জয়েন করুন

গান থাকবে, কণ্ঠ থাকবে, মানুষটা আর নেই—বিদায় আশা ভোঁসলে

Asha Bhosle Dies At 92: কিছু খবর শুধু “খবর” থাকে না, সময়ের বুকের মধ্যে দাগ কেটে যায়। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর তেমনই এক মুহূর্ত। যে কণ্ঠ বহু দশক ধরে ভারতীয়…

avatar
Written By : Sangita Chowdhury
Updated Now: April 12, 2026 1:29 PM
বিজ্ঞাপন
Asha Bhosle Dies At 92: কিছু খবর শুধু “খবর” থাকে না, সময়ের বুকের মধ্যে দাগ কেটে যায়। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর তেমনই এক মুহূর্ত। যে কণ্ঠ বহু দশক ধরে ভারতীয় সিনেমা, প্রেম, বেদনা, আনন্দ, নাচ, গজল আর স্মৃতির সঙ্গে মিশে ছিল, সেই কণ্ঠের অধিকারী মানুষটি আর নেই। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে। তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং কার্ডিয়াক (হৃদ্‌যন্ত্রজনিত) ও রেসপিরেটরি (শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত) জটিলতার পর অবস্থার অবনতি হয়।

এই সংবাদ শুধুই বলিউডের এক গায়িকার মৃত্যু নয়। এটি ভারতীয় সংগীতের এক সুবর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তির মতো। কারণ আশা ভোঁসলে শুধু Playback Singer (চলচ্চিত্রে গাওয়া কণ্ঠশিল্পী) ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধিক প্রজন্মের আবেগের অংশ। তাঁর গাওয়া গান মানেই অনেকের কাছে প্রথম প্রেম, পুরনো রেডিও, রবিবার দুপুর, ক্যাসেটের দিন, কিংবা সাদা-কালো সিনেমার ভিতরে লুকিয়ে থাকা রঙিন অনুভূতি।

আশা ভোঁসলের মৃত্যু সংবাদ: এখন পর্যন্ত কী জানা গেছে

রেফারেন্স হিসাবে দেওয়া হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশা ভোঁসলে গত কয়েক মাস ধরেই শারীরিকভাবে ভালো ছিলেন না। শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ICU (নিবিড় পরিচর্যা কক্ষ)-তেও রাখা হয়েছিল। তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে রবিবার এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেন। শেষকৃত্য পরের দিন সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এ ধরনের সংবাদের ক্ষেত্রে পাঠকরা সাধারণত তিনটি জিনিস জানতে চান: খবরটি সত্য কি না, শারীরিক সমস্যা কী ছিল, এবং পরিবার কী বলেছে। এই তিনটি বিষয়ই উল্লিখিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অবস্থান হলো, সতর্ক ভাষায় নিশ্চিত তথ্যটুকুই বলা। অতিরঞ্জন বা অযাচিত আবেগে নতুন তথ্য যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

কেন আশা ভোঁসলের প্রয়াণ এত বড় খবর

ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এমন শিল্পী খুব কমই আছেন, যাঁদের কণ্ঠ একসঙ্গে এত বিচিত্র মেজাজ বহন করেছে। আশা ভোঁসলে ছিলেন সেই বিরল ব্যতিক্রম। তিনি যেমন চঞ্চল, দ্রুতলয়ের, ক্যাবারে-ধাঁচের গান গেয়েছেন, তেমনই গভীর আবেগময় গজল, রোম্যান্টিক গান, আধুনিক সুর এবং চলচ্চিত্রভিত্তিক অসংখ্য স্মরণীয় ট্র্যাকেও নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনেও তাঁর এই বহুমুখী সঙ্গীত-পরিসর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসলে আশা ভোঁসলের বিশেষত্ব ছিল একটাই—তিনি কোনও এক ঘরানার মধ্যে আটকে থাকেননি। অনেক শিল্পী নিজের শক্তির জায়গা বেছে নেন, কিন্তু তিনি নিজের সীমা বাড়িয়েছেন। ফলে তাঁকে শুধু “জনপ্রিয় গায়িকা” বললে কম বলা হয়; তিনি ছিলেন এক চলমান Musical Institution (সঙ্গীতের প্রতিষ্ঠানসম মানদণ্ড)।

আশা ভোঁসলের সঙ্গীতজীবন: কোথা থেকে শুরু, কোথায় পৌঁছনো

আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন সঙ্গীতমুখর মঙ্গেশকর পরিবারে। ছোট বয়স থেকেই তাঁর সংগীতের ভিত তৈরি হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ৯ বছর বয়সে পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন এবং ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের গান রেকর্ড করেন। ১৯৫০-এর দশকে তিনি ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে ফেলেন। :contentReference[oaicite:3]{index=3}

এখানে একটা বড় শিক্ষা আছে। খ্যাতি তাঁর হাতে রাতারাতি আসেনি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, এবং নিজস্ব গায়কী গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি উঠে এসেছেন। আজকের তরুণ শিল্পীরাও এখান থেকে বুঝতে পারেন, Longevity (দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য) শুধু প্রতিভা দিয়ে আসে না; লাগে পরিশ্রম, ধৈর্য, আর নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার ক্ষমতা।

শুরুর দিকের সংগ্রাম

তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আশা ভোঁসলেকে অনেক সময় নাচের গান বা ক্যাবারে নম্বরের সঙ্গে বেশি যুক্ত করা হতো। তখনকার ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের টাইপকাস্টিং খুব অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি প্রমাণ করেন, কণ্ঠের বহুমাত্রিক ব্যবহারই একজন শিল্পীকে বড় করে।

ঘরানা ভেঙে নিজের জায়গা তৈরি

একজন শিল্পীর প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় তখনই, যখন তিনি পূর্বধারণা ভেঙে নতুন জায়গা দখল করেন। আশা ভোঁসলে ঠিক সেটাই করেছিলেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি পরবর্তী সময়ে গজলেও অসাধারণ দক্ষতা দেখান, বিশেষ করে Umrao Jaan ছবিতে।

এই জায়গাটাই তাঁকে আলাদা করে। কারণ শ্রোতার মনে তিনি শুধু “এক ধরনের গান”-এর শিল্পী নন; তিনি ছিলেন অনুভূতির বিভিন্ন রঙে স্বচ্ছন্দ এক কণ্ঠ।

পুরস্কার, সম্মান ও সাফল্য: কেন তিনি কিংবদন্তি

আশা ভোঁসলের সাফল্য শুধু জনপ্রিয়তায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তার স্বীকৃতিও ছিল অসাধারণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাতবার Filmfare Award (ফিল্মফেয়ার পুরস্কার) জয় করেন সেরা মহিলা Playback Singer (চলচ্চিত্রে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী) বিভাগে। এছাড়া তিনি দুইবার National Film Award (জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার) পান—Dil Cheez Kya Hai এবং Mera Kuch Saamaan গানের জন্য।

এই পুরস্কারগুলোর গুরুত্ব আলাদা আলাদা। Filmfare জনপ্রিয়তার সঙ্গে মূলধারার গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় দেয়। আর National Award দেখায়, শিল্পী হিসেবে তাঁর গায়কি কতটা উচ্চমানের ছিল। দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সাফল্য পাওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়।

আশা ভোঁসলে মানে শুধু গান নয়, এক সাংস্কৃতিক স্মৃতি

কিছু শিল্পী আছেন, যাঁদের কাজকে কেবল “পারফরম্যান্স” বলে বিচার করা যায় না। আশা ভোঁসলের গলায় গাওয়া বহু গান ভারতীয় মধ্যবিত্ত জীবনের আবেগে মিশে গেছে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, রেডিওতে, পুরনো টিভি-শোতে, স্টেজ পারফরম্যান্সে, এমনকি পারিবারিক আড্ডাতেও তাঁর গান ফিরে ফিরে আসে।

ভারতের বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতার কাছেও এই অনুভূতি খুব পরিচিত। কারণ হিন্দি সিনেমার গান বাংলার ঘরে বহুদিন ধরেই আবেগের অংশ। ফলে আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর কলকাতা, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, বহরমপুর বা আসানসোল—সব জায়গাতেই সমান আবেগ ছড়াতে পারে। এই স্থানীয় পাঠক-সংযোগটাই বাংলা কনটেন্টে জরুরি, অথচ অনেক রিপোর্টে তা অনুপস্থিত থাকে।

লতা মঙ্গেশকর, আর. ডি. বর্মণ এবং আশা ভোঁসলে: সম্পর্কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর

১) মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম, কিন্তু নিজস্ব পরিচয়

আশা ভোঁসলের নাম এলেই লতা মঙ্গেশকরের নামও আসে। কারণ দু’জনই ভারতীয় সঙ্গীতের মহান দুই স্তম্ভ, এবং দু’জনই একই পরিবারের সদস্য। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতে আশা ভোঁসলের মর্যাদা কেবল তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরই টক্কর দিতে পারতেন।

তবে এখানেই আশার বিশেষত্ব—তুলনার মধ্যে থেকেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র সত্তা তৈরি করেছিলেন। এটা খুব বড় কথা। কারণ একই পরিবারের আরেক কিংবদন্তির ছায়া পেরিয়ে নিজের কণ্ঠকে জনমানসে প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়।

২) ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায়

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন আশা। পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। তাঁদের তিন সন্তান ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে এই সময়টা সহজ ছিল না।

এই অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনমানসে বড় শিল্পীদের জীবনকে অনেক সময় কেবল সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের জীবনেও অনিশ্চয়তা, কষ্ট, ভাঙন, সামাজিক চাপ—সবই থাকে। আশা ভোঁসলের জীবনও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

৩) রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে সঙ্গীত ও সম্পর্ক

১৯৮০ সালে তিনি সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই সম্পর্কও ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। কারণ তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে সঙ্গীত-সমন্বয়ের কথাও শ্রোতারা বারবার মনে করেন। আর. ডি. বর্মণের সুর এবং আশা ভোঁসলের কণ্ঠ—এই জুটি ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে এক আলাদা আবহ তৈরি করেছিল।

সমসাময়িক গান নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল

হিন্দুস্তান টাইমস ২০২৩ সালের একটি সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করেছে, যেখানে আশা ভোঁসলে বলেছিলেন যে তিনি আজকের সব গান নিয়মিত শোনেন না; বরং ভীমসেন যোশি, শাস্ত্রীয় সংগীত ও গজল শুনতে পছন্দ করেন, কারণ সেখান থেকে শেখার সুযোগ বেশি। একই সঙ্গে তিনি কিছু সমকালীন শিল্পীর কাজও ভালো লাগে বলে জানান।

এই মন্তব্যকে কেবল “পুরনো দিনের শিল্পীর নস্টালজিয়া” বলে দেখলে ভুল হবে। বরং এখানে বোঝা যায়, তিনি সংগীতকে চর্চার বিষয় হিসেবে দেখতেন, শুধু জনপ্রিয়তার দিক থেকে নয়। অর্থাৎ তাঁর কাছে গান মানে ছিল Craft (শিল্পকৌশল), Practice (অভ্যাস), আর Sur (সুর)-এর শৃঙ্খলা।

কোন কারণে তাঁর মৃত্যু সংবাদ এত দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে

এর উত্তর খুব সহজ—আশা ভোঁসলে এমন এক নাম, যিনি কেবল সিনেমাপ্রেমীদের নন, সাধারণ ভারতীয় পারিবারিক স্মৃতিরও অংশ। যাঁরা পুরনো রেডিও শুনেছেন, যাঁরা সত্তর-আশির দশকের গান ভালোবাসেন, যাঁরা বলিউডের বিবর্তন দেখেছেন, এমনকি যাঁরা নতুন প্রজন্মের হয়েও “ওল্ড ইজ গোল্ড” প্লেলিস্ট শোনেন, সবার কাছেই তিনি পরিচিত মুখ।

একজন শিল্পীর মৃত্যুর পর খবর ভাইরাল হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু সব খবর একই ধরনের আবেগ তৈরি করে না। আশা ভোঁসলের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা, কারণ তাঁর কণ্ঠ ভারতীয় গণসংস্কৃতির বহু স্তরে ছড়িয়ে আছে।

আশা ভোঁসলের উত্তরাধিকার আজও কেন প্রাসঙ্গিক

আজকের দিনে সংগীত জগৎ দ্রুত বদলাচ্ছে। Digital Platform (ডিজিটাল মঞ্চ), Short Video (সংক্ষিপ্ত ভিডিও), Remix Culture (পুনর্নির্মিত সুরের ধারা)—সব মিলিয়ে শ্রোতার অভ্যাস বদলে গেছে। কিন্তু তার মধ্যেও আশা ভোঁসলের গান টিকে আছে। কেন?

কারণ তাঁর গলায় ছিল তিনটি জিনিস—স্বকীয়তা, অভিব্যক্তি, এবং স্মরণযোগ্যতা। তিনি গানকে শুধু সুরে বাঁধেননি; চরিত্র, পরিস্থিতি, আবেগ—সব মিলিয়ে গানকে জীবন্ত করেছেন। এটাই বড় শিল্পীর চিহ্ন।

একজন তরুণ শ্রোতা হয়তো তাঁর সব গান জানেন না। কিন্তু কোনও পুরনো প্লেলিস্টে একবার মন দিয়ে শুনলেই বোঝা যায়—এই কণ্ঠে অভিনয় আছে, হাসি আছে, খুনসুটি আছে, আর গভীর বিষাদও আছে। খুব কম কণ্ঠ এত বিস্তৃত আবেগ এত সহজে বহন করতে পারে।

শুধু মৃত্যু সংবাদ নয়, এ এক যুগের বিদায়

ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে কয়েকটি নাম সময়কে ভাগ করে দেয়—আগে ও পরে। আশা ভোঁসলে সেই বিরল নামগুলোর একটি। তাঁর প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই শোক, স্মৃতি আর শ্রদ্ধা একসঙ্গে ফিরে আসছে।

এখানে একটা বাস্তব কথা বলাই ভালো—অনেকেই আজ তাঁর গান নতুন করে খুঁজবেন। কেউ পুরনো প্রিয় গান শুনবেন, কেউ প্রথমবার তাঁর সুরের জগতে ঢুকবেন। এই ফিরে দেখা-ই একজন শিল্পীর সত্যিকারের Legacy (উত্তরাধিকার)। মানুষ চলে যান, কিন্তু কণ্ঠ থেকে যায়।

ভারতীয় বাংলা পাঠকের জন্য কেন এই খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ

বাংলা ভাষার পাঠকদের মধ্যে হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে রেডিও, দূরদর্শন, ক্যাসেট, সিডি, এফএম—সব মাধ্যমেই আশা ভোঁসলের গান পৌঁছে গেছে বহু আগে। ফলে তাঁর মৃত্যু সংবাদ কেবল জাতীয় বিনোদন-সংবাদ নয়, ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।

এই কারণেই বাংলা কনটেন্টে শুধু “কে মারা গেলেন” বললে চলে না; পাঠকের মনে কেন ধাক্কা লাগে, সেটাও ব্যাখ্যা করতে হয়। একটি ভালো প্রতিবেদন সেই আবেগকে সম্মান করে, কিন্তু তথ্যের ভারসাম্যও রাখে। এই লেখার উদ্দেশ্য সেটাই।

আশা ভোঁসলে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য এক নজরে

  1. জন্ম: ১৯৩৩, মঙ্গেশকর পরিবারে
  2. পেশাদার সংগীতজীবন শুরু: প্রায় ৯ বছর বয়সে
  3. প্রথম চলচ্চিত্রের গান: ১৯৪৩ সালে
  4. বিশেষ পরিচিতি: বলিউড, গজল, নাচের গান, বহুমাত্রিক কণ্ঠপ্রকাশ
  5. Filmfare Award: ৭ বার
  6. National Film Award: ২ বার
  7. প্রয়াণ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৯২ বছর বয়সে

আশা ভোঁসলের জীবন নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আশা ভোঁসলের মৃত্যু সংবাদ কি নিশ্চিত?

হ্যাঁ, রেফারেন্স হিসাবে দেওয়া হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তাই খবরটি গুজব নয়, প্রকাশিত রিপোর্ট-ভিত্তিক নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুর কারণ কী বলা হয়েছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কার্ডিয়াক (হৃদ্‌যন্ত্রজনিত) ও রেসপিরেটরি (শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত) সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ICU-তেও রাখা হয়েছিল। এর বেশি চিকিৎসাগত বিশদ ওই রিপোর্টে দেওয়া হয়নি, তাই বাড়তি অনুমান করা ঠিক হবে না।

আশা ভোঁসলে কেন এত বড় মাপের শিল্পী হিসেবে বিবেচিত?

কারণ তিনি শুধু জনপ্রিয় ছিলেন না; তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের গান সমান দক্ষতায় গেয়েছেন। নাচের গান, রোম্যান্টিক গান, গজল—সব ক্ষেত্রেই তাঁর আলাদা ছাপ আছে। উপরন্তু, Filmfare ও National Award—দুই স্তরেই তাঁর সাফল্য দেখায় যে তিনি একই সঙ্গে জনপ্রিয় এবং উচ্চমানের শিল্পী ছিলেন।

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে আশা ভোঁসলের সম্পর্ক কী ছিল?

লতা মঙ্গেশকর ছিলেন আশা ভোঁসলের দিদি। দু’জনেই ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম। অনেক সময় তাঁদের তুলনা করা হলেও বাস্তবে আশা ভোঁসলে নিজের একেবারে আলাদা কণ্ঠসত্তা তৈরি করেছিলেন, আর সেটাই তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেয়।

আশা ভোঁসলের জীবনের কোন দিকটি সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক?

তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক সম্ভবত স্থিতিস্থাপকতা। ছোটবেলা থেকে কাজ শুরু, ক্যারিয়ারের শুরুতে সীমাবদ্ধ ছাঁচে ফেলে দেখা, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন—সবকিছু পেরিয়েও তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই তাঁর জীবন কেবল সাফল্যের গল্প নয়, পুনর্গঠনের গল্পও।

শেষ কথা

আশা ভোঁসলে আর নেই—এই বাক্যটি লিখতে যতটা সহজ, তার ভার ততটাই গভীর। কারণ তাঁর কণ্ঠ শুধু গান গায়নি; সময়, আবেগ, সম্পর্ক আর স্মৃতিকে সুরে বেঁধে রেখেছে। ৯২ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় সংগীতজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সুরভান্ডার তাঁকে বারবার ফিরিয়ে আনবে।

আজ যারা এই খবর পড়ে থমকে গেছেন, তাঁদের জন্য হয়তো সবচেয়ে স্বাভাবিক কাজ একটাই—আশা ভোঁসলের একটি প্রিয় গান আবার শুনে নেওয়া। তখন বোঝা যাবে, কিছু কণ্ঠ কখনও সত্যিই হারিয়ে যায় না।

আরও পড়ুন

Jan Vishwas Bill 2026 কী: সাধারণ মানুষ আর ব্যবসার জন্য কী বদলাবে একঘেয়ে মেসেজ বাদ দিন, বেছে নিন ২০২৬ এর ১০০ টি শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা Bank Account নেই? তবু Google Pay-তে Payment হবে, এই নতুন ফিচারটা সত্যিই কাজের কার্গিলের রণভূমি থেকে ইতিহাসে: কেন সোনম ওয়াংচুককে বলা হত ‘লাদাখের সিংহ’? ঘরে বসেই শুরু করুন: রাধা কৃষ্ণের ধ্যান মন্ত্র, অর্থ ও জপের সঠিক পদ্ধতি