Adverse effects of ashwagandha: অশ্বগন্ধা একটি জনপ্রিয় আয়ুর্বেদিক ভেষজ হলেও এর অপব্যবহার বা অতিরিক্ত সেবন নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এই ভেষজের উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানেন, কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে এবং কীভাবে এগুলি এড়ানো যায়।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষ করে খালি পেটে অশ্বগন্ধা খেলে এই সমস্যাগুলি বেশি হয়। তাই সকালে খাওয়ার আগে অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
“পুরুষদের জন্য অশ্বগন্ধার ৭টি অবাক করা উপকারিতা – যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে!”
অশ্বগন্ধার একটি উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল ঘুম ঘুম ভাব। এটি শরীরকে শান্ত করে এবং ঘুমের গুণমান বাড়ায়। কিন্তু দিনের বেলায় এই প্রভাব অবাঞ্ছিত হতে পারে। যারা গাড়ি চালান বা মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজ করেন, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তাই দিনের বেলায় অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের অশ্বগন্ধা সেবন করা উচিত নয়। এছাড়া যারা থাইরয়েড ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও অশ্বগন্ধা সেবন করা ঠিক নয়। কারণ এটি ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিতে পারে।গর্ভবতী মহিলাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অশ্বগন্ধা জরায়ুর পেশীকে সংকুচিত করে যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় অশ্বগন্ধা সেবন করা একেবারেই উচিত নয়।অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অশ্বগন্ধা সেবন করা উচিত নয়। কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে যা অটোইমিউন রোগের লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করতে পারে। লুপাস, রুমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যারা ইতিমধ্যেই রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ অশ্বগন্ধা ওষুধের প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে যার ফলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এটি মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যার কারণ হতে পারে।অশ্বগন্ধা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
কিন্তু যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ অশ্বগন্ধা ওষুধের প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ হতে পারে।অশ্বগন্ধা লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই লিভারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে লিভার এনজাইমের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে যা লিভারের ক্ষতির লক্ষণ। তাই যাদের লিভারের সমস্যা আছে, তাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে পারে। যাদের প্রোস্টেট ক্যান্সার আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ টেস্টোস্টেরন প্রোস্টেট ক্যান্সারের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি দেখা যেতে পারে। এছাড়া মুখের ভিতরে জ্বালা-পোড়া ভাব অনুভব হতে পারে। যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে অশ্বগন্ধা সেবন বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে মাথাব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যারা মাইগ্রেনে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি হতে পারে। এছাড়া চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে অশ্বগন্ধা সেবন বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
Homeopathy Medicine Overdose: হোমিওপ্যাথি ওষুধের অতিমাত্রা, অজানা ঝুঁকি ও সতর্কতা
বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হৃদরোগ আছে, তাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে গর্ভনিরোধক পিলের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যারা গর্ভনিরোধক পিল খাচ্ছেন, তাদের অশ্বগন্ধা সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।