ঢাবি, বুয়েট, মেডিকেলের তারিখ চূড়ান্ত! আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কবে? দেখুন সম্পূর্ণ সময়সূচি (২০২৫-২৬)

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর স্বপ্নের গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মেডিকেল কলেজগুলোর (এমবিবিএস)…

Laboni Das

 

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর স্বপ্নের গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মেডিকেল কলেজগুলোর (এমবিবিএস) ভর্তির আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের (অক্টোবর ২০২৫) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং পরীক্ষা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। অন্যদিকে, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এই বছরের ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস এবং প্রথম আলো-এর মতো শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা প্রায় ৭ লক্ষ ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রায় ১৮ লাখ আসন থাকলেও, শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির লড়াই বরাবরের মতোই তীব্র হতে যাচ্ছে।

ভর্তি যুদ্ধ ২০২৫-২৬: প্রেক্ষাপট ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রেক্ষাপট প্রতি বছরই একটি তীব্র প্রতিযোগিতার সাক্ষী হয়, যা “ভর্তি যুদ্ধ” নামে পরিচিত। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। এই বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। দ্য ডেইলি ইত্তেফাক-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখের বেশি, যার ফলে প্রায় ১১ লাখ আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু এই পরিসংখ্যান দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। বাস্তবতা হলো, এই বিশাল সংখ্যক আসনের অধিকাংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুচ্ছভুক্ত শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। এই সীমিত সংখ্যক আসনেই দেশের সেরা মেধাবীরা প্রতিযোগিতা করেন। তাই, পাসের হার কম হলেও মূল লড়াইয়ের তীব্রতা কমছে না, বরং প্রতিটি আসনের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের তাই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি (২০২৫-২৬)

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে প্রধান প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। এই তারিখগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি এবং ইউজিসি-এর সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি): ভর্তি পরীক্ষার মহাযজ্ঞ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে এবং চলবে ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত। ভর্তিচ্ছুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে পারছেন। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৫০ টাকা।

এবারের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো বিভাগীয় শহরেই অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি (২০২৫-২৬):

ইউনিটের নাম পরীক্ষার তারিখ (২০২৫) পরীক্ষার দিন পরীক্ষার সময়
আইবিএ (IBA) ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ শুক্রবার সকাল ১০:০০ – দুপুর ১২:০০
চারুকলা ইউনিট ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ শনিবার সকাল ১১:০০ – দুপুর ১২:৩০
‘গ’ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ শনিবার সকাল ১১:০০ – দুপুর ১২:৩০
‘ক’ ইউনিট (বিজ্ঞান) ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ শনিবার সকাল ১১:০০ – দুপুর ১২:৩০
‘খ’ ইউনিট (কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান) ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ শনিবার সকাল ১১:০০ – দুপুর ১২:৩০

মেডিকেল (MBBS) ও ডেন্টাল (BDS): স্বপ্নের সাদা অ্যাপ্রন

দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম আলো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। সাধারণত পরীক্ষার এক মাস আগে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই হিসেবে, নভেম্বর মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (DGME) ওয়েবসাইট-এ চোখ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ-এর ওপর ভিত্তি করে আরও ২০০ নম্বর থাকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): সেরাদের লড়াই

প্রকৌশল শিক্ষায় দেশের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তাদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। বুয়েটের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ এবং চলবে ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন:

এ বছর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিডিনিউজ২৪.কম-এর তথ্যমতে, গত বছরের মতো এবার আর প্রাথমিক বাছাই (প্রি-সিলিমিনারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। আবেদনকারী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতরা সরাসরি চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার)। পরীক্ষা ‘ক’ এবং ‘খ’ মডিউলে (যথাক্রমে প্রকৌশল এবং প্রকৌশল ও স্থাপত্য) দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হবে।

আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য বুয়েটের অফিসিয়াল ভর্তি ওয়েবসাইট ugadmission.buet.ac.bd-তে ভিজিট করতে হবে।

গুচ্ছ পদ্ধতি: একটি আবেদনে একাধিক সুযোগ

গত কয়েক বছর ধরে কয়েকটি প্রধান গুচ্ছে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দেওয়ার ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়েছে।

GST (সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) গুচ্ছ

দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত জিএসটি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার তারিখও চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর সঙ্গে উপাচার্যদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস জানিয়েছে, জিএসটি গুচ্ছের পরীক্ষাগুলো আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি (২০২৬):

ইউনিট বিষয় পরীক্ষার তারিখ (২০২৬) পরীক্ষার দিন
‘সি’ ইউনিট বাণিজ্য (Business) ২৭ মার্চ, ২০২৬ শুক্রবার
‘বি’ ইউনিট মানবিক (Humanities) ৩ এপ্রিল, ২০২৬ শুক্রবার
‘এ’ ইউনিট বিজ্ঞান (Science) ১০ এপ্রিল, ২০২৬ শুক্রবার

জিএসটি গুচ্ছের আবেদনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে অফিসিয়াল জিএসটি পোর্টালে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছ (Agricultural Cluster)

দেশের ৯টি কৃষি ও কৃষিপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবারও এই গুচ্ছের অধীনেই ভর্তি পরীক্ষা নেবে। তবে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। সাধারণত জিএসটি বা অন্যান্য প্রধান পরীক্ষার তারিখের সাথে সমন্বয় করে এই তারিখ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল কৃষি গুচ্ছ ওয়েবসাইট-এ নজর রাখতে হবে।

 প্রকৌশল গুচ্ছ (চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) সমন্বিতভাবে প্রকৌশল গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

এই গুচ্ছের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চুয়েট তাদের তারিখ ঘোষণা করেছে। বাংলা নিউজ ২৪-এর তথ্যমতে, চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার)। সাধারণত এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কাছাকাছি সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। কুয়েট ও রুয়েটের তারিখও শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

১৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় অনলাইন স্নাতক ভর্তি—জানুন কোন কোন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে আবেদন করা যাবে

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সূচি (২০২৫-২৬)

দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের নিজ নিজ ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করতে শুরু করেছে। নিচে একটি সারণিতে প্রধান কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আপডেট দেওয়া হলো:

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আবেদন শুরু (২০২৫) আবেদন শেষ (২০২৫) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ (২০২৬)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ২০ নভেম্বর ৬ ডিসেম্বর ১৬ জানুয়ারি (‘সি’ ইউনিট)১৭ জানুয়ারি (‘এ’ ইউনিট)

২৪ জানুয়ারি (‘বি’ ইউনিট)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ১ ডিসেম্বর ১৫ ডিসেম্বর ২ জানুয়ারি (‘এ’ ইউনিট)৯ জানুয়ারি (‘সি’ ইউনিট)

১০ জানুয়ারি (‘ডি’ ইউনিট)

অন্যান্য উপ-ইউনিট ৫, ৬ ও ১২ জানুয়ারি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এখনো ঘোষিত হয়নি এখনো ঘোষিত হয়নি ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহ (সম্ভাব্য)
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ১০ নভেম্বর ৩০ নভেম্বর ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে শুরু
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) এখনো ঘোষিত হয়নি এখনো ঘোষিত হয়নি ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এখনো ঘোষিত হয়নি এখনো ঘোষিত হয়নি ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ (ই-ইউনিট)২৬, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ এবং ৯, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (অন্যান্য)
বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ঘোষিত হয়নি এখনো ঘোষিত হয়নি ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

(দ্রষ্টব্য: উপরের সারণিতে উল্লিখিত তারিখগুলো সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া। যেকোনো পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।)

বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু যে ভাবে বদলে দেবে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা

 ভর্তির প্রস্তুতি: এই মুহূর্তে করণীয়

সময়সূচি যেহেতু হাতের মুঠোয়, তাই এখন প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে মনোযোগ দেওয়ার সময়। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য।

মানবণ্টন ও সিলেবাস বোঝা

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও মানবণ্টন আলাদা। ঢাবির ‘ক’ ইউনিট আর বুয়েটের পরীক্ষার ধরন এক নয়। আবার জিএসটি গুচ্ছের পরীক্ষার ধরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম কাজ হলো, আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন এবং এই বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি (Circular) খুঁটিয়ে পড়া। বিজ্ঞপ্তিতেই সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া থাকে।

প্রশ্নব্যাংক সমাধান ও মডেল টেস্ট

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান করা। এতে পরীক্ষার ধরণ, প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসবে, তত বেশি মডেল টেস্ট দিতে হবে। ঘড়ি ধরে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস আপনাকে পরীক্ষার হলের চাপ সামলাতে সাহায্য করবে।

 মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

ভর্তি মৌসুম শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র মানসিক চাপের একটি সময়। একই সাথে কয়েকটি পরীক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং পরিবারের প্রত্যাশার চাপ—সব মিলিয়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মনে রাখতে হবে, সুস্থ শরীর ও স্থির মস্তিষ্ক ছাড়া পরীক্ষার হলে সেরাটা দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা আপনার প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করবে। এই সময়ে যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ এড়াতে রুটিনমাফিক পড়াশোনা করুন।

 আবেদন প্রক্রিয়া: যা অবশ্যই মনে রাখবেন

সঠিকভাবে পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বশর্ত হলো সঠিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ছোটখাটো ভুলের কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হয় বা কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারে না।

সতর্কতা:

১. ছবি ও স্বাক্ষর: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট মাপ (Pixel ও KB) অনুযায়ী ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হয়। আবেদন করার আগেই এগুলো স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন।

২. তথ্য প্রদান: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। একবার সাবমিট করার পর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই তা সংশোধনের সুযোগ থাকে না।

৩. পেমেন্ট: আবেদন ফি মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পর অবশ্যই পেমেন্ট স্লিপ বা কনফার্মেশন মেসেজ সংগ্রহে রাখুন।

৪. কোটা (যদি থাকে): মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি বা অন্যান্য কোটায় আবেদন করলে তার সপক্ষে সমস্ত সঠিক ও সত্যায়িত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেক টাকা খরচ হয় বিভিন্ন কোচিং, বইপত্র এবং আবেদন ফির পেছনে। অনেক শিক্ষার্থী এই খরচ জোগাতে হিমশিম খায়। কিছু শিক্ষার্থী এই সময়ে নিজের খরচ চালানোর জন্য পার্ট-টাইম কাজ বা অনলাইনের মাধ্যমে আয়ের চেষ্টা করে। আপনি যদি তাদের একজন হন, তবে অনলাইনে আয়ের কিছু নির্ভরযোগ্য উপায় সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন, যা আপনার পড়াশোনার পাশাপাশি চলতে পারে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার মাধ্যমে ভর্তি যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত এখন মূল্যবান। আপনার লক্ষ্য স্থির করুন, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য, নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসই আপনাকে আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে পারে। এই যাত্রায় আপনার জন্য রইলো শুভকামনা।

About Author
Laboni Das

এখানে লাবনী দাশের জন্য একটি সম্ভাব্য Author Bio প্রস্তাব করছি: লাবনী দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান লেখিকা এবং সাংবাদিক, যিনি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয়ে লিখে থাকেন। তাঁর লেখায় সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ফুটে ওঠে। লাবনী নিয়মিত এই ওয়েবসাইটে প্রবন্ধ, গল্প ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন