BNP election manifesto 2026: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে । রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন, যেখানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে । ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয় নিয়ে প্রকাশিত এই ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি এবং ৫১টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ।
ইশতেহারের মূল ভিত্তি ও দর্শন
বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহার দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে প্রণীত হয়েছে । ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে সমুন্নত রেখে ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ।
চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিরা এই ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা এই ইশতেহারের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব প্রমাণ করে ।
৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি
১. ফ্যামিলি কার্ড চালু
প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা প্রদান করা হবে । পরিবারের প্রধান নারী সদস্যের নামে এই কার্ড নিবন্ধিত থাকবে এবং ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে ।
২. কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তা
কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণের সুবিধা পাবেন । মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন । ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে ।
৩. স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে । জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে ।
৪. শিক্ষা সংস্কার
ব্যবহারিক দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে আনন্দদায়ক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে । নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে ।
৫. যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টি
তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তি নিশ্চিত করা হবে । জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে ।
৬. ক্রীড়া উন্নয়ন
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে ।
৭. পরিবেশ সুরক্ষা
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করতে জনগণের অংশগ্রহণে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে । পাঁচ বছরে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে ।
৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি
সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে । খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে ।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে ।
ইশতেহারের পাঁচটি অধ্যায়
প্রথম অধ্যায়: রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার
প্রথম অধ্যায়ে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সাংবিধানিক সংস্কার ও জাতি গঠন এবং সুশাসনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে । দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা, আইনের শাসন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ।
মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হবে । জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নিজ এলাকায় সরকারি স্থাপনার নামকরণ এবং আহত ও পঙ্গুদের উন্নত চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা হবে ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সামাজিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে । দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা, সারাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।
শ্রমিক ও কর্মীদের কল্যাণ, প্রবাসী কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার, সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পানি সম্পদ পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।
তৃতীয় অধ্যায়: অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে । অর্থনীতিতে গণতন্ত্র ফেরাতে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে ।
বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে । ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) এবং স্টার্টআপ খাতে গ্যারান্টি স্কিম, ক্যাশ-ফ্লো ভিত্তিক ঋণ, ক্রাউডফান্ডিং ও বীমা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে ।
ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, বাণিজ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ, শিল্প, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, সেবা খাতের সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবহন অবকাঠামো এবং নীল ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটানো হবে ।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২৫,০০০ সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হবে । তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ।
চতুর্থ অধ্যায়: সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন
চতুর্থ অধ্যায়ে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে । চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন, হাওর ও বাঁওড় এলাকার উন্নয়ন, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, নগরায়ণ ও আবাসন, পর্যটন এবং ঢাকাকে নিরাপদ ও টেকসই শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে ঘিরে সমন্বিত লজিস্টিক হাব প্রতিষ্ঠা করা হবে । ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিপরীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা মেগা প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে ।
পঞ্চম অধ্যায়: ধর্ম, সমাজ ও জাতীয় ঐক্য
পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও জাতীয় সংহতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, পাহাড়ি ও সমতলের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধান, ক্রীড়ার উন্নয়ন, গণমাধ্যম শক্তিশালীকরণ, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসার এবং নৈতিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে ।
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে বিএনপি, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজের ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন । গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে ।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি
| খাত | প্রতিশ্রুতি | লক্ষ্যমাত্রা/বিবরণ |
|---|---|---|
| পরিবার সহায়তা | ফ্যামিলি কার্ড | মাসিক ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের পণ্য |
| কৃষি ঋণ মওকুফ | কৃষক সহায়তা | ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ |
| স্বাস্থ্যকর্মী | নিয়োগ | ১,০০,০০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ |
| অর্থনীতি | লক্ষ্যমাত্রা | ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি |
| বৈদেশিক বিনিয়োগ | FDI | জিডিপির ২.৫% |
| বৃক্ষরোপণ | পরিবেশ | পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ |
| নদী খনন | জলবায়ু সহনশীলতা | ২০,০০০ কিমি নদী ও খাল খনন |
| বিদ্যুৎ উৎপাদন | জ্বালানি | ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫,০০০ মেগাওয়াট |
| আইসিটি কর্মসংস্থান | প্রযুক্তি | ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান |
বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শনও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ । বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে । সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে ।
সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হবে । আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে ।
রাজস্ব ও সুশাসন
কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে । দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রিয়েল টাইম অডিট, পারফরম্যান্স অডিট এবং সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে ।
অর্থপাচার রোধ এবং ফ্যাসিবাদী আমলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে । পুঁজিবাজারে গত ১৫ বছরে সংঘটিত অনিয়মের তদন্তে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে ।
জাতীয় সমঝোতা ও সংস্কার
জাতি গঠনে ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করা হবে । নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে ।
ফ্যাসিবাদ ও বিদেশি তাঁবেদারিত্বের কোনো পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না এবং সমাজের সব স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে ।
স্থানীয় সরকার ক্ষমতায়ন
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী করা হবে । স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত করা হবে । উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে উন্মুক্ত জনসভার আয়োজন এবং বিলবোর্ডে তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে ।
বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার একটি ব্যাপক ও সমন্বিত দলিল, যা রাষ্ট্রীয় সংস্কার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। ৫১ দফার এই ইশতেহার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরাসরি সহায়তা কর্মসূচি, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মতো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি এই ইশতেহারকে বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই ইশতেহার দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সমতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প তুলে ধরেছে।











