২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান রুটগুলির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য দেখা গেছে। OAG-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ দশটি ব্যস্ততম রুটের মধ্যে নয়টিই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবস্থিত, যা এই অঞ্চলের উচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্ব, ঘন ঘন ফ্লাইট সময়সূচি এবং স্বল্প-দূরত্বের ভ্রমণের ক্রমাগত চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু থেকে সিউল গিম্পো রুটটি পুনরায় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমান রুট হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে ২০২৫ সালে ১৪.৪ মিলিয়ন নির্ধারিত আসন ছিল। এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৯,০০০ আসনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সাতটি এয়ারলাইন্স এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক রুটে পরিষেবা প্রদান করে।
বিশ্বের শীর্ষ দশ ব্যস্ততম ফ্লাইট রুট
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শর্ট-হল ডোমেস্টিক রুটগুলি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই রুটগুলি উচ্চ-ঘনত্বের শহর সংযোগ, ঘন ঘন ফ্লাইট সময়সূচি এবং স্বল্প-দূরত্বের ভ্রমণের জন্য ক্রমাগত চাহিদা প্রদর্শন করে। ২০২৫ সালের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এই অঞ্চলের বিমান ভ্রমণ শিল্প COVID-19 মহামারীর পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার গতি প্রদর্শন করেছে।
জেজু-সিউল গিম্পো: বিশ্বের শীর্ষ রুট
দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে সিউল গিম্পো রুটটি ২০২৫ সালে ১৪.৩৮ মিলিয়ন নির্ধারিত আসন নিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এই মাত্র ৪৫০ কিলোমিটারের রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৯,০০০ যাত্রী ভ্রমণ করেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই রুটে ক্ষমতা ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিমান ভাড়া ১১ শতাংশ কমেছে। যদিও এটি এখনও ২০১৯ সালের স্তর থেকে ১৭ শতাংশ কম, তবুও এটি একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক রুট যেখানে সাতটি বিমান সংস্থা পরিষেবা প্রদান করে।
জাপানের ডোমেস্টিক রুটগুলির শক্তিশালী উপস্থিতি
জাপানের ডোমেস্টিক রুটগুলি শীর্ষ দশে তিনটি স্থান দখল করেছে। স্যাপোরো নিউ চিতোসে থেকে টোকিও হানেদা রুটটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে ১২.১ মিলিয়ন আসন ছিল। এটি বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং COVID-19 থেকে প্রায় সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রতিনিধিত্ব করে। ফুকুওকা থেকে টোকিও হানেদা রুটটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে ১১.৫ মিলিয়ন আসন নিয়ে, যখন টোকিও হানেদা থেকে ওকিনাওয়া নাহা রুটটি সপ্তম স্থানে রয়েছে ৮.০৫ মিলিয়ন আসন নিয়ে। টোকিও হানেদা বিমানবন্দরটি শীর্ষ দশে সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত বিমানবন্দর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ভিয়েতনাম এবং সৌদি আরবের অবদান
ভিয়েতনামের হ্যানয় থেকে হো চি মিন সিটি রুটটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে ১১.০৮ মিলিয়ন আসন নিয়ে। এটি ভিয়েতনামের দুটি বৃহত্তম শহরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে। সৌদি আরবের জেদ্দাহ থেকে রিয়াদ রুটটি পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং এটি শীর্ষ দশে এশিয়া-প্যাসিফিকের বাইরে একমাত্র রুট। এই রুটে ২০২৫ সালে ৯.৮২ মিলিয়ন আসন ছিল, যা বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শীর্ষ দশে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল রুট।
বিস্তারিত তথ্য: শীর্ষ দশ ব্যস্ততম ডোমেস্টিক রুট
| ক্রম | রুট | ২০২৫ সালে নির্ধারিত আসন |
|---|---|---|
| ১ | জেজু ইন্টারন্যাশনাল – সিউল গিম্পো | ১৪,৩৮৪,৭৬৬ |
| ২ | স্যাপোরো নিউ চিতোসে – টোকিও হানেদা | ১২,০৯৯,৪৯৯ |
| ৩ | ফুকুওকা – টোকিও হানেদা | ১১,৪৯৬,৭০৬ |
| ৪ | হ্যানয় – হো চি মিন সিটি | ১১,০৭৮,৭৭৫ |
| ৫ | জেদ্দাহ – রিয়াদ | ৯,৮১৯,৫৫৮ |
| ৬ | মেলবোর্ন – সিডনি | ৮,৯৫১,৪৯৭ |
| ৭ | টোকিও হানেদা – ওকিনাওয়া নাহা | ৮,০৫২,৮৬৪ |
| ৮ | মুম্বাই – দিল্লি | ৭,৬৪২,০১৬ |
| ৯ | বেইজিং – সাংহাই হংকিয়াও | ৭,৪৫৪,৯৫০ |
| ১০ | সাংহাই হংকিয়াও – শেনজেন | ৭,১৩৮,৬৭৩ |
আন্তর্জাতিক রুটের বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটের ক্ষেত্রে, হংকং থেকে তাইপে রুটটি টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম ক্রস-বর্ডার রুট হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এই রুটে ২০২৫ সালে ৬.৮৩ মিলিয়ন নির্ধারিত আসন ছিল, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি, তবে এটি এখনও ২০১৯ সালের স্তর থেকে ১৪ শতাংশ কম। এই রুটে সাতটি বিমান সংস্থা পরিচালনা করে এবং গড় ভাড়া $১১৫, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।
শীর্ষ আন্তর্জাতিক রুটগুলির তালিকা
মধ্যপ্রাচ্যের কায়রো-জেদ্দাহ এবং দুবাই-রিয়াদ রুটগুলি শীর্ষ দশ আন্তর্জাতিক রুটে স্থান পেয়েছে। কায়রো থেকে জেদ্দাহ রুটটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৫.৭৫ মিলিয়ন আসন নিয়ে। কুয়ালালামপুর থেকে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি রুটটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৫.৫৭ মিলিয়ন আসন নিয়ে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রুটগুলি শীর্ষ দশ আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে সাতটি স্থান দখল করেছে।
ইউরোপ-উত্তর আমেরিকা সংযোগ
নিউইয়র্ক JFK থেকে লন্ডন হিথ্রো রুটটি শীর্ষ দশ আন্তর্জাতিক রুটে স্থান পেয়েছে ৪.০ মিলিয়ন আসন নিয়ে। এই রুটে ক্ষমতা ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য ১ শতাংশ কম, তবে ২০১৯ সালের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। এই রুটে পাঁচটি বিমান সংস্থা পরিচালনা করে এবং শীর্ষ দশে সর্বোচ্চ একমুখী ইকোনমি ভাড়া রয়েছে $৫৮৫, যা বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষণ: প্রধান বাজারগুলির অন্তর্দৃষ্টি
চীনের ডোমেস্টিক বিমান ভ্রমণ
চীনের সবচেয়ে ব্যস্ত ডোমেস্টিক রুট ২০২৫ সালে বেইজিং পেকিং থেকে সাংহাই হংকিয়াও, যেখানে ৭.৫ মিলিয়ন আসন রয়েছে। যদিও রুটটি তার শীর্ষ র্যাঙ্কিং বজায় রেখেছে, ক্ষমতা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০১৯ সালের স্তর থেকে ৮ শতাংশ কম রয়েছে। সাংহাই হংকিয়াও থেকে শেনজেন রুটটি দশম স্থানে রয়েছে ৭.১৪ মিলিয়ন আসন নিয়ে, যা চীনের ডোমেস্টিক বিমান ভ্রমণের গুরুত্ব প্রদর্শন করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রুটগুলি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যস্ত ডোমেস্টিক রুট হল নিউইয়র্ক JFK থেকে লস এঞ্জেলেস, যেখানে ৩.৪ মিলিয়ন আসন রয়েছে। ক্ষমতা ২০২৪ সালের তুলনায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এটি ২০১৯ সালের স্তর থেকে ২০ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক লা গার্ডিয়া থেকে শিকাগো ও’হেয়ার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৩.৩ মিলিয়ন আসন নিয়ে, যা বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
ডেনভার-ফিনিক্স করিডোর
ডেনভার থেকে ফিনিক্স করিডোরটি ৩.১ মিলিয়ন আসন নিয়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ৩ শতাংশ কম কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ২৩ শতাংশ বেশি। এর বিপরীতে, হনলুলু থেকে কাহুলুই রুট, যা ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যস্ততম ডোমেস্টিক রুট ছিল, সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে, ২০২৫ সালে ৩.০ মিলিয়ন আসন পরিচালনা করছে, যা বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ হ্রাস।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন-সিডনি রুট
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে সিডনি রুটটি বিশ্বের শীর্ষ দশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে, যেখানে ৮.৯৫ মিলিয়ন নির্ধারিত আসন রয়েছে। এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শীর্ষ দশে অবস্থানকারী নয়টি রুটের একটি এবং এই অঞ্চলের শক্তিশালী ডোমেস্টিক বিমান ভ্রমণ চাহিদা প্রদর্শন করে।
ভারতের মুম্বাই-দিল্লি করিডোর
ভারতের মুম্বাই থেকে দিল্লি রুটটি অষ্টম স্থানে রয়েছে ৭.৬৪ মিলিয়ন আসন নিয়ে। এই রুটটি ভারতের দুটি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান ভ্রমণ বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ডোমেস্টিক বিমান ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রতিফলিত করে।
মূল্য প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব
ভাড়া পরিবর্তনের বিশ্লেষণ
বিভিন্ন রুটে বিমান ভাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য প্রদর্শন করেছে। জেদ্দাহ-রিয়াদ রুটে গড় ইকোনমি বিমান ভাড়া বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $৯৫ একমুখী হয়েছে, যা সৌদি আরবে সামগ্রিক ডোমেস্টিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এখন ২০১৯ সালের স্তর থেকে ২২ শতাংশ বেশি। এই রুটে মাত্র তিনটি এয়ারলাইন্স পরিচালনা করে, যা সীমিত প্রতিযোগিতা এবং উচ্চতর মূল্য নির্ধারণের একটি কারণ।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারের গতিশীলতা
জেজু-সিউল রুটে প্রতিযোগিতা তীব্র, সাতটি বিমান সংস্থা পরিষেবা প্রদান করে, যার ফলে বিমান ভাড়া ১১ শতাংশ কমেছে। এটি একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য যেখানে বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে মূল্য হ্রাস করে। হংকং-তাইপে রুটেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে।
COVID-19 থেকে পুনরুদ্ধার: একটি তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
বৈশ্বিক বিমান শিল্প ২০২৫ সালে COVID-19 মহামারীর প্রভাব থেকে অসম পুনরুদ্ধার প্রদর্শন করেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ রুট ২০১৯ সালের প্রাক-মহামারী স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে বা অতিক্রম করেছে। জেদ্দাহ-রিয়াদ রুট ২০১৯ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ উপরে রয়েছে, যখন ডেনভার-ফিনিক্স রুট ২৩ শতাংশ বেশি।
তবে, কিছু রুট এখনও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। জেজু-সিউল রুট এখনও ২০১৯ সালের স্তর থেকে ১৭ শতাংশ কম, যখন হংকং-তাইপে রুট ১৪ শতাংশ কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রুটগুলিও সাধারণত প্রাক-মহামারী স্তরের নিচে রয়েছে, নিউইয়র্ক JFK-লস এঞ্জেলেস রুট ২০১৯ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ কম এবং লস এঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো রুট ৩০ শতাংশ কম।
এশিয়া-প্যাসিফিক আধিপত্যের কারণ
উচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্ব এবং শহুরে কেন্দ্র
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলির অনেকগুলি রয়েছে, যা স্বল্প-দূরত্বের বিমান ভ্রমণের জন্য প্রচুর চাহিদা তৈরি করে। টোকিও, সিউল, সাংহাই, মুম্বাই এবং সিডনির মতো শহরগুলি মিলিয়ন মিলিয়ন যাত্রীর জন্য প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই শহরগুলির মধ্যে সংযোগ ঘন ঘন ফ্লাইট সময়সূচি এবং উচ্চ আসন ক্ষমতা প্রয়োজন।
পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ
এই অঞ্চলটি শক্তিশালী পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ খাত থেকে উপকৃত হয়। জেজু দ্বীপ দক্ষিণ কোরিয়ানদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, যখন টোকিও জাপানের ব্যবসায়িক এবং সরকারী কেন্দ্র। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিও আন্তর্জাতিক এবং ডোমেস্টিক পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সাশ্রয়ী বিমান সংস্থাগুলির বৃদ্ধি
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লো-কস্ট ক্যারিয়ারগুলির দ্রুত বৃদ্ধি বিমান ভ্রমণকে আরও বেশি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলেছে। এই এয়ারলাইন্সগুলি ঘন ঘন ফ্লাইট এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য প্রদান করে, যা চাহিদা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। জেজু এয়ার, যা দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম লো-কস্ট ক্যারিয়ার, ২০২৫ সালে তার জাপান রুটে ৪ মিলিয়নের বেশি যাত্রী বহন করেছে।
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
এই অঞ্চলের অনেক দেশ দ্বীপ বা উপদ্বীপীয় ভূগোল দ্বারা চিহ্নিত, যা বিমান ভ্রমণকে প্রয়োজনীয় করে তোলে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিতে, দূরত্ব এবং ভূগোল শহরগুলির মধ্যে দ্রুত সংযোগের জন্য বিমান ভ্রমণকে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকার পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে বিমান ভ্রমণ শক্তিশালী পুনরুদ্ধার এবং বৃদ্ধির গতি প্রদর্শন করেছে। জেদ্দাহ-রিয়াদ রুট শীর্ষ দশে শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের রুট হিসেবে স্থান পেয়েছে এবং সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধিশীল। সৌদি আরব তার পর্যটন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমান সংযোগ সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে।
উত্তর আমেরিকার ধীর পুনরুদ্ধার
উত্তর আমেরিকার বিমান ভ্রমণ বাজার ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার করছে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-টরন্টো রুট উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ব্যস্ত ডোমেস্টিক রুট ৩.৬৫ মিলিয়ন আসন নিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রুটগুলি সাধারণত ২০১৯ সালের স্তরের নিচে রয়েছে, যদিও বছরের তুলনায় বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা এবং পূর্বাভাস
বিমান শিল্পের বিশেষজ্ঞরা আগামী বছরগুলিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আধিপত্য অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী, বর্ধিত আয় এবং বিমান ভ্রমণের সাশ্রয়ীকরণ চাহিদা বৃদ্ধি চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীন এবং ভারতের মতো বড় বাজারগুলি বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রদর্শন করে।
মধ্যপ্রাচ্যেও শক্তিশালী বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেখানে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো বিনিয়োগ হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারগুলি আরও পরিপক্ক এবং ধীরগতিতে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
পরিবেশগত বিবেচনা এবং স্থায়িত্ব
বিমান ভ্রমণের বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলি আরও জ্বালানী-দক্ষ বিমান গ্রহণ করছে, টেকসই বিমান জ্বালানী অন্বেষণ করছে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শর্ট-হল রুটগুলি, যা শীর্ষ দশে প্রাধান্য পায়, স্থায়িত্ব লক্ষ্যগুলির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই উপস্থাপন করে।
২০২৫ সালের তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের বিমান ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, শীর্ষ দশ ব্যস্ততম রুটের মধ্যে নয়টি এই অঞ্চলে অবস্থিত। জেজু-সিউল গিম্পো রুট ১৪.৪ মিলিয়ন আসন নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যা অঞ্চলের শক্তিশালী ডোমেস্টিক বিমান ভ্রমণ চাহিদা প্রতিফলিত করে। জাপান, ভিয়েতনাম, চীন এবং ভারতের রুটগুলি শীর্ষ দশে স্থান পেয়ে এই অঞ্চলের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে। সৌদি আরবের জেদ্দাহ-রিয়াদ রুট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে একমাত্র ব্যতিক্রম, যা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে দ্রুততম বর্ধনশীল শীর্ষ দশ রুট। এই প্রবণতাগুলি উচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্ব, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী, শক্তিশালী পর্যটন খাত এবং সাশ্রয়ী বিমান সংস্থাগুলির সম্প্রসারণ দ্বারা চালিত। COVID-19 থেকে পুনরুদ্ধার অঞ্চল এবং রুট জুড়ে অসম, এশিয়া সাধারণত শক্তিশালী পুনরুদ্ধার প্রদর্শন করে। আগামী বছরগুলিতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণে তার নেতৃত্ব বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।











