বাংলাদেশে পাকিস্তানের ISI-এর গোপন ঘাঁটি গড়ে উঠছে? উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থা

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে একটি বিশেষ ISI সেল গড়ে তোলা হয়েছে,…

Avatar

 

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে একটি বিশেষ ISI সেল গড়ে তোলা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এতে ভারতের পূর্ব সীমান্তে হুমকি বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই উন্নয়ন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ISI বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না এলেও, উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর এবং গোয়েন্দা বিনিময় এই দাবিকে শক্তি যোগ করছে।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! পাকিস্তানের কৃষি থেকে অর্থনীতিতে ধস নামালো ভারত

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন এসেছে। হাসিনার আমলে ISI-এর কার্যকলাপ সীমিত ছিল, কারণ আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তান-বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামাবাদ দ্রুত ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। পাকিস্তান প্রথম দেশগুলোর একটি যারা ইউনূস সরকারকে স্বাগত জানায়।

সিএনএন-নিউজ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার ঢাকা সফরের পর হাইকমিশনে ISI সেল স্থাপন করা হয়। এই সেলে ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তা সহ একাধিক গোয়েন্দা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ISI প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিকের গোপন ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিদলের রাওয়ালপিন্ডি সফর এই সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।

শেখ হাসিনার ভারতে গোপন অবস্থান: ১০০ দিন পর কী জানা গেল?

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ISI কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং শেরপুরের মতো স্ট্র্যাটেজিক এলাকায় উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে। এগুলো ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনার ঘাঁটি ছিল, যেখান থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া হতো। বর্তমানে ISI রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং জামায়াত-ই-ইসলামীর মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে এই নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৫-এ ISI-এর একটি চার সদস্যের দল ঢাকা সফর করে, যার মধ্যে একজন টু-স্টার জেনারেল ছিলেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ফার্স্টপোস্ট এবং ইকোনমিক টাইমসের মতে, ISI জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (JMB) এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীকে পুনর্গঠিত করছে, যাতে ভারতের উত্তর-পূর্বে অনুপ্রবেশ সহজ হয়।

Bangladesh Crisis: গণবিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, কেন শেখ হাসিনার পতন?

ভারতের জন্য এই উন্নয়ন বিশেষ উদ্বেগজনক কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে ৪০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা ছিদ্রময়। উত্তর-পূর্বের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এখন ISI-এর সক্রিয়তা এই হুমকিকে বাড়িয়ে তুলছে। ভারত ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে এবং সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের আসন্ন ঢাকা সফর এবং যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা এই সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জামায়াতের প্রভাব এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ভারতের পক্ষে পূর্ব সীমান্তে সতর্কতা বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হলে ISI-এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি। আগামী মাসগুলোতে এই ইস্যুতে নতুন উন্নয়ন দেখা যাবে।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম