বিশ্বায়নের এই যুগে একাধিক দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকা এখন আর শুধু ধনকুবেরদের বিলাসিতা নয়, বরং এটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বিশ্বব্যাপী চলাচলের স্বাধীনতার প্রতীক। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উন্নত জীবনযাত্রা, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ এবং ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুবিধার কারণে অনেকেই দ্বিতীয় পাসপোর্টের দিকে ঝুঁকছেন। তবে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই ব্যয়বহুল। এর বিপরীতে, বেশ কিছু দেশ আছে যারা তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং দ্রুত সময়ে “বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব” (Citizenship by Investment – CBI) প্রদান করে। এই প্রতিবেদনে আমরা তেমনই ৬টি দেশ নিয়ে আলোচনা করব যেখানে আপনি সহজেই দ্বিতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।
কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টের চাহিদা বাড়ছে?
একটি দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেবল একটি ভ্রমণ নথি নয়, এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি শক্তিশালী ‘প্ল্যান বি’। এর প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ভৌগোলিক বৈচিত্র্য: নিজ দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটের সময় অন্য একটি দেশে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ।
- বিশ্বব্যাপী চলাচল: একটি শক্তিশালী পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের বহু দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়, যা ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য অমূল্য। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স (Henley Passport Index)-এর মতো সূচকগুলো পাসপোর্টের শক্তি পরিমাপ করে।
- ট্যাক্স সুবিধা: অনেক দেশেই বিদেশি আয়ের উপর কোনো কর দিতে হয় না, যা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।
- উন্নত জীবনযাত্রা: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ।
চলুন, अब সেই ৬টি দেশ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক যারা সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে নাগরিকত্ব প্রদান করছে।
১. ডোমিনিকা (Commonwealth of Dominica)
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশটি বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিশ্বের অন্যতম সস্তা এবং জনপ্রিয় গন্তব্য। ডোমিনিকার CBI প্রোগ্রাম প্রায় তিন দশক ধরে চালু রয়েছে এবং এর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য সুপরিচিত।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড (EDF): এটি একটি সরকারি ফান্ডে অনুদান দেওয়ার বিকল্প।
- একজন আবেদনকারীর জন্য: $১০০,০০০ মার্কিন ডলার।
- আবেদনকারী এবং তার স্বামী/স্ত্রীর জন্য: $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার।
- চারজনের পরিবারের জন্য: $১৭৫,০০০ মার্কিন ডলার।
- রিয়েল এস্টেট: সরকার-অনুমোদিত কোনো রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে ন্যূনতম $২০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এই সম্পত্তি ৩ বছর পর বিক্রি করা যাবে।
অন্যান্য খরচ: প্রসেসিং ফি, ডিউ ডিলিজেন্স ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হয়।
সুবিধাসমূহ:
- ডোমিনিকার পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৪৩টির বেশি দেশে ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যার মধ্যে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, হংকং এবং সিঙ্গাপুর অন্তর্ভুক্ত।
- আবেদন প্রক্রিয়া ৪-৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
- আবেদন করার জন্য ডোমিনিকায় বসবাসের কোনো প্রয়োজন নেই।
সরকারি তথ্যসূত্র: ডোমিনিকা সিবিআই ইউনিট
২. সেন্ট লুসিয়া (Saint Lucia)
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের আরেকটি মনোরম দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়া। ২০১৭ সালে তাদের CBI প্রোগ্রাম চালু হওয়ার পর থেকেই এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে এর বিভিন্ন বিনিয়োগ বিকল্পের জন্য।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- ন্যাশনাল ইকোনমিক ফান্ড (NEF): এটিও একটি অনুদানভিত্তিক বিকল্প।
- একজন আবেদনকারীর জন্য: $১০০,০০০ মার্কিন ডলার।
- আবেদনকারী এবং তার স্বামী/স্ত্রীর জন্য: $১৪০,০০০ মার্কিন ডলার।
- চারজনের পরিবারের জন্য: $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার।
- রিয়েল এস্টেট: সরকার-অনুমোদিত প্রকল্পে ন্যূনতম $২০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে এবং এটি ৫ বছর ধরে রাখতে হবে।
- সরকারি বন্ড: ন্যূনতম $৩০০,০০০ মার্কিন ডলার-এর সরকারি বন্ড কিনলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, যা ৫ বছর পর ফেরতযোগ্য।
সুবিধাসমূহ:
- সেন্ট লুসিয়ার পাসপোর্টধারীরা ১৪৮টি দেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন।
- আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত, প্রায় ৩-৪ মাসে সম্পন্ন হয়।
- এটি একমাত্র ক্যারিবিয়ান দেশ যা ফেরতযোগ্য বিনিয়োগের (সরকারি বন্ড) মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়।
সরকারি তথ্যসূত্র: সেন্ট লুসিয়া সিবিআই ইউনিট
৩. অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা (Antigua and Barbuda)
পরিবারসহ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাদের CBI প্রোগ্রাম বড় পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করে।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (NDF):
- চারজন সদস্য পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অনুদানের পরিমাণ $১০০,০০০ মার্কিন ডলার। এটিই এই প্রোগ্রামকে পরিবারের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
- রিয়েল এস্টেট: অনুমোদিত প্রকল্পে ন্যূনতম $২০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
- ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফান্ড: ছয় বা তার বেশি সদস্যের পরিবারের জন্য $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান দিলে পরিবারের একজন সদস্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে পড়তে পারে।
সুবিধাসমূহ:
- অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাসপোর্ট দিয়ে ১৫৩টির বেশি দেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ করা যায়।
- নাগরিকত্ব পাওয়ার পর প্রথম ৫ বছরের মধ্যে মাত্র ৫ দিন দেশটিতে অবস্থান করতে হয়।
- পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি ৪-৬ মাসের মধ্যে শেষ হয়।
সরকারি তথ্যসূত্র: অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা সিবিআই ইউনিট
৪. ভানুয়াতু (Vanuatu)
প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। যাদের জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয় পাসপোর্ট প্রয়োজন, তাদের জন্য ভানুয়াতু একটি চমৎকার বিকল্প।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রাম (VDSP): এটি সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক।
- একজন আবেদনকারীর জন্য: $১৩০,০০০ মার্কিন ডলার।
- দম্পতির জন্য: $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার।
- চারজনের পরিবারের জন্য: $১৮০,০০০ মার্কিন ডলার।
অন্যান্য খরচ: ডিউ ডিলিজেন্স এবং আবেদন ফি বাবদ প্রায় $৫,০০০ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়।
সুবিধাসমূহ:
- আবেদন প্রক্রিয়া মাত্র ১-২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়, যা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম CBI প্রোগ্রাম বানিয়েছে।
- ভানুয়াতুর নাগরিকরা প্রায় ৯২টি দেশে ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন।
- আবেদনকারীর কোনো আয়কর, সম্পদ কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না।
সরকারি তথ্যসূত্র: ভানুয়াতু সিটিজেনশিপ কমিশন
৫. গ্রেনাডা (Grenada)
“স্পাইস আইল” নামে পরিচিত গ্রেনাডা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, তার শক্তিশালী CBI প্রোগ্রামের জন্যও পরিচিত। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর E-2 বিনিয়োগকারী ভিসা চুক্তি।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (NTF):
- একজন আবেদনকারীর জন্য: $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার।
- চারজনের পরিবারের জন্য: $২০০,০০০ মার্কিন ডলার।
- রিয়েল এস্টেট: সরকার-অনুমোদিত প্রকল্পে ন্যূনতম $২২০,০০০ মার্কিন ডলার (সহ-মালিকানায়) বা $৩৫০,০০০ মার্কিন ডলার (একক মালিকানায়) বিনিয়োগ করতে হবে।
সুবিধাসমূহ:
- গ্রেনাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে ১৪৭টি দেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ করা যায়, যার মধ্যে চীন, যুক্তরাজ্য এবং শেনজেনভুক্ত দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত।
- এটিই একমাত্র ক্যারিবিয়ান দেশ যার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের E-2 ইনভেস্টর ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে, যা আমেরিকায় বসবাস ও ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয়।
- আবেদন প্রক্রিয়া ৪-৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
সরকারি তথ্যসূত্র: গ্রেনাডা ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন এজেন্সি
৬. তুরস্ক (Turkey)
ইউরোপ এবং এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্ক তার CBI প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের আকর্ষণীয় সুযোগের জন্য।
বিনিয়োগের বিকল্প:
- রিয়েল এস্টেট ক্রয়: ন্যূনতম $৪০০,০০০ মার্কিন ডলার মূল্যের যেকোনো রিয়েল এস্টেট (ফ্ল্যাট, বাড়ি বা জমি) কিনলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। সম্পত্তিটি ৩ বছর ধরে রাখতে হয়।
- ব্যাংকে জমা: তুর্কি ব্যাংকে ন্যূনতম $৫০০,০০০ মার্কিন ডলার তিন বছরের জন্য জমা রাখলেও নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।
সুবিধাসমূহ:
- তুরস্কের পাসপোর্ট দিয়ে ১১৬টির বেশি দেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ করা যায়।
- বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় জীবনযাত্রার সুযোগ পাওয়া যায়।
- তুর্কি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের E-1 এবং E-2 ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।
- আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ৬-৯ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
সরকারি তথ্যসূত্র: ইনভেস্টমেন্ট অফিস অফ দ্য প্রেসিডেন্সি অফ তুরস্ক
তুলনামূলক ছক
| দেশ | সর্বনিম্ন বিনিয়োগ (USD) | ভিসা-মুক্ত দেশ | প্রক্রিয়াকরণের সময় | প্রধান আকর্ষণ |
| ডোমিনিকা | $১০০,০০০ | ১৪৩+ | ৪-৬ মাস | সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য |
| সেন্ট লুসিয়া | $১০০,০০০ | ১৪৮+ | ৩-৪ মাস | দ্রুত প্রক্রিয়া ও বন্ডের বিকল্প |
| অ্যান্টিগা ও বারবুডা | $১০০,০০০ | ১৫৩+ | ৪-৬ মাস | পরিবারের জন্য সেরা |
| ভানুয়াতু | $১৩০,০০০ | ৯২+ | ১-২ মাস | বিশ্বের দ্রুততম প্রোগ্রাম |
| গ্রেনাডা | $১৫০,০০০ | ১৪৭+ | ৪-৬ মাস | USA E-2 ভিসা চুক্তি |
| তুরস্ক | $৪০০,০০০ (রিয়েল এস্টেট) | ১১৬+ | ৬-৯ মাস | রিয়েল এস্টেট ও ইউরেশিয়ান লাইফস্টাইল |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব (Cheapest Citizenship) কি বৈধ?
হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ বৈধ একটি প্রক্রিয়া। প্রতিটি দেশের সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই প্রোগ্রামগুলো পরিচালনা করে এবং বিনিয়োগের বিনিময়ে একজন বিদেশি নাগরিককে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান করে।
২. ন্যূনতম বিনিয়োগের বাইরে আর কী কী খরচ আছে?
মূল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি দেশেই ডিউ ডিলিজেন্স ফি (আবেদনকারীরประวัติ যাচাই), প্রসেসিং ফি, আইনজীবী বা এজেন্টের ফি এবং পাসপোর্ট ইস্যু করার ফি প্রদান করতে হয়।
৩. আবেদন করার জন্য কি সেই দেশে যেতে হবে?
বেশিরভাগ ক্যারিবিয়ান দেশ এবং ভানুয়াতুর ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া দূরবর্তীভাবে সম্পন্ন করা যায়। তবে অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর প্রথম ৫ বছরে অন্তত ৫ দিন সেখানে থাকতে হয়।
৪. আমার পরিবারের সদস্যরাও কি আমার সাথে নাগরিকত্ব পাবে?
হ্যাঁ, প্রধান আবেদনকারীর সাথে সাধারণত তার স্বামী/স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান এবং কিছু ক্ষেত্রে ৩০ বছর পর্যন্ত নির্ভরশীল সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে।
৫. অর্জিত নাগরিকত্ব কি বাতিল হতে পারে?
যদি আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বা গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও সততার সাথে সম্পন্ন করা আবশ্যক।
উপসংহার
দ্বিতীয় নাগরিকত্ব এখন আর কেবল একটি স্ট্যাটাস সিম্বল নয়, এটি একটি বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ যা আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে। ক্যারিবিয়ান দেশগুলো কম খরচে এবং দ্রুত সময়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে তুরস্ক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি ভিন্নধর্মী বিকল্প প্রদান করছে। আপনার প্রয়োজন, বাজেট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে এই দেশগুলোর যেকোনো একটি আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে একজন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া উচিত, যিনি পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবেন। সঠিক পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনিও হতে পারেন একজন বিশ্ব নাগরিক (global citizen)।











