Abir Chatterjee special child daughter

আবির চট্টোপাধ্যায়ের হৃদয় ছোঁয়া স্বীকারোক্তি: “আমার মেয়েটা স্পেশ্যাল চাইল্ড, ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্নই অপূর্ণ থেকেছে”

Abir Chatterjee special child daughter: বাংলা চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তার কন্যা ময়ুরাক্ষীকে নিয়ে অভূতপূর্ব খোলামেলা আলোচনা করেছেন। 'স্ট্রেইট আপ শ্রী' পডকাস্ট চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি জানান, তার মেয়ে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু,…

avatar
Written By : Sangita Chowdhury
Updated Now: August 18, 2025 7:08 PM
বিজ্ঞাপন

Abir Chatterjee special child daughter: বাংলা চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তার কন্যা ময়ুরাক্ষীকে নিয়ে অভূতপূর্ব খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ‘স্ট্রেইট আপ শ্রী’ পডকাস্ট চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি জানান, তার মেয়ে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, যার কারণে পিতা হিসেবে তাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেন, “স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে আমার মেয়েটা স্পেশ্যাল চাইল্ড। কী হয়? বাবা হিসেবে কিছু কিছু বিষয় আমি সত্যিই মিস করি।” তিনি বলেন, প্রায়ই তার মনে হয় যদি মেয়ে অন্যদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারত। বিশেষ করে তিনি আফসোস করেন যে, তার মেয়ে তার সিনেমাগুলো দেখে না বা সেভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে না।

আবির জানান, “আমি চাই, ও একটু সোনা দা দেখুক। যেটা ও দেখে না। ও নিজের মতোই দেখতে থাকে। আমার ইচ্ছে হয় যে ও এই সিনেমাগুলো দেখুক। কিন্তু, সেটা ও করে না। এটা আমি মিস করি।” একজন পিতা হিসেবে তার এই আক্ষেপের কথা শুনে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মেয়েকে নিয়ে সতর্কতার বিষয়ে আবির ব্যাখ্যা করেন যে, কেন তিনি বড় অনুষ্ঠান বা পাবলিক গ্যাদারিংয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যান না। তিনি বলেন, “সবাই আমায় একটা প্রাধান্য দেয়, ও আমার সঙ্গে থাকলে ওর অসুবিধা হতে পারে। ওর সুরক্ষা আমায় দেখতেই হবে। ওর যদি সমস্যা হয়, তাহলে আমি পৃথিবীর সবথেকে খারাপ বাবা।” এই কারণেই তিনি সাধারণত মেয়েকে কোনো ফিল্মি পার্টি বা প্রিমিয়ারে নিয়ে যান না।

‘ক্রমে ক্রমে কবিতা মৃত্যুর দিকে যায়’—শেষ হলো কবি রাহুল পুরকায়স্থের জীবনগাথা

আবিরের এই স্বীকারোক্তি থেকে একজন সচেতন পিতার দায়িত্ববোধ ও মমতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, মেয়েকে নিয়ে কোথাও যেতে হলে তাকে অনেক চিন্তাভাবনা করতে হয়, যা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানেও তারা একসাথে যেতে পারেন না।

তবে ময়ুরাক্ষীর বিশেষ একটি গুণের কথাও উল্লেখ করেন আবির। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। ওর আশেপাশে যারা আছে তাদেরকে ও অদ্ভুতভাবে ভালোবেসে ফেলে।” অর্থাৎ মেয়ের মধ্যে রয়েছে নিঃশর্ত ভালোবাসার এক অসাধারণ ক্ষমতা যা সবাইকে মুগ্ধ করে।

আবির চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে ময়ুরাক্ষী বর্তমানে কিশোরী বয়সে পা দিয়েছেন। ২০১৫ সালের দিকে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটি সবসময়ই বাবা-মায়ের বিশেষ যত্নে রয়েছেন। আবির ও তার স্ত্রী নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় মেয়েকে সচরাচর লাইমলাইট থেকে দূরে রাখেন, যদিও গত বছর দোল উৎসবের সময় প্রথমবার পরিবারের সাথে ময়ুরাক্ষীর ছবি প্রকাশ করেছিলেন তারা।

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক তারকাই তাদের সন্তানদের প্রাইভেসি রক্ষার জন্য এমন পদক্ষেপ নেন। আবির চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় তিনি মেয়ের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আরও সতর্ক থাকেন। তার এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, একজন সেলিব্রিটি পিতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন দায়িত্বশীল ও ভালোবাসার বাবাও।

আবির জানান যে, মেয়ের কাছ থেকে তিনি প্রতিদিন জীবনের নতুন পাঠ শিখছেন। ময়ুরাক্ষীর মধ্যে থাকা সরলতা ও নিষ্পাপ ভালোবাসা তাকে জীবনের গভীর অর্থ বুঝতে সাহায্য করে। যদিও পিতা হিসেবে অনেক স্বপ্ন অপূর্ণ রয়েছে, তবুও মেয়ের বিশেষত্বই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র বারাণসীর মেয়ে নিধি তেওয়ারি বনলেন মোদীর নতুন ব্যক্তিগত সচিব

অভিনেতার এই আবেগঘন স্বীকারোক্তি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক অভিভাবক, বিশেষ করে যাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, তারা আবিরের এই খোলামেলা কথার প্রশংসা করেছেন। তার এই সাহসী উদাহরণ অনেক পিতা-মাতার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

আবির চট্টোপাধ্যায় ১৮ বছর ধরে স্ত্রী নন্দিনীর সাথে সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করছেন। ২০০৭ সালে এমবিএ পড়ার সময় তাদের প্রথম পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমে এবং বিবাহে রূপান্তরিত হয়। তাদের একমাত্র সন্তান ময়ুরাক্ষী পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।পেশাগত জীবনে ব্যোমকেশ বক্সী, ফেলুদা এবং সোনাদার মতো বিখ্যাত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত আবির, ব্যক্তিগত জীবনে একজন নিবেদিতপ্রাণ পিতা। তার এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, পর্দার নায়ক হওয়ার চেয়েও বড় কথা হল বাস্তব জীবনে একজন ভালো বাবা হওয়া।