জয়েন করুন

৩৮% বনাম ১৮%: মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বাংলাই দেখাল সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য

Women Representation In Bengal Politics: রাজনীতিতে নারী অংশগ্রহণ নিয়ে বড় বড় কথা শোনা নতুন নয়। Women’s Reservation Bill (মহিলা সংরক্ষণ বিল) পাশ হয়েছে, Nari Shakti Vandan Adhiniyam (নারী শক্তি বন্দন…

avatar
Written By : Chanchal Sen
Updated Now: April 15, 2026 5:33 PM
বিজ্ঞাপন

Women Representation In Bengal Politics: রাজনীতিতে নারী অংশগ্রহণ নিয়ে বড় বড় কথা শোনা নতুন নয়। Women’s Reservation Bill (মহিলা সংরক্ষণ বিল) পাশ হয়েছে, Nari Shakti Vandan Adhiniyam (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারও হয়েছে জোরকদমে। কিন্তু আসল প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—আইনকে সামনে রেখে যে দলগুলি নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে, তারা কি নিজেদের প্রার্থী তালিকায় সত্যিই সেই বিশ্বাস দেখায়?

এই জায়গাতেই পশ্চিমবঙ্গ এক অস্বস্তিকর আয়না তুলে ধরেছে। প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের Lok Sabha (লোকসভা)-তে Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস)-এর নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে প্রায় ৩৮% ছিলেন মহিলা। অথচ ২০২৬ সালের রাজ্য ভোটে দলটির প্রার্থী তালিকায় মহিলার হার নেমে এসেছে প্রায় ১৮%-এ। এই ফারাকটাই শুধু একটি দলের অঙ্ক নয়; এটি গোটা ভারতীয় রাজনীতির এক বড় সমস্যা সামনে আনে—সংরক্ষণের পক্ষে কথা বলা আর বাস্তবে নারীকে টিকিট দেওয়া, দুটো এক জিনিস নয়।

তাই এই আলোচনাকে শুধু দলীয় কাদা-ছোড়াছুড়ি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাংলার ৩৮% বনাম ১৮% আসলে আমাদের শেখায়, নারী প্রতিনিধিত্বের লড়াই কেবল আইনের নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দলীয় কাঠামো, এবং নির্বাচনী সাহসেরও পরীক্ষা।

মহিলা সংরক্ষণ বিল আসলে কী বলছে?

Nari Shakti Vandan Adhiniyam (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) ২০২৩ সালে পাশ হওয়া এমন একটি আইন, যা Lok Sabha (লোকসভা), রাজ্য বিধানসভা এবং দিল্লি বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলে। সরকারের পক্ষে এটি নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু এখানেই একটি বড় বাস্তব সমস্যা আছে। এই সংরক্ষণ সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়নি; এটি জনগণনা ও Delimitation (সীমানা পুনর্নির্ধারণ)-এর সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ আইন পাশ হওয়া আর বাস্তবে তার সুবিধা পাওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। ফলে বহু পাঠকের মনে যে প্রশ্নটা উঠছে, সেটি যথার্থ: আইন আছে, কিন্তু মাঠে বদল কোথায়?

বাংলার ৩৮% বনাম ১৮%—এই অঙ্ক এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

কারণ এই দুটি সংখ্যা একসঙ্গে রাখলেই বিরোধাভাস স্পষ্ট হয়ে যায়। একদিকে, পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়েছে যে কোনও দল চাইলে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হওয়ার আগেই বেশি সংখ্যক নারীকে সামনে আনতে পারে। অন্যদিকে, একই রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজ্য নির্বাচনের সময় সেই অঙ্গীকার অর্ধেকেরও কমে নেমে যেতে পারে।

এই বৈপরীত্যের মধ্যে তিনটি স্তর আছে:

  • প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব: নারী মুখ সামনে আনা
  • বাস্তব রাজনৈতিক সুযোগ: জেতার মতো আসনে নারীকে টিকিট দেওয়া
  • প্রাতিষ্ঠানিক বদল: দলীয় সংস্কৃতির ভেতরে নারী নেতৃত্ব তৈরি করা

বাংলার উদাহরণ দেখাচ্ছে, প্রথম ধাপে অনেক দল ভালো ফল দেখাতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে গিয়ে ছবিটা বদলে যায়। এখানেই Women’s Reservation Bill (মহিলা সংরক্ষণ বিল)-এর প্রয়োজনীয়তা আবার সামনে আসে। কারণ স্বেচ্ছায় যা নিয়মিত করা যায় না, আইন সেটিকে বাধ্যতামূলক কাঠামো দিতে পারে।

শুধু আইন নয়, আসল লড়াই ‘পার্টি টিকিট’-এর

ভারতীয় রাজনীতিতে প্রার্থী হওয়াটাই সবচেয়ে বড় দরজা। সংসদে বা বিধানসভায় পৌঁছনোর আগে একজন নারীকে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেতে হয়। আর এই জায়গাতেই বহু রাজনৈতিক দল পিছিয়ে যায়। প্রকাশ্যে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা সহজ; কিন্তু জেতার সম্ভাবনা বেশি এমন আসনে পুরুষ প্রার্থীর বদলে নারীকে বেছে নেওয়া অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিতর্কও সেখানে গিয়ে ঠেকে। লোকসভায় শক্তিশালী নারী উপস্থিতি দেখানো সম্ভব হলেও, বিধানসভা ভোটে কেন সেই আস্থা কমে গেল? এর সম্ভাব্য উত্তর একাধিক—স্থানীয় সংগঠনে পুরুষ আধিপত্য, জেতার অঙ্ক, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এবং বহু পুরনো ‘নিরাপদ প্রার্থী’ মানসিকতা।

সোজা কথায়, আইন নারীকে আসন দিতে পারে; কিন্তু দল কি নারীকে রাজনৈতিক স্পেস দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অনিশ্চিত।

বাংলা কি তাহলে এগিয়ে, না পিছিয়ে?

এই প্রশ্নের উত্তর সাদা-কালো নয়। বাংলা একই সঙ্গে এগিয়েও আছে, আবার পিছিয়েও আছে। এগিয়ে আছে, কারণ নারী ভোটার, নারীভিত্তিক কল্যাণনীতি, এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতর নারী প্রতিনিধিত্ব—এসব বাংলার রাজনীতিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। পিছিয়ে আছে, কারণ বিধানসভা পর্যায়ে নারী প্রার্থী মনোনয়ন এখনও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

এখানে মনে রাখতে হবে, নারী প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু সংখ্যার খেলা নয়। একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা, কয়েকজন মহিলা মন্ত্রী থাকা, বা কয়েকজন পরিচিত মহিলা সাংসদ থাকা—এসব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সঙ্গে দেখতে হবে, গ্রামাঞ্চল, শহরতলি, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, দলিত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত—বিভিন্ন পটভূমি থেকে মহিলারা আদৌ সিদ্ধান্তমূলক রাজনীতিতে উঠতে পারছেন কি না।

তাহলে ৩৮% সংখ্যা কেন প্রশংসার যোগ্য?

কারণ এটি দেখায়, বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ ছাড়াও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব। এটি এক ধরনের প্রমাণ—ইচ্ছা থাকলে দলগুলি অপেক্ষা না করেও পরিবর্তন আনতে পারে।

আর ১৮% সংখ্যা কেন অস্বস্তিকর?

কারণ এটি দেখায়, ক্ষমতার কেন্দ্র যত স্থানীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, ততই নারীকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা ফিরে আসে। অর্থাৎ নীতি আর বাস্তবের ফাঁক এখানেই ধরা পড়ে।

এই বিরোধাভাসের পেছনে কী কী রাজনৈতিক কারণ কাজ করে?

১) জেতার অঙ্ক বনাম ন্যায়সঙ্গত প্রতিনিধিত্ব

অনেক দলই মনে করে, কঠিন আসনে পরীক্ষিত পুরুষ সংগঠকই নিরাপদ পছন্দ। ফলে নারী প্রার্থীকে ‘ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলানো না গেলে সংরক্ষণ আইনও আংশিক ফল দেবে।

২) সংগঠনের নিচুতলায় নারী নেতৃত্ব কম

রাজনীতির চূড়ায় কয়েকজন নারী মুখ থাকলেই হবে না। ব্লক, জেলা, বুথ—এই স্তরে নারী নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে তৈরি না হলে প্রার্থী তালিকায় মহিলার সংখ্যা বাড়ে না।

৩) পরিবারতন্ত্র বনাম গ্রাসরুট সুযোগ

বহু ক্ষেত্রে নারী প্রার্থী উঠে আসেন রাজনৈতিক পরিবার থেকে। কিন্তু সাধারণ পরিবার, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, পঞ্চায়েত স্তর, বা সামাজিক কাজের ক্ষেত্র থেকে বেশি মহিলা নেত্রী উঠে আসা এখনও সীমিত। ফলে প্রতিনিধিত্বের ভিত দুর্বল থাকে।

৪) নিরাপত্তা, অর্থ, এবং সময়

নির্বাচনী রাজনীতি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ, এবং প্রায়শই আক্রমণাত্মক। পরিবার, সামাজিক চাপ, আর্থিক বাধা, চরিত্রহননের ভয়—এই সবকিছু নারী অংশগ্রহণ কমিয়ে দেয়। এগুলো শুধু নৈতিক সমস্যা নয়, নির্বাচনী কাঠামোর সমস্যাও।

এক নজরে তুলনা

বিষয় যা ইতিবাচক যা প্রশ্ন তুলছে
লোকসভায় নারী উপস্থিতি বাংলা উচ্চ প্রতিনিধিত্বের উদাহরণ দেখিয়েছে এটি কি ধারাবাহিক দলীয় নীতি, না নির্বাচনী কৌশল?
বিধানসভা প্রার্থী তালিকা কিছু মহিলা মুখ সামনে আছে মোট শতাংশ অনেক কম, তাই অঙ্গীকার দুর্বল দেখায়
মহিলা সংরক্ষণ বিল আইন কাঠামোগত বদলের পথ খুলেছে বাস্তব প্রয়োগ এখনও বিলম্বিত
দলীয় সদিচ্ছা চাইলে সংরক্ষণ ছাড়াও সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব চাপ বাড়লেই দলগুলি পুরনো পুরুষ-নির্ভর মডেলে ফিরে যায়

বাংলার রাজনীতিতে নারী ভোটার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটার শুধু একটি গণতান্ত্রিক শ্রেণি নন, তাঁরা এখন একটি নির্ধারক রাজনৈতিক শক্তি। কল্যাণমূলক প্রকল্প, সরাসরি নগদ সহায়তা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, এবং সংসার চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে নারী ভোটারদের কাছে ‘কে কী বলল’ তার চেয়ে ‘কে কী দিল’ এবং ‘কে কতটা বিশ্বাসযোগ্য’—এই দুটো বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই জায়গায় বাংলার রাজনীতিকে বুঝতে চাইলে নারীভিত্তিক কল্যাণ প্রকল্প এবং সামাজিক প্রভাবও পড়তে হয়। Think Bengal-এ প্রকাশিত লক্ষ্মীর ভান্ডার-সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন দেখায়, নারী আর্থিক সহায়তা-ভিত্তিক রাজনীতি বাংলায় কতটা গভীরভাবে আলোচিত ও জনপ্রিয় হতে পারে। একইভাবে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনা নিয়ে এই লেখাটি বুঝতে সাহায্য করে যে নতুন ভোটাররা শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব প্রতিনিধিত্বও খেয়াল করেন।

এই বিতর্ক থেকে কী বোঝা যায়?

  • সংরক্ষণ আইন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব দল স্বেচ্ছায় পর্যাপ্ত নারী প্রার্থী দেয় না।
  • শুধু নির্বাচিত মহিলার সংখ্যা দেখলেই হবে না; প্রার্থী তালিকাও দেখতে হবে।
  • নারী প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু পরিচিত মুখ নয়, বৈচিত্র্যও জরুরি।
  • দলীয় টিকিট বণ্টন গণতন্ত্রের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
  • বাংলার উদাহরণ গোটা দেশের জন্য শিক্ষণীয়—অগ্রগতি ও ঘাটতি একই সঙ্গে থাকতে পারে।

মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি কোথায়?

সবচেয়ে বড় ভুল হল ভাবা যে আইন পাশ মানেই সঙ্গে সঙ্গে সমতা এসে যাবে। বাস্তবে তা হয় না। আইন কাঠামো তৈরি করে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলালে সেই কাঠামোও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় ভুল হল, কেবল নারী ভোটারকে লক্ষ্য করে স্কিম বা প্রচার চালানো মানেই নারী ক্ষমতায়ন হয়েছে—এমন ধরে নেওয়া। আর্থিক সহায়তা জরুরি, নিরাপত্তা জরুরি, শিক্ষা জরুরি; কিন্তু নির্বাচনী টিকিট, সংগঠনের ক্ষমতা, এবং নীতি নির্ধারণের জায়গায় নারীর উপস্থিতি না বাড়লে ক্ষমতায়ন অসম্পূর্ণই থাকবে।

শেষ কথা: বাংলার অঙ্ক আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

পশ্চিমবঙ্গের ৩৮% বনাম ১৮% শুধু একটি সংখ্যার তুলনা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। এটি আমাদের বলে, ভারতীয় রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার সময় আসেনি। কোথাও অগ্রগতি হয়েছে, ঠিকই। কিন্তু সেই অগ্রগতি এখনও ভঙ্গুর, অসম, এবং প্রায়শই নির্বাচনী সুবিধাবাদের ওপর দাঁড়িয়ে।

এই কারণেই বাংলার উদাহরণ এত শক্তিশালী। এটি Women’s Reservation Bill (মহিলা সংরক্ষণ বিল)-এর প্রয়োজনীয়তাও প্রমাণ করে, আবার একই সঙ্গে দেখায় যে আইন একা যথেষ্ট নয়। দল যদি নারীকে জেতার যোগ্য, নেতৃত্বের যোগ্য, এবং ক্ষমতার যোগ্য বলে সত্যিই না মানে, তা হলে ৩৩% সংরক্ষণও অনেক সময় কাগজেই আটকে যেতে পারে।

সত্যিটা অস্বস্তিকর, কিন্তু স্পষ্ট—নারীকে সামনে রেখে রাজনীতি করা আর নারীকে সত্যিকারের জায়গা দেওয়া এক কথা নয়। বাংলাই সেই ফারাকটা সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

প্রশ্নোত্তর: পাঠকের মনে যে প্রশ্নগুলো থাকতেই পারে

মহিলা সংরক্ষণ বিল কি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে?

না, আইন পাশ হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়নি। এটি জনগণনা ও Delimitation (সীমানা পুনর্নির্ধারণ)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাস্তব প্রয়োগে সময় লাগছে। তাই রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শুধু আইন পাশ হওয়া নিয়ে নয়, কবে এবং কীভাবে তা কার্যকর হবে, তা নিয়েও।

বাংলার ৩৮% বনাম ১৮% সংখ্যার আসল তাৎপর্য কী?

এই দুই সংখ্যা দেখায় যে একই রাজনৈতিক পরিসরে নারী প্রতিনিধিত্বের ছবি একরকম থাকে না। জাতীয় স্তরে বেশি মহিলা প্রতিনিধি থাকলেও, রাজ্য স্তরে প্রার্থী মনোনয়নে সেই সদিচ্ছা কমে যেতে পারে। তাই এই তুলনা আইন বনাম দলীয় বাস্তবতার সংঘাতকে সামনে আনে।

শুধু সংরক্ষণ হলেই কি নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত?

না, সংরক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একাই যথেষ্ট নয়। নারীকে সংগঠনের ভিতর নেতৃত্বের জায়গা, জেতার মতো আসনে টিকিট, আর নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ—সব একসঙ্গে দরকার। না হলে প্রতিনিধিত্ব কাগজে বাড়লেও বাস্তব ক্ষমতা সীমিত থেকে যায়।

পশ্চিমবঙ্গ কি নারী রাজনীতিতে এগিয়ে আছে?

আংশিকভাবে হ্যাঁ। কিছু স্তরে নারী প্রতিনিধিত্ব এবং নারী-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব বাংলাকে আলাদা জায়গা দেয়। তবে বিধানসভা প্রার্থী তালিকায় কম মহিলা থাকা দেখায়, আরও অনেক পথ এখনও বাকি।

এই বিষয়টি সাধারণ ভোটারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব রাজনৈতিক সুযোগও বিচার করেন। কোনও দল নারী উন্নয়নের কথা বললে, ভোটারের দেখা উচিত—দলটি নিজের প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের কতটা জায়গা দিচ্ছে। গণতন্ত্রে প্রতিনিধিত্বের মান ঠিক সেখানেই বোঝা যায়।

আরও পড়ুন

ভোট না যুদ্ধের প্রস্তুতি? প্রথম দফায় বঙ্গে 2407 কোম্পানি বাহিনী, জেলা ধরে হিসেব দেখুন এবার ভোটে দু’বার পরিচয় যাচাই! ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন আসলে কী? আর ট্রেনের ঝক্কি নয়! শ্রীরামপুর থেকে দিঘা AC Bus, রুট জানলে এখনই প্ল্যান করবেন কলকাতা থেকে জেলা—এপ্রিল ও মে মাসে মদের দোকান বন্ধের দিনক্ষণ জানেন তো? ৩০০০ টাকা থেকে UCC—বিজেপির সংকল্পপত্রে কী আছে, জানলে চমকে যেতে পারেন