Oath-Taking Procedure Without Parliament and Speaker: বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর দেশে এখন কোনো সংসদ নেই, স্পিকারও নেই । এই পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কীভাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং নতুন সরকার গঠিত হবে, তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে । আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন ।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী তারা প্রায় ১৮৫টি আসন পেয়েছে । ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসেছিলেন তারেক রহমান, এবং এখন তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ।
সাংবিধানিক বিধান: সংসদ ও স্পিকার না থাকলে কী হবে
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান রয়েছে । সাধারণত স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান । ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমে নিজে শপথ নিয়েছিলেন এবং তারপর অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন ।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু পুরনো সংসদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং কোনো স্পিকার নেই, তাই বিকল্প ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “প্রাক্তন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানোর কোনো সুযোগ নেই” । তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন ব্যক্তি শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অন্যথায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তিন দিন পর শপথবাক্য পাঠ করাতে পারবেন” ।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, যিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন । রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে নতুন সরকার গঠনে সহায়তা করা এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো ।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন । ঢাকার রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন । ইউনূস তার শপথে “সংবিধানকে সমুন্নত, সমর্থন এবং রক্ষা” করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তার দায়িত্ব “আন্তরিকতার সাথে” পালন করার অঙ্গীকার করেছিলেন ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতা
বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত । বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন এএমএম নাসির উদ্দিন, যিনি ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছিলেন । প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রদান করেন এবং তাদের কার্যকাল পাঁচ বছর ।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তিন দিন পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন, যদি অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকে । এটি একটি বিশেষ ব্যবস্থা যা সংসদ এবং স্পিকার না থাকার পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
২০২৬ সালের নির্বাচন: নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন । এই নির্বাচনে প্রায় ৫৫% ভোটার অংশগ্রহণ করেছে এবং হাজার হাজার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রক্রিয়াটি তদারকি করেছে ।
বিএনপি ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছিল, বাকি আসনগুলো তাদের জোট সঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল । প্রাথমিক গণনার প্রবণতা দেখায় যে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ পুনর্গঠন করছে ।
বিএনপি নির্বাচনী কমিটির মুখপাতা মাহদি আমিন সাংবাদিকদের বলেছেন যে দলটি কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতেছে । তিনি আরও জানান যে তারেক রহমান যে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন “উভয় আসনেই” জয়লাভ করেছেন । বগুড়া-৬ থেকে ধান শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারেক রহমান ১৭০,৫৪৪ ভোট পেয়েছেন ।
তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রিত্বে
তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছেন, এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রধান প্রতিযোগী, তিনি গভীর-মূল দুর্নীতি নির্মূল করার এবং দেশকে একটি “নতুন পথে” পরিচালিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমান ।
গার্ডিয়ানের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান স্বচ্ছ শাসনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে “উপর থেকে নিচে, কোনো সহনশীলতা নেই” অবস্থান বাস্তবায়ন করার কথা বলেছিলেন । তিনি বলেছিলেন যে বাংলাদেশকে একটি নতুন দিকে নিয়ে যেতে চান এবং প্রায় দুই দশকে প্রথম সত্যিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
টাইম ম্যাগাজিনের সাথে একটি একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে, তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ এবং তার দলের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন । তিনি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন এবং মাত্র সাত সপ্তাহ পরে, তিনি দক্ষিণ এশীয় দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হবে:
প্রথম ধাপ: শপথবাক্য পাঠকারী নির্ধারণ
রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করবেন অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তিন দিন পর শপথবাক্য পাঠ করাতে পারবেন । এই বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেহেতু কোনো স্পিকার নেই, এটি একটি সাংবিধানিক সমাধান।
দ্বিতীয় ধাপ: শপথ অনুষ্ঠান
জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, দ্বাদশ সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়েছিল । সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ।
তৃতীয় ধাপ: স্পিকার নির্বাচন
সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর, তারা তাদের প্রথম বৈঠকে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের শপথ রাষ্ট্রপতি পাঠ করান এবং ডেপুটি স্পিকারেরও রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান ।
চতুর্থ ধাপ: সরকার গঠন
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা (এক্ষেত্রে তারেক রহমান) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ই, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথবাক্য রাষ্ট্রপতি পাঠ করান ।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছিল যে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন । তৎকালীন শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথ নিয়েছিলেন প্রায় সকাল ১০টায়, তারপর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছিলেন প্রায় ১১টায় ।
সাংবিধানিক তফসিলের বিস্তারিত
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের জন্য শপথের বিন্যাস রয়েছে:
-
রাষ্ট্রপতি: প্রধান বিচারপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান
-
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদ সদস্য: রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান
-
প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণ: রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান
-
স্পিকার: রাষ্ট্রপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান
-
ডেপুটি স্পিকার: রাষ্ট্রপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান
-
সংসদ সদস্যগণ: স্পিকার তাদের শপথবাক্য পাঠ করান (স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে)
২০২৬ সালের নির্বাচনের পটভূমি
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে । হাসিনার পদত্যাগ এসেছিল ব্যাপক প্রতিবাদের পর যা জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরির জন্য একটি বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যা সমালোচকরা দাবি করেছিল যে এটি তার দলের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষপাতিত্ব করে । অশান্তি হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছিল, প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে ছাত্র সহ ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন যে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । কিন্তু বিএনপি সমর্থকরা, যারা পরবর্তী নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছিল, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ দাবি করেছিল ।
২০২৫ সালের মে মাসে, ইউনূস পদত্যাগ বিবেচনা করছিলেন কারণ রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল । ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন যে ইউনূস তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে “রাজনৈতিক দলগুলো যদি একটি সাধারণ ভিত্তিতে পৌঁছাতে না পারে তাহলে আমি কাজ করতে পারব না” ।
তবে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, ইউনূস তারেক রহমানের সাথে একটি কর্ডিয়াল বৈঠক করেছিলেন এবং দুই নেতা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন । বিএনপি তাড়াতাড়ি নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে ছিল ।
তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য সময়সূচি
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যে তার দল দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে “ঐতিহাসিক বিজয়” অর্জন করতে চলেছে ।
ভোটাররা ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনের জন্য জাতীয় সংসদে বা সংসদে ভোট দিয়েছেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিহ্ন ১৫০ । নির্বাচনটি প্রথম ছিল দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, এবং খালেদা জিয়া, যিনি ডিসেম্বর গত বছর মারা গিয়েছিলেন, ছাড়া ।
নির্বাচনের পরিসংখ্যান
নিচে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনের মূল পরিসংখ্যান দেওয়া হল:
| বিবরণ | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট আসন | ৩০০ |
| নির্বাচিত আসন | ২৯৯ |
| সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিহ্ন | ১৫০ |
| বিএনপি জয়ী আসন (প্রাথমিক) | প্রায় ১৮৫ |
| বিএনপি প্রার্থী সংখ্যা | ২৯২ |
| ভোটার উপস্থিতি | ৫৫% |
| তারেক রহমানের ভোট (বগুড়া-৬) | ১৭০,৫৪৪ |
| প্রথম ১০০ ঘোষিত আসনে বিএনপি জয় | ৭৩টি |
২০২৬ সালের নির্বাচনে হাজার হাজার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে । এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষত শেখ হাসিনার শাসনামলে বিতর্কিত নির্বাচনের ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে, আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২২টি জিতেছিল, যা ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে পিএম হাসিনার দলের পরপর চতুর্থ পাঁচ বছরের মেয়াদের সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল । কিন্তু সেই নির্বাচন বিতর্কিত ছিল এবং ব্যাপক প্রতিবাদের দিকে পরিচালিত করেছিল যা শেষ পর্যন্ত হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যায় ।
বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জোট
বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতৃত্বে একটি ১১-দলীয় জোট, যা বহু বছর ধরে বিএনপির সাথে মিত্র ছিল । কিন্তু এই নির্বাচনে, জামায়াত-ই-ইসলামী প্রত্যাশিত মতো পারফর্ম করেনি । নির্বাচনের আগে, ঢাকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা খোলাখুলিভাবে বলেছিলেন যে এটি স্বাধীনতার পর থেকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী পারফরম্যান্স হতে পারে ।
প্রথম ১০০টি ঘোষিত আসনে বিএনপি ৭৩টি জিতেছে, যা একটি ভূমিধসের প্রাথমিক ইঙ্গিত । এই ফলাফল দেখায় যে বাংলাদেশের ভোটাররা একটি নতুন দিকনির্দেশনা এবং পরিবর্তন চেয়েছিলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের পর।
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ
নতুন বিএনপি সরকার বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে:
অর্থনৈতিক সংস্কার
বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হয়েছে। নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি দমন
তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে “উপর থেকে নিচে, কোনো সহনশীলতা নেই” অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । এটি একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে কারণ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে।
সাংবিধানিক ও বিচার ব্যবস্থা সংস্কার
অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের জন্য কাজ করছিল । নতুন সরকারকে এই সংস্কারগুলি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।
জাতীয় ঐক্য স্থাপন
বিভাজিত রাজনৈতিক পরিবেশের পর, নতুন সরকারকে জাতীয় ঐক্য স্থাপন করতে হবে এবং সকল অংশীদারদের সাথে কাজ করতে হবে।
পূর্ববর্তী শপথ অনুষ্ঠানের উদাহরণ
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ধরনের শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে। ২০২৩ সালে, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন । বঙ্গভবন দরবার হলে একটি সংক্ষিপ্ত ১০ মিনিটের অনুষ্ঠানে এটি হয়েছিল ।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, নবনির্বাচিত সকল ২৯৮ সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন । স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমে নিয়ম অনুযায়ী নিজে শপথ নিয়েছিলেন এবং শপথপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন । এরপর স্পিকার সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন ।
পরে, ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, তারা শপথ গ্রহণ করেছিলেন । স্পিকার জাতীয় পার্টির ১১ জন সংসদ সদস্যকেও শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন । ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের দুই সংসদ সদস্য, যারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, তারাও শপথ নিয়েছিলেন ।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত
আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি অস্বাভাবিক কিন্তু সংবিধান এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য ব্যবস্থা রেখেছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে সাংবিধানিক সমাধান রয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে ।
প্রাক্তন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের শপথবাক্য পাঠ করানোর কোনো সুযোগ না থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ । এটি নিশ্চিত করে যে পুরনো সংসদের সাথে কোনো আইনি সংযোগ থাকবে না এবং নতুন সংসদ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন হবে।
গণমাধ্যম ও জনমত
বাংলাদেশের গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো নির্বাচনটি ব্যাপকভাবে কভার করেছে। বিবিসি, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, টাইম ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য প্রধান আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো নির্বাচন এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রিপোর্ট করেছে ।
দেশীয় মাধ্যমগুলো, যেমন দ্য ডেইলি স্টার, টিবিএস নিউজ, এবং বিএসএস নিউজ, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে । এই ব্যাপক কভারেজ নিশ্চিত করেছে যে জনগণ নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন এবং প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সংসদের কার্যক্রম
নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু করার পর, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকবে:
আইন প্রণয়ন
নতুন সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন করতে হবে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, এবং সাংবিধানিক সংশোধন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বাজেট পাস করা
নতুন সরকারকে দ্রুত একটি বাজেট পাস করতে হবে যা দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজনগুলি পূরণ করবে।
কমিটি গঠন
সংসদীয় কমিটিগুলি গঠন করা হবে যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের কাজ তদারকি করবে।
বিরোধী দলের ভূমিকা
একটি কার্যকর বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সংসদে বিরোধী দলগুলি কীভাবে কাজ করবে তা দেখা যাবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
নতুন বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে বিকশিত হয় তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তারেক রহমান টাইম ম্যাগাজিনের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের নির্বাচনের অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন । তিনি বলেছিলেন যে বাংলাদেশ সকল দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে চায়।
সংস্কার কর্মসূচি
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, বাংলাদেশ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দিকে কাজ করছিল । নতুন বিএনপি সরকারকে এই সংস্কারগুলি চালিয়ে যেতে হবে কিনা এবং কীভাবে তা নির্ধারণ করতে হবে।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চেয়েছিল । কিন্তু বিএনপির চাপের মুখে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বাংলাদেশে সংসদ এবং স্পিকার না থাকার পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করবেন অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করাবেন । তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে এবং শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে । এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার এবং সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠার আশা রয়েছে। নতুন সরকার দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক সংস্কার, এবং জাতীয় ঐক্য স্থাপনের মতো প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, কিন্তু ৫৫% ভোটার উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের বৈধতা এবং জনগণের আশা প্রতিফলিত করে ।











