Best Medicines for Kidney Health: আমাদের শরীরের মূল ফিল্টার বা ছাঁকনি হলো কিডনি। রক্ত থেকে শরীরের সব ময়লা এবং বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেওয়াই এর প্রধান কাজ। দিনরাত একনাগাড়ে কাজ করতে থাকা এই অঙ্গটি বিকল হলে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। আজকাল অল্প বয়সীদের মধ্যেও কিডনির নানা সমস্যা, যেমন ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) বা ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অহরহ দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ফার্মেসিতে গিয়ে বা ইন্টারনেটে খোঁজেন, কিডনি ভালো রাখার জন্য কোন কোন ওষুধ খাওয়া যায়?
বাস্তব সত্যিটা হলো, সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষের কিডনি ভালো রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যালোপ্যাথি ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডাক্তারবাবুরা এমন কিছু ওষুধ দেন যা কিডনিকে ড্যামেজ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আজকের এই লেখায় আমরা আলোচনা করব ঠিক কোন ধরনের ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট এবং ভেষজ উপাদান কিডনির সুরক্ষায় সরাসরি কাজ করে এবং কোনগুলো থেকে শত হাত দূরে থাকা উচিত।
কিডনি ভালো রাখার জন্য কোন কোন ওষুধ খাওয়া যায়?
যাঁদের ডায়াবেটিস বা প্রেসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কিডনি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন বেশ কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ রয়েছে, যা সরাসরি কিডনির ফিল্টারগুলোকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। আপনি যদি ভাবেন কিডনি ভালো রাখার জন্য কোন কোন ওষুধ খাওয়া যায়, তবে সবার আগে প্রেসার ও সুগার নিয়ন্ত্রণের ওষুধের কথাই উঠে আসবে । এই ওষুধগুলো প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া (Albuminuria) বন্ধ করে এবং ক্রিয়েটিনিন লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। নিচে এই ধরনের লাইফ-সেভিং ওষুধগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (ACE Inhibitors এবং ARBs)
কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে হাই ব্লাড প্রেসার। ব্লাড প্রেসার কমানোর জন্য ডাক্তাররা সাধারণত ACE inhibitors (যেমন- Enalapril, Ramipril) অথবা ARBs (যেমন- Losartan, Telmisartan) জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন । এই ওষুধগুলো শুধু প্রেসারই কমায় না, বরং কিডনির ভেতরে রক্ত চলাচলের চাপ কমিয়ে কিডনিকে আরাম দেয়। ফলে কিডনি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে এবং প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন লিক হওয়া বন্ধ হয়।
ডায়াবেটিসের ওষুধ (SGLT2 Inhibitors)
ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনি নষ্ট হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে SGLT2 Inhibitors (যেমন- Dapagliflozin, Empagliflozin) নামক ওষুধগুলো চিকিৎসা জগতে বিপ্লব এনেছে। এগুলো মূলত সুগারের ওষুধ হলেও, গবেষণায় দেখা গেছে এই ওষুধগুলো হার্ট এবং কিডনিকে সুরক্ষা দিতে দারুণ কাজ করে। প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দিয়ে এটি কিডনির ওপর থেকে কাজের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
ফিনেরেনোন (Finerenone)
সাম্প্রতিক সময়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) রোগীদের জন্য ফিনেরেনোন বা কেরেনডিয়া (Kerendia) নামের একটি ওষুধ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে । বিশেষ করে যাঁদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং কিডনির সমস্যা দুটোই রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি কিডনিতে প্রদাহ (Inflammation) এবং স্কারিং (দাগ হয়ে যাওয়া) প্রতিরোধ করে কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
কিডনি ভালো রাখতে কার্যকরী ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট
অ্যালোপ্যাথি ওষুধের পাশাপাশি কিডনির সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু ভিটামিন এবং সাপ্লিমেন্ট অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কিডনি দুর্বল হতে শুরু করলে শরীর নিজে থেকে অনেক জরুরি ভিটামিন তৈরি করতে পারে না। তখন বাইরে থেকে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তবে নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে কিনে না খেয়ে, ব্লাড টেস্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই এগুলো খাওয়া উচিত।
ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিট্রিয়ল
সূর্যের আলো থেকে আমরা যে ভিটামিন ডি পাই, তা সরাসরি আমাদের শরীর কাজে লাগাতে পারে না। আমাদের সুস্থ কিডনি সেই ভিটামিন ডি-কে সক্রিয় ফর্মে (Calcitriol) রূপান্তরিত করে, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে । কিডনি দুর্বল হলে ভিটামিন ডি অ্যাক্টিভ হতে পারে না, ফলে হাড় ক্ষয়ে যেতে থাকে। তাই কিডনি রোগীদের ডাক্তাররা আলাদা করে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড একটি দারুণ অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। ফিশ অয়েল বা ফ্ল্যাক্সসিড থেকে পাওয়া এই সাপ্লিমেন্ট কিডনির ভেতরের প্রদাহ বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। যাঁদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি এবং কিডনিতে প্রোটিন লিক হওয়ার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট বেশ উপকারী প্রমাণিত হয়েছে।
আয়রন এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
কিডনির একটি অন্যতম কাজ হলো ‘এরিথ্রোপোয়েটিন’ নামের হরমোন তৈরি করা, যা আমাদের শরীরে লাল রক্তকণিকা (Red blood cells) বানাতে সাহায্য করে । কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে চিকিৎসকরা আয়রন ট্যাবলেট, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স খাওয়ার পরামর্শ দেন।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় কিডনি ভালো রাখার উপায় (kidney bhalo rakhar upay)
ভারতীয় উপমহাদেশে যুগ যুগ ধরে নানা ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, আমাদের রান্নাঘরের বেশ কিছু সাধারণ মশলা এবং ভেষজ উপাদান প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীর থেকে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয় এবং কিডনির কার্যকারিতা বাড়ায়। তবে ক্রিয়েটিনিন লেভেল খুব বেশি থাকলে বা অ্যাডভান্সড স্টেজের কিডনি রোগ থাকলে আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়ার আগেও নেফ্রোলজিস্টের মত নেওয়া জরুরি।
ত্রিফলা এবং হলুদ
আমলকী, হরিতকী এবং বহেরা—এই তিন ফলের মিশ্রণকে ত্রিফলা বলা হয়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ত্রিফলা সেবন করলে কিডনি ও লিভার সুস্থ থাকে । অন্যদিকে, হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কিডনির যেকোনো ধরনের ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।
ধনে পাতা এবং ধনে বীজ
বাঙালি রান্নায় ধনে পাতা বা ধনে গুঁড়োর ব্যবহার রোজকার ব্যাপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনে পাতা প্রাকৃতিকভাবে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে । রোজকার খাবারে পরিমিত মাত্রায় ধনে ব্যবহার করলে কিডনি সুস্থ থাকে। এটি প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেও সহায়ক।
পুনর্নভা ও গোক্ষুর
আয়ুর্বেদে ‘পুনর্নভা’ নামক ভেষজটিকে কিডনির জন্য সঞ্জীবণী ধরা হয়। এটি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও ইউরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া ‘গোক্ষুর’ কিডনির পাথর গলাতে এবং প্রোস্টেটের সমস্যা দূর করতে দারুণ কাজ করে।
হোমিওপ্যাথিক মতে কিডনির ওষুধ (Homeopathic Medicine)
অনেকেই অ্যালোপ্যাথি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথির ওপর ভরসা রাখেন। ইন্টারনেটে সার্চ করলেও দেখা যায়, প্রচুর মানুষ ক্রিয়েটিনিন কমানোর জন্য হোমিও ওষুধের খোঁজ করেন । হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা মূলত রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। নিচে কিছু প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধের নাম দেওয়া হলো, যা কিডনির সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়। তবে একজন রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো খাওয়া অনুচিত।
এপিস মেল (Apis Mellifica)
কিডনির সমস্যার কারণে যখন প্রস্রাব কমে যায় এবং রোগীর হাত-পা, মুখ বা সারা শরীর ফুলে যায়, তখন ‘এপিস মেল’ নামক ওষুধটি অত্যন্ত ভালো কাজ করে । এটি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত জল বের করে দিয়ে ফোলাভাব কমায় এবং কিডনির ওপর চাপ লাঘব করে।
ইল সিরাম (Eel Serum)
যাঁদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিয়ার মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ইল সিরাম’ একটি বহুল ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ । এটি কিডনির ছাঁকনিগুলোর (নেফ্রন) কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া আটকায়।
ক্যান্থারিস (Cantharis)
প্রস্রাবের সময় জ্বালা-যন্ত্রণা, বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা এবং মূত্রনালির সংক্রমণের (UTI) ক্ষেত্রে ক্যান্থারিস খুব দ্রুত আরাম দেয়। কিডনিতে পাথর থাকলে বা সেই কারণে ব্যথা হলেও এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়।
যেসব ওষুধ কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
আমরা এতক্ষণ জানলাম কিডনি ভালো রাখার জন্য কোন কোন ওষুধ খাওয়া যায়। কিন্তু এর চেয়েও বেশি জরুরি হলো এটা জানা যে, কোন কোন ওষুধ কিডনির বারোটা বাজায় । একটু জ্বর, মাথা ব্যথা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলেই আমরা মুড়িমুড়কির মতো ওষুধ গিলে ফেলি। এই অভ্যাস অজান্তেই কিডনিকে চিরতরে বিকল করে দিতে পারে। নিচে এমন কিছু ওষুধের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো থেকে সাবধান থাকা উচিত।
ব্যথানাশক বা পেইনকিলার (NSAIDs)
ডাইক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপারক্সেন-এর মতো সাধারণ ব্যথার ওষুধগুলো (NSAIDs) কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু । এগুলো কিডনিতে রক্ত চলাচলের নালীগুলোকে সঙ্কুচিত করে দেয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পেইনকিলার খেলে সরাসরি ‘পেইনকিলার নেফ্রোপ্যাথি’ নামক রোগ হয়, যা থেকে কিডনি ফেলিওর নিশ্চিত।
অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক
পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিন গ্রুপের কিছু কড়া অ্যান্টিবায়োটিক কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে । সঠিক ডোজ এবং নির্দিষ্ট সময়কাল না মেনে যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ছাঁকনিগুলো বিষাক্ত হয়ে যায় (Nephrotoxicity)। তাই সামান্য সর্দি-কাশিতে নিজের বুদ্ধিতে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করুন।
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ (PPIs)
প্যান্টোপ্রাজল, ওমিপ্রাজল বা রাবেপ্রাজল-এর মতো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ আমরা রোজ সকালে উঠে নিয়ম করে খাই। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একটানা এই প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) জাতীয় ওষুধ খেলে ‘অ্যাকিউট ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস’ (Acute Interstitial Nephritis) হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কিডনির জন্য নিরাপদ এবং ক্ষতিকর ওষুধের তুলনামূলক তালিকা
| ওষুধের ধরন | কিডনির জন্য নিরাপদ/উপকারী (ডাক্তারের পরামর্শে) | কিডনির জন্য ক্ষতিকর/ঝুঁকিপূর্ণ (এড়িয়ে চলুন) |
| প্রেসারের ওষুধ | Losartan, Enalapril, Ramipril | প্রেসার অনিয়ন্ত্রিত ফেলে রাখা |
| ব্যথার ওষুধ | Paracetamol (প্যারাসিটামল তুলনামূলক নিরাপদ) | Diclofenac, Ibuprofen, Naproxen |
| গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ | Antacids (তবে অতিরিক্ত নয়), Famotidine | দীর্ঘদিন ধরে খাওয়া Pantoprazole, Omeprazole |
| ভিটামিন | Vitamin D, B-Complex, Iron | অতিরিক্ত Vitamin C (পাথর তৈরি করতে পারে) |
ওষুধ ছাড়া কিডনি সুস্থ রাখার কার্যকরী লাইফস্টাইল
ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে কিডনি আজীবন সুস্থ থাকে । বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্টদের মতে, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনই হলো কিডনি ভালো রাখার সেরা উপায় । আপনার যদি কিডনির কোনো রোগ না থাকে, তবে নিচের এই নিয়মগুলো মেনে চলাই যথেষ্ট।
সঠিক পরিমাণে জল পান
কিডনিকে শরীরের ডিটক্স মেশিন বলা যায়। এই মেশিনটিকে সচল রাখতে জলের বিকল্প নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস (প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লিটার) জল পান করা উচিত । পর্যাপ্ত জল পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের সব টক্সিন সহজেই বেরিয়ে যায় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
খাবারে লবণের নিয়ন্ত্রণ
কাঁচা লবণ বা প্যাকেটজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । সোডিয়াম ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির ওপর সরাসরি চাপ ফেলে। প্রতিদিন ৫ গ্রামের (এক চা চামচ) বেশি লবণ খাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। বাইরের চিপস, সস, চানাচুর বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলতে হবে।
নিয়ন্ত্রিত প্রোটিন ডায়েট
জিম করেন বা পেশি বাড়াতে চান এমন অনেকেই অতিরিক্ত প্রোটিন পাউডার বা প্রচুর পরিমাণে মাংস খান। অতিরিক্ত প্রোটিন ভাঙতে গিয়ে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয় (Hyperfiltration) । যাঁদের আগে থেকেই ক্রিয়েটিনিন বেশি, তাঁদের হাই-প্রোটিন ডায়েট সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ কিডনির জন্য আলাদা করে কোনো জাদুকরী বড়ি নেই। অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে খোঁজেন কিডনি ভালো রাখার জন্য কোন কোন ওষুধ খাওয়া যায়, কিন্তু আসল ওষুধ হলো আপনার সচেতনতা। যাঁদের প্রেসার বা সুগার আছে, তাঁদের উচিত চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ (যেমন- ACE inhibitors বা SGLT2 inhibitors) নিয়মিত খাওয়া। অন্যদিকে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছ পেইনকিলার, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জল পান, পরিমিত লবণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলেই আপনার কিডনি আজীবন আপনার সঙ্গ দেবে।











