Cancer Vaccines in India 2026: ভারতে বর্তমানে দুই ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা পাওয়া যায় – এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা যা সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং হেপাটাইটিস বি টিকা যা লিভার ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়। দেশীয় উৎপাদিত সার্ভাভ্যাক টিকার আবির্ভাবের ফলে এখন প্রতি ডোজ মাত্র ₹২,০০০-₹৪,০০০ খরচে এই জীবনরক্ষাকারী টিকা পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির দাম ₹৩,০০০ থেকে ₹১০,৮৫০ পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য দুই ডোজ এবং ১৫-৪৫ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য তিন ডোজ এইচপিভি টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভারতে উপলব্ধ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাসমূহ
ক্যানসার একটি ভয়ংকর রোগ যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের জীবন কেড়ে নেয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন কিছু ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে টিকার মাধ্যমে। ভারতে প্রধানত দুই ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা বাজারে পাওয়া যায় – এইচপিভি টিকা এবং হেপাটাইটিস বি টিকা। এই টিকাগুলি যথাক্রমে সার্ভিকাল ক্যানসার এবং লিভার ক্যানসার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
সার্ভিকাল ক্যানসার ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ক্যানসার এবং প্রতি বছর প্রায় ৭৫,০০০ মহিলার মৃত্যু ঘটায় এই রোগে। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের ফলে এই ক্যানসার হয়, যা টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। অন্যদিকে, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লিভারে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ ঘটিয়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা থেকেও টিকা দিয়ে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এইচপিভি টিকাসমূহ: সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার
ভারতে বর্তমানে চার ধরনের এইচপিভি টিকা উপলব্ধ রয়েছে, যার মধ্যে একটি দেশীয় উৎপাদিত এবং তিনটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। এই টিকাগুলি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে যা সার্ভিকাল ক্যানসার, ভালভার ক্যানসার, ভ্যাজাইনাল ক্যানসার, অ্যানাল ক্যানসার এবং জেনিটাল ওয়ার্টস সৃষ্টি করে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই টিকাগুলি মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের জন্যই কার্যকর।
গার্ডাসিল ৯ হল সবচেয়ে ব্যাপক সুরক্ষা প্রদানকারী টিকা যা নয়টি এইচপিভি স্ট্রেইন (৬, ১১, ১৬, ১৮, ৩১, ৩৩, ৪৫, ৫২, এবং ৫৮) থেকে রক্ষা করে। এই টিকাটি ৯-৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত এবং প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ₹৯,০০০-₹১০,৮৫০। যদিও এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল, তবে এটি সর্বাধিক সংখ্যক এইচপিভি স্ট্রেইন থেকে সুরক্ষা দেয়।
গার্ডাসিল ৪ চারটি এইচপিভি স্ট্রেইন (৬, ১১, ১৬, এবং ১৮) থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং ২০০৮ সাল থেকে ভারতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ৯-২৬ বছর বয়সীদের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং প্রতি ডোজের দাম ₹২,০০০-₹৪,০০০। এই টিকাটি সার্ভিকাল ক্যানসার এবং জেনিটাল ওয়ার্টস উভয় থেকেই সুরক্ষা দেয়।
সার্ভারিক্স দুটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভি স্ট্রেইন (১৬ এবং ১৮) থেকে সুরক্ষা দেয় যা সার্ভিকাল ক্যানসারের প্রায় ৭০% ক্ষেত্রের জন্য দায়ী। ৯-২৫ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদিত এই টিকার প্রতি ডোজের মূল্য ₹৩,০০০-₹৩,৫০০। যদিও এটি জেনিটাল ওয়ার্টস থেকে সুরক্ষা দেয় না, তবে সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
সার্ভাভ্যাক হল ভারতে তৈরি প্রথম এইচপিভি টিকা, যা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক উৎপাদিত। এটি এইচপিভি স্ট্রেইন ১৬ এবং ১৮ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ৯-২৬ বছর বয়সী মেয়ে ও ছেলে উভয়ের জন্য অনুমোদিত। দুই ডোজ ভায়াল মাত্র ₹৪,০০০ টাকায় পাওয়া যায়, অর্থাৎ প্রতি ডোজ মাত্র ₹২,০০০, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। এই টিকার আবির্ভাব ভারতে সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে।
হেপাটাইটিস বি টিকা: লিভার ক্যানসার প্রতিরোধ
হেপাটাইটিস বি একটি গুরুতর লিভার সংক্রমণ যা দীর্ঘমেয়াদী লিভার রোগ, লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে। হেপাটাইটিস বি টিকা এই মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। ভারত সরকারের ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম (ইউআইপি) এর অংশ হিসেবে শিশুদের জন্য এই টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
ভারতে হেপাটাইটিস বি টিকার খরচ সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভিন্ন। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুদের জন্য এই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়, যখন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি ডোজ ₹৫০-₹২০০ খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রতি ডোজের মূল্য ₹৩০০-₹১,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে ব্র্যান্ড এবং হাসপাতাল চার্জের উপর নির্ভর করে। এনজেরিক্স-বি, জেনেভ্যাক বি, রেভ্যাক-বি, হেভ্যাক-বি ইত্যাদি কিছু পরিচিত ব্র্যান্ড ভারতে উপলব্ধ।
ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সুপারিশ অনুযায়ী শিশুদের জন্য হেপাটাইটিস বি টিকা জন্মের পরপরই, ৬ সপ্তাহ বয়সে এবং ৬ মাস বয়সে দেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও যারা আগে এই টিকা নেননি, তাদের তিন ডোজ টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স এবং ডোজ সিডিউল
এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়ার সঠিক বয়স এবং সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ টিকার কার্যকারিতা এবং ডোজের সংখ্যা বয়সের উপর নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারতীয় চিকিৎসা সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট বয়স গ্রুপের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা প্রদান করেছে।
এইচপিভি টিকার বয়স ও ডোজ নির্দেশিকা
৯-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য এইচপিভি টিকার সবচেয়ে আদর্শ সময় এই বয়স, কারণ এই বয়সে টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করে। এই বয়স গ্রুপের জন্য মাত্র দুই ডোজ টিকা প্রয়োজন, যার মধ্যে প্রথম ডোজের ৬-১২ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এই বয়সে টিকা দেওয়া সবচেয়ে ফলপ্রসূ কারণ এইচপিভি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়।
১৫-২৬ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৫-৪৫ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য যারা ছোট বয়সে টিকা নেননি, তাদের জন্য ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন উপলব্ধ। এই বয়স গ্রুপের জন্য তিন ডোজ টিকা প্রয়োজন – প্রথম ডোজ, এর ১-২ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের ৬ মাস পর তৃতীয় ডোজ। যদিও এই বয়সে কেউ ইতোমধ্যে এইচপিভি ভাইরাসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন, তবুও টিকা অন্যান্য এইচপিভি স্ট্রেইন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং সার্ভিকাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
ক্যান্সার, এইচআইভি বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য বয়স নির্বিশেষে তিন ডোজ টিকা প্রয়োজন। এই বিশেষ গ্রুপের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকার সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।
হেপাটাইটিস বি টিকার বয়স ও ডোজ নির্দেশিকা
নবজাতক ও শিশুদের জন্য হেপাটাইটিস বি টিকা জন্মের পরপরই প্রথম ডোজ দেওয়া হয়, এরপর ৬ সপ্তাহ বয়সে দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ মাস বয়সে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ভারত সরকারের ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত থাকায় সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যারা শৈশবে হেপাটাইটিস বি টিকা পাননি বা যারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন (স্বাস্থ্যকর্মী, একাধিক যৌন সঙ্গী আছে এমন ব্যক্তি, ডায়ালাইসিস রোগী), তাদের তিন ডোজ টিকা নেওয়া উচিত। প্রথম ডোজের ১ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ মাস পর তৃতীয় ডোজ দিতে হয়।
ভারতে ক্যানসার টিকার খরচ: বিস্তারিত তথ্য
ক্যানসার প্রতিরোধী টিকার খরচ ব্র্যান্ড, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং ভৌগোলিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। তবে সরকারি উদ্যোগ এবং দেশীয় টিকা উৎপাদনের ফলে এই টিকাগুলি এখন আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
এইচপিভি টিকার খরচ তুলনা
| টিকার নাম | সুরক্ষা (এইচপিভি স্ট্রেইন) | প্রতি ডোজ খরচ (₹) | অনুমোদিত বয়স | ডোজ সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|
| গার্ডাসিল ৯ | ৯টি স্ট্রেইন (৬, ১১, ১৬, ১৮, ৩১, ৩৩, ৪৫, ৫২, ৫৮) | ৯,০০০-১০,৮৫০ | ৯-৪৫ বছর | ২ বা ৩ |
| গার্ডাসিল ৪ | ৪টি স্ট্রেইন (৬, ১১, ১৬, ১৮) | ২,০০০-৪,০০০ | ৯-২৬ বছর | ২ বা ৩ |
| সার্ভারিক্স | ২টি স্ট্রেইন (১৬, ১৮) | ৩,০০০-৩,৫০০ | ৯-২৫ বছর | ২ বা ৩ |
| সার্ভাভ্যাক | ২টি স্ট্রেইন (১৬, ১৮) | ২,০০০-৪,০০০ | ৯-২৬ বছর | ২ বা ৩ |
৯-১৪ বছর বয়সীদের জন্য মাত্র দুই ডোজ প্রয়োজন হওয়ায় মোট খরচ কম হয়। উদাহরণস্বরূপ, সার্ভাভ্যাক টিকা নিলে মোট খরচ হবে ₹৪,০০০-₹৮,০০০ (দুই ডোজ), যা গার্ডাসিল ৯ এর মোট খরচ ₹১৮,০০০-২১,৭০০ (দুই ডোজ) এর তুলনায় অনেক কম। ১৫ বছরের উপরে তিন ডোজ প্রয়োজন হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে যায়।
হেপাটাইটিস বি টিকার খরচ
হেপাটাইটিস বি টিকার খরচ সরকারি এবং বেসরকারি খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য এই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি ডোজ ₹৫০-₹২০০ খরচ হতে পারে। তিন ডোজের জন্য মোট খরচ হবে ₹১৫০-₹৬০০।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রতি ডোজের মূল্য ₹৩০০-₹১,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে, যা ব্র্যান্ড এবং হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। তিন ডোজের জন্য মোট খরচ হবে ₹৯০০-₹৪,৫০০। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে রয়েছে এনজেরিক্স-বি, জেনেভ্যাক বি, রেভ্যাক-বি এবং হেভ্যাক-বি।
ভারতে সরকারি বিনামূল্য এইচপিভি টিকা কর্মসূচি
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা কর্মসূচি চালু করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। এই কর্মসূচিগুলি প্রধানত স্কুলগামী মেয়েদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় এবং সাশ্রয়ী দেশীয় সার্ভাভ্যাক টিকা ব্যবহার করা হয়।
তামিলনাড়ু ভারতের প্রথম রাজ্য হয়ে উঠেছে যেখানে ১৪ বছর পর্যন্ত বয়সী সব মেয়েকে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এই উদ্যোগের জন্য প্রায় ₹৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই কর্মসূচি সরকারি স্বাস্থ্য সুবিধা এবং আউটরিচ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সচেতনতা এবং অভিভাবকদের সম্মতি অর্জনের জন্য বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৭৫,০০০ জীবন বাঁচানো সম্ভব।
মহারাষ্ট্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা প্রদান শুরু করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ স্কুল-ভিত্তিক টিকাকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
সিকিম ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে সার্ভিকাল ক্যানসার টিকা এবং ৩০-৬৫ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্ক্রিনিং সেবা প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এই যুগান্তকারী উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন যা রাজ্যকে সার্ভিকাল ক্যানসার মুক্ত করতে সাহায্য করবে।
এই রাজ্যগুলি ছাড়াও অন্যান্য রাজ্যে পাইলট প্রোগ্রাম এবং এনজিও-পরিচালিত ক্যান্সার সচেতনতা শিবিরে বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে টিকা পাওয়া যেতে পারে। তবে এখনও সারা ভারতে একটি সর্বজনীন বিনামূল্য এইচপিভি টিকা কর্মসূচি চালু হয়নি, যদিও বিশেষজ্ঞরা এই টিকাকে জাতীয় টিকাকরণ সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করছেন।
সার্ভাভ্যাক: ভারতের প্রথম দেশীয় এইচপিভি টিকা
সার্ভাভ্যাক টিকা ভারতে সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধের ইতিহাসে একটি বিপ্লবী অর্জন। সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজি, নয়াদিল্লির যৌথ প্রচেষ্টায় উন্নত এই টিকা ২০২২ সালে বাজারে আসে এবং দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে টিকার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
সার্ভাভ্যাক এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, যা সার্ভিকাল ক্যানসারের প্রায় ৭০% ক্ষেত্রের জন্য দায়ী। দুই ডোজ ভায়াল মাত্র ₹৪,০০০ টাকায় পাওয়া যায়, অর্থাৎ প্রতি ডোজ ₹২,০০০, যা গার্ডাসিল এবং সার্ভারিক্সের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। টিকাটি ৯-২৬ বছর বয়সী মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের জন্যই অনুমোদিত।
এই সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবার এখন তাদের কন্যাদের সার্ভিকাল ক্যানসার থেকে রক্ষা করতে পারছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা গ্যাভি (Gavi, the Vaccine Alliance) সার্ভাভ্যাককে স্বল্পমূল্যের বিকল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যা বিশ্বব্যাপী সার্ভিকাল ক্যানসার নির্মূলে সাহায্য করবে। ভারতীয় ইউনিয়ন মিনিস্টার জিতেন্দ্র সিং এই স্বদেশী টিকার উন্নয়নকে একটি অভূতপূর্ব সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা দরিদ্রতম মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিকা সহজলভ্য করে তুলেছে।
ক্যানসার টিকা নেওয়ার উপকারিতা এবং সুরক্ষার মাত্রা
ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাগুলি কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষাই দেয় না, বরং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়ার মাধ্যমে কয়েক ধরনের ক্যানসার থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এইচপিভি টিকার উপকারিতা অসংখ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এই টিকা সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধে ৯০% পর্যন্ত কার্যকর, যা বিশেষ করে ৯-১৪ বছর বয়সে নেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ। টিকা কেবল সার্ভিকাল ক্যানসারই নয়, ভালভার ক্যানসার, ভ্যাজাইনাল ক্যানসার, অ্যানাল ক্যানসার, অরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যানসার এবং জেনিটাল ওয়ার্টস থেকেও সুরক্ষা দেয়। পুরুষদের জন্যও এইচপিভি টিকা উপকারী কারণ এটি পেনাইল ক্যানসার এবং অরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
টিকা নেওয়ার পর শরীরে দীর্ঘস্থায়ী অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা কয়েক দশক ধরে সুরক্ষা প্রদান করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এইচপিভি টিকার কার্যকারিতা অন্তত ১০-১৫ বছর টিকে থাকে এবং সম্ভবত আজীবন সুরক্ষা দিতে পারে। টিকা নেওয়া মহিলাদের মধ্যে সার্ভিকাল প্রি-ক্যানসারাস লিজনের হার ৭০-৮০% কমে যায়, যা প্রমাণ করে যে এই টিকা ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত শক্তিশালী।
হেপাটাইটিস বি টিকার উপকারিতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই টিকা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ৯৫% পর্যন্ত কার্যকর। যেহেতু দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ, তাই এই টিকা পরোক্ষভাবে লিভার ক্যানসার প্রতিরোধ করে। টিকা নেওয়া শিশুদের ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ঝুঁকি ৯৮-১০০% কমে যায়।
হেপাটাইটিস বি টিকার সুরক্ষা সাধারণত ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে টিকে থাকে। কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের শরীরে ইমিউনোলজিক মেমরি তৈরি হয় যা আজীবন সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
টিকা কোথায় এবং কীভাবে পাবেন
ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা ভারতের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাওয়া যায়। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই এই টিকাগুলি উপলব্ধ, তবে খরচ এবং সহজলভ্যতা ভিন্ন।
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হেপাটাইটিস বি টিকা ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এইচপিভি টিকা তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং সিকিমের মতো কিছু রাজ্যে সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে পাওয়া যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC), কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (CHC) এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে এই টিকা পাওয়া যায়।
বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং নার্সিং হোম সব ধরনের এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি টিকা পাওয়া যায়। বড় হাসপাতাল চেইন যেমন অ্যাপোলো, ফোর্টিস, ম্যাক্স হেলথকেয়ার, কলম্বিয়া এশিয়া এবং আঞ্চলিক হাসপাতালগুলিতে টিকাকরণ সেবা উপলব্ধ। বেসরকারি হাসপাতালে সব ব্র্যান্ডের টিকা পাওয়া যায় এবং রোগীরা তাদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।
ফার্মেসি চেইন এবং অনলাইন মেডিসিন প্ল্যাটফর্ম যেমন ১mg, মেডলাইফ, ফার্মইজি এবং অ্যাপোলো ফার্মেসিতেও ক্যানসার টিকার অর্ডার দেওয়া যায়। কিছু প্ল্যাটফর্ম হোম ভ্যাকসিনেশন সেবাও প্রদান করে যেখানে প্রশিক্ষিত নার্স বাড়িতে এসে টিকা দিয়ে যান, যা ব্যস্ত পরিবারের জন্য সুবিধাজনক।
এনজিও এবং ক্যান্সার সচেতনতা শিবির বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং ক্যান্সার পরিচর্যা সংস্থাগুলি মাঝে মাঝে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে টিকাকরণ ক্যাম্প আয়োজন করে। এই ধরনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা ক্যান্সার সচেতনতা সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
টিকা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি কোনো অ্যালার্জি, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা গর্ভাবস্থা থাকে। টিকা দেওয়ার পর কার্ড সংরক্ষণ করুন এবং পরবর্তী ডোজের তারিখ মনে রাখুন।
ক্যানসার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং সতর্কতা
ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাগুলি সাধারণত নিরাপদ এবং ভালভাবে সহনীয়, তবে অন্যান্য টিকার মতোই কিছু হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু এবং নিজে থেকেই কয়েক দিনের মধ্যে চলে যায়।
এইচপিভি টিকার সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যান্য টিকার মতোই। ইনজেকশন স্থানে ব্যথা, লাল হওয়া বা ফোলাভাব সবচেয়ে সাধারণ, যা প্রায় ৮০% ক্ষেত্রে দেখা যায়। হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং বমি বমি ভাব কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে। এই লক্ষণগুলি সাধারণত ১-২ দিনের মধ্যে চলে যায় এবং প্যারাসিটামল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। টিকা নেওয়ার পর মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা বিরল কিন্তু সম্ভব, তাই টিকা দেওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হেপাটাইটিস বি টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত খুবই মৃদু। ইনজেকশন স্থানে ব্যথা এবং হালকা জ্বর সবচেয়ে সাধারণ। গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল (প্রায় ১ মিলিয়নে ১ জন)। টিকা অত্যন্ত নিরাপদ এবং নবজাতক থেকে বয়স্ক সবার জন্য উপযুক্ত।
সতর্কতা এবং contraindications কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে টিকা দেওয়া এড়িয়ে চলা বা বিলম্বিত করা উচিত। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এইচপিভি টিকা সুপারিশ করা হয় না, যদিও হেপাটাইটিস বি টিকা নিরাপদ। টিকার কোনো উপাদানে গুরুতর অ্যালার্জি থাকলে টিকা দেওয়া উচিত নয়। তীব্র জ্বর বা অসুস্থতার সময় টিকা বিলম্বিত করা ভাল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা দেওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের চিকিৎসামূলক ক্যানসার টিকা
বর্তমানে ভারতে উপলব্ধ ক্যানসার টিকাগুলি প্রতিরোধমূলক (preventive), অর্থাৎ এগুলি ক্যানসার হওয়ার আগে দেওয়া হয়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চিকিৎসামূলক (therapeutic) ক্যানসার টিকা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে যা ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতাপরাও জাধব ঘোষণা করেছেন যে ব্রেস্ট, মুখগহ্বর এবং সার্ভিকাল ক্যানসারের জন্য একটি চিকিৎসামূলক টিকা ভারতে ৫-৬ মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে। এই টিকা ৯-১৬ বছর বয়সীদের দেওয়া হবে এবং গবেষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই উন্নয়ন ক্যানসার চিকিৎসায় একটি বিপ্লব আনতে পারে।
রাশিয়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে mRNA-ভিত্তিক একটি ক্যানসার টিকা উন্নয়নের ঘোষণা করেছে যা ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। এই টিকা রোগীর টিউমারের জিনগত উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যানসার কোষ চিনতে এবং ধ্বংস করতে প্রশিক্ষিত করে। প্রতি ডোজের খরচ প্রায় $২,৮৬৯ এবং রাশিয়ায় বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের FDA সাইপুলিউসেল-টি (Sipuleucel-T) নামে একটি চিকিৎসামূলক ক্যানসার টিকা অনুমোদন করেছে যা প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। BCG vaccine ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের ব্লাডার ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা FDA-অনুমোদিত প্রথম ইমিউনোথেরাপি।
ভারতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসামূলক ক্যানসার টিকা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন যে প্রতিরোধমূলক ক্যানসার টিকাগুলি জাতীয় টিকাকরণ সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং দরিদ্র মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা উচিত। প্রমাণ-ভিত্তিক গবেষণা চিকিৎসামূলক ক্যানসার টিকা উন্নয়নে আরও অগ্রগতি আনতে পারে।
ক্যানসার প্রতিরোধে অন্যান্য সরকারি উদ্যোগ
টিকাকরণ কর্মসূচির পাশাপাশি, ভারত সরকার ক্যানসার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি একসাথে ক্যানসারের বোঝা কমাতে সাহায্য করছে।
৩০ বছরের উপরের সব মহিলাদের জন্য হাসপাতালে বাধ্যতামূলক ক্যানসার স্ক্রিনিং চালু করা হয়েছে। এই স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে সার্ভিকাল, ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, যখন চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রাথমিক শনাক্তকরণ বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এবং চিকিৎসা খরচ কমায়।
ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য ডে-কেয়ার ক্যানসার সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং পরামর্শ সেবা প্রদান করবে। এটি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করবে।
ক্যানসারের ওষুধের উপর থেকে কাস্টমস ডিউটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ওষুধের দাম কমিয়ে চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করেছে। এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য করছে যারা ব্যয়বহুল ক্যানসার চিকিৎসার খরচ বহন করতে সংগ্রাম করেন।
সরকারি হাসপাতালে আয়ুষ বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে যেখানে মানুষ আয়ুর্বেদিক এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। এই সমন্বিত পদ্ধতি রোগীদের বিভিন্ন চিকিৎসা বিকল্প প্রদান করে।
ভারতে ক্যানসার প্রতিরোধী টিকার উপলব্ধতা, বিশেষত দেশীয় উৎপাদিত সার্ভাভ্যাকের আবির্ভাব, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে প্রাণঘাতী ক্যানসার থেকে রক্ষা করতে পারে। ₹২,০০০ থেকে শুরু হওয়া সাশ্রয়ী এইচপিভি টিকা এবং বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি টিকা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং সিকিমের মতো রাজ্যগুলির বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি প্রমাণ করে যে সরকারি উদ্যোগ ক্যানসার নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ৯-১৪ বছর বয়সে টিকা দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও এই জীবনরক্ষাকারী সুরক্ষা পেতে পারেন। চলমান গবেষণা এবং ভবিষ্যতের চিকিৎসামূলক টিকার বিকাশ ভারতে ক্যানসার চিকিৎসায় আরও বিপ্লব আনবে। অভিভাবক এবং ব্যক্তিদের উচিত টিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং উপযুক্ত বয়সে টিকা নিয়ে নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের সুরক্ষিত রাখা।











