বাড়ির চারদিকে গাছ লাগানো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী ঠিক দিক বেছে নিলে স্বাস্থ্য়, অর্থভাগ্য ও মানসিক শান্তির উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্রে সাধারণভাবে উত্তর ও পূর্ব দিককে বাগান ও বেশিরভাগ গাছের জন্য শুভ, উত্তর-পূর্বকে আধ্যাত্মিক ও ওষধি গাছের জন্য উপযোগী, দক্ষিণ-পূর্বকে অর্থভাগ্য ও অগ্নিতত্ত্বের গাছের জন্য, আর দক্ষিণ-পশ্চিমকে বড় ও ভারী গাছের মাধ্যমে স্থিতিশীলতার দিক হিসাবে ধরা হয়। তবে অত্যন্ত কাঁটাযুক্ত গাছ, শুকনো গাছ আর অগোছালো ঝোপঝাড় যেকোনো দিকেই কম রাখার পরামর্শই বেশি দেওয়া হয়।
বাস্তুশাস্ত্রে দিক ও গাছের মৌলিক ধারণা
বাস্তু অনুযায়ী প্রতিটি দিকের সঙ্গে নির্দিষ্ট তত্ত্ব, গ্রহ আর শক্তির সম্পর্ক আছে। গাছ কোথায় লাগাবেন, তা নির্ভর করে মূলত তিনটি বিষয়ে—
-
সূর্যালোকের পরিমাণ (সকাল/দুপুর/বিকেল)
-
দিকের বাস্তুতত্ত্ব (জল, অগ্নি, বায়ু, ভূমি ইত্যাদি)
-
গাছের প্রকৃতি (ঔষধি, ফলদ, শোভাময়, কাঁটাযুক্ত, বড় গাছ ইত্যাদি)
বাড়ির দিক অনুযায়ী গাছ লাগানোর মূল টেবিল
| দিক | প্রধান তত্ত্ব ও অর্থ | কোন গাছ ভালো | সাধারণভাবে কী এড়াবেন | সূত্র |
|---|---|---|---|---|
| উত্তর | সমৃদ্ধি, অর্থ, সুযোগ, জল-বায়ু তত্ত্ব | মানি প্ল্যান্ট, তুলসী, সবুজ পাতা-ওয়ালা শোভাময় গাছ | খুব বড় ও ভারী গাছ | |
| পূর্ব | স্বাস্থ্য, নতুন সূচনা, সূর্যোদয় | তুলসী, ছোট ফলগাছ, ফুলের গাছ, লেমন, বেল | একেবারে বিশাল গাছ, ভারী পাথরের ডেকোর | |
| উত্তর-পূর্ব | আধ্যাত্মিকতা, শান্তি, প্রার্থনা | তুলসী, কলাগাছ (অনেক মত অনুযায়ী), ঔষধি গাছ | আবর্জনা, খুব ঘন ছায়া, কাঁটাযুক্ত গাছ | |
| দক্ষিণ-পূর্ব | অগ্নিতত্ত্ব, শক্তি, অর্থভাগ্য (লক্ষ্মী/গণেশ কোণ) | মানি প্ল্যান্ট, জেড, রোজ, সূর্যালোক-প্রিয় গাছ | জলাধার, ফোয়ারা, বড় বৃক্ষ | |
| দক্ষিণ | খ্যাতি, রূপান্তর, অগ্নিতত্ত্ব | স্নেক প্ল্যান্ট, কাঁটাযুক্ত গাছ শুধু বাইরে | ঘরের ভেতর কাঁটাগাছ, শুকনো গাছ | |
| দক্ষিণ-পশ্চিম | স্থিতি, পরিবারপ্রধান, ভূমিতত্ত্ব | বড় ও ভারী ছায়াদানকারী গাছ | হালকা, ছোট, নরম পাতা-ওয়ালা গাছ বেশি সংখ্যায় | |
| পশ্চিম | সম্পর্ক, স্থায়িত্ব, ভূ-তত্ত্ব | সুগন্ধি ফুলগাছ (জুঁই, গোলাপ), মাঝারি গাছ | অতিরিক্ত কাঁটা, জঙ্গল-জাতীয় ঘন ঝোপ | |
| উত্তর-পশ্চিম | বায়ু, গতিশীলতা, পরিবর্তন | ফুলগাছ, পাখির খাবার/নেস্ট, বাচ্চাদের খেলার কোণের পাশে গাছ | অতিরিক্ত ভারী গাছ, জটলা |
পূর্ব দিক সূর্যোদয়ের দিক বলে বাস্তুশাস্ত্রে সবচেয়ে শুভগুলোর একটি, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও প্রাণশক্তির জন্য। সকালে নরম সূর্যের আলো গাছের জন্য যেমন ভালো, তেমনই ঘরে ইতিবাচক অনুভূতিও নিয়ে আসে বলে প্রচলিত ধারা।
পূর্বদিকে কোন গাছ লাগাবেন
-
তুলসী (হলি বেসিল) – আয়ুর্বেদে এর প্রায় ২০০টিরও বেশি গুণাগুণ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে; অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের জন্য এটি ঘরে রাখা বেশ জনপ্রিয়।
-
ছোট ফলগাছ – লেবু, পেয়ারা, ডালিমের মতো ছোট ফলগাছ পূর্বদিকে লাগালে শারীরিক ও আর্থিক উভয় দিকেই উন্নতি ঘটে বলে অনেকে মানেন।
-
ফুলের গাছ – গাঁদা, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা ইত্যাদি গাছ পূর্বদিকে রাখলে ভাল সূর্যালোক পায় এবং ঘরের সামনে সুন্দর এক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
পূর্বদিকে কী এড়াবেন
-
অতিরিক্ত বড় গাছ, যা সম্পূর্ণ আলো ঢেকে দেয়।
-
ভারী পাথরের গার্ডেন, রক গার্ডেন, বা খুব বড় স্ট্যাচু – এগুলো পূর্বদিককে ভারী করে তোলে বলে অনেকে নিষেধ করেন।
উত্তর দিক: অর্থভাগ্য ও কর্মসুযোগের গাছ
উত্তর দিককে বাস্তুশাস্ত্রে ধন, ব্যবসা, ও কর্মসুযোগের দিক হিসাবে ধরা হয়, এবং জল ও বায়ু তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে সবুজ, সুস্থ, পাতা-ওয়ালা গাছ অর্থ-শক্তি ও মানসিক প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
উত্তরে কোন গাছ ভালো
-
মানি প্ল্যান্ট – ২০২৫ ও ২০২৬ সালের একাধিক বাস্তু ও রিয়েল-এস্টেট গাইডে মানি প্ল্যান্টকে উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অর্থভাগ্যের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
তুলসী – উত্তর ও উত্তর-পূর্বে তুলসী রাখলে স্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিক জাগরণ বাড়ে বলে ধারণা।
-
অ্যালোভেরা ও অন্য সবুজ পাতার গাছ – অ্যালোভেরা ত্বক ও হজমের উপকারিতার জন্যই শুধু নয়, বাস্তু অনুযায়ীও উত্তর দিকে ভালো বলে কিছু বিশেষজ্ঞের মত।
উত্তরে কী এড়াবেন
-
খুব বড়, ঘন, ছায়াদানকারী গাছ; এগুলো আলো ও হাওয়া আটকে দেয় এবং অর্থপ্রবাহের প্রতীকী বাধা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
-
শুকনো বা অর্ধ-মরা গাছ; বাস্তুতে এগুলো “নেগেটিভ এনার্জি” বা স্থবিরতার প্রতীক বলে উল্লেখ আছে।
উত্তর-পূর্ব (ইশান): আধ্যাত্মিক ও পবিত্র গাছ
উত্তর-পূর্ব কোণকে বাস্তুশাস্ত্রে সবচেয়ে পবিত্র দিক বলা হয়; মন্দির, প্রার্থনাস্থল ও পানির উৎসের জন্য এই দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এখানে শান্ত, ঔষধি ও আধ্যাত্মিক অর্থবাহী গাছ লাগানো শুভ ধরা হয়।
উত্তর-পূর্বে উপযুক্ত গাছ
-
তুলসী – প্রায় সব বাস্তুগাইডই উত্তর-পূর্ব বা পূর্ব/উত্তরে তুলসী রাখার পরামর্শ দেয়।
-
কলাগাছ – কিছু আধুনিক বাস্তু বিশেষজ্ঞ কলাগাছকে উত্তর-পূর্ব বা পূর্বদিকে রাখার কথা বলেন, বিশেষত ধর্মীয় পূজার জন্য।
-
ঔষধি গাছ – পুদিনা, ধনেপাতা, লেমনগ্রাস, অজওয়াইন ইত্যাদি রান্না ও স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট গাছও এই দিকের জন্য উপযুক্ত ধরা হয়।
এই দিকের জন্য সতর্কতা
-
খুব ঘন ও বড় গাছ লাগালে আলো ও ইতিবাচক স্রোত বন্ধ হয়ে যায় বলেই বেশিরভাগ বাস্তুগাইডে সতর্ক করা হয়েছে।
-
কাঁটাযুক্ত, বিষাক্ত, বা সম্পূর্ণ শোভার জন্য কৃত্রিম গাছ এখানে রাখার প্রবণতা এড়াতে বলা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব (অগ্নি কোণ): মানি প্ল্যান্ট ও রোজ
দক্ষিণ-পূর্ব দিককে অগ্নিতত্ত্বের দিক ও একই সঙ্গে অর্থ ও শক্তির কোণ বলে ধরা হয়। রান্নাঘর, গ্যাস, ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে এই দিকের সম্পর্ক আছে বলে অনেক বাস্তুবিশেষজ্ঞ মত দেন।
দক্ষিণ-পূর্বে উপযোগী গাছ
-
মানি প্ল্যান্ট – বাস্তু ও রিয়েল এস্টেট ব্লগগুলোতে ২০২৫–২০২৬ সালের গাইডে দক্ষিণ-পূর্বকে মানি প্ল্যান্টের “ওয়েলথ কর্নার” বলা হয়েছে।
-
জেড প্ল্যান্ট – গোল, মাংসল পাতা অর্থ সঞ্চয় ও বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
-
রোজ ও সূর্যপ্রিয় ফুলগাছ – উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এমন গাছ যেমন গোলাপ, হিবিস্কাস ইত্যাদি এই দিকে ভাল মানিয়ে যায়।
দক্ষিণ-পূর্বে যা এড়াবেন
-
ফোয়ারা, পুকুর, বড় জলাধার – জলতত্ত্ব ও অগ্নিতত্ত্ব একসঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে বলে এখানে জলাধার বর্জন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
-
খুব বড় গাছ, যা অগ্নিতত্ত্বের হালকা, ঊর্ধ্বমুখী শক্তি ভারী করে ফেলে।
দক্ষিণ দিক: অগ্নি ও সুরক্ষার গাছ
দক্ষিণ দিক অগ্নি ও রূপান্তরের প্রতীক; খ্যাতি, সুনাম ও বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই দিককে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এখানে রক্ষাকবচের মতো কিছু গাছ রাখার কথা বলেন।
দক্ষিণে কোন গাছ মানায়
-
স্নেক প্ল্যান্ট – নাইট-টাইম অক্সিজেন রিলিজ ও ইনডোর এয়ার কোয়ালিটি উন্নতির জন্য এই গাছকে WHO ও বিভিন্ন ইনডোর এয়ার স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বাস্তুতে একে প্রোটেকশন ও নেগেটিভ এনার্জি শোষণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
-
কিছু কাঁটাযুক্ত গাছ শুধুই বাইরে – সাম্প্রতিক বাস্তু গাইডগুলোতে ক্যাকটাস ও অন্যান্য থর্নি প্ল্যান্টকে দক্ষিণ দিকে, তাও বাইরে রাখলে কিছুটা গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে, অন্য সব দিকের তুলনায়।
দক্ষিণ দিকের সতর্কতা
-
ঘরের ভেতরে ক্যাকটাস বা খুব কাঁটাযুক্ত গাছ না রাখাই ভালো, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ এমনই মত দিয়েছেন।
-
শুকনো ডালি, মরা গাছ, আর অযত্নে পড়ে থাকা টব দক্ষিণে রাখলে নেতিবাচকতা বাড়ে বলে ধরা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম: বড় গাছ দিয়ে স্থিতি তৈরি
দক্ষিণ-পশ্চিম কোণকে স্থিতি, নিরাপত্তা ও পরিবারপ্রধানের দিক হিসেবে ধরা হয়। এই দিককে ভারী ও স্থির রাখতে বড় ও গভীর শিকড়ওয়ালা গাছ বিশেষভাবে উপযোগী।
দক্ষিণ-পশ্চিমে উপযুক্ত গাছ
-
আম, অশ্বত্থ, বড় বট বা অন্যান্য ছায়াদানকারী গাছ – গ্রামীণ বাড়িতে প্রায়ই দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে বড় গাছ দেখা যায়, যা গরম বাতাসের আঘাত কিছুটা আটকায় ও বাস্তুর দৃষ্টিতে “প্রোটেকটিভ ওয়াল” হিসেবে কাজ করে বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
-
ঘন পাতা-ওয়ালা শোভাময় বড় গাছ – ফাইকাস, আরেক ধরনের শেড-ট্রি ইত্যাদি।
কী এড়াবেন
-
দক্ষিণ-পশ্চিমকে ফাঁকা, একেবারে গাছশূন্য না রাখাই ভালো বলা হয়; এতে ঘরের এনার্জি অস্থির থাকে বলে কিছু বাস্তুবিশেষজ্ঞ মত দেন।
-
হালকা, ছোট গাছ বেশি রাখলে এই দিকের “ভার” কমে যায় বলে অনেকে মানেন।
পশ্চিম দিক: সম্পর্ক ও সুগন্ধি ফুল
পশ্চিম দিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ও ফল ভোগের দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। সূর্য ডোবার আগে-পরে একটু তীব্র আলো পাওয়ায়, এখানে এমন গাছ লাগানো ভালো যাদের অল্প তাপ সহ্যশক্তি আছে।
পশ্চিমে কোন গাছ লাগাবেন
-
সুগন্ধি ফুলগাছ – জুঁই, রজনীগন্ধা, গোলাপ, নাইট জেসমিন ইত্যাদি গাছ পশ্চিমদিকের বাতাসে ঘরের ভেতর মিষ্টি গন্ধ নিয়ে আসে, যা মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়।
-
মাঝারি আকারের গাছ – খুব উঁচু না, আবার একেবারে মাটির সমতলেও নয়, এমন গাছ এখানে ভারসাম্য রাখে বলে ধরা হয়।
পশ্চিমদিকে সতর্কতা
-
অতিরিক্ত কাঁটাযুক্ত গাছ জঙ্গল তৈরি করলে পরিবারিক সম্পর্কেও টানাপোড়েনের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়; তাই শুধু রোজের মতো সীমিত কাঁটার গাছ রাখা ভাল।
উত্তর-পশ্চিম: গতিশীলতা ও বাতাসের গাছ
উত্তর-পশ্চিম দিক বায়ু ও গতিশীলতার প্রতীক; পরিবর্তন, ভ্রমণ, কমিউনিকেশন ইত্যাদির সঙ্গে এর যোগ দেওয়া হয়। এখানে খুব ভারী গাছ না রেখে হালকা, হাওয়ায় দুলে ওঠা গাছ রাখাই বেশি সুপারিশকৃত।
উত্তর-পশ্চিমে উপযুক্ত গাছ
-
ফুলের গাছ – ক্রস পলিনেশন বা পরাগায়নের জন্য উপযোগী বিভিন্ন ফুলগাছ এই দিকের জন্য বেশ উল্লেখযোগ্য।
-
পাখি-বান্ধব গাছ – পাখির বাসা, বার্ড ফিডার, ছোট ফল, বীজ দেয় এমন গাছ রাখলে পরিবেশগত ভারসাম্যও বজায় থাকে।
কী এড়াবেন
-
ভারী গাছ, পাথরের ভাস্কর্য, বা বড় জলাধার – এগুলো বায়ুতত্ত্বকে রুদ্ধ করে বলে অনেকে মত দেন।
ইনডোর প্ল্যান্ট: ঘরের ভেতরে কোন দিক কোন গাছ
আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে বারান্দা ও জানালার দিকটাই বাস্তবে “দিক নির্ধারণ” করে। ভারতের শহুরে ঘরে ইনডোর প্ল্যান্টের বাজার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কিছু ই-কমার্স ও হোম ডেকোর রিপোর্টে ২০২০–২০২৫ সময়ে ইনডোর প্ল্যান্ট ক্যাটাগরিতে দ্বিগুণেরও বেশি গ্রোথের কথা উল্লেখ আছে।
ইনডোরে সাধারণ বাস্তু নির্দেশ
-
পূর্ব/উত্তরের জানালার পাশে – মানি প্ল্যান্ট, তুলসী (যদি সম্ভব হয়), অ্যালোভেরা, পিস লিলি, আরেকিয়া পাম ইত্যাদি ইনডোর ফ্রেন্ডলি গাছ রাখতে পারেন।
-
দক্ষিণ/পশ্চিমের জানালার কাছে – স্নেক প্ল্যান্ট, জেড, রাবার প্ল্যান্টের মতো তুলনামূলক শক্ত গাছ, যারা একটু গরম আলো সহ্য করতে পারে।
-
শোবার ঘরে – খুব বেশি ঘ্রাণযুক্ত বা অ্যালার্জি-সৃষ্টিকারী গাছ এড়িয়ে, স্নেক প্ল্যান্ট, আরেকিয়া পাম ইত্যাদি বেছে নেওয়া হয় অনেক স্বাস্থ্য-ফোকাসড আর্টিকেলে।
ইনডোরে যেগুলো এড়ানো ভালো
-
কাঁটাযুক্ত গাছ – বাস্তুতে ঘরের ভেতরে ক্যাকটাস ও অত্যধিক কাঁটা-ওয়ালা গাছ নিষেধ।
-
শুকনো বা ভাঙা গাছ – এগুলো নেগেটিভ প্রতীক বলে ধরা হয়।
সূর্যালোক ও দিক: বাস্তুর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক মিল
বাস্তুতে উত্তর ও পূর্ব দিকে বাগান ও গাছ লাগানোর যে কথা বলা হয়, তা কৃষিবিজ্ঞানেও অনেকটা সমর্থন পায়। উত্তর গোলার্ধে (ভারত সহ) সকালে পূর্বদিকে নরম সূর্যালোক আর উত্তরদিকে তুলনামূলক ঠান্ডা আলো গাছকে কম স্ট্রেস দিয়ে ফটোসিনথেসিসে সাহায্য করে।
-
সবজি বাগান – কিছু বাগানবিদ গাইড জানায়, উত্তর–দক্ষিণ দিকে সারি করে গাছ লাগালে সূর্যালোক সব গাছে ভালভাবে পৌঁছায়, আর পূর্ব–পশ্চিম সারি একে অপরকে বেশি ছায়া দেয়।
-
হিট স্ট্রেস – দক্ষিণ ও পশ্চিমের শক্ত রোদে কিছু গাছের পাতায় সানবার্ন ও পানিশূন্যতা বাড়ে; তাই বাস্তুতে এই দিকগুলোতে শক্ত বা হিট-টলারেন্ট গাছ রাখার ধারণার সঙ্গে আধুনিক হর্টিকালচারের মিল পাওয়া যায়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী গাছ লাগানোর ডু’স অ্যান্ড ডোন’টস
যে কাজগুলো করলে ভালো
-
ঘরের সামনে বা প্রবেশপথে উত্তর/পূর্বদিকে ছোট বাগান বা টবের ব্যবস্থা রাখুন, এতে আলোক-বাতাস ও বাস্তু – দুটোই সাপোর্ট পায়।
-
উত্তর-পূর্ব কোণ যতটা সম্ভব খোলা, পরিষ্কার, ও হালকা রাখুন; এখানে তুলসী ও ছোট ঔষধি গাছ রাখলে আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
-
মানি প্ল্যান্টের মতো গাছ উত্তর বা দক্ষিণ-পূর্বে, ভালো সাপোর্ট ও পরিষ্কার জার/টবে রাখুন।
যে কাজগুলো এড়াবেন
-
বাথরুমের ভেতরে বা একেবারে অন্ধকার কোণায় গাছ রেখে “বাস্তু করেকশন” করার চেষ্টা করলে গাছই দুর্বল হয়ে যায়; আধা-ছায়া ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল জরুরি।
-
মরা গাছ, শুকনো ফুল, বা প্লাস্টিকের কৃত্রিম গাছ দীর্ঘদিন ধরে রাখলে বাস্তু ও মনস্তত্ত্ব উভয় দিক থেকেই নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয় বলে অনেক রিপোর্ট উল্লেখ করেছে।
-
ভিড় করে এক জায়গায় অতিরিক্ত টব গুঁজে রাখলে পোকা, ছত্রাক, আর বাতাসের বাধা – তিনটিই বাড়ে।
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ট্রেন্ড
-
ভারতীয় অনলাইন নার্সারি ও হোম ডেকোর প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে “ভাস্তু প্ল্যান্ট” ও “ইনডোর ভাস্তু প্ল্যান্ট” কীওয়ার্ডে সার্চ ভলিউম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে উল্লেখ আছে।
-
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপডেট হওয়া একাধিক গাইডে (যেমন Ugaoo, UrbanPlant, PlusValue, ইত্যাদি) মানি প্ল্যান্ট, তুলসী, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি, আরেকিয়া পামকে সেরা ১০ ভাস্তু প্ল্যান্টের তালিকায় বারবার দেখা যাচ্ছে।
-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন এয়ার-কোয়ালিটি স্টাডি ইনডোর গাছকে এককভাবে সমাধান না হলেও, সঠিক ভেন্টিলেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে ঘরের মানসিক স্বাস্থ্য ও “গ্রিন ভিউ”–এর মান উন্নত করতে সাহায্য করে বলে উল্লেখ করেছে।
নিজের বাড়ির দিক, আলো আর প্রয়োজন বুঝে গাছ নির্বাচন করুন
বাস্তুশাস্ত্রের মূল কথা হল, প্রাকৃতিক আলো, হাওয়া ও ভারসাম্য বজায় রেখে বাড়িতে গাছ লাগানো। উত্তর ও পূর্ব দিকে হালকা, সবুজ, ফুল ও ফলগাছ, উত্তর-পূর্বে পবিত্র ও ঔষধি গাছ, দক্ষিণ-পূর্বে মানি প্ল্যান্ট ও হিট-টলারেন্ট গাছ, আর দক্ষিণ-পশ্চিমে বড় ছায়াদানকারী গাছ রাখলে বাস্তুর বেশিরভাগ নীতি মানা হয়ে যায়। একই সঙ্গে কাঁটাযুক্ত, শুকনো বা অবহেলিত গাছ ঘরের ভিতর কমিয়ে আনলে মানসিক ও নান্দনিক দুই দিকেই বাড়ি অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। তবে বাস্তু কখনোই বৈজ্ঞানিক আলো-বাতাস, জলসেচ, মাটি বা গাছের স্বাস্থ্যবিধির বিকল্প নয়; বরং এই মৌলিক নিয়মগুলো ঠিক রেখে বাস্তুর কিছু নীতি অনুসরণ করলে অনেকের জন্য তা একটি মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত, আপনার বাড়ির প্ল্যান, মালদার আবহাওয়া, রোদ-বৃষ্টির ধরণ আর আপনার যত্ন নেওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে কোন দিকে কোন গাছ লাগাবেন, সেই সিদ্ধান্ত চিন্তা করে নিলে গাছও বাঁচবে, আর বাড়িতেও থাকবে সবুজ ইতিবাচকতার ছোঁয়া।











