Expatriate Voting Results: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটাররা প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগ পেয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে ৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট প্রদান করেছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক । তবে প্রবাসীদের ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এবং দলওয়ারি বিভাজন নির্বাচন দিবসের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই গণনা করা হবে, যার কারণে নির্বাচনের পূর্বে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে ।
প্রবাসী ভোটদানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে চাইলেও ব্যবস্থার অভাবে তা সম্ভব হয়নি । ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করে । এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্রবাসী বাংলাদেশি । এই নিবন্ধন সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, কারণ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় ২.৭ শতাংশ ।
প্রবাসী ভোটদানের পরিসংখ্যান এবং প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের ওসিভি-এসডিআই প্রকল্প সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের কাছে পাঠানো হয়েছিল । এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন । তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিবন্ধনকারীদের এক-তৃতীয়াংশ ব্যালটই সময়মতো পাননি ।
প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ধাপ ছিল। প্রথমে তাদের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করতে হয়েছে, অতঃপর ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যালট পেপার প্রাপ্তি এবং নিজ দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল । নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে ফিরে এসেছে বলে জানানো হয় ।
প্রবাসী ভোট প্রাপ্তির হালনাগাদ তথ্য
| তারিখ | ব্যালট পাঠানো | ভোটদান সম্পন্ন | দেশে প্রাপ্ত ব্যালট | রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রাপ্ত |
|---|---|---|---|---|
| ৪ ফেব্রুয়ারি | ৭,৬৬,৮৬২ | ৪,৮০,৪১৬ | ৩,৭৯,৯২৪ | ১,০৭,১৬৮ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | ৭,৬৬,৮৬২ | ৫,১৫,৬১৯ | ৪,৮১,১৮৫ | ৪,৩৮,৯৫১ |
ভুয়া দাবি এবং সত্য যাচাই
নির্বাচনের পূর্বে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিত্তিহীন দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, প্রবাসীদের ৯০ শতাংশ ভোট জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে । ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে এই দাবিটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হওয়ার কথা, তাই নির্বাচনের আগে কোনো দলের ভোট প্রাপ্তির সংখ্যা জানা সম্ভব নয় ।
একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল, “অবশেষে প্রবাসীদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। ৪ লাখ ৩২ হাজার প্রবাসী ভোটের মধ্যে ৩ লাখ ৬০ হাজার ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় (জামায়াতের প্রতীক)। আর মাত্র ৭২ হাজার ভোট পড়েছে বিএনপির দিকে” । এই দাবিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কারণ নির্বাচনী বিধিমালার ১৪ ধারার খ(৩) উপধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা শুরু হবে ।
নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জনমত জরিপ
২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দুটি জোট মাঠে নেমেছে। প্রথমত, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার ১০ দলীয় জোট। দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী সমন্বিত ১১ দলীয় জোট । শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক ভূদৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে ।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এর জনমত জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি ৩০-৩৩ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যেখানে জামায়াতে ইসলামী ২৬-২৯ শতাংশ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল । উভয় দলের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান ছিল, যা নির্বাচনকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছিল ।
আইআরআই রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, জরিপের সময় ৫৩ শতাংশ মানুষ জামায়াতকে “পছন্দ” করেছেন, যেখানে বিএনপিকে পছন্দ করেছেন ৫১ শতাংশ । তবে, ৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং ১১ শতাংশ তাদের মতামত প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন । এই অনির্ধারিত ভোটাররাই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন।
প্রবাসী ভোটের সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন যে প্রবাসী ভোট অনেক আসনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে । প্রায় ৫ লাখ প্রবাসী ভোটার যদি নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রীভূত থাকেন, তাহলে সেসব আসনে তাদের ভোট নির্ণায়ক হতে পারে। বিশেষত প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার কিছু আসনে প্রবাসী ভোটের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বিশাল অবদান রাখেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ২০-২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পায়, যার সিংহভাগ প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান। তাদের রাজনৈতিক মতামত তাই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসী ভোটদানে চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যা
প্রবাসী ভোটদানের এই প্রথম অভিজ্ঞতায় বেশ কিছু সমস্যা দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের এক-তৃতীয়াংশ ব্যালট সময়মতো পাননি । আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার জটিলতা, বিভিন্ন দেশের ডাক সেবার পার্থক্য এবং সময়সীমার মধ্যে ব্যালট ফেরত পাঠানোর চ্যালেঞ্জ উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ৬ জানুয়ারি উল্লেখ করেছিলেন যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন । এই হিসাব বিবেচনায় নিলে মাত্র ৫ শতাংশের সামান্য বেশি প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। তবে এটিকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, কারণ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় ২.৭ শতাংশ ।
নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যে সকল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছিল, তা ছিল মোট ভোটদানকারী প্রবাসীদের প্রায় ৩৪ শতাংশ । বাকি ব্যালট পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে, যা প্রবাসী ভোটদান ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ভারতীয় এনআরআই ভোটদানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের প্রবাসী ভোটদান ব্যবস্থার তুলনায় ভারতে এনআরআই ভোটদানের পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। ভারতে এনআরআইদের ভোটাধিকার ২০১১ সালে চালু হলেও তাদের অবশ্যই ভারতে উপস্থিত থেকে ভোট দিতে হয় । ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১,১৯,৩৭৪ জন নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের মধ্যে মাত্র ২,৯৫৮ জন ভোট প্রয়োগ করেছিলেন, যা মাত্র ২.৪৭ শতাংশ ।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের প্রবাসী ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৫.৬৪ শতাংশ, কিন্তু ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২.৪৭ শতাংশে । কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত, কিন্তু তাদের মধ্যে কেরালার উপস্থিতি ২৯.১৩ শতাংশ থেকে নেমে ২.৯৭ শতাংশে এসেছে ।
ভারতে প্রবাসী ভোটদানের কম হারের প্রধান কারণ হলো ব্যক্তিগত উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা, উচ্চ ভ্রমণ ব্যয়, চাকরির বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাগত সময়সূচি । ভারতীয় নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালট বা প্রক্সি ভোটিংয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করছে, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি ।
এই তুলনায় বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রবাসীবান্ধব বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম অভিজ্ঞতায় ৫ লাখেরও বেশি প্রবাসীর ভোটদান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় সাফল্য।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবাসী নীতি
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাক স্বাধীনতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । ১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনের পর দেশে ফিরে আসা রহমান প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী প্রবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের রেমিট্যান্স প্রেরণে আরও সুবিধা প্রদানের কথা বলেছিল। দলটি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ।
নির্বাচনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এবং তাৎপর্য
২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটি প্রথম নির্বাচন । জেন জেড নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।
নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন । ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গণনা রাত থেকেই শুরু হওয়ার কথা ছিল । নির্বাচনের সাথে জুলাই সনদ নিয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণা এবং সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে ।
ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবং শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে থাকায়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে শীতলতা দেখা দিয়েছে । অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ পেতে পারে ।
প্রবাসী ভোটদান ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ
প্রবাসী ভোটদানের এই প্রথম অভিজ্ঞতা থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার সাথে সমন্বয়, এবং সময়সীমা নির্ধারণে আরও দক্ষতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে অনলাইন ভোটিং বা ই-ভোটিং ব্যবস্থা চালু করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে, যা আরও বেশি প্রবাসীকে ভোটদানে উৎসাহিত করবে।
নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের উচিত হবে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা এবং পরবর্তী নির্বাচনে আরও উন্নত ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং হাই কমিশনগুলোতে ভোটিং বুথ স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে, যেমনটি অন্যান্য অনেক দেশে প্রচলিত আছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটদান একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে। প্রথমবারের মতো ৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যদিও প্রথম অভিজ্ঞতায় কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈশ্বিক করেছে। প্রবাসীদের দেওয়া ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এবং দলওয়ারি বিভাজন নির্বাচন দিবসের ভোট গণনার পর জানা যাবে, যা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি প্রতীক, যেখানে দেশের ভেতরে এবং বাইরের সকল নাগরিকের কণ্ঠস্বর সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।











