শিউরে ওঠা নৃশংসতা! বাংলাদেশে সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাসকে পিটিয়ে-পুড়িয়ে খুন, তোলপাড় বিশ্ব

বাংলাদেশে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা। এবার ময়মনসিংহ জেলায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে পিটিয়ে এবং পরে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে বিশ্ববিবেক । গত ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ বৃহস্পতিবার রাতে…

Avatar

 

বাংলাদেশে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা। এবার ময়মনসিংহ জেলায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে পিটিয়ে এবং পরে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে বিশ্ববিবেক । গত ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার দুবালিয়াপাড়ায়, যেখানে ওই যুবক একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন ।

তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনায় জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ একদল উত্তেজিত জনতা দীপু দাসকে লক্ষ্য করে অতর্কিত আক্রমণ চালায় 。 অভিযুক্তদের দাবি ছিল, ওই যুবক ধর্ম অবমাননা করেছেন, যদিও এই অভিযোগের কোনো সঠিক প্রমাণ বা আইনি সত্যতা এখনও মেলেনি । উন্মত্ত জনতা তাকে ধরে বেধড়ক মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ সূত্র ।

ঘটনার বীভতসতা এখানেই শেষ হয়নি; প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীপু দাসের নিথর দেহটি একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় । পুলিশের ডিউটি অফিসার রিপন মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ধরে মারধর করে এবং পরবর্তীতে আগুন লাগিয়ে দেয় । এই বর্বরোচিত আচরণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল ।

দীপু চন্দ্র দাসের এই মর্মান্তিক পরিণতি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে । কেন কোনো বিচারবিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই একজন সাধারণ শ্রমিককে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে উঠছে মানবাধিকারের প্রশ্ন।

বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে, কারণ শিরোনামের ‘শিউরে ওঠা’ শব্দটি কেবল অলঙ্কার নয়, বরং মৃতদেহে আগুন দেওয়ার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত নিগ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করেছে । দীপু দাসের মতো একজন খেটে খাওয়া মানুষের এই মৃত্যু দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত কয়েক মাস ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ভাঙচুর, হিন্দু মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজ এবং শারীরিক নির্যাতনের খবর নিয়মিত শিরোনামে আসছে । সম্প্রতি রংপুরে রূপলাল দাস ও প্রদীপ দাস নামে দুই সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও জনমনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল ।

অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত আগস্ট মাস থেকেই সংখ্যালঘু নিগ্রহের হার বৃদ্ধি পেয়েছে । ডিসেম্বরের শুরুতেই রংপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার মতো ঘটনা বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয় । বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের আশ্বাস সত্ত্বেও দীপু দাসের মতো সাধারণ নাগরিকদের জীবন যে নিরাপদ নয়, ভালুকার এই নারকীয় কাণ্ড তা ফের প্রমাণ করে দিল ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাংলাদেশে ধর্মীয় উন্মাদনার আড়ালে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। কোনো তথ্য যাচাই না করেই শুধুমাত্র গুজবের ভিত্তিতে দীপু দাসকে যে নির্মমভাবে জীবন দিতে হলো, তা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। প্রশাসন যদি অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়, তবে এই ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে আরও কালিমালিপ্ত করবে।

পরিশেষে, দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের পর ভালুকা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে । স্থানীয় বাসিন্দারা এখন বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ঢাকার দিকে, যেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

About Author
Avatar

বাংলাদেশ প্রতিনিধি থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে আমাদের সংবাদ ওয়েবসাইট দেখুন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিস্তারিত জানুন।

আরও পড়ুন