বেলস পালসি হল মুখের হঠাৎ পক্ষাঘাত যা মুখের একপাশকে দুর্বল বা প্যারালাইজড করে দেয় । এই অবস্থাটি সাধারণত সপ্তম ক্র্যানিয়াল স্নায়ুর প্রদাহ এবং ফোলাভাবের কারণে ঘটে, যা মুখের পেশীগুলি নিয়ন্ত্রণ করে । প্রতি বছর প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১৫ থেকে ৪০ জন এই রোগে আক্রান্ত হন এবং জীবনকালে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৬০ জনে ১ জন । ভালো খবর হল, প্রায় ৭০-৮০% রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান ।
বেলস পালসি কী এবং এর পরিসংখ্যান
বেলস পালসি হল মুখের স্নায়ুর একটি তীব্র পেরিফেরাল প্যারালাইসিস যা হঠাৎ করে দেখা দেয় । স্কটিশ নিউরোলজিস্ট এবং অ্যানাটমিস্ট স্যার চার্লস বেল, যিনি ১৮২১ সালে প্রথম এই অবস্থাটি বর্ণনা করেছিলেন, তার নামে এই রোগের নামকরণ করা হয়েছে । এটি মুখের দুর্বলতার সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যা ফেসিয়াল দুর্বলতার ৩৮% থেকে ৮৩% ক্ষেত্রে দায়ী ।
বেলস পালসির বার্ষিক ঘটনা হল প্রতি ১ লক্ষ জনে ১৫-৪০ জন, এবং জীবনকালে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৬০ জনে ১ জন । এই রোগে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই সমানভাবে আক্রান্ত হন এবং এটি মুখের ডান এবং বাম উভয় দিকেই সমান ফ্রিকোয়েন্সিতে ঘটে । রোগটির পুনরাবৃত্তির হার ৮% থেকে ১২% ।
বয়স অনুযায়ী বিতরণ
বেলস পালসি যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে বয়সের সাথে এর ঘটনা বৃদ্ধি পায় । দুটি প্রধান বয়স গ্রুপে এই রোগের সর্বোচ্চ ঘটনা দেখা যায় – ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এবং ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে । ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে বেলস পালসির ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, এবং এটি ১৫ বছরের নিচে এবং ৬০ বছরের উপরে উল্লেখযোগ্যভাবে কম সাধারণ ।
বেলস পালসি হওয়ার কারণ
বেলস পালসির সঠিক কারণ অজানা, তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে সপ্তম ক্র্যানিয়াল স্নায়ুর প্রদাহ এবং ফোলাভাব এতে জড়িত । এই স্নায়ুটি হাড়ের একটি সংকীর্ণ করিডোর দিয়ে মুখের দিকে যায় এবং যখন এটি স্ফীত এবং ফুলে যায় – সাধারণত একটি ভাইরাল সংক্রমণের সাথে সম্পর্কিত – তখন এটি সংকুচিত হয় এবং সম্ভবত ইসকেমিয়া ও ডিমাইলিনেশন ঘটে ।
সম্ভাব্য ট্রিগার এবং ঝুঁকির কারণ
বেলস পালসির সম্ভাব্য ট্রিগারগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
সুপ্ত ভাইরাল সংক্রমণ: হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস বা ভ্যারিসেলা (চিকেনপক্স) এর মতো সুপ্ত ভাইরাল সংক্রমণের পুনঃসক্রিয়করণ
-
মাম্পস: মাম্পস ভাইরাসের কারণে
-
ইনফ্লুয়েঞ্জা বি: ফ্লু ভাইরাস
-
কক্সস্যাকিভাইরাস: হ্যান্ড-ফুট-অ্যান্ড-মাউথ রোগের কারণ
-
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, শারীরিক আঘাত, ছোট অসুস্থতা বা অটোইমিউন সিনড্রোমের কারণে
-
লাইম ডিজিজ: মুখের স্নায়ুর সংক্রমণ এবং ফলস্বরূপ প্রদাহ
-
মাইলিন শিথের ক্ষতি: ফ্যাটি আবরণ যা স্নায়ু ফাইবারগুলিকে নিরোধক করে তার ক্ষতি
উচ্চ ঝুঁকির গ্রুপ
কিছু মানুষের বেলস পালসি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেলস পালসি বেশি সাধারণ এবং এটি খারাপ ফলাফলের সাথে যুক্ত হতে পারে । গর্ভাবস্থায়, বিশেষত শেষ ত্রৈমাসিকে, বেলস পালসির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং এটি জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের মতো লেট প্রেগন্যান্সি-অ্যাসোসিয়েটেড ডিসঅর্ডারের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে । উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো কারণগুলি দুর্বল ফলাফলের সাথে যুক্ত ।
বেলস পালসির লক্ষণ
বেলস পালসির প্রধান লক্ষণ হল মুখের একপাশে দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস । এটি সাধারণত প্রথম প্রদর্শিত হওয়ার ২ থেকে ৩ দিন পরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকে । মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া এবং একপাশে দুর্বল বা প্যারালাইজড হওয়ার চেহারা তৈরি করে ।
প্রধান উপসর্গ
বেলস পালসির সাধারণ লক্ষণগুলি একটি টেবিলে উপস্থাপন করা হল:
| লক্ষণ | বর্ণনা |
|---|---|
| মুখের দুর্বলতা | মুখের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস |
| চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া | চোখ বন্ধ করতে অসুবিধা এবং একপাশে পাতা ঝুলে যাওয়া |
| মুখ বিকৃত হওয়া | হাসতে এবং মুখের নড়াচড়া করতে অসুবিধা |
| মুখের কোণ ঝুলে যাওয়া | মুখের একপাশ নিচের দিকে ঝুলে যাওয়া |
| খাওয়া-পান করায় অসুবিধা | খাবার চিবানো এবং পান করায় সমস্যা |
| লালা ঝরা | মুখ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে লালা পড়া |
| ব্যথা বা সংবেদনশীলতা | আক্রান্ত এলাকার চারপাশে ব্যথা বা সংবেদনশীলতা |
| মাথাব্যথা | মাথাব্যথার অভিযোগ |
| স্বাদ হারানো | স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া |
| চোখে জল বা লালা পরিবর্তন | চোখের জল বা লালার পরিমাণে পরিবর্তন |
বেল ফেনোমেনন
বেল ফেনোমেনন, বা পালপেব্রাল ওকুলোগাইরিক রিফ্লেক্স, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া যেখানে চোখের পাতা বন্ধ হওয়ার সময় কর্নিয়াকে রক্ষা করার জন্য চোখের গোলক উপরের দিকে উঠে যায় । এই রিফ্লেক্সটি ফেসিয়াল প্যারালাইসিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের কর্নিয়া কার্যকর চোখের বন্ধের অনুপস্থিতিতে এক্সপোজার এবং আলসারেশনের জন্য বেশি ঝুঁকিতে থাকে ।
বেলস পালসির চিকিৎসা
বেলস পালসির চিকিৎসায় মূলত স্টেরয়েড থেরাপি, অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপির সমন্বয় ব্যবহার করা হয় । এক বৃহৎ রেট্রোস্পেক্টিভ গবেষণায় দেখা গেছে যে ৮৯% রোগীকে স্টেরয়েড দিয়ে এবং ৬৫.৬% রোগীকে অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, এবং ৭৭.৫% রোগী উভয় চিকিৎসা পেয়েছিলেন ।
কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি
কর্টিকোস্টেরয়েড, বিশেষত প্রেডনিসোন বা প্রেডনিসোলোন, বেলস পালসির প্রথম সারির চিকিৎসা হিসাবে সুপারিশ করা হয় । এই ওষুধগুলি প্রদাহ কমাতে এবং স্নায়ুর ফোলা হ্রাস করতে সাহায্য করে, যা মুখের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়। স্টেরয়েড থেরাপি রোগের শুরুর প্রথম ৭২ ঘন্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে কার্যকর।
অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট
অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ভূমিকা বিতর্কিত রয়ে গেছে । কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয় যে স্টেরয়েডের সাথে অ্যান্টিভাইরাল এজেন্টের সংমিশ্রণ শুধুমাত্র স্টেরয়েড থেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে । তবে, অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে মুখের মোটর ফাংশনের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কর্টিকোস্টেরয়েডের সাথে অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট যোগ করা অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে না । নিউরোলজি অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্টেরয়েডের সাথে অ্যান্টিভাইরাল এজেন্টের সংমিশ্রণ মুখের কার্যকরী পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ৭% এর বেশি বৃদ্ধি করে না ।
ফিজিক্যাল থেরাপি এবং মুখের ব্যায়াম
ফিজিক্যাল থেরাপি বেলস পালসির পুনর্বাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । মুখের পেশী শক্তিশালী করার জন্য ডিজাইন করা ব্যায়ামগুলি আক্রান্ত পাশের পেশী শক্তি, সমন্বয় এবং নড়াচড়া উন্নত করতে সাহায্য করে । এই ব্যায়ামগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
-
মুখের ম্যাসাজ এবং প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ
-
লক্ষ্যবস্তু মুখের নড়াচড়া
-
আয়নার সামনে মুখের অভিব্যক্তি ব্যায়াম
-
চোখের পলক ফেলার রুটিন
-
ভ্রু উত্তোলন ব্যায়াম
এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের সাথে ফিজিক্যাল থেরাপির সমন্বয় শুধুমাত্র ব্যায়াম থেরাপির তুলনায় ৩ মাসে হাউস-ব্র্যাকম্যান স্কোরে উল্লেখযোগ্যভাবে ভাল ফলাফল প্রদান করে ।
চোখের যত্ন
যেহেতু বেলস পালসি চোখ বন্ধ করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে, তাই চোখের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্নিয়াল এক্সপোজার এবং আলসারেশন প্রতিরোধ করতে:
-
কৃত্রিম টিয়ার এবং লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করুন
-
রাতে চোখের প্যাচ বা টেপ ব্যবহার করে চোখ বন্ধ রাখুন
-
সানগ্লাস পরুন যাতে চোখ ধুলো এবং বাতাস থেকে রক্ষা পায়
পুনরুদ্ধারের সময়রেখা এবং পর্যায়
বেলস পালসি থেকে পুনরুদ্ধার রোগীদের মধ্যে পরিবর্তিত হয়, তবে বেশিরভাগ মানুষ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখতে পান । পুনরুদ্ধার সাধারণত নিম্নলিখিত পর্যায়ে ঘটে:
পুনরুদ্ধারের পর্যায়
| পর্যায় | সময়কাল | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| তীব্র পর্যায় | দিন ১-৭ | লক্ষণগুলি দ্রুত বিকশিত হয় এবং ২-৩ দিনে শীর্ষে পৌঁছায় |
| পুনরুদ্ধার শুরু | সপ্তাহ ২-৪ | মুখের কার্যকারিতায় প্রথম উন্নতির লক্ষণ দেখা যায় |
| সক্রিয় পুনরুদ্ধার | মাস ২-৬ | ধীরে ধীরে মুখের পেশী ফাংশন ফিরে আসে |
| দেরি পুনরুদ্ধার | মাস ৬-১২ | কিছু রোগীর সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য এই সময় প্রয়োজন |
পুনরুদ্ধারের পরিসংখ্যান
বেলস পালসি থেকে পুনরুদ্ধারের হারগুলি সাধারণত ইতিবাচক:
-
৭৯% রোগী দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হন (ক্লাস I)
-
৭% রোগী দুই থেকে ছয় মাসের মধ্যে পর্যাপ্তভাবে সুস্থ হন (ক্লাস II)
-
১৪% রোগী ছয় মাসের বেশি সময় নেন (ক্লাস III)
-
সামগ্রিকভাবে, ৭০-৮০% মানুষ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার অর্জন করেন
বেশিরভাগ রোগী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি দেখতে শুরু করেন এবং প্রায় ৩-৪ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার ঘটে । ক্লিনিক্যাল এবং ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফিক পদ্ধতি ব্যবহার করে, চিকিৎসকরা রোগের শুরুর তিন দিনের মধ্যে পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন ।
জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
যদিও বেশিরভাগ মানুষ বেলস পালসি থেকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হন, তবে কিছু রোগী দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা অনুভব করতে পারেন। যারা সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হন না, তাদের সাধারণত স্প্যাস্টিক এবং ডিসকোঅর্ডিনেটেড মুখের সংকোচন (সিনকাইনেসিস) বিকশিত হয়, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হয় । এই চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
-
ফিজিওথেরাপি
-
বোটুলিনাম টক্সিন ইনজেকশন
-
সম্ভাব্য সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ
রোগের পুনরাবৃত্তির হার ৮% থেকে ১২%, যার অর্থ কিছু রোগী ভবিষ্যতে আবার বেলস পালসির সম্মুখীন হতে পারেন ।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
আপনি যদি হঠাৎ মুখের দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস অনুভব করেন, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন। যদিও বেলস পালসি সাধারণত গুরুতর নয়, তবে মুখের প্যারালাইসিস স্ট্রোক বা অন্যান্য গুরুতর অবস্থার লক্ষণও হতে পারে। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়।
বেলস পালসির জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন যদি:
-
মুখের দুর্বলতা অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণের সাথে যুক্ত থাকে
-
চোখ বন্ধ করতে সম্পূর্ণ অক্ষমতা থাকে
-
গুরুতর ব্যথা বা চোখে সমস্যা হয়
-
কয়েক সপ্তাহ পরেও কোনো উন্নতি না হয়
বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য বিবেচনা
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এবং প্রসবোত্তর প্রথম সপ্তাহে বেলস পালসি বেশি ঘটে । গর্ভবতী মহিলারা যারা বেলস পালসিতে আক্রান্ত তাদের সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা উচিত, বিশেষত যদি জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের মতো অন্যান্য জটিলতা থাকে । মাইক্রোভাসকুলার প্রদাহ এই দুটি অবস্থার মধ্যে সম্পর্কের কারণ হতে পারে ।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেলস পালসি বেশি সাধারণ এবং খারাপ ফলাফলের সাথে যুক্ত হতে পারে । এই রোগীদের জন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিয়মিত চিকিৎসা ফলো-আপ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন
যদিও বেলস পালসি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে:
-
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিন
-
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট অনুশীলন করুন
-
ভালো স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন এবং ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন
-
ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
-
নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা করান
পুনরুদ্ধারের সময়, রোগীদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাদের চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত ফিজিক্যাল থেরাপি অনুশীলন এবং ওষুধের সময়সূচী মেনে চলা দ্রুত এবং সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
শেষ কথা
বেলস পালসি হঠাৎ মুখের পক্ষাঘাত সৃষ্টি করে যা রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে এটি সাধারণত একটি অস্থায়ী অবস্থা যা সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠে। প্রায় ৭০-৮০% রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার অর্জন করেন এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি, ফিজিক্যাল থেরাপি এবং সঠিক চোখের যত্নের সমন্বয় বেশিরভাগ রোগীর জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ মুখের দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং মনে রাখবেন যে সময়মত চিকিৎসা সম্পূর্ণ সুস্থতার চাবিকাঠি। নিয়মিত ফলো-আপ এবং ধৈর্যের সাথে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সফল ফলাফলের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।











