Vitamin D during winter sun exposure benefits

শীতে সকালের রোদে ভিটামিন ডি: জেনে নিন সেরা সময়

Vitamin D during winter sun exposure benefits: শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকায় অনেকেই ভিটামিন ডি'র অভাবে ভুগেন। কিন্তু সঠিক সময়ে রোদ পোহালে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে ১৫-৩০ মিনিট…

avatar
Written By : Debolina Roy
Updated Now: December 4, 2024 9:27 AM
বিজ্ঞাপন

Vitamin D during winter sun exposure benefits: শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকায় অনেকেই ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগেন। কিন্তু সঠিক সময়ে রোদ পোহালে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে ১৫-৩০ মিনিট রোদে থাকলেই শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি হয়।

শীতে ভিটামিন ডি’র অভাব কেন হয়?

শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকে এবং মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরের ভিতরে থাকে। ফলে ত্বকে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পড়ায় ভিটামিন ডি’র উৎপাদন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শরৎকাল থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে উচ্চ অক্ষাংশে বসবাসকারী মানুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

রোদে পোড়া ঠোঁট? এই সহজ উপায়গুলি অবলম্বন করে পান দ্রুত আরাম

সেরা সময় কখন?

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে শক্তিশালী থাকে। এই সময়ে ১৫-৩০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তবে গায়ের রঙের উপর নির্ভর করে এই সময় কম-বেশি হতে পারে। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা, তাদের ১০-১৫ মিনিট রোদে থাকলেই চলবে। কিন্তু যাদের গায়ের রঙ তামাটে বা কালো, তাদের ২৫-৪০ মিনিট রোদে থাকা প্রয়োজন।

কতটুকু শরীর রোদে রাখা উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ রোদে রাখা উচিত। মুখ ও চোখ ঢেকে রেখে শরীরের অন্যান্য অংশ রোদে রাখা যেতে পারে। মাথা শরীরের ছোট একটি অংশ হওয়ায় শুধু মাথায় রোদ পড়লে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হবে না।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে কি?

সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে সূর্যের আলো কম পৌঁছায়। তাই ১০-৩০ মিনিট রোদে থাকার পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তবে গরমকালে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

শীতে ভিটামিন ডি পাওয়ার অন্যান্য উপায়

শীতকালে রোদ কম থাকায় খাবার থেকেও ভিটামিন ডি নেওয়া যেতে পারে। যেসব খাবারে প্রচুর ভিটামিন ডি পাওয়া যায়:

  • স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল ইত্যাদি তৈলাক্ত মাছ
  • ডিমের কুসুম
  • মাশরুম
  • ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন ডি’র গুরুত্ব

ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পাচনতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি’র অভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

শীতকালে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন: সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি

সতর্কতা

অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪,০০০ IU ভিটামিন ডি গ্রহণ করা নিরাপদ। এর বেশি নিলে কিডনি স্টোন বা কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

শীতকালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে ১৫-৩০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ না করে সঠিক মাত্রায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রোদে থাকা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শীতকালেও শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি এড়ানো সম্ভব।