তেজপাতা (Indian bay leaf/Tejpat, Laurus nobilis ও Cinnamomum tamala) শুধু বিরিয়ানি–পোলাওয়ের ঘ্রাণই বাড়ায় না, সঠিকভাবে বানিয়ে পরিমিত পান করলে হজম, রক্তচিনি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত উপকার দিতে পারে, তবে এগুলো এখনো “সহায়ক” মাত্র, কোনোভাবেই ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগের মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, তেজপাতার নির্যাস ও গুঁড়া নির্দিষ্ট পরিমাণে নিলে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ ও ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, আবার কিছু প্রাণী ও সেল–স্টাডিতে এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি প্রভাবও প্রমাণিত হয়েছে। তবে চা হিসেবে কতটা পরিমাণ, কতদিন ব্যবহার নিরাপদ ও কার্যকর—এই প্রশ্নের পুরো উত্তর এখনো বিজ্ঞানের কাছে পরিষ্কার নয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা বা ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে।
তেজপাতা কী ও কোন তেজপাতা চায়ে ব্যবহার হয়
তেজপাতা দক্ষিণ এশিয়া, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপে বহুল ব্যবহৃত একটি সুগন্ধি পাতা, সাধারণত Laurus nobilis (Mediterranean bay) ও Indian bay leaf/Tejpat (Cinnamomum tamala অথবা Syzygium polyanthum ইত্যাদি) নামে বিভিন্ন প্রজাতি ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় রান্নায় যে তেজপাতা বেশি দেখা যায়, তা দারুচিনির আত্মীয় গাছ থেকে আসে এবং আয়ুর্বেদে এটিকে গরম প্রকৃতির, কফ–বাত কমিয়ে হজমশক্তি বাড়ানো ও গ্যাস কমানোর জন্য উপকারী বলে বিবেচনা করা হয়।
-
তেজপাতায় ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক যৌগ, ইউক্যালিপ্টল, লিনালুলসহ ৮০টির বেশি বায়োঅ্যাকটিভ কম্পাউন্ড পাওয়া গেছে, যেগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রাখতে পারে।
-
বিভিন্ন প্রজাতির তেজপাতার কেমিক্যাল প্রোফাইল ভিন্ন, তাই “bay leaf tea”–এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণার ফল প্রত্যেক ধরনের তেজপাতায় সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
তেজপাতার চায়ের বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত মূল উপকারিতা
হজমে সহায়তা ও গ্যাস–বদহজম কমানো
তেজপাতার চা হালকা কার্মিনেটিভ (গ্যাস নিরসনকারী) হিসেবে কাজ করে বলে বিভিন্ন ঐতিহ্যগত ও আধুনিক সূত্রে উল্লেখ আছে। তেজপাতা খাবারের সাথে সিদ্ধ করলে বা চা হিসেবে পান করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও হালকা বদহজম কমাতে সহায়তা করতে পারে।
-
নেটমেডস ও Apollo 24/7–এর মতে, তেজপাতা হজম এনজাইম সক্রিয় করে খাবার ভাঙতে সাহায্য করে, যার ফলে খাবার হালকা লাগে ও বেলচা–অম্লভাব কিছুটা কমতে পারে।
-
আয়ুর্বেদীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, তেজপাতা “অগ্নি” বা হজম অগ্নি জাগিয়ে ভারী খাবার হজম করায় এবং কফ–বাত বাড়তি আর্দ্রতা ও শ্লেষ্মা কমায়, যা গ্যাস ও ডায়রিয়া–জাতীয় সমস্যায় সহায়ক হতে পারে।
রক্তচিনি ও ডায়াবেটিস ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
একটি উল্লেখযোগ্য মানব–গবেষণায় টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে তেজপাতার গুঁড়া (capsule আকারে) ৩০ দিন ব্যবহারে রক্তের গ্লুকোজ ও লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি দেখা গেছে।
-
উক্ত স্টাডিতে ১, ২ ও ৩ গ্রাম তেজপাতা প্রতিদিন ৩০ দিন ব্যবহারে ফাস্টিং গ্লুকোজ ২১–২৬% পর্যন্ত কমেছে এবং মোট কোলেস্টেরল ২০–২৪% কমেছে, পাশাপাশি LDL কোলেস্টেরল ৩২–৪০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
-
একই গবেষণায় HDL বা “ভাল” কোলেস্টেরল ২০–২৯% পর্যন্ত বেড়েছে, যা হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ইতিবাচক সূচক।
এই স্টাডি মূলত গুঁড়া তেজপাতা ক্যাপসুল আকারে দেওয়া হয়েছে, সরাসরি চা হিসেবে নয়, তাই তেজপাতার চা–পানের ক্ষেত্রে একই মাত্রার ফলাফল পাওয়া যাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবুও, WebMD ও Healthline–এর মতো হেলথ পোর্টালগুলো এই গবেষণার ভিত্তিতে তেজপাতাকে রক্তচিনি ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে “সম্ভাবনাময় সহায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শের কথা জোর দিয়ে বলেছে।
কোলেস্টেরল ও হার্টের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য ভূমিকা
উপরের একই ক্লিনিকাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, তেজপাতা মোট কোলেস্টেরল, LDL ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে HDL বাড়াতে পারে, যা তত্ত্বগতভাবে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
-
৩০ দিনের ব্যবহারে মোট কোলেস্টেরল ২০–২৪%, LDL কোলেস্টেরল ৩২–৪০% ও ট্রাইগ্লিসারাইড উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, HDL ২০–২৯% বেড়েছে।
-
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি কম্পাউন্ডের কারণে তেজপাতা ধমনীতে প্লাক জমা কমাতে সাহায্য করতে পারে—এমন ধারণা থাকলেও এই বিষয়ে আরও বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি স্টাডি প্রয়োজন।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি প্রভাব
তেজপাতার নির্যাসে ভিটামিন সি–র কাছাকাছি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা পাওয়া গেছে, যেগুলো ফ্রি–র্যাডিকাল কমিয়ে কোষের ক্ষয় রোধে সহায়তা করতে পারে।
-
একাধিক ল্যাব–স্টাডিতে তেজপাতার ইথানলিক এক্সট্র্যাক্টে IC50 মান (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা পরিমাপের সূচক) কম পাওয়া গেছে, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব নির্দেশ করে।
-
২০২৪ সালের একটি প্রাণী–মডেল স্টাডিতে Laurus nobilis পাতার এক্সট্র্যাক্ট অন্ত্রের প্রদাহ (colitis) কমাতে, গাট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য উন্নত করতে ও ইনফ্লেমেশন মার্কার কমাতে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হার্ট, জয়েন্ট, মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়, তবে তেজপাতার চা–পানের সাথে সরাসরি এসব দীর্ঘমেয়াদি ফল প্রমাণে আরও মানব–গবেষণা প্রয়োজন।
শ্বাসনালি ও সর্দি–কাশি প্রশমনে সহায়ক
তেজপাতার সুগন্ধি তেল শ্বাসনালি পরিষ্কার করতে, সর্দি–কাশি বা হালকা সাইনাস কনজেশন কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
-
WebMD বলছে, তেজপাতার চা বা বাষ্পের গন্ধ নাকে টেনে নিলে সাইনাস প্রেসার ও নাক বন্ধভাব কিছুটা উপশম হতে পারে, কারণ এর এসেনশিয়াল অয়েল শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করতে পারে।
-
আয়ুর্বেদিক লেখিয়েরা তেজপাতাকে কফ কমানোর ও শ্বাসনালিতে জমা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সহায়ক মেদোগ্রাহী গাছ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ঠান্ডা–কাশিতে গরম তেজপাতা–চা উপকারী হতে পারে বলে ধারণা দেয়।
তেজপাতার চা বানানোর সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি
কীভাবে তেজপাতার চা বানাবেন
বাড়িতে সহজে বানানোর জন্য সাধারণ নির্দেশনা:
-
২–৩টি শুকনো তেজপাতা ভালোভাবে ধুয়ে ১.৫–২ কাপ পানিতে দিন।
-
পানি ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ৭–১০ মিনিট ঢিমে আঁচে সিদ্ধ হতে দিন, এতে পলিফেনল ও সুগন্ধি তেল পানিতে ভালোভাবে মিশবে।
-
চুলা বন্ধ করে ২–৩ মিনিট ঢেকে রেখে তারপর ছেঁকে নিন; চাইলে অল্প লেবুর রস বা এক চা–চামচের কম মধু যোগ করা যায় (ডায়াবেটিস থাকলে মধু এড়িয়ে চলা ভালো)।
এভাবে বানানো চা দিনে ১–২ কাপের বেশি না খাওয়াই সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, তবে ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে নিজের চিকিৎসকের মতামত জরুরি।
কখন ও কতটা পান করা নিরাপদ
উচ্চ মানের তথ্যভিত্তিক হেলথ সাইটগুলো তেজপাতা চা সম্পর্কে সাধারণত নিচের পরামর্শ দেয়:
-
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১–২ কাপ (প্রতি কাপ ১–২টি তেজপাতা) কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পান করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহনীয় হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি নিয়মিত ব্যবহার শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ ভালো।
-
ডায়াবেটিস রোগী, রক্তচাপের ওষুধ, সেডেটিভ ওষুধ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (anticoagulant) যারা খান তাদের ক্ষেত্রে তেজপাতা চা ও ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসক ছাড়া নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কারা সাবধানে থাকবেন
গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান ও শিশু
RxList ও Tua Saúde–এর মতে, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় তেজপাতা নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য মানব–স্টাডি নেই।
-
গর্ভবতী ও স্তন্যদানরত নারীদের ক্ষেত্রে তেজপাতা বা তেজপাতা চা “মেডিসিনাল ডোজে” (অর্থাৎ অনেক বেশি মাত্রায়) ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
শিশুদের জন্য তেজপাতা চা সাধারণত রুটিন পানীয় হিসেবে সুপারিশ করা হয় না, কারণ তাদের শরীর ও বিপাক ক্রিয়া বড়দের থেকে আলাদা এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত গবেষণা সীমিত।
ডায়াবেটিস, অপারেশন ও অন্যান্য ওষুধ
তেজপাতা রক্তচিনি কমাতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (অনেক কম রক্তচিনি) হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
-
ডায়াবেটিস রোগীরা তেজপাতা চা নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে ডোজ ও রক্তচিনি মনিটরিং নিয়ে পরামর্শ করবেন।
-
তেজপাতা স্নায়ুতন্ত্রকে কিছুটা “স্লো” করতে পারে—এমন ধারণার ভিত্তিতে বড় অপারেশনের কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে তেজপাতা–জাতীয় সাপ্লিমেন্ট বন্ধ রাখার প্রস্তাব এসেছে, কারণ অ্যানেসথেসিয়ার সঙ্গে মিলে অতিরিক্ত সেডেশন ঘটাতে পারে।
অ্যালার্জি, হজমের সমস্যা ও শ্বাসরোধের ঝুঁকি
পুরো তেজপাতা কখনো গিলে খাওয়া উচিত নয়, কারণ পাতা শক্ত ও তীক্ষ্ণধার হওয়ায় গলায় আটকে যেতে পারে বা অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।
-
কেউ কেউ তেজপাতা বা এর এসেনশিয়াল অয়েলে অ্যালার্জিক হতে পারেন; এতে চুলকানি, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
-
অতিরিক্ত ঘন তেজপাতা চা পেট জ্বালা বা অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আগে থেকেই আছে।
তেজপাতার চা: উপকার–ঝুঁকি–ব্যবহার এক নজরে
| বিষয় | সম্ভাব্য উপকার / তথ্য | ঝুঁকি / সতর্কতা |
|---|---|---|
| হজম | গ্যাস, ফাঁপা ভাব ও হালকা বদহজম কমাতে সহায়তা করতে পারে; হজম এনজাইম উদ্দীপিত করে। | অতিরিক্ত ঘন চা গ্যাস্ট্রিক বা অম্লভাব বাড়াতে পারে। |
| রক্তচিনি | ৩০ দিন তেজপাতা গুঁড়া ব্যবহারে ফাস্টিং গ্লুকোজ ২১–২৬% কমতে দেখা গেছে। | ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে একসাথে নিলে রক্তচিনি অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। |
| কোলেস্টেরল ও হার্ট | মোট কোলেস্টেরল ২০–২৪%, LDL ৩২–৪০% কমেছে এবং HDL ২০–২৯% বেড়েছে এক স্টাডিতে। | এখনো বড় ও দীর্ঘমেয়াদি স্টাডি সীমিত; হৃদ্রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। |
| অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট | নির্যাসে শক্তিশালী ফ্রি–র্যাডিকাল–নাশক কার্যকারিতা দেখা গেছে। | চা হিসেবে সঠিক কার্যকর ডোজ নির্ধারিত নয়। |
| শ্বাসনালি | সাইনাস কনজেশন ও ঠান্ডায় কিছুটা আরাম দিতে পারে, ঘ্রাণ শ্বাসনালিকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। | অতিরিক্ত গরম বাষ্প নাক–গলা পুড়িয়ে দিতে পারে; সতর্কভাবে ব্যবহার দরকার। |
| গর্ভাবস্থা ও শিশুরা | নিরাপত্তা–সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য নেই, তাই সাধারণত এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ। | গর্ভপাতের ঝুঁকি ও শিশুর ওপর প্রভাব নিয়ে নির্ভরযোগ্য ডেটা অনুপস্থিত। |
বিশ্বস্ত উৎস, গবেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
বিশ্বস্ত ও উচ্চ–অথোরিটি সূত্রগুলোর কিছু মূল তথ্য:
-
ক্লিনিকাল ট্রায়াল (Journal of Clinical Biochemistry and Nutrition, ২০০৮) অনুযায়ী, ১–৩ গ্রাম তেজপাতা গুঁড়া ৩০ দিন ব্যবহারে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীর ফাস্টিং গ্লুকোজ ২১–২৬%, মোট কোলেস্টেরল ২০–২৪% ও LDL কোলেস্টেরল ৩২–৪০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, HDL ২০–২৯% বেড়েছে।
-
সাম্প্রতিক রিভিউ ও ল্যাব–স্টাডিগুলোতে তেজপাতার বিভিন্ন এক্সট্র্যাক্টে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি–ইনফ্লেমেটরি কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে, যা ক্যানসার, হার্টের রোগ ও প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে তাত্ত্বিকভাবে সহায়ক হতে পারে।
-
Netmeds, Apollo 24/7, WebMD, Healthline, RxList–এর মতো হাই–অথোরিটি হেলথ সাইটগুলো তেজপাতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সবসময় উল্লেখ করেছে যে এগুলো কেবল সহায়ক হার্বাল সাপোর্ট, কখনোই প্রেসক্রিপশন ওষুধের বিকল্প নয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ অপরিহার্য।
বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগের জন্য PubMed–indexed জার্নাল আর্টিকেল ও সম্মানিত মেডিক্যাল ওয়েবসাইটের রেফারেন্স অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা, যেমন ncbi.nlm.nih.gov–এর ওপেন–অ্যাক্সেস আর্টিকেল বা WebMD, Healthline ইত্যাদি।
ব্যবহারিক টিপস: তেজপাতার চা খাবেন কীভাবে ও কতটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে
তেজপাতার চা যেন উপকারের পাশাপাশি নিরাপদও থাকে, সে জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
-
খাবার শেষে বা ভারী খাবারের পর এক কাপ গরম তেজপাতার চা গ্যাস, অস্বস্তি ও হালকা বদহজম কমাতে সহায়ক হতে পারে; পেটে জ্বালা থাকলে খুব ঘন বা খুব গরম না খাওয়াই ভালো।
-
ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস থাকলে তেজপাতা চা শুরু করার আগে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ইনসুলিন/ট্যাবলেটের ডোজ, রক্তচিনি মনিটরিং ইত্যাদি বিষয়ে পরিকল্পনা করুন।
-
কোনো নতুন হারবাল পানীয় শুরু করলে প্রথমে অল্প পরিমাণে (যেমন ১ কাপ, ১–২টি পাতা) শুরু করে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন; অ্যালার্জি বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।
-
দীর্ঘমেয়াদি রোগ, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান, অপারেশনের তারিখ সামনে থাকা, একাধিক ওষুধ একসাথে গ্রহণ—এসব অবস্থায় তেজপাতা চা “নিজ দায়িত্বে” না খেয়ে চিকিৎসকের অনুমতি নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
তেজপাতার চা থেকে বাস্তবসাধ্য কতটা উপকার আশা করবেন
তেজপাতার চা হজমের উন্নতি, গ্যাস কমানো ও হালকা সর্দি–কাশি উপশমে একটি সহায়ক প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে যুক্তিসংগতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে ভারী বা তৈলাক্ত খাবারের পরে। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল কমানোর ক্ষেত্রে তেজপাতা গুঁড়া নিয়ে যে ক্লিনিকাল গবেষণা হয়েছে, তা আশাব্যঞ্জক হলেও এই ফলাফল সরাসরি তেজপাতার চায়ের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কিনা—তা এখনো প্রমাণিত নয়, তাই এটিকে শুধু “অতিরিক্ত সাপোর্ট” হিসাবে দেখা উচিত, ওষুধের বিকল্প হিসেবে নয়। নিরাপদ ব্যবহারের সীমা, গর্ভাবস্থা, শিশুরা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে ডেটা সীমিত, ফলে সচেতনতা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরিমিত মাত্রা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১–২ কাপ তেজপাতার চা সাধারণত সহনীয় হতে পারে, কিন্তু যেকোনো হার্বাল পানীয়ের মতোই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে নিয়মিত চেক–আপ ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি–কারক বিবেচনা না করলে উপকারের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। তাই জীবনযাত্রায় সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তেজপাতার চাকে ছোট পরিসরে যুক্ত করলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসমর্থনে একে যুক্তিযুক্ত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।











