বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী অরিজিৎ সিং ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করে সঙ্গীতপ্রেমীদের চমকে দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শিখরে থাকাকালীন এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। তবে গায়ক নিজেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণের কথা জানিয়েছেন, যা তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগীরাও নিশ্চিত করেছেন।
অরিজিতের আবেগঘন ঘোষণা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক পোস্টে অরিজিৎ লিখেছেন, “নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকলকে। শ্রোতা হিসাবে এত বছর ধরে আমায় এত ভালবাসা দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, এ বার থেকে আমি আর প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে কোনও কাজ করব না। আমি প্লেব্যাক গাওয়া বন্ধ করলাম। এই সফর সত্যিই সুন্দর ছিল।” ৩৮ বছর বয়সী এই শিল্পীর ঘোষণায় তাঁর কোটি কোটি অনুরাগীর মন ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে।
অরিজিৎ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কেবল প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, সঙ্গীত থেকে নয়। তিনি জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে যে প্রজেক্টগুলির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছেন, সেগুলি সম্পূর্ণ করবেন এবং ভবিষ্যতে নিজের সঙ্গীত তৈরি করতে থাকবেন।
অবসরের পেছনে মূল কারণসমূহ
একঘেয়েমি ও সৃজনশীল স্থবিরতা
অরিজিৎ সিং তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রথম কারণ হিসেবে একঘেয়েমির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “খুব তাড়াতাড়ি একঘেয়ে লাগতে শুরু করে আমার। যে কারণে এক-একটি গানের ব্যবস্থাপনাও পাল্টাতে থাকি আমি। সেই মতো স্টেজে পারফর্ম করি। তাই বলা যেতে পারে, একঘেয়েমি এসে যায় তাড়াতাড়ি।” এই উক্তি থেকে স্পষ্ট যে প্লেব্যাক সিঙ্গিং এর পুনরাবৃত্তিমূলক প্রকৃতি তাঁর সৃজনশীল মনকে আর সন্তুষ্ট করতে পারছিল না।
নতুন প্রতিভার অপেক্ষা
আর একটি পোস্টে অরিজিৎ লিখেছেন, “আর একটি কারণ হল, আমি চাই কোনও গায়ক আসুন এবং আমাকে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা জোগান।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তিনি চান নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা এগিয়ে আসুক এবং সঙ্গীত জগতে নতুন মাত্রা যোগ করুক। তিনি নিজে পথ ছেড়ে দিয়ে এই সুযোগ তৈরি করতে চান।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রত্যাবর্তন
অরিজিৎ জানিয়েছেন যে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ফিরে যেতে চান। তিনি বলেছেন, “আমি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ফিরে যাচ্ছি। আমি সঙ্গীত তৈরি করতে ফিরে যেতে চাই। আমি নতুন করে শুরু করতে চাই।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি তাঁর শিকড়ে ফিরে যেতে চান এবং আরও গভীরভাবে সঙ্গীতচর্চা করতে আগ্রহী।
পরিচালনায় মনোনিবেশ
বলিউডের সূত্র অনুযায়ী, অরিজিৎ আপাতত পরিচালনায় মন দিতে চাইছেন। HT-এর সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, “অরিজিৎ একটি ছবি পরিচালনা করছেন। তিনি সেই কাজে ব্যস্ত হতে চলেছেন। তিনি এর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিচালনা এখন তাঁর প্যাশন হয়ে উঠেছে।”
অরিজিতের চলচ্চিত্র পরিচালনার নতুন অধ্যায়
প্যান-ইন্ডিয়া জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার ছবি
সূত্র অনুযায়ী, অরিজিৎ সিং একটি প্যান-ইন্ডিয়া জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার ছবি পরিচালনা করতে চলেছেন। ছবিটির প্রযোজক মহাবীর জৈন, যিনি মহাবীর জৈন ফিল্মসের মালিক। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন অরিজিৎ নিজে এবং কয়েল সিং। ছবিটি আলোকদ্যুতি ফিল্মসের সহযোগিতায় এবং গড ব্লেস এন্টারটেইনমেন্ট সহ-প্রযোজনায় নির্মিত হবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, “অরিজিৎ সিং একটি অনন্য জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার ছবি পরিচালনা করতে প্রস্তুত। মহাবীর জৈন এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট নিয়ে উত্তেজিত। তাঁরা নিশ্চিত করছেন যে ছবিটি প্যান-ইন্ডিয়ান দর্শকদের আকৃষ্ট করবে।” ছবিটির কাস্টিং এবং প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
‘সা’ এবং ‘ভয়’ – দুটি পরিচালনা প্রকল্প
অরিজিৎ ইতিমধ্যে দুটি ছবির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর প্রথম বাংলা ছবি ‘সা’ এখনও মুক্তির প্রতীক্ষায়। সেই ছবিটি মুক্তির আগেই তিনি হিন্দিতে ‘ভয়’ নামে আরেকটি ছবি পরিচালনা করছেন। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে পরিচালনা সত্যিই তাঁর নতুন আবেগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
অরিজিৎ সিং-এর অসাধারণ সফলতার যাত্রা
প্লেব্যাক ক্যারিয়ারের সূচনা ও উত্থান
অরিজিৎ সিং-এর প্লেব্যাক ক্যারিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবিতে ‘ফির মোহব্বত’ গান দিয়ে। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য আসে ২০১৩ সালে ‘আশিকী ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গান দিয়ে। এই গানটি তাৎক্ষণিক হিট হয় এবং অরিজিৎকে একটি পরিচিত নাম করে তোলে। গানটি তাঁকে দশটি মনোনয়নের মধ্যে নয়টি পুরস্কার এনে দেয়, যার মধ্যে ছিল তাঁর প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে অভূতপূর্ব সাফল্য
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, অরিজিৎ সিং-এর স্পটিফাইতে ১৭১ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে – যা টেইলর স্যুইফট (১৪০ মিলিয়ন) এর চেয়ে ৩১ মিলিয়ন এবং এড শিরান (১২১ মিলিয়ন) এর চেয়ে ৫০ মিলিয়ন বেশি। স্পটিফাই তাঁকে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া ভারতীয় শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ, তিনি প্ল্যাটফর্মের গ্লোবাল টপ ১০-এ নবম স্থান অধিকার করে প্রথমবারের মতো এই তালিকায় স্থান পান।
তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান “কেসরিয়া” (‘ব্রহ্মাস্ত্র পার্ট ওয়ান: শিবা’ থেকে) ৬৩৩ মিলিয়নেরও বেশি স্ট্রিম পেয়েছে, যা স্পটিফাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া ভারতীয় গান। জুলাই ২০২৫-এ, তিনি প্রথম শিল্পী হিসেবে স্পটিফাইতে ১৫০ মিলিয়ন ফলোয়ার অতিক্রম করেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
অরিজিৎ সিং-এর পুরস্কারের সংগ্রহ তাঁর প্রাধান্যের প্রমাণ। তিনি দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন – ২০১৮ সালে ‘পদ্মাবত’ ছবির “বিন্তে দিল” এবং ২০২২ সালে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির “কেসরিয়া” গানের জন্য। ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে, তিনি ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের শিরোপা জিতেছেন, যা কুমার সানুর রেকর্ডের সমান। ২০২৪ সালে, তিনি ‘লাপাতা লেডিস’ ছবির “সাজনি” গানের জন্য তাঁর অষ্টম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান, যা কিশোর কুমারের সর্বকালের রেকর্ডের সমান।
ভারত সরকার ২০২২ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেলিব্রিটি ১০০ তালিকায় তিনি নিয়মিত স্থান পান এবং ২০১৯ সালে তাঁর আয় ছিল ৭১.৯৫ করোড় রুপি।
সাম্প্রতিক কাজ ও প্রজেক্ট
অরিজিৎ সিং সম্প্রতি বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গান গেয়েছেন। কিছু দিন আগেই ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ’ নামে একটি গান গেয়েছেন যা বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছে। ‘ধুরন্ধর’ ছবির ‘গেহরা হুয়া’ গানটিও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক কাজ হল সলমন খান অভিনীত ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ ছবির ‘মাতৃভূমি’ গানটি, যা প্রজাতন্ত্র দিবসে মুক্তি পায়।
সঙ্গীত জগতে প্রতিক্রিয়া
অরিজিৎ সিং-এর এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সঙ্গীত শিল্প এবং অনুরাগীরা স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন যে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, কারণ এমন সিদ্ধান্ত একজন সফল শিল্পীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। অনুরাগীরা আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং অনেকেই আশা করছেন যে তিনি শীঘ্রই তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।
বলিউডের অনেক শিল্পী এবং প্রযোজক এই সিদ্ধান্তকে সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন যে এটি নতুন প্রতিভার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং শিল্প আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠবে।
কনসার্ট ও লাইভ পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকবে
অরিজিৎ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কেবল ছবির জন্য প্লেব্যাক গাওয়া বন্ধ করছেন, কনসার্ট এবং লাইভ পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখবেন। তিনি বিশ্বব্যাপী কনসার্ট করে থাকেন এবং তাঁর লাইভ শো অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০২৫ সালে তিনি লন্ডনের টটেনহ্যাম হটসপার স্টেডিয়ামে এবং আরও বিভিন্ন স্থানে পারফর্ম করেছেন। তাঁর গ্লোবাল মাসিক শ্রোতা সংখ্যা ৫০.৭ মিলিয়ন।
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রজেক্টসমূহ
অরিজিৎ জানিয়েছেন যে যেসব প্রজেক্টের জন্য তিনি ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেগুলি তিনি সম্পূর্ণ করবেন। তাই আগামী কিছু মাসে তাঁর কণ্ঠে নতুন গান মুক্তি পেতে পারে। তবে এগুলোর পরে তিনি আর কোনও নতুন ছবির গান গাইবেন না।
স্বাধীন সঙ্গীত সৃষ্টির পরিকল্পনা
অরিজিৎ জানিয়েছেন যে তিনি নিজের সঙ্গীত তৈরি করবেন। তিনি বলেছেন, “আমি আমার নিজস্ব সঙ্গীত তৈরি করব। যখন প্রস্তুত হব তখন আমার সঙ্গীত নিয়ে আসব।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি স্বাধীন শিল্পী হিসেবে কাজ করতে চান এবং নিজের শর্তে সৃজনশীল কাজ করতে আগ্রহী।
| বিভাগ | বিবরণ | |
|---|---|---|
| স্পটিফাই ফলোয়ার | ১৭১ মিলিয়ন (জানুয়ারি ২০২৬) | |
| জাতীয় পুরস্কার | ২টি (২০১৮, ২০২২) | |
| ফিল্মফেয়ার পুরস্কার | ৮টি (কিশোর কুমারের রেকর্ড সমান) | |
| সর্বাধিক স্ট্রিম হওয়া গান | “কেসরিয়া” – ৬৩৩ মিলিয়ন+ | |
| মাসিক শ্রোতা | ৫০.৭ মিলিয়ন | |
| পদ্মশ্রী | ২০২২ | |
| ফোর্বস আয় (২০১৯) | ৭১.৯৫ করোড় রুপি |
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
অরিজিৎ সিং তাঁর শেকড়ে ফিরে যেতে চান। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতচর্চা করতে চান এবং সেখান থেকে নতুন করে শুরু করতে চান। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত কারণ তিনি তাঁর প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তিতে ফিরে যাচ্ছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত তাঁকে আরও গভীর শিল্পীসত্তায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অরিজিৎ সিং-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে:
-
চলচ্চিত্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ মনোনিবেশ
-
প্যান-ইন্ডিয়া জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার ছবি নির্মাণ
-
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতচর্চা ও প্রচার
-
স্বাধীন সঙ্গীত সৃষ্টি ও অ্যালবাম প্রকাশ
-
বিশ্বব্যাপী লাইভ কনসার্ট চালিয়ে যাওয়া
-
নতুন প্রতিভা বিকাশে সহায়তা
সঙ্গীত শিল্পে অবদান
অরিজিৎ সিং গত দেড় দশকে বলিউড এবং আঞ্চলিক চলচ্চিত্রে অসংখ্য সুপারহিট গান দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে ‘তুম হি হো’, ‘চান্না মেরেয়া’, ‘কেসরিয়া’, ‘হাওয়াইন’, ‘গেরুয়া’, ‘আগর তুম সাথ হো’, ‘কবীরা’, ‘ধুন’ এর মতো অসংখ্য গান রয়েছে যা শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তিনি ২০১৯ সালে ১৮টি ছবিতে কাজ করেছিলেন, যার মধ্যে ‘কবির সিং’, ‘আন্ধাধুন’, ‘ছিচ্ছোরে’ এবং ‘কালঙ্ক’ উল্লেখযোগ্য।
নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ
অরিজিৎ সিং-এর এই সিদ্ধান্ত নতুন প্রজন্মের গায়কদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি নিজেই চান যে নতুন কণ্ঠশিল্পীরা এগিয়ে আসুক এবং তাঁকে অনুপ্রেরণা দিক। বলিউডে যেখানে গুটিকয়েক শিল্পীর একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, সেখানে এই পদক্ষেপ শিল্পে বৈচিত্র্য আনতে পারে।
অরিজিৎ সিং-এর ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন
অরিজিৎ সিং সবসময়ই তাঁর বিনয় এবং শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত। তিনি খ্যাতি এবং পুরস্কারের চেয়ে সঙ্গীতকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তও তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন – যেখানে তিনি নিজের শিল্পীসত্তার প্রতি সৎ থাকতে চান এবং শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য কাজ করতে রাজি নন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ সিং-এর ঘোষণা ভাইরাল হয়েছে এবং ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ তাঁর সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। অনেক অনুরাগী আশা প্রকাশ করছেন যে এটি একটি সাময়িক বিরতি এবং তিনি শীঘ্রই ফিরে আসবেন।
অরিজিৎ সিং-এর প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পে একটি যুগের সমাপ্তি চিহ্নিত করে। তবে এটি একটি নতুন শুরুও বটে – যেখানে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী এবং স্বাধীন সংগীত স্রষ্টা হিসেবে নিজেকে পুনর্নির্মাণ করতে চান। একঘেয়েমি, সৃজনশীল স্থবিরতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা – এই সব কারণই তাঁকে এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহযোগীরা নিশ্চিত করেছেন যে পরিচালনা এখন তাঁর মূল আবেগ এবং তিনি সেই দিকেই তাঁর সমস্ত শক্তি নিয়োগ করতে চান। যদিও অনুরাগীরা তাঁর কণ্ঠ মিস করবেন, তাঁর সৃজনশীল যাত্রার এই নতুন অধ্যায় অবশ্যই উত্তেজনাপূর্ণ হবে। ভারতীয় সঙ্গীত জগতে অরিজিৎ সিং-এর অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে এবং তাঁর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অন্যান্য শিল্পীদের তাদের সৃজনশীল আবেগ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করবে।











