধারণ কিন্তু জরুরি প্রশ্ন বারবার উঠে আসে—অঞ্জলি দেওয়ার সময় ঠিক কোন মন্ত্র বলা হয়? অনেকেই ছোটবেলা থেকে দেখেছেন, ফুল হাতে নিয়ে বড়রা মন্ত্র বলছেন, তারপর “জয় মা মনসা” বলে অঞ্জলি দিচ্ছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, মন্ত্রটা মুখস্থ থাকলেই তো সব শেষ নয়। তার মানে কী, কখন বলা হয়, কীভাবে বলা হয়, আর বাড়িতে সহজভাবে করলে কোন নিয়মটা মানা দরকার—এসবই আসল কথা।

এই কারণেই “মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র কী?”—এই প্রশ্নটা শুধু ধর্মীয় কৌতূহল নয়, একেবারে ব্যবহারিকও। বিশেষ করে শ্রাবণ, নাগপঞ্চমী, ভাদ্র সংক্রান্তি বা ঘরোয়া মনসা পুজোর সময় অনেকে শেষ মুহূর্তে মন্ত্র খুঁজতে থাকেন। কেউ চান শুদ্ধ উচ্চারণ, কেউ চান সহজ বাংলা অর্থ, আবার কেউ শুধু জানতে চান—পুরোহিত ছাড়াও কি ভক্তিভরে অঞ্জলি দেওয়া যায়? সোজা কথায়, যায়। তবে একটু বুঝে করতে হয়।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে বুঝে নেব—মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র কী, কোন মন্ত্র সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, অঞ্জলির সময় কীভাবে বলবেন, প্রণাম মন্ত্রের সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়, আর ভক্তি ও নিয়মের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবেন।

মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র আসলে কোনটি?

সহজ ভাষায় বললে, মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র বলতে সাধারণত সেই মন্ত্রকেই বোঝানো হয় যা ফুল, বেলপাতা বা অর্ঘ্য হাতে নিয়ে দেবীকে নিবেদন করার সময় বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘরোয়া পুজোতে একটি সংক্ষিপ্ত বীজ মন্ত্রই ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত একটি মন্ত্র হল:

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহা॥

এই মন্ত্রটি মা মনসার পূজার সঙ্গে যুক্ত এক প্রচলিত মন্ত্র হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখা খুব জরুরি। অনেক পরিবারে “অঞ্জলি মন্ত্র” বলতে এই বীজ মন্ত্র বলা হয়, আবার কোথাও কোথাও প্রণাম মন্ত্র বা ধ্যানমন্ত্র বলার পর অঞ্জলি দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সব বাড়িতে একই রীতি নাও থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের বহু ঘরোয়া পূজায় এই রকম পারিবারিক পার্থক্য খুব স্বাভাবিক।

মন্ত্রটির সহজ অর্থ কী?

এবার আসি অর্থের কথায়। সংস্কৃত মন্ত্রের প্রতিটি শব্দের আলাদা তান্ত্রিক বা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য থাকে। এখানে “হ্রীং”, “শ্রীং”, “ক্লীং”, “ঐং”—এগুলো বীজধ্বনি বা Seed Syllables (বীজাক্ষর) হিসেবে মানা হয়। আর “মনসাদেব্যৈ” মানে দেবী মনসাকে, “স্বাহা” মানে সম্পূর্ণ নিবেদন বা সমর্পণ।

সোজা কথায়, এই মন্ত্রে ভক্ত তাঁর মন, প্রার্থনা, ফুল ও ভক্তিভাব মা মনসার চরণে অর্পণ করেন। তাই শুধু উচ্চারণ নয়, ভক্তির অনুভবটাও এখানে সমান জরুরি।

মা মনসা পূজায় অঞ্জলি এত গুরুত্বপূর্ণ?

মা মনসা বাংলার লোকবিশ্বাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেবী। তাঁকে সাধারণভাবে সাপের দেবী, রক্ষা ও কল্যাণের অধিষ্ঠাত্রী হিসেবে দেখা হয়। বাংলা সংস্কৃতিতে মনসামঙ্গল কাব্য, গ্রামবাংলার আচার, শ্রাবণ-ভাদ্রের পূজা—সব মিলিয়ে তাঁর আরাধনা গভীরভাবে গেঁথে আছে। Think Bengal-এর একটি সাম্প্রতিক লেখাতেও মনসা পুজোকে বাংলার বহু গ্রাম, মফস্বল এবং শহরতলির লোকবিশ্বাস ও আচারসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বলে দেখানো হয়েছে।

অঞ্জলি গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ অঞ্জলি শুধু ফুল দেওয়া নয়; এটি ভক্তির দৃশ্যমান প্রকাশ। হাতে ফুল নিয়ে, মনকে একাগ্র করে, নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা-ভয়-আশা সব কিছু এক মুহূর্তে দেবীর সামনে সমর্পণ করার নামই অঞ্জলি।

মা মনসার অঞ্জলি দেওয়ার আগে কী কী প্রস্তুতি নেবেন?

অনেকেই ভাবেন, বড় আয়োজন না হলে অঞ্জলি দেওয়া যাবে না। আসলে তা নয়। বাড়ির পূজায় খুব সাধারণ প্রস্তুতিতেই ভক্তিভরে অঞ্জলি দেওয়া যায়। তবে কিছু বিষয় মানলে মানসিক প্রস্তুতিটা আরও সুন্দর হয়।

  • স্নান বা অন্তত পরিষ্কার হয়ে পূজায় বসুন
  • পরিষ্কার বস্ত্র পরুন
  • ফুল, বেলপাতা বা উপলব্ধ পুষ্প কাছে রাখুন
  • একটি থালা বা পাত্রে অর্ঘ্য সাজিয়ে নিন
  • মনটা শান্ত করার জন্য কয়েক মুহূর্ত চুপ করে বসুন

দেখুন, ঘরোয়া পূজায় নিখুঁত আচার সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু শুচিতা ও একাগ্রতা—এই দুটো জিনিস থাকলে অঞ্জলির ভাব অনেক বেশি পূর্ণ হয়। পূজার আগে শুচি মন্ত্রের ধারণা নিয়েও আগ্রহ থাকলে এই প্রসঙ্গে শুচি মন্ত্র কী এবং কেন বলা হয় লেখাটি পাঠকের কাজে লাগতে পারে।

ঘরোয়া নিয়মে মা মনসার অঞ্জলি কীভাবে দেবেন?

১) ফুল হাতে নিন

সাধারণত দু’হাত জোড় করে বা ডান হাতের তালুতে ফুল নিয়ে অঞ্জলি দেওয়া হয়। কারও কারও বাড়িতে ফুলের সঙ্গে অক্ষত চালও রাখা হয়।

২) দেবীর দিকে মন দিন

এখানে কিন্তু মন্ত্রের শুদ্ধতা যতটা, মনোসংযোগও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াহুড়ো করে বললে অঞ্জলির অনুভব হারিয়ে যায়।

৩) মন্ত্র উচ্চারণ করুন

তিন বার, এক বার বা পুরোহিতের নির্দেশমতো মন্ত্র বলা যায়। ঘরোয়া পূজায় সাধারণভাবে একাগ্র চিত্তে অন্তত একবার স্পষ্ট উচ্চারণ করলেই যথেষ্ট।

৪) অঞ্জলি নিবেদন করুন

মন্ত্র শেষে দেবীর চরণে ফুল অর্পণ করুন। অনেকে শেষে “জয় মা মনসা” বলেন। এটিও ভক্তিভাব প্রকাশের সহজ রীতি।

৫) নীরবে প্রার্থনা করুন

এই অংশটাই অনেকে বাদ দেন। কিন্তু নিজের ভাষায় ছোট্ট প্রার্থনাও অঞ্জলিরই অংশ। আপনি চাইলে বলতে পারেন—“মা, সকলের মঙ্গল করো, ভয় দূর করো, সংসারে শান্তি দাও।”

অঞ্জলি মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র আর ধ্যানমন্ত্র—তিনটার পার্থক্য কোথায়?

এই জায়গায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়। কারণ ইন্টারনেটে অনেক লেখা সব মন্ত্র একসঙ্গে গুলিয়ে দেয়। তাই খুব স্পষ্ট করে বোঝা দরকার।

  • অঞ্জলি মন্ত্র — ফুল বা অর্ঘ্য নিবেদনের সময় বলা হয়
  • প্রণাম মন্ত্র — দেবীকে প্রণাম বা বন্দনার সময় বলা হয়
  • ধ্যানমন্ত্র — দেবীর রূপ, গুণ ও ভাবনাকে মনে স্থাপন করার জন্য বলা হয়

উদাহরণ হিসেবে, মা মনসার ক্ষেত্রে প্রণাম বা ধ্যানসুলভ মন্ত্রের আলাদা প্রচলন রয়েছে। যেমন কিছু ধর্মীয় উৎসে দেবী মনসার ধ্যানধর্মী বর্ণনামূলক মন্ত্রও পাওয়া যায়, যা অঞ্জলি মন্ত্রের থেকে আলাদা।

এই পার্থক্যটা বোঝা খুব দরকার। কারণ আপনি যদি অঞ্জলির সময় ধ্যানমন্ত্র খুঁজতে থাকেন, তাহলে সহজ ঘরোয়া পূজার কাজটাও অকারণে জটিল হয়ে যায়।

মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র বলার সময় উচ্চারণ কেমন হবে?

অনেকেরই ভয় থাকে—সংস্কৃত ঠিকমতো না বলতে পারলে কি পুজো নষ্ট হবে? না, ভক্তিভরে বললে পুজো “নষ্ট” হয়ে যায়—এমন ভাবার কারণ নেই। তবে যেটুকু সম্ভব, পরিষ্কারভাবে বলা ভাল।

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহা

উচ্চারণ ভেঙে বলতে চাইলে এভাবে ভাবতে পারেন:

  • ওঁ
  • হ্রীং
  • শ্রীং
  • ক্লীং
  • ঐং
  • মনসা-দেব্যৈ
  • স্বাহা

তবে হ্যাঁ, বীজমন্ত্রের উচ্চারণ নিয়ে পরিবারের পুরনো রীতি থাকলে সেটাই অনুসরণ করা ভালো। কারণ লোকাচার, পারিবারিক আচার আর শাস্ত্রাচার—এই তিনের ভারসাম্যেই বাংলার বহু পূজা টিকে আছে।

বাড়িতে পুরোহিত ছাড়া মা মনসার অঞ্জলি দেওয়া যায়?

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অনেকেই একেবারে খোলাখুলি জানতে চান—“আমরা তো বাড়িতে নিজেরাই পুজো করি, তাহলে কি অঞ্জলি দিতে পারব?” উত্তর হল, অবশ্যই পারবেন।

দেখুন, ঘরোয়া পূজার মূল ভিত্তি হচ্ছে শ্রদ্ধা, শুচিতা, আর একাগ্রতা। পুরোহিত থাকলে আচারবিধি শুদ্ধভাবে অনুসরণ করা সহজ হয়, কিন্তু ভক্তিভরে মা-কে ডেকে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য সব সময় পুরোহিত অপরিহার্য নন। বাংলার অসংখ্য ঘরে এভাবেই মনসা পুজো হয়ে থাকে।

যদি আরও বিশদ পূজার ভাষা, পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রের গঠন বা ভক্তিমূলক ব্যাখ্যার উদাহরণ দেখতে চান, তাহলে নারায়ণ পূজার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র সম্পর্কিত এই লেখাটিও গঠন বোঝার জন্য সহায়ক হতে পারে। সেখানে পুষ্পাঞ্জলিকে শুধু মন্ত্র নয়, ভক্তির দার্শনিক প্রকাশ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

মা মনসার পূজায় কী চাইবেন?

অনেকে অঞ্জলি দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে কী চাইতে হয়, সেটাও জানতে চান। আসলে এর কোনও বাঁধাধরা তালিকা নেই। তবে লোকবিশ্বাসে মা মনসার কাছে রক্ষা, শান্তি, পরিবারকল্যাণ, ভয় থেকে মুক্তি এবং মঙ্গল কামনা করা হয়। বাংলার লোকসংস্কৃতিতে সাপভয় বা অকাল অশান্তি থেকে রক্ষার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে।

তাই প্রার্থনা হতে পারে খুবই সহজ:

  • পরিবারের শান্তি
  • সন্তানের মঙ্গল
  • রোগ-ভয়-অশান্তি থেকে রক্ষা
  • সংসারের স্থিতি ও সুস্থতা

মজার বিষয় হল, নিজের ভাষায় বলা প্রার্থনাও অনেক সময় মন্ত্রের মতোই গভীর হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে মনটা সত্যিই খুলে যায়।

মা মনসার অঞ্জলি দিতে গিয়ে যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়

এবার একটু বাস্তব কথা বলা যাক। অনেক সময় ইচ্ছা ভাল থাকে, কিন্তু ছোটখাটো ভুলে পুরো পরিবেশটাই এলোমেলো লাগে। যেমন—

  • শেষ মুহূর্তে ইন্টারনেট দেখে তড়িঘড়ি মন্ত্র বলা
  • অঞ্জলি মন্ত্রের বদলে অন্য মন্ত্র পড়ে ফেলা
  • উচ্চারণ নিয়ে এত দুশ্চিন্তা করা যে ভক্তিভাবটাই হারিয়ে যায়
  • মন্ত্রের অর্থ না জেনে যান্ত্রিকভাবে বলা
  • অঞ্জলি দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়া, কোনও নীরব প্রার্থনা না করা

সোজা কথায়, পূজোকে পরীক্ষার খাতা বানাবেন না। মন্ত্র ঠিক জানুন, কিন্তু ভয় পাবেন না। বুঝে, ধীরে, মন দিয়ে করুন। তাহলেই অঞ্জলি অনেক বেশি সম্পূর্ণ মনে হবে।

মা মনসার পূজা, লোকাচার ও বাংলার সংস্কৃতি

মা মনসার পূজা শুধু ব্যক্তিগত ভক্তির বিষয় নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক স্মৃতিরও অংশ। মনসামঙ্গল কাব্য, বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি, গ্রামীণ আচার—সব মিলিয়ে দেবী মনসা বাংলায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। Think Bengal-এ মনসা পুজো ঘিরে পাঠা বলি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনাতেও দেখা যায়, দেবীকে ঘিরে নানা আঞ্চলিক রীতি আজও প্রচলিত, যদিও সব রীতিই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়।

এই কারণেই মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র নিয়েও একাধিক পরিবারে একাধিক রীতি দেখা যায়। কেউ সংক্ষিপ্ত বীজ মন্ত্র বলেন, কেউ প্রণাম মন্ত্র, কেউ আবার পুরোহিতের মুখে শোনা মন্ত্র অনুসরণ করেন। তাই তুলনা নয়—নিজের পারিবারিক শুদ্ধ রীতিকে সম্মান করা বেশি জরুরি।

এই প্রসঙ্গে মনসা পূজাকে ঘিরে লোকবিশ্বাসের আরও দিক জানতে চাইলে মনসা পুজোয় পাঠা বলির বিশ্বাস ও ইতিহাস বিষয়ক লেখাটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

FAQ: মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র কী?

ঘরোয়া পূজায় প্রচলিত একটি সংক্ষিপ্ত মন্ত্র হল—ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহা
তবে সব পরিবারে একই রীতি থাকে না।
কেউ এই বীজ মন্ত্র বলেন, কেউ আবার প্রণাম মন্ত্রের পর অঞ্জলি দেন।

এই মন্ত্র না জানলে কি মা মনসার অঞ্জলি দেওয়া যাবে না?

যাবে। ভক্তিভাব, শুচিতা আর একাগ্র মন—এই তিনটি সবচেয়ে জরুরি।
মন্ত্র জানা থাকলে অবশ্যই ভাল, কিন্তু না জানলে দেবীর নাম স্মরণ করে সরল প্রার্থনাও করা যায়।
তবে যেটি বলবেন, সেটি আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া ভালো।

অঞ্জলি মন্ত্র আর প্রণাম মন্ত্র কি এক?

না, সাধারণত এক নয়।
অঞ্জলি মন্ত্র ফুল বা অর্ঘ্য নিবেদনের সময় ব্যবহৃত হয়, আর প্রণাম মন্ত্র দেবীকে বন্দনা বা প্রণামের সময়।
অনেক ওয়েবসাইট এই দুটো গুলিয়ে দেয়, তাই বুঝে নেওয়া জরুরি।

মা মনসার অঞ্জলি কতবার দিতে হয়?

এটার নির্দিষ্ট একটাই উত্তর নেই।
অনেক পরিবারে একবার, কোথাও তিনবার, আবার কোথাও পুরোহিতের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়।
বাড়ির পূজায় একাগ্র মনে একবার স্পষ্ট অঞ্জলি দিলেও তা যথেষ্ট বলে ধরা হয়।

মা মনসার অঞ্জলি দেওয়ার সময় কী চাইতে হয়?

লোকবিশ্বাসে রক্ষা, শান্তি, সংসারের মঙ্গল, ভয় থেকে মুক্তি—এসব প্রার্থনা করা হয়।
আপনি নিজের ভাষায় পরিবারকল্যাণ, সুস্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি বা সন্তানের মঙ্গল চাইতে পারেন।
সবচেয়ে জরুরি হল, প্রার্থনাটা যেন আন্তরিক হয়।

শেষকথা

মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র খোঁজার মধ্যে শুধু একটি শব্দবন্ধ নেই, আছে ভক্তির প্রস্তুতি। অনেকে শেষ মুহূর্তে শুধু মন্ত্রটা চান, কিন্তু একটু থেমে দেখলে বোঝা যায়—মন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থ, ভঙ্গি, সমর্পণ, আর বাংলার ঘরোয়া পূজার বহুদিনের এক আবেগ।

তাই আপনি যদি জানতে চান “মা মনসার অঞ্জলি মন্ত্র কী?”, তাহলে সবচেয়ে সহজ উত্তর হল—প্রচলিতভাবে ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহা বলা হয়। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা হল, এই মন্ত্র বলার সময় আপনার মন কতটা নিবিষ্ট, সেটাই আসল। ফুল হাতে, শান্ত মনে, ভরসা রেখে বলুন—মা নিশ্চয়ই ভক্তির ভাষা বুঝবেন।