হার্ভার্ডের গবেষণা অনুযায়ী আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সেরা ৪টি ব্যায়াম: জানুন বিস্তারিত

আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদের যেমন দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, তেমনই কেড়ে নিয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং মানসিক চাপ—এই সবকিছুর ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের…

Avatar

 

আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদের যেমন দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, তেমনই কেড়ে নিয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং মানসিক চাপ—এই সবকিছুর ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এক নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি ৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৫ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৪ জনই পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন না। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

দ্য ল্যানসেট (The Lancet) এ প্রকাশিত জুন ২০২৪-এর একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ভারতের প্রায় ৫০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় নন, এবং নারীদের মধ্যে এই হার (৫৭%) পুরুষদের (৪২%) চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের ফ্যাক্টশিট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ২০.৩% প্রাপ্তবয়স্ক শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার শিকার। এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল সংখ্যা নয়, বরং একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের পূর্বাভাস।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন, “স্টার্টিং টু এক্সারসাইজ” (Starting to Exercise), আমাদের পথ দেখাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে করা বিভিন্ন গবেষণার ওপর ভিত্তি করে হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু ব্যায়ামকে চিহ্নিত করেছেন যা যেকোনো বয়সের এবং শারীরিক সক্ষমতার মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এই প্রতিবেদনে মূলত চার ধরনের ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে যা আপনার শরীরকে রাখবে সচল, মনকে রাখবে সতেজ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে দেবে সুরক্ষা। আসুন, হার্ভার্ডের গবেষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যের জন্য সেরা এই চারটি ব্যায়াম (best exercises for your health) সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১. সাঁতার: দ্য পারফেক্ট ওয়ার্কআউট

হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা সাঁতারকে “নিখুঁত ব্যায়াম” বা “the perfect workout” বলে অভিহিত করেছেন। এর কারণ হলো, সাঁতার কাটার সময় শরীরের প্রায় প্রতিটি পেশী একসঙ্গে কাজ করে, যা অন্য কোনো একটি ব্যায়ামে সহজে পাওয়া যায় না। এটি একটি চমৎকার অ্যারোবিক এক্সারসাইজ যা হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রেক্ষাপট ও সুবিধা:

  • জয়েন্টের উপর চাপ কম: জলের প্লবতা (buoyancy) শরীরের ওজনকে অনেকটাই ভারহীন করে তোলে। এর ফলে হাঁটু, কোমর বা গোড়ালির মতো জয়েন্টগুলোতে কোনো রকম চাপ পড়ে না। যাদের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথার সমস্যা আছে, তাদের জন্য সাঁতার এক আশীর্বাদস্বরূপ।
  • হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য: সাঁতার হৃৎপিণ্ডের পেশীকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নত করে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন নিয়মিত অ্যারোবিক কার্যকলাপের পরামর্শ দেয় এবং সাঁতার এর জন্য একটি আদর্শ উপায়। এটি রক্তচাপ কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • পেশী গঠন ও টোনিং: সাঁতার কাটার সময় হাত, পা, কাঁধ, পিঠ এবং পেটের পেশী একযোগে ব্যবহৃত হয়। ফলে সারা শরীরে শক্তি এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
  • মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: গবেষণায় দেখা গেছে, জলের মধ্যে থাকার অনুভূতি এবং ছন্দময় নড়াচড়া মানসিক চাপ কমাতে, উদ্বেগ দূর করতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি এক ধরনের “মুভিং মেডিটেশন” (moving meditation) হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞের মত:

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিনের অধ্যাপক ডাঃ আই-মিন লি (Dr. I-Min Lee) বলেন, “সাঁতার আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী কারণ এটি ওজন বহনকারী ব্যায়াম নয়।” এটি একই সাথে কার্ডিও এবং শক্তি প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করে।

২. তাই চি: ধ্যানের মতো ব্যায়াম

তাই চি একটি প্রাচীন চীনা মার্শাল আর্ট, যা ধীর এবং ছন্দময় শারীরিক নড়াচড়ার সঙ্গে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমন্বয় করে তৈরি। হার্ভার্ডের গবেষকরা একে “গতিশীল ধ্যান” বা “meditation in motion” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটি শরীর ও মনের মধ্যে এক অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করে।

প্রেক্ষাপট ও সুবিধা:

  • ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের ভারসাম্য রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে, যা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই চি শরীরের কোর মাসলকে শক্তিশালী করে এবং অঙ্গবিন্যাস (posture) উন্নত করে ভারসাম্য বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত তাই চি অনুশীলনকারী বয়স্কদের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫% কমে যায়।
  • মানসিক প্রশান্তি: তাই চি-এর ধীর গতি, গভীর শ্বাস এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। এটি মনকে শান্ত করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।
  • নমনীয়তা ও জয়েন্টের স্বাস্থ্য: এর ধীর ও নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া জয়েন্টগুলোকে সচল রাখে এবং পেশী ও লিগামেন্টের নমনীয়তা বাড়ায়। এটি আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতেও সহায়ক।
  • পার্কিনসন্স রোগীদের জন্য উপকারী: জার্নাল অফ নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি-তে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, দীর্ঘমেয়াদী তাই চি অনুশীলন পার্কিনসন্স রোগের লক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞের মত:

ডাঃ আই-মিন লি বিশেষভাবে বয়স্কদের জন্য তাই চি-এর গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার মতে, “ভারসাম্য ফিটনেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা এই ক্ষমতা হারাতে থাকি। তাই চি এখানে বিশেষভাবে কার্যকর।”

৩. শক্তি প্রশিক্ষণ (Strength Training): হাড় ও পেশীর রক্ষাকবচ

শক্তি প্রশিক্ষণ বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বলতে কেবল ভারোত্তোলন বা জিম করা বোঝায় না। নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে (যেমন: পুশ-আপ, স্কোয়াট), রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড বা হালকা ডাম্বেল ব্যবহার করেও এটি করা যায়। হার্ভার্ডের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশী এবং হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখার জন্য শক্তি প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।

প্রেক্ষাপট ও সুবিধা:

  • হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি: বয়স ৩০ পেরোনোর পর থেকে আমাদের হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে, যা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। শক্তি প্রশিক্ষণ হাড়ের উপর নিয়ন্ত্রিত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন হাড় গঠনে উদ্দীপনা জোগায়। একটি সফল কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, ৬২ বছর বয়সী এক নারী নিয়মিত শক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার অস্টিওপোরোসিসকে প্রতিহত করতে এবং হাড়ের ঘনত্ব ৪% পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
  • পেশীর শক্তি ও মেটাবলিজম: শক্তিশালী পেশী মানে শুধু শক্তিই নয়, এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়াকেও উন্নত করে। পেশী চর্বির চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়, তাই পেশীর পরিমাণ বাড়লে বিশ্রামের সময়ও শরীর বেশি ক্যালোরি খরচ করে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: শক্তি প্রশিক্ষণ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
  • দৈনন্দিন কাজে সক্ষমতা: শক্তিশালী পেশী দৈনন্দিন কাজ, যেমন—ভারী ব্যাগ বহন করা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা চেয়ার থেকে ওঠা, সহজ করে তোলে এবং স্বাধীনতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞের মত:

জেরিয়াট্রিক বিশেষজ্ঞরা (geriatric specialists) বয়স্কদের জন্য শক্তি প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন। RWJBarnabas Health-এর মতে, “নিয়মিত শক্তি প্রশিক্ষণ বয়স্কদের পেশী তৈরি করতে এবং ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা তাদের কার্যকরী ক্ষমতা বাড়ায়।”

৪. হাঁটা: সহজতম কিন্তু শক্তিশালী ব্যায়াম

হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে, হাঁটা একটি সহজ, নিরাপদ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যায়াম। এর জন্য কোনো বিশেষ সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না, অথচ এর স্বাস্থ্যকর প্রভাব অপরিসীম।

প্রেক্ষাপট ও সুবিধা:

  • হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত দ্রুত হাঁটা (brisk walking) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ হিচাম স্কালি (Dr. Hicham Skali)-এর মতে, “হাঁটা আমাদের শরীরের একটি প্রয়োজনীয় কাজ এবং এটি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারে।”
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালোরি পোড়ে, যা ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, নিয়মিত হাঁটা মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা (cognitive function) উন্নত করে। এটি ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমারের মতো বয়স-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত হাঁটলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং সাধারণ সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
  • মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: খোলা বাতাসে হাঁটলে মন ভালো থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং সৃজনশীলতা বাড়ে।

বাস্তব উদাহরণ:

ভারতের তনুশ্রী নামের এক নারী নিয়মিত হাঁটা এবং ঘরোয়া ওয়ার্কআউটের মাধ্যমে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, হাঁটার মতো একটি সাধারণ অভ্যাসও জীবনে অসাধারণ পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ Section)

১. প্রতিদিন কতটা ব্যায়াম করা উচিত?

উত্তর: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার অ্যারোবিক ব্যায়াম (যেমন: দ্রুত হাঁটা, সাঁতার) অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত। এর সাথে সপ্তাহে অন্তত ২ দিন শক্তি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা ভালো।

২. ব্যায়াম শুরু করার জন্য সেরা সময় কোনটি?

উত্তর: ব্যায়াম করার কোনো নির্দিষ্ট “সেরা” সময় নেই। সকাল, দুপুর বা সন্ধ্যা—আপনার জীবনযাত্রার সাথে যা খাপ খায়, সেই সময়ই আপনার জন্য সেরা। মূল বিষয় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

৩. বয়স্কদের জন্য কোন ব্যায়ামটি সবচেয়ে নিরাপদ?

উত্তর: হার্ভার্ডের সুপারিশ অনুযায়ী, সাঁতার এবং তাই চি বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং উপকারী ব্যায়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ এগুলোতে জয়েন্টের উপর চাপ পড়ে না এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

৪. ওজন কমানোর জন্য কোন ব্যায়ামটি সবচেয়ে কার্যকর?

উত্তর: ওজন কমানোর জন্য অ্যারোবিক ব্যায়াম (যেমন: হাঁটা, সাঁতার) এবং শক্তি প্রশিক্ষণের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর। অ্যারোবিক ব্যায়াম ক্যালোরি পোড়ায় এবং শক্তি প্রশিক্ষণ পেশী তৈরি করে মেটাবলিজম বাড়ায়।

৫. কোনো শারীরিক অসুস্থতা থাকলে কি এই ব্যায়ামগুলো করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, তবে যেকোনো নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি আপনার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের এই গবেষণা আমাদের এটাই শেখায় যে সুস্থ থাকার জন্য খুব জটিল বা ব্যয়বহুল কিছুর প্রয়োজন নেই। সাঁতার, তাই চি, শক্তি প্রশিক্ষণ এবং হাঁটার মতো চারটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম (best exercises for your health) আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলেই আমরা একটি দীর্ঘ, সুস্থ এবং সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারি। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার এই মহামারির যুগে, এই ব্যায়ামগুলো কেবল আমাদের শরীরকেই নয়, মনকেও সুস্থ রাখার চাবিকাঠি। তাই আর দেরি না করে, আজই আপনার পছন্দের ব্যায়ামটি বেছে নিন এবং সুস্থতার পথে প্রথম পদক্ষেপ ফেলুন।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন