২০২৬ সালে পড়বে ১৩টি অমাবস্যা! জেনে নিন সঠিক তারিখ, তিথি ও বিশেষ ফলাফল

Amavasya 2026 Complete List: ২০২৬ সালে মোট ১৩টি অমাবস্যা তিথি পালিত হবে, যার মধ্যে একটি অধিক মাসের অমাবস্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিন্দু পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, অমাবস্যা তিথি হল কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিন যখন…

Srijita Chattopadhay

 

Amavasya 2026 Complete List: ২০২৬ সালে মোট ১৩টি অমাবস্যা তিথি পালিত হবে, যার মধ্যে একটি অধিক মাসের অমাবস্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিন্দু পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, অমাবস্যা তিথি হল কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিন যখন চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকে এবং এই দিনটি পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে একটি করে অমাবস্যা পড়বে, যার প্রতিটির রয়েছে নিজস্ব আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং বিশেষ পূজা পদ্ধতি। এই নিবন্ধে আমরা ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ অমাবস্যার তালিকা, তিথির সময়, আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রতিটি অমাবস্যার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

অমাবস্যা কী এবং এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা একটি অত্যন্ত পবিত্র তিথি যা প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিনে পালিত হয়। এই দিনে চাঁদ এবং সূর্য একই রাশিতে অবস্থান করে, ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদ দেখা যায় না। শাস্ত্র অনুযায়ী, অমাবস্যা তিথি পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত। ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র এবং পুরাণে বলা হয়েছে যে এই দিনে সম্পাদিত তর্পণ, শ্রাদ্ধ এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আত্মা তৃপ্ত হয় এবং তারা আশীর্বাদ প্রদান করেন।

অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করা, বিশেষত গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী এবং নর্মদায় স্নান অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। পুরাণ অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কয়েক ফোঁটা প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিকে পড়েছিল, যার ফলে এই স্থানগুলিতে অমাবস্যায় স্নান অমৃত স্নানের সমান ফলপ্রদ। দ্রিক পঞ্চাঙ্গ এবং অন্যান্য প্রামাণিক জ্যোতিষ সূত্র অনুযায়ী, সোমবারে পড়া অমাবস্যা ‘সোমবতী অমাবস্যা’ এবং শনিবারে পড়া অমাবস্যা ‘শনি অমাবস্যা’ নামে পরিচিত, যেগুলি অতিরিক্ত শুভ।

২০২৬ সালের সম্পূর্ণ অমাবস্যার তালিকা

২০২৬ সালে মোট ১৩টি অমাবস্যা তিথি রয়েছে, যার মধ্যে জ্যৈষ্ঠ মাসে দুটি অমাবস্যা পড়বে কারণ এবছর একটি অধিক মাস বা মলমাস রয়েছে। এবিপি লাইভ এবং দ্রিক পঞ্চাঙ্গের তথ্য অনুসারে প্রতিটি অমাবস্যার সঠিক তারিখ এবং মাস নিম্নরূপ:

মাস অমাবস্যার নাম তারিখ ২০২৬ বার বিশেষ তাৎপর্য
মাঘ মাঘী অমাবস্যা (মৌনী অমাবস্যা) ১৮ জানুয়ারি রবিবার মৌন ব্রত পালন ও গঙ্গাস্নান
ফাল্গুন ফাল্গুনী অমাবস্যা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শিব পূজা ও দান
চৈত্র চৈত্রী অমাবস্যা ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার নববর্ষের পূর্বে পিতৃ তর্পণ
বৈশাখ বৈশাখী অমাবস্যা ১৭ এপ্রিল শুক্রবার কালসর্প দোষ নিবারণ
জ্যৈষ্ঠ জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা ১৬ মে শনিবার শনি অমাবস্যা – বিশেষ ফলদায়ক
অধিক জ্যৈষ্ঠ অধিক জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা ১৫ জুন সোমবার সোমবতী অমাবস্যা – অত্যন্ত শুভ
আষাঢ় আষাঢ়ী অমাবস্যা ১৪ জুলাই মঙ্গলবার গুরু পূর্ণিমার প্রস্তুতি
শ্রাবণ শ্রাবণী অমাবস্যা ১২ আগস্ট বুধবার হরিতালিকা ব্রতের প্রস্তুতি
ভাদ্র ভাদ্রপদ অমাবস্যা ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পিতৃপক্ষের প্রারম্ভ
আশ্বিন আশ্বিনী অমাবস্যা (মহালয়া) ১০ অক্টোবর শনিবার সর্বপিতৃ অমাবস্যা – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
কার্তিক কার্তিকী অমাবস্যা (দীপাবলি) ৯ নভেম্বর সোমবার দীপাবলি উৎসব – লক্ষ্মী পূজা
অগ্রহায়ণ মার্গশীর্ষ অমাবস্যা ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার শীতকালীন পিতৃ তর্পণ

এই তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তিনটি বিশেষ অমাবস্যা রয়েছে – ১৬ মে তারিখে শনি অমাবস্যা, ১৫ জুন তারিখে সোমবতী অমাবস্যা এবং ৯ নভেম্বর তারিখে আবারও সোমবতী অমাবস্যা, যা দীপাবলির দিন। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই বিশেষ অমাবস্যাগুলিতে সম্পাদিত পূজা ও দানের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

মহালয়া অমাবস্যা – বাঙালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিথি

মহালয়া অমাবস্যা বা আশ্বিনী অমাবস্যা বাঙালি সংস্কৃতিতে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। ২০২৬ সালে এই মহালয়া পড়বে ১০ অক্টোবর, শনিবার। পিতৃপক্ষের শেষ দিন হিসেবে এই দিনটি ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’ নামেও পরিচিত। গরুড় পুরাণ অনুসারে, মহালয়া অমাবস্যায় সম্পাদিত একটি মাত্র শ্রাদ্ধ সমস্ত পূর্বপুরুষদের তৃপ্ত করে এবং তাদের আত্মার মুক্তি ঘটায়।

বাঙালি ঐতিহ্যে মহালয়ার দিন ভোরবেলা ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ স্তোত্র পাঠ করা হয়, যা দেবী দুর্গার আগমনের সূচনা করে। এই দিন গঙ্গা বা অন্যান্য পবিত্র নদীতে দাঁড়িয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। তিলযুক্ত জল, কালো তিল, যব এবং কুশ ব্যবহার করে এই তর্পণ সম্পাদিত হয়। বাঙালি পুরুষেরা সাধারণত কোমর পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে এই আচার পালন করেন এবং পূর্বপুরুষদের নাম উচ্চারণ করে তাদের শান্তি ও মুক্তি কামনা করেন।

ভারতীয় হিন্দু ধর্মীয় ওয়েবসাইট অনুসারে, মহালয়া অমাবস্যা শুধুমাত্র পিতৃপুজার দিন নয়, এটি দেবী দুর্গার পৃথিবীতে আগমনের প্রতীক। এই দিন থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন হয়। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং অসমের বাঙালি সমাজে এই দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিসহকারে পালিত হয়।

মহালয়ায় তর্পণ: গঙ্গায় নয়, যেকোনো জলাশয়েই করা যায়! জানুন বিস্তারিত

বিশেষ অমাবস্যার আচার-অনুষ্ঠান

মৌনী অমাবস্যা (১৮ জানুয়ারি)

মাঘ মাসের অমাবস্যা ‘মৌনী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত। এই দিনে মৌন ব্রত পালন করা বিশেষ ফলদায়ক। প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে এই দিন স্নান করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। এই অমাবস্যায় তিল দান, বস্ত্র দান এবং অন্নদান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। জ্যোতিষবিদদের মতে, এই দিনে সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রহের বিশেষ অবস্থানের ফলে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

দীপাবলি অমাবস্যা (৯ নভেম্বর)

কার্তিক মাসের অমাবস্যা দীপাবলি বা দীপান্বিতা অমাবস্যা নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনটি সোমবারে পড়বে, যা একে আরও শুভ করে তুলবে। এই দিনে লক্ষ্মী পূজা করা হয় এবং ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়। পান্ডিত জি অনওয়ে ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দীপাবলি অমাবস্যায় ধন-সম্পদ, সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির জন্য পূজা করা হয়। এই দিনে ব্যবসায়ীরা নতুন বহি খোলেন এবং ঘরে নতুন জিনিস আনা শুভ বলে মনে করা হয়।

সোমবতী ও শনি অমাবস্যা

২০২৬ সালে দুটি সোমবতী অমাবস্যা রয়েছে – ১৫ জুন (অধিক জ্যৈষ্ঠ) এবং ৯ নভেম্বর (দীপাবলি)। সোমবতী অমাবস্যায় শিব পূজা করা বিশেষ ফলদায়ক এবং এই দিনে বট বৃক্ষের নিচে পূজা করা ঐতিহ্যবাহী। অস্ট্রো সেজ পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, সোমবতী অমাবস্যায় উপবাস করলে পিতৃ দোষ দূর হয় এবং সন্তান লাভ হয়।

১৬ মে তারিখে শনি অমাবস্যা পড়বে যা শনি দেবের প্রভাব কমাতে বিশেষ কার্যকর। এই দিনে শনি মন্দিরে তেল দান, কালো তিল দান এবং দরিদ্রদের খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ।

অমাবস্যায় কী কী আচার পালন করা উচিত

প্রাতঃকালীন স্নান ও তর্পণ

অমাবস্যার দিন সূর্যোদয়ের আগে উঠে পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করা উচিত। যদি সম্ভব না হয়, তবে ঘরেই স্নান করে তিলযুক্ত জল দিয়ে পিতৃপুরুষদের তর্পণ করা যায়। শ্রী মন্দির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, তর্পণের সময় পূর্বপুরুষদের নাম, গোত্র এবং তিথি উচ্চারণ করে তিলযুক্ত জল অর্পণ করতে হয়।

শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান

অমাবস্যা তিথিতে ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো এবং পিণ্ডদান করা বিশেষ ফলদায়ক। পিণ্ডদান সাধারণত চাল, তিল, দুধ এবং মধু দিয়ে তৈরি করা হয়। গয়া, বারাণসী, প্রয়াগরাজ এবং হরিদ্বারে পিণ্ডদান বিশেষ পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়।

দান-ধ্যান

অমাবস্যার দিন দরিদ্রদের খাওয়ানো, বস্ত্র দান, গোদান এবং অন্ন দান অত্যন্ত শুভ। OM Spiritual Shop-এর তথ্য অনুসারে, অমাবস্যায় দান করলে তার ফল সহস্র গুণ বৃদ্ধি পায় এবং পিতৃ দোষ থেকে মুক্তি মেলে।

উপবাস ও পূজা

অনেকে অমাবস্যার দিন উপবাস রাখেন এবং সন্ধ্যায় দীপ জ্বালিয়ে পূজা করেন। তুলসী গাছে প্রদীপ জ্বালানো এবং হনুমান মন্দিরে যাওয়া বিশেষ ফলদায়ক।

অমাবস্যা শুভ নাকি অশুভ: ধর্মীয় বিশ্বাস ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়

অমাবস্যায় যা করা নিষিদ্ধ

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে অমাবস্যার দিন কিছু কাজ নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। এই দিনে নতুন কাজ শুরু করা, যাত্রা করা, বিয়ে বা গৃহপ্রবেশের মতো শুভ কাজ করা উচিত নয়। অনেকে বিশ্বাস করেন যে অমাবস্যার রাতে ভূত-প্রেতের আধিক্য থাকে, তাই বাইরে না যাওয়াই ভালো।

তবে জ্যোতিষবিদদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি আসলে পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি উপায়। অমাবস্যা তিথিকে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তর্পণের জন্য নিবেদিত রাখা হয়, তাই অন্যান্য জাগতিক কাজ এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

পিতৃ দোষ নিবারণে অমাবস্যার ভূমিকা

জ্যোতিষশাস্ত্রে পিতৃ দোষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি কুণ্ডলীতে সূর্য-রাহু, চন্দ্র-কেতু বা অন্যান্য গ্রহ সংযোগ থাকে তবে পিতৃ দোষ হয়। এর ফলে সন্তান লাভে বাধা, আর্থিক সমস্যা, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং পারিবারিক কলহ হতে পারে।

পিতৃ দোষ নিবারণের জন্য অমাবস্যায় নিয়মিত তর্পণ, শ্রাদ্ধ এবং দান করা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষত সর্বপিতৃ অমাবস্যায় (মহালয়া) যথাযথ বিধি মেনে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃ দোষ দূর হয় এবং পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পাওয়া যায়। কালসর্প দোষ নিবারণের জন্যও অমাবস্যায় বিশেষ পূজা করা হয়।

আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও উৎসব

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অমাবস্যা বিভিন্নভাবে পালিত হয়। তামিলনাড়ুতে এটি ‘আমাবাসাই’ নামে পরিচিত এবং এই দিনে বিশেষ পূজা করা হয়। কেরালায় অমাবস্যায় সাপের পূজা করা হয়। মহারাষ্ট্রে অমাবস্যায় হনুমান মন্দিরে বিশেষ ভিড় হয়। গুজরাটে কার্তিক অমাবস্যায় দীপাবলি পালিত হয় এবং নতুন বছর শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশায় মহালয়া অমাবস্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দিন ভোরে আকাশবাণীতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ স্তোত্র প্রচারিত হয়, যা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রায় প্রতিটি বাঙালি পরিবারে এই দিন সকালে এই স্তোত্র শোনা হয় এবং পিতৃপুরুষদের স্মরণ করা হয়।

২০২৬ সালের বিশেষত্ব – অধিক মাস

২০২৬ সালের একটি বিশেষত্ব হল অধিক মাস বা মলমাস। হিন্দু চান্দ্র পঞ্চাঙ্গ এবং সৌর বছরের মধ্যে সমন্বয় রাখার জন্য প্রায় তিন বছর পর একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত করা হয়। ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ মাসের পরে একটি অধিক জ্যৈষ্ঠ মাস আসবে, যার ফলে এই বছরে ১৩টি অমাবস্যা পড়বে।

অধিক মাসে সাধারণত বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা অন্যান্য শুভ কাজ করা হয় না, কিন্তু পূজা-পার্বণ, দান-ধ্যান এবং পিতৃ তর্পণ করা বিশেষ পুণ্যদায়ক। ১৫ জুন তারিখে যে অধিক জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা পড়বে, তা সোমবতী অমাবস্যা হওয়ায় দ্বিগুণ শুভ ফলদায়ক।

অমাবস্যা ও আধুনিক জীবনযাত্রা

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান পালন করার সময় পান না। তবে অমাবস্যার মূল উদ্দেশ্য হল পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এটি যেকোনো উপায়ে করা যেতে পারে – হোক তা সাধারণ প্রার্থনা, মানসিক তর্পণ বা দাতব্য কাজের মাধ্যমে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের শেকড়ের সাথে যুক্ত রাখে এবং পারিবারিক বন্ধন মজবুত করে। অমাবস্যার দিনে পরিবারের সকলে একসাথে বসে পূর্বপুরুষদের কথা স্মরণ করা এবং তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া একটি মূল্যবান ঐতিহ্য।

সমাপ্তি

২০২৬ সালের ১৩টি অমাবস্যা তিথি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসবে। প্রতিটি অমাবস্যার নিজস্ব তাৎপর্য এবং আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে যা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। বিশেষত মহালয়া অমাবস্যা এবং দীপাবলি অমাবস্যা বাঙালি সংস্কৃতিতে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এই পবিত্র দিনগুলিতে পিতৃ তর্পণ, শ্রাদ্ধ, দান-ধ্যান এবং পূজা-পার্বণের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ করতে পারি এবং জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ আনতে পারি। প্রাচীন ঐতিহ্য এবং আধুনিক জীবনযাত্রার মধ্যে সমন্বয় রেখে আমরা এই পবিত্র তিথিগুলি পালন করে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি। অমাবস্যার এই পবিত্র দিনগুলি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং পরিবার ও সমাজের সাথে আমাদের সংযোগ মজবুত করার এক অনন্য মাধ্যম।

About Author
Srijita Chattopadhay

সৃজিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি তার লেখা দ্বারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরতে সদা উদ্যমী। সৃজিতার লেখার ধারা মূলত সাহিত্য, সমাজ এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে তিনি তার গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর নিবন্ধ ও প্রতিবেদনগুলি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা তার বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। সৃজিতা তার কর্মজীবনে ক্রমাগত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বদ্ধপরিকর, যা তাকে বাংলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন