ঈদ মানেই আনন্দ, ছুটি আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু যাঁরা ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটা হলো — ব্যাংক কবে থেকে বন্ধ, আর কবে খুলবে? বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ নিয়ে অনেকেরই সঠিক তথ্য জানা নেই। কেউ জানেন না ঈদুল ফিতরে কতদিন ছুটি, কেউ জানেন না ঈদুল আযহার তারিখ কোনটা। এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় জরুরি টাকা তোলা বা পাঠানো আটকে যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানাবো ২০২৬ সালে Bangladesh Bank Eid Holidays কোন কোন তারিখে পড়েছে, কতদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে, কোন কোন দিন সীমিত সেবা চালু থাকবে এবং ঈদের আগে-পরে কী কী ব্যাংকিং পরিকল্পনা রাখা উচিত। পুরো বছরের ব্যাংক ছুটির তালিকাটাও এখানে পাবেন, যাতে আপনাকে আর কোথাও খুঁজতে না হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ছুটি ২০২৬: সামগ্রিক চিত্র
২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২৮টি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস অ্যান্ড মার্কেটস বিভাগ থেকে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে সমস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এই ২৮ দিনের মধ্যে ধর্মীয় উৎসবের জন্য সবচেয়ে বেশি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা — দুটো উৎসবেই একটানা ৬ দিন করে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের প্রতিফলন।
| বিভাগ | দিনের সংখ্যা |
| ঈদুল ফিতর (লাইলাতুল কদর সহ) | ৭ দিন |
| ঈদুল আযহা | ৬ দিন |
| জাতীয় দিবস | ৩ দিন |
| অন্যান্য ধর্মীয় ছুটি | ৭ দিন |
| অন্যান্য সরকারি ছুটি | ৫ দিন |
| মোট | ২৮ দিন |
ঈদুল ফিতর ২০২৬: বাংলাদেশ ব্যাংক ছুটির বিস্তারিত
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব। রমজান মাসের শেষে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এই ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর পড়েছে ২০-২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে, তবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এক দিন এদিক-ওদিক হতে পারে। সরকারিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ শুরু হচ্ছে ১৮ মার্চ (বুধবার) থেকে এবং শেষ হবে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত।
| তারিখ | দিন | উপলক্ষ |
| ১৮ মার্চ ২০২৬ | বুধবার | লাইলাতুল কদর (শব-ই-কদর) |
| ১৯ মার্চ ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | জুমাতুল বিদা ও ঈদুল ফিতর ছুটি |
| ২০ মার্চ ২০২৬ | শুক্রবার | ঈদুল ফিতর ছুটি |
| ২১ মার্চ ২০২৬ | শনিবার | ঈদুল ফিতর (মূল দিন) |
| ২২ মার্চ ২০২৬ | রবিবার | ঈদুল ফিতর ছুটি |
| ২৩ মার্চ ২০২৬ | সোমবার | ঈদুল ফিতর ছুটি |
শব-ই-কদর কেন ব্যাংক ছুটি?
১৮ মার্চ তারিখে লাইলাতুল কদর বা শব-ই-কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ঘোষণা জারি করেছে। এই দিনটি রমজানের ২৯তম তারিখে পড়েছে এবং সরকার এটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে গার্মেন্টস সেক্টরসহ কিছু শিল্প এলাকায় সীমিত ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকদের বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়া যেন ব্যাহত না হয়।
ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কার্যদিবস কোনটি?
১৭ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার) হবে ঈদুল ফিতরের আগের শেষ ব্যাংকিং কার্যদিবস। ব্যাংক পরবর্তীতে আবার খুলবে ২৪ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে। অর্থাৎ, ১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত একটানা ৬ দিন সমস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
ঈদুল আযহা ২০২৬: ব্যাংক কতদিন বন্ধ থাকবে?
ঈদুল আযহা, যা কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত, ২০২৬ সালে পড়েছে মে মাসে। এই ঈদেও বাংলাদেশ ব্যাংক একটানা দীর্ঘ ছুটি দিয়েছে। Bangladesh Bank Eid ul Adha Holidays 2026 শুরু হবে ২৫ মে ২০২৬ (সোমবার) থেকে এবং শেষ হবে ৩০ মে ২০২৬ (শনিবার) পর্যন্ত — মোট ৬ দিন।
| তারিখ | দিন | উপলক্ষ |
| ২৫ মে ২০২৬ | সোমবার | ঈদুল আযহা ছুটি |
| ২৬ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার | ঈদুল আযহা (মূল দিন) |
| ২৭ মে ২০২৬ | বুধবার | ঈদুল আযহা ছুটি |
| ২৮ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | ঈদুল আযহা ছুটি |
| ২৯ মে ২০২৬ | শুক্রবার | ঈদুল আযহা ছুটি |
| ৩০ মে ২০২৬ | শনিবার | ঈদুল আযহা ছুটি |
কোরবানির ঈদে ব্যাংক বন্ধের প্রভাব
ঈদুল আযহার ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও মানুষের আর্থিক লেনদেনের চাহিদা কিন্তু থেমে থাকে না। কোরবানির পশু কেনার জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হয়, ব্যবসায়িক পেমেন্ট বকেয়া থাকে এবং অনেক পরিবার এই সময় বাড়তি খরচের মুখে পড়েন। তাই ঈদুল আযহার আগে অন্তত ৩-৪ দিন আগে থেকেই ব্যাংকিং কাজ সেরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ATM ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যথারীতি চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ বোঝার পাশাপাশি পুরো বছরের ছুটির তালিকা জানা থাকলে আর্থিক পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং যাঁরা নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন করেন, তাঁদের জন্য এই তালিকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের সম্পূর্ণ ব্যাংক ছুটির ক্যালেন্ডার
| ছুটির নাম | তারিখ | দিন | মোট দিন |
| শব-ই-বরাত | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বুধবার | ১ দিন |
| শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শনিবার | ১ দিন |
| লাইলাতুল কদর | ১৮ মার্চ ২০২৬ | বুধবার | ১ দিন |
| জুমাতুল বিদা ও ঈদুল ফিতর | ১৯–২৩ মার্চ ২০২৬ | বৃহস্পতি–সোমবার | ৫ দিন |
| স্বাধীনতা দিবস | ২৬ মার্চ ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | ১ দিন |
| বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার | ১ দিন |
| মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা | ১ মে ২০২৬ | শুক্রবার | ১ দিন |
| ঈদুল আযহা | ২৫–৩০ মে ২০২৬ | সোমবার–শনিবার | ৬ দিন |
| মুহরম (আশুরা) | ২৬ জুন ২০২৬ | শুক্রবার | ১ দিন |
| ব্যাংক হলিডে | ১ জুলাই ২০২৬ | বুধবার | ১ দিন |
| জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস | ৫ আগস্ট ২০২৬ | বুধবার | ১ দিন |
| ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) | ২৫ আগস্ট ২০২৬ | মঙ্গলবার | ১ দিন |
| শুভ জন্মাষ্টমী | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | শুক্রবার | ১ দিন |
| দুর্গাপূজা (নবমী ও বিজয়া দশমী) | ২০–২১ অক্টোবর ২০২৬ | মঙ্গল–বুধবার | ২ দিন |
| বিজয় দিবস | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ | বুধবার | ১ দিন |
| বড়দিন | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ | শুক্রবার | ১ দিন |
| ব্যাংক হলিডে | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | ১ দিন |
| মোট | ২৮ দিন |
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা: দুটো ঈদের ছুটির তুলনা
অনেকেই জানতে চান দুটো ঈদে ব্যাংকের ছুটির মধ্যে পার্থক্য কী। আসলে ২০২৬ সালে দুটো ঈদেই সমান ৬ দিন করে ছুটি রয়েছে। তবে তারিখ, মৌসুম এবং ব্যাংকিং প্রভাবের দিক থেকে দুটোতে বেশ কিছু পার্থক্য আছে।
ঈদুল ফিতর বনাম ঈদুল আযহা ব্যাংক ছুটি
| বিষয় | ঈদুল ফিতর ২০২৬ | ঈদুল আযহা ২০২৬ |
| ছুটির তারিখ | ১৮–২৩ মার্চ | ২৫–৩০ মে |
| মোট ব্যাংক ছুটি | ৬ দিন | ৬ দিন |
| শেষ কার্যদিবস | ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) | ২২ মে (শুক্রবার) |
| পুনরায় চালু | ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) | ১ জুন (সোমবার) |
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | লাইলাতুল কদর + জুমাতুল বিদা অন্তর্ভুক্ত | কোরবানি মৌসুম |
| পরবর্তী জাতীয় ছুটি | ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) | ২৬ জুন (আশুরা) |
ঈদের ছুটিতে কি ATM ও মোবাইল ব্যাংকিং চালু থাকবে?
ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা চালু থাকে — এটা অনেকের কাছে স্বস্তির খবর। বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরের ডিজিটালাইজেশনের কারণে এখন ঈদের ছুটিতেও অনেক সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়।
ছুটিতে যা চালু থাকবে
- ATM বুথ — সমস্ত ব্যাংকের ATM সার্বক্ষণিক চালু থাকবে, তবে ঈদের আগের দিন টাকার চাপ বেশি থাকে তাই আগেভাগে তুলে রাখুন
- বিকাশ / নগদ / রকেট — মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) স্বাভাবিকভাবে চলবে
- ইন্টারনেট ব্যাংকিং — ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট, স্টেটমেন্ট দেখা সব কিছু করা যাবে
- ক্রেডিট / ডেবিট কার্ড — পয়েন্ট অব সেল (POS) লেনদেন চালু থাকবে
- BEFTN / RTGS — এই সার্ভিস দুটো ব্যাংক কার্যদিবসে চালু থাকে, ছুটির দিনে বন্ধ থাকবে
ছুটিতে যা বন্ধ থাকবে
- ব্যাংকের শাখা (Branch Banking)
- চেক ক্লিয়ারেন্স
- লোন বিতরণ ও আবেদন প্রক্রিয়াকরণ
- ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ (বেশিরভাগ ব্যাংকে)
- DD / Pay Order ইস্যু
গার্মেন্টস ও শিল্প এলাকায় বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। ঈদুল ফিতরের আগে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক তাঁদের বেতন ও বোনাস পান এবং বাড়ি যান। এই বিশাল আর্থিক প্রবাহ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। ১৮ মার্চ ২০২৬ (লাইলাতুল কদর) শব-ই-কদরের দিন সরকারি ছুটি থাকলেও গার্মেন্টস-সংলগ্ন এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক শাখায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিল্প এলাকায় বিশেষ ব্যাংকিং নির্দেশিকা
- আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের শিল্প এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
- শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেতন প্রদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে
- গার্মেন্ট মালিকদের ব্যাংক ড্রাফট ও BEFTN-এর মাধ্যমে আগেভাগে বেতন পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
ঈদের আগে ও পরে ব্যাংকিং পরিকল্পনা: কী করবেন?
বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই যদি কিছু পরিকল্পনা করে রাখা যায়, তাহলে ছুটির দিনে কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না। অনেকে ছুটির শেষ দিনে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান, এটা এড়ানো খুব সহজ।
ঈদের আগে করণীয়
- অন্তত ৩-৪ দিন আগে প্রয়োজনীয় নগদ টাকা তুলে রাখুন
- চেক জমা বা ক্লিয়ার করার কাজ ছুটির এক সপ্তাহ আগে সেরে রাখুন
- লোনের কিস্তি ছুটির আগেই পরিশোধ করুন, নইলে লেট চার্জ লাগতে পারে
- EMI বা SIP অটো-ডেবিটের ব্যবস্থা থাকলে ব্যালেন্স যথেষ্ট রাখুন
- বিদেশে টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলে ছুটির আগেই করুন, কারণ SWIFT ট্রান্সফারেও দেরি হতে পারে
ঈদের পরে করণীয়
- ব্যাংক খোলার প্রথম দিন মানে ২৪ মার্চ (ঈদুল ফিতরের পর) এবং ১ জুন (ঈদুল আযহার পর) ব্যাংকে অনেক ভিড় থাকে
- জরুরি না হলে খোলার দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে যান
- অনলাইনে লেনদেন সেরে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ
ঈদের ছুটিতে বিশেষ নজর রাখুন এই বিষয়গুলোতে
ছুটির সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে কিছু আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হয়। প্রতারক চক্র এই সময়কে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। অনেকে “ব্যাংক বন্ধ, তাই আগে পেমেন্ট করুন” বলে প্রতারণা করে। তাই ছুটির সময় ডিজিটাল লেনদেনে সতর্ক থাকুন।
ঈদের ছুটিতে সাইবার নিরাপত্তা টিপস
- অজানা নম্বর বা লিঙ্ক থেকে ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না
- OTP কখনো শেয়ার করবেন না, ব্যাংক কখনো OTP চায় না
- ফিশিং ইমেইল বা SMS থেকে সতর্ক থাকুন, ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া লগইন করবেন না
- ATM ব্যবহারের সময় আশেপাশে কেউ আছে কিনা খেয়াল রাখুন
- মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে দুই স্তরের যাচাই (2FA) চালু রাখুন
ইসলামিক ব্যাংকিং ও ঈদ ছুটি: বিশেষ বিবেচনা
বাংলাদেশে বেশ কিছু ইসলামিক ব্যাংক রয়েছে যেগুলো শরিয়াহ-ভিত্তিক নীতিতে পরিচালিত হয়। ঈদের ছুটিতে এই ব্যাংকগুলোও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মেনে একই ছুটির সময়সূচি অনুসরণ করে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক — সকলেই Bangladesh Bank Eid Holidays 2026-এর আওতায় একই সময়ে বন্ধ থাকবে।
ইসলামিক ব্যাংকিং সেবাগুলো ঈদে
- মুদারাবা সেভিংস অ্যাকাউন্ট — ATM সুবিধা চালু থাকবে
- জাকাত ও ফিতরা পেমেন্ট — ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব
- কর্জে হাসানা (সুদমুক্ত ঋণ) প্রক্রিয়া ছুটির পরে শুরু হবে
- মুরাবাহা বা ইজারা লেনদেন ব্যাংক খোলার পরে চলবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটি কীভাবে নির্ধারিত হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরের শেষে পরের বছরের জন্য সরকারি গেজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস অ্যান্ড মার্কেটস বিভাগের মাধ্যমে ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ধর্মীয় ছুটির তারিখগুলো “*” চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, কারণ এগুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল এবং পরিবর্তন হতে পারে।
ছুটি নির্ধারণের ধাপগুলো
১. সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতি বছর সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করে
২. বাংলাদেশ ব্যাংক সেই তালিকা অনুসরণ করে ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা পরিপত্র জারি করে
৩. ইসলামিক ছুটিগুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল
৪. ঘোষিত ছুটির যেকোনো পরিবর্তন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে (www.bb.org.bd) প্রকাশিত হয়
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ তথ্য: রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিকল্পনা
বাংলাদেশে প্রতি বছর ঈদের আগে বিদেশ থেকে প্রচুর রেমিট্যান্স আসে। পরিবারের ঈদ খরচ মেটাতে প্রবাসীরা আগেভাগে টাকা পাঠান। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ চলাকালীন যে টাকা পাঠানো হবে, সেটা ব্যাংক খোলার পরেই প্রাপকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
প্রবাসীদের জন্য টিপস
- ঈদুল ফিতরের আগে টাকা পাঠাতে হলে ১৫ মার্চের মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ
- ঈদুল আযহার আগে ২০ মে-র মধ্যে পাঠানোর চেষ্টা করুন
- বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রাপক ছুটির মধ্যেও তুলতে পারবেন
- ব্যাংক চ্যানেলে পাঠালে BEFTN প্রক্রিয়াকরণ ছুটির মধ্যে বন্ধ থাকে
বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ নিয়ে যা মনে রাখবেন
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ ছুটি ২০২৬ দুটো পর্বে ভাগ হয়েছে। প্রথম পর্বে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৮–২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত একটানা ৬ দিন এবং দ্বিতীয় পর্বে ঈদুল আযহায় ২৫–৩০ মে ২০২৬ পর্যন্ত আরও ৬ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। সারা বছরে মোট ২৮ দিনের সরকারি ব্যাংক ছুটি রয়েছে।
ঈদের ছুটিতে শাখা ব্যাংকিং বন্ধ থাকলেও ATM, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সার্ভিস চলবে। ছুটির আগে থেকেই নগদ টাকা, চেক ক্লিয়ারেন্স ও লোনের কিস্তির মতো কাজগুলো সেরে রাখলে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না। এবং অবশ্যই সাইবার প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ ব্যাংক বন্ধের সুযোগে প্রতারকরা বেশি সক্রিয় হয়।
Bangladesh Bank Eid Holidays 2026-এর সঠিক তথ্য পেতে সবসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) ফলো করুন।











