বিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি নিয়ে জল্পনা: কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম আলোচনায়

ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড বিসিসিআইয়ের সভাপতি পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। রজার বিনির পদত্যাগের পর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নতুন সভাপতি ও আইপিএল চেয়ারমান নির্বাচন হবে। বর্তমানে…

Avatar

 

ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড বিসিসিআইয়ের সভাপতি পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। রজার বিনির পদত্যাগের পর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নতুন সভাপতি ও আইপিএল চেয়ারমান নির্বাচন হবে। বর্তমানে উপ-সভাপতি রাজীব শুক্লা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, তবে পদটি নিয়ে এক রেকর্ডভাঙা কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম আলোচনায় এসেছে।

সূত্রমতে, বিসিসিআই নেতৃত্ব একজন খ্যাতিমান প্রাক্তন ক্রিকেটারকে সভাপতি পদে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা সৌরভ গাঙ্গুলী ও রজার বিনির নিয়োগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন রেকর্ড-ভাঙা কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ইংল্যান্ডে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির সময় প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইপিএল চেয়ারম্যানের পদেও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমান চেয়ারমান অরুণ ধুমাল ছয় বছর কাজ করার পর বাধ্যতামূলক তিন বছরের কুলিং-অফ পিরিয়ডে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার স্থলে প্রাক্তন মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সঞ্জয় নায়েক ও বর্তমান উপ-সভাপতি রাজীব শুক্লার নাম আলোচিত হচ্ছে।

রাজীব শুক্লার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি হয় উপ-সভাপতি হিসেবে থাকতে পারেন, অথবা সভাপতি পদে উন্নীত হতে পারেন, কিংবা আইপিএল চেয়ারমান হতে পারেন। সূত্র জানিয়েছে, শুক্লার উপ-সভাপতি হিসেবে থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে সভাপতি পদ পাওয়ার ৬০-৪০ সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রাক্তন বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চৌধুরীর নামও আইপিএল চেয়ারমানের জন্য বিবেচনায় এসেছে। চৌধুরী পূর্বে ভারতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন এবং হরিয়ানা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তার পিতা রণবীর সিং মহেন্দ্র একসময় বিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন।

মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সেক্রেটারি সঞ্জয় নায়েকও আইপিএল চেয়ারমান পদের জোরালো প্রার্থী। নায়েক দীর্ঘদিন ধরে মুম্বই ক্রিকেটের সাথে যুক্ত এবং কোভিড-১৯ মহামারীর সময় আইপিএল আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি হিসেবে কর্মরত।

বিসিসিআইয়ের কিছু পদে কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া, যিনি যৌথ সেক্রেটারি হিসেবে দুই বছর তিন মাস ও সেক্রেটারি হিসেবে নয় মাস মোট তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, তার পদে বহাল থাকবেন। যৌথ সেক্রেটারি রোহন গান্স দেসাই ও কোষাধ্যক্ষ প্রভতেজ ভাতিয়াও তাদের প্রথম বছরে থাকায় একই পদে অব্যাহত থাকবেন।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য এজিএমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নোটিশ আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে জারি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিসিসিআইয়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

জয় শাহ আইসিসির চেয়ারমান হওয়ার পর বিসিসিআইয়ে নেতৃত্বের এই পরিবর্তন আসছে। শাহ গত ডিসেম্বরে আইসিসির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার স্থলে দেবজিৎ সাইকিয়া বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ পরিবর্তনের ফলে বিসিসিআই কাঠামোতে বড় পুনর্বিন্যাস হচ্ছে।

রজার বিনি গত জুলাই মাসে ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিসিসিআই সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেন। বিনি ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন এবং সৌরভ গাঙ্গুলীর পর তিনি দ্বিতীয় প্রাক্তন খেলোয়াড় হিসেবে বিসিসিআইয়ের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনে ঐক্যমতের ভিত্তিতে পদ বণ্টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিগত দুটি নির্বাচনেও দেখা গেছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পরিবর্তে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদ বিতরণ করা হয়। বিসিসিআইয়ের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর প্রধানরা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

আগামী এজিএম বিসিসিআইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ এতে কেবল সভাপতি ও আইপিএল চেয়ারমানই নয়, উপ-সভাপতি, যৌথ সেক্রেটারি ও কোষাধ্যক্ষের পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইনের বাস্তবায়ন এখনো কিছুটা দেরি হওয়ার কারণে এবার বিসিসিআইয়ের নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন