২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫টি ধামাকা স্মার্টফোন!

Best Mobiles Under Rs 20000: বর্তমানের ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মার্টফোন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আপনি যদি নতুন ফোন কেনার কথা ভাবছেন এবং আপনার বাজেট মোটামুটি ২০ হাজার টাকার…

Soumya Chatterjee

Best Mobiles Under Rs 20000: বর্তমানের ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মার্টফোন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আপনি যদি নতুন ফোন কেনার কথা ভাবছেন এবং আপনার বাজেট মোটামুটি ২০ হাজার টাকার আশেপাশে হয়, তবে বাজারে এখন প্রচুর অপশন রয়েছে। টেকনোলজি এত দ্রুত পাল্টাচ্ছে যে, আজকাল এই বাজেটের মধ্যেও আপনি ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের কিছু ফিচার পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন কোম্পানি এমন কিছু ফোন লঞ্চ করেছে, যেগুলো ক্যামেরা, প্রসেসর এবং ব্যাটারির দিক থেকে রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তবে এত অপশনের ভিড়ে নিজের জন্য সঠিক ফোনটা বেছে নেওয়া বেশ ঝক্কির কাজ। আপনার এই সমস্যার সমাধান করতেই আজ আমরা আলোচনা করব Best Mobiles Under Rs. 20,000 in India নিয়ে। এই আর্টিকেলে আমরা বেছে নিয়েছি এমন কিছু বাছাই করা স্মার্টফোন, যেগুলো পারফরম্যান্স এবং দামের দিক থেকে সম্পূর্ণ “ভ্যালু ফর মানি”। চলুন, আর দেরি না করে দেখে নেওয়া যাক এই বাজেটের সেরা ফোনগুলো কী কী এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোনটি কেনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

২০ হাজার টাকার মধ্যে মোবাইল কেনার আগে কী কী দেখবেন?

স্মার্টফোন কেনার আগে শুধু ব্র্যান্ড বা লুক দেখলে চলে না। এর ভেতরে কী হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানা সবচেয়ে জরুরি। আপনি ফোনটি কী কাজে ব্যবহার করবেন, তার ওপর ভিত্তি করে স্পেসিফিকেশনগুলো মিলিয়ে নেওয়া উচিত। নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বলা হলো, যেগুলো যাচাই না করে ফোন কেনা মোটেও ঠিক হবে না।

প্রসেসর ও পারফরম্যান্স (Processor & Performance)

যেকোনো স্মার্টফোনের আসল ইঞ্জিন হলো তার প্রসেসর। ২০ হাজার টাকার বাজেটে এখন খুব সহজেই MediaTek Dimensity বা Snapdragon সিরিজের শক্তিশালী প্রসেসর পাওয়া যায়। আপনি যদি গেমিং করতে ভালোবাসেন বা একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ব্যবহার করেন, তবে প্রসেসরের স্পিড ভালো হওয়া বাধ্যতামূলক। অন্তত ৬ জিবি (6GB) বা ৮ জিবি (8GB) র‍্যাম আছে এমন ফোন বেছে নেবেন, যাতে কয়েক বছর পরও ফোন ল্যাগ না করে। প্রসেসর যত লেটেস্ট হবে, ফোনের ব্যাটারি লাইফ এবং সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সও ততটাই ভালো পাওয়া যাবে।

ক্যামেরা কোয়ালিটি (Camera Quality)

আজকাল ছবি তোলা বা রিলস বানানোর জন্য ভালো ক্যামেরা ছাড়া ভাবাই যায় না। এই বাজেটে সাধারণত ৫০ মেগাপিক্সেল (50MP) বা তার বেশি রেজোলিউশনের মেইন ক্যামেরা দেখা যায়। তবে শুধু মেগাপিক্সেল বেশি হলেই যে ভালো ছবি উঠবে, এমন কোনো কথা নেই। ক্যামেরায় OIS (Optical Image Stabilization) সাপোর্ট আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নেবেন। OIS থাকলে ভিডিও রেকর্ড করার সময় হাত কাঁপলেও ভিডিও একদম স্মুথ আসে। পাশাপাশি, রাতে বা কম আলোতে কেমন ছবি ওঠে, সেটাও রিভিউ দেখে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ব্যাটারি ক্যাপাসিটি এবং ফাস্ট চার্জিং (Battery & Fast Charging)

সারাদিন ইন্টারনেট করা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখার পর ফোনের চার্জ যদি ফুরিয়ে যায়, তবে সব মজাই মাটি। তাই অন্তত ৫০০০ এমএএইচ (5000mAh) ব্যাটারি আছে এমন ফোন নেওয়াই ভালো। তবে এখন বাজারে ৬০০০ বা ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোনও পাওয়া যাচ্ছে। বড় ব্যাটারির পাশাপাশি বক্সে ফাস্ট চার্জার থাকাটাও খুব দরকারি। ন্যূনতম ৩৩ ওয়াট (33W) থেকে ৪৫ ওয়াট (45W) ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকলে খুব কম সময়েই আপনার ফোন ফুল চার্জ হয়ে যাবে।

ডিসপ্লে এবং রিফ্রেশ রেট (Display & Refresh Rate)

ভিডিও দেখা বা গেম খেলার আসল মজা তো ডিসপ্লেতেই। এই বাজেটে এখন খুব সহজেই সুপার অ্যামোলেড (Super AMOLED) বা পি-ওলেড (pOLED) ডিসপ্লে পাওয়া যায়। অ্যামোলেড প্যানেলে কালার খুব সুন্দর এবং ডিপ ব্ল্যাক দেখায়। এর সাথে ১২০ হার্টজ (120Hz) রিফ্রেশ রেট থাকলে ফোন ব্যবহার করার সময় স্ক্রল করা খুব স্মুথ মনে হয়। আপনি যদি রোদের মধ্যে বেশি ফোন ব্যবহার করেন, তবে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস বা নিটস (Nits) লেভেল কতটা, সেটাও একটু খেয়াল রাখবেন।

Top 5 Best Mobiles Under Rs. 20,000 in India (2026)

বাজারে থাকা অসংখ্য মোবাইলের মধ্যে থেকে সেরা পাঁচটি ফোন বেছে নেওয়া বেশ কঠিন। তবুও, ব্যবহারকারীদের রিভিউ, এক্সপার্টদের মতামত এবং স্পেসিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে আমরা ২০২৬ সালের সেরা পাঁচটি ফোনের একটি তালিকা তৈরি করেছি। যারা Best Mobiles Under Rs. 20,000 in India খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনগুলো হতে পারে সেরা পছন্দ।

১. Realme P4 5G – সেরা গেমিং এবং পারফরম্যান্স

রিয়েলমি বরাবরই বাজেটের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য পরিচিত। Realme P4 5G ফোনটি এই বাজেটে গেমিং প্রেমীদের জন্য একটি দারুণ অপশন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে পাওয়ারফুল প্রসেসর এবং একটি দারুণ কুলিং সিস্টেম, যা টানা গেম খেললেও ফোনকে গরম হতে দেয় না। ফোনটির ডিজাইন বেশ প্রিমিয়াম এবং হাতে ধরলে বেশ হালকা মনে হয়। এর ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট যুক্ত ডিসপ্লে গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্সকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায় । আপনি যদি গেমিং এবং প্রতিদিনের রাফ ব্যবহারের জন্য একটি শক্তপোক্ত ফোন খোঁজেন, তবে এটি আপনার লিস্টে এক নম্বরে থাকতে পারে।

ফিচারের নাম বিস্তারিত বিবরণ
প্রসেসর পাওয়ারফুল গেমিং চিপসেট
ডিসপ্লে ১২০ হার্টজ ফ্লুইড ডিসপ্লে
ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর
ব্যাটারি ৫০০০ এমএএইচ, ফাস্ট চার্জিং
দাম (আনুমানিক) ১৮,৪৯৯ টাকা


২. Moto G67 Power 5G – সেরা ব্যাটারি লাইফ এবং ক্লিন UI

মটোরোলা ইদানীং বাজারে বেশ ভালো কামব্যাক করেছে। Moto G67 Power 5G ফোনটি মূলত তাদের জন্যই তৈরি, যারা চার্জিং নিয়ে বারবার ভাবতে চান না। এই ফোনে দেওয়া হয়েছে বিশাল ৭০০০ এমএএইচ (7000mAh) ব্যাটারি, যা সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে দুই দিন চলে যাবে । এর পাশাপাশি এতে রয়েছে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Android 15) অপারেটিং সিস্টেম, যা একদম ক্লিন এবং কোনো ফালতু অ্যাপ বা অ্যাডস ছাড়াই আসে । এর স্টেরিও স্পিকার এবং বড় ডিসপ্লে ভিডিও দেখার জন্য একদম পারফেক্ট।​

ফিচারের নাম বিস্তারিত বিবরণ
প্রসেসর Snapdragon 7s Gen 2
ডিসপ্লে ৬.৭ ইঞ্চি ফুল-এইচডি+ ১২০ হার্টজ
ক্যামেরা ভালো ডেলাইট ক্যামেরা, 4K ভিডিও ​
ব্যাটারি ৭০০০ এমএএইচ (7000mAh)
দাম (আনুমানিক) ১৭,৯৯৯ টাকা


৩. iQOO Z10R 5G – দুর্দান্ত কার্ভড ডিসপ্লে ও স্পিড

আইকু (iQOO) সাধারণত তাদের পারফরম্যান্স-ওরিয়েন্টেড ফোনের জন্যই বেশি বিখ্যাত। তবে iQOO Z10R 5G মডেলে তারা ডিজাইনের দিকেও বেশ নজর দিয়েছে। এতে রয়েছে একটি চমৎকার ৬.৭৭ ইঞ্চির কোয়াড-কার্ভড অ্যামোলেড (Quad-curved AMOLED) ডিসপ্লে, যা এই বাজেটে সত্যি বিরল । ফোনটি MediaTek Dimensity 7400 প্রসেসরের সাহায্যে চলে, তাই স্পিড নিয়ে আপনাকে কোনো চিন্তাই করতে হবে না । যারা মাল্টিটাস্কিং করেন এবং স্টাইলিশ দেখতে একটি ফোন চান, তাদের জন্য আইকুর এই মডেলটি একটি সলিড অপশন।​

ফিচারের নাম বিস্তারিত বিবরণ
প্রসেসর MediaTek Dimensity 7400
ডিসপ্লে ৬.৭৭ ইঞ্চি কার্ভড অ্যামোলেড, ১২০ হার্টজ ​
ক্যামেরা ডুয়াল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ
ব্যাটারি সারাদিন চলার মতো ব্যাটারি
দাম (আনুমানিক) ১৮,৯৯৯ টাকা


৪. Samsung Galaxy F36 5G – নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড ও দারুণ ক্যামেরা

যারা স্যামসাংয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং রিলায়েন্স ভালোবাসেন, তাদের জন্য Samsung Galaxy F36 5G একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে। স্যামসাংয়ের সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লের কালার কোয়ালিটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এর পাশাপাশি, এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর সফটওয়্যার আপডেট। স্যামসাং দাবি করছে যে এই ফোনে ৬ বছরের ওএস (OS) আপডেট পাওয়া যাবে, যা একে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের জন্য সেরা বানায় । যদিও প্রসেসর একটু পুরনো মনে হতে পারে, তবে প্রতিদিনের কাজ এবং সাধারণ ছবি তোলার জন্য এটি অসাধারণ পারফর্ম করে ।​

ফিচারের নাম বিস্তারিত বিবরণ
প্রসেসর স্যামসাং এক্সিনস (Samsung Exynos)
ডিসপ্লে সুপার অ্যামোলেড প্যানেল
সফটওয়্যার ৬ বছরের গ্যারান্টেড আপডেট ​
ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ
দাম (আনুমানিক) ১৭,৪৯৯ টাকা


৫. CMF Phone 2 Pro by Nothing – সেরা ইউনিক ডিজাইন

Nothing ব্যান্ডের সাব-ব্র্যান্ড CMF বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে তাদের নতুন CMF Phone 2 Pro দিয়ে। এই ফোনের ডিজাইন সম্পূর্ণ আলাদা এবং খুবই ছিমছাম । যারা ভিড়ের মধ্যে একটু ইউনিক কিছু হাতে রাখতে চান, তাদের জন্য এই ফোনটি একদম জুতসই। এই বাজেটে তারা টেলিফটো লেন্স অফার করছে, যা পোর্ট্রেট ছবি তোলার জন্য দুর্দান্ত কাজ করে । ফোনটির সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স একেবারে ক্লিন এবং স্মুথ। তাছাড়া, বক্সে এবার চার্জারও দেওয়া হচ্ছে, যা বাজেটের মধ্যে একটা বড় প্লাস পয়েন্ট।​

ফিচারের নাম বিস্তারিত বিবরণ
প্রসেসর স্টেবল ও ফাস্ট চিপসেট
ডিসপ্লে ব্রাইট ও ক্লিয়ার স্ক্রিন
ক্যামেরা টেলিফটো লেন্স যুক্ত হাই-কোয়ালিটি ক্যামেরা ​
ইউজার ইন্টারফেস নাথিং ওএস (ক্লিন এক্সপেরিয়েন্স)
দাম (আনুমানিক) ১৮,৯৯৯ টাকা ​


কোন স্মার্টফোনটি আপনার জন্য সেরা?

এবার প্রশ্ন হলো, এতগুলো অপশনের মধ্যে আপনি কোনটি কিনবেন? এর উত্তর নির্ভর করছে আপনার ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওপর। আমরা যদি Best Mobiles Under Rs. 20,000 in India-এর একটি তুলনামূলক বিচার করি, তবে কিছু বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আপনি যদি হেভি গেমার হন এবং পারফরম্যান্সে কোনো ছাড় দিতে রাজি না থাকেন, তবে চোখ বন্ধ করে Realme P4 5G অথবা iQOO Z10R 5G বেছে নিতে পারেন । অন্যদিকে, আপনার যদি সারাদিন বাইরে কাজ থাকে এবং ফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার চিন্তা থাকে, তাহলে Moto G67 Power 5G-এর ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি আপনাকে সবচেয়ে বেশি শান্তি দেবে ।

আবার, আপনি যদি ছবি তুলতে খুব ভালোবাসেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রেগুলার আপডেট দেন, তবে CMF Phone 2 Pro-এর টেলিফটো ক্যামেরা বা Samsung Galaxy F36 5G-এর ব্যালেন্সড ক্যামেরা আপনার জন্য পারফেক্ট হবে । স্যামসাংয়ের ফোনটি তাদের জন্যই সবচেয়ে ভালো, যারা একটি ফোন কিনে অন্তত ৪-৫ বছর নিশ্চিন্তে কাটাতে চান, কারণ এতে আপনি লম্বা সময়ের জন্য সফটওয়্যার আপডেট পাবেন । সুতরাং, নিজের বাজেট এবং প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলো মিলিয়ে দেখলেই আপনার জন্য সঠিক ফোনটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।​

২০ হাজার টাকার মধ্যে 5G মোবাইল: বর্তমান ট্রেন্ড

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে 4G ফোন কেনার কোনো মানেই হয় না। ভারতে এখন প্রায় সব জায়গায় 5G নেটওয়ার্ক ভালোভাবে কাজ করছে। এই নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট স্পিড যেমন বেশি, তেমনি কল ড্রপের সমস্যাও অনেক কম। তাই ফোন আপগ্রেড করার সময় 5G সাপোর্ট আছে কি না, তা অবশ্যই নিশ্চিত করবেন। আমাদের সাজেস্ট করা Best Mobiles Under Rs. 20,000 in India লিস্টের প্রতিটি ফোনই 5G সাপোর্টেড।

5G ফোন কেনার সময় শুধু 5G লেখা থাকলেই হবে না, ফোনে কতগুলো 5G ব্যান্ড (Bands) সাপোর্ট করে, সেটাও দেখা উচিত। ফোনটিতে যদি অন্তত ৮ থেকে ১০টি 5G ব্যান্ড থাকে, তবে যেকোনো নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারের সিমেই আপনি সেরা স্পিড পাবেন। আজকালকার গেম এবং অ্যাপগুলোর সাইজ দিন দিন বাড়ছে, পাশাপাশি 4K ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের চাহিদাও বাড়ছে। এই সবকিছুর জন্য 5G নেটওয়ার্কের হাই-স্পিড ডেটা এখন আর লাক্সারি নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একটি ভালো 5G ফোন কেনাই এখনকার সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ক্যামেরা লাভারদের জন্য কিছু স্পেশাল টিপস

অনেকেই শুধু মেগাপিক্সেল দেখেই ক্যামেরা জাজ করেন, যা একটি মস্ত বড় ভুল। ২০ হাজার টাকার বাজেটে এখন অনেক ফোনেই ডেডিকেটেড আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স বা ম্যাক্রো লেন্স দেওয়া থাকে। আপনি যদি ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপের ছবি তুলতে পছন্দ করেন, তবে আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স আছে এমন ফোন বেছে নেবেন। আর আগেই যেমনটা বলেছি, ভিডিও করার শখ থাকলে OIS (Optical Image Stabilization) ফিচারটি আছে কি না তা অবশ্যই চেক করবেন। OIS আপনার হাত কাঁপলেও ভিডিওকে স্থির রাখতে সাহায্য করে, যা সাধারণ EIS (Electronic Image Stabilization)-এর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

পাশাপাশি, ফোনের সেলফি ক্যামেরাও আজকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা ভিডিও কল বেশি করেন বা ভ্লগ বানান, তাদের জন্য একটি ভালো ফ্রন্ট ক্যামেরা থাকা জরুরি। আমাদের লিস্টে থাকা স্যামসাং এবং মটোরোলার ফোনগুলোতে বেশ ভালো মানের সেলফি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ন্যাচারাল স্কিন টোন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

নতুন ফোন কেনা মানেই বেশ অনেকটা টাকা বিনিয়োগ করা। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ফোনের স্পেসিফিকেশন এবং রিভিউ ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। আমরা এই আর্টিকেলে c নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং ২০২৬ সালের লেটেস্ট ও সেরা ফোনগুলোর তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। গেমিং, ক্যামেরা, ব্যাটারি নাকি ব্র্যান্ড ভ্যালু—আপনার কাছে কোনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেই অনুযায়ী ফোনটি বেছে নিন। আশা করছি এই মেগা গাইডটি পড়ে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটাই সুবিধা হবে। যদি অফার বা সেলের সময় কেনাকাটা করেন, তবে এই ফোনগুলোতেই আরও বেশ কিছুটা ডিসকাউন্ট পেয়ে যেতে পারেন।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।