One Testicle Bigger Than The Other In Child

ভয় পাবেন না, কিন্তু অবহেলাও নয়—বাচ্চাদের অণ্ডকোষ বড়-ছোট হওয়ার কারণ

One Testicle Bigger Than The Other In Child: বাচ্চার ডায়াপার বদলাতে গিয়ে বা গোসল করানোর সময় যদি দেখেন এক অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় একটু বড়, একটু নিচে, বা একটু ফুলে আছে—তখন দুশ্চিন্তা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ অভিভাবকের মাথায় তখন একই প্রশ্ন…

avatar
Written By : Debolina Roy
Updated Now: April 6, 2026 7:27 PM
বিজ্ঞাপন
One Testicle Bigger Than The Other In Child: বাচ্চার ডায়াপার বদলাতে গিয়ে বা গোসল করানোর সময় যদি দেখেন এক অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় একটু বড়, একটু নিচে, বা একটু ফুলে আছে—তখন দুশ্চিন্তা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ অভিভাবকের মাথায় তখন একই প্রশ্ন আসে: “এটা কি নরমাল, না কোনও সমস্যা?” আসল কথা হলো, সব অসমান দেখানোই বিপদের লক্ষণ নয়। অনেক সময় সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিকও হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন Hydrocele (হাইড্রোসিল), Inguinal Hernia (ইনগুইনাল হার্নিয়া), Varicocele (ভ্যারিকোসিল), Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ), বা Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন)-এর ইঙ্গিতও হতে পারে।

এই লেখায় আমরা খুব সহজ ভাষায় বুঝে নেব—কখন এক অণ্ডকোষ একটু বড় হওয়া সাধারণ বিষয়, কোন কারণগুলো বেশি দেখা যায়, কোন লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যেতে হবে, আর ডাক্তার কীভাবে পরীক্ষা করেন। এই লেখা সচেতনতার জন্য; এটি Doctor Consultation (ডাক্তারি পরামর্শ)-এর বিকল্প নয়।

একটা অণ্ডকোষ একটু বড় হওয়া কি সবসময় অস্বাভাবিক?

না, সবসময় নয়। নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সূত্র বলছে, অনেকেরই একটি অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় সামান্য বড় বা একটু নিচে থাকতে পারে। যদি কোনও ব্যথা না থাকে, হঠাৎ ফোলা না আসে, লালচে না হয়, আর বাচ্চা স্বাভাবিক থাকে—তাহলে সামান্য পার্থক্য একাই বড় বিপদের প্রমাণ নয়।

তবে “সামান্য পার্থক্য” আর “স্পষ্ট ফোলা” এক জিনিস নয়। যদি একদিকে থলি বেশ টানটান লাগে, দিনে-দিনে বড় লাগে, কাঁদলে বা চাপ পড়লে বেশি ফুলে ওঠে, কিংবা হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়—সেটা আর সাধারণ ভ্যারিয়েশন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ডিসি-তেই টেনশন শুরু? Election Duty Guidelines-এ DC থেকে RC পর্যন্ত পুরো কাজ একজায়গায়

বাচ্চাদের এক অণ্ডকোষ বড় বা ছোট দেখানোর সাধারণ কারণগুলো

১) Hydrocele (হাইড্রোসিল)

সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হলো Hydrocele (হাইড্রোসিল)। এতে অণ্ডকোষের চারপাশের পাতলা থলিতে তরল জমে যায়, ফলে একদিকের স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলি বড়, মসৃণ, টানটান বা ফুলে থাকা মনে হয়। এটি নবজাতক ও ছোট বাচ্চাদের মধ্যে খুবই সাধারণ, এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথাহীন হয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রথম বছরের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়। কিন্তু এক বছরের পরও থাকলে, বা আকার বাড়তে থাকলে, ডাক্তারকে দেখানো উচিত।

সহজভাবে বললে, যদি আপনার বাচ্চার একদিকে জলভর্তি নরম ফোলার মতো কিছু লাগে এবং সে তেমন কষ্ট না পায়, তবে Hydrocele (হাইড্রোসিল) একটি সম্ভাব্য কারণ। ডাক্তার অনেক সময় আলো ফেলে দেখেন ফোলার ভেতরে পরিষ্কার তরল আছে কি না; এই পরীক্ষাকে Transillumination (আলো ফেলে দেখা) বলা হয়।

২) Inguinal Hernia (ইনগুইনাল হার্নিয়া)

কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে অণ্ডথলির ফোলাটা আসলে Hernia (হার্নিয়া) হতে পারে। এতে পেটের ভেতরের টিস্যু বা অন্ত্রের অংশ নিচের দিকে বেরিয়ে এসে কুঁচকি বা অণ্ডথলি ফুলে ওঠার মতো দেখায়। কাঁদলে, জোরে কাশি হলে, বা চাপ পড়লে ফোলা বেশি চোখে পড়তে পারে। Hydrocele (হাইড্রোসিল) ও Hernia (হার্নিয়া) কখনও কখনও একসঙ্গে বা কাছাকাছি ধরনের সমস্যার মতোও দেখা দিতে পারে।

যদি ফোলাটা কখনও কমে, কখনও বাড়ে, আর বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করে—তাহলে এটিকে অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে যদি ফোলা শক্ত লাগে, ব্যথা থাকে, বা বাচ্চা বমি করতে শুরু করে, দ্রুত চিকিৎসা দরকার।

৩) Varicocele (ভ্যারিকোসিল)

Varicocele (ভ্যারিকোসিল) সাধারণত বড় বয়সের ছেলে, বিশেষ করে Puberty (কৈশোর)-এর সময় বেশি দেখা যায়। এতে অণ্ডথলির শিরাগুলো ফুলে যায়। বেশিরভাগ সময় এটি বাম দিকে বেশি হয়, তাই একপাশ অন্যপাশের তুলনায় বড় বা ভারী লাগতে পারে। অনেক সময় ব্যথা থাকে না, কিন্তু টান লাগা, ভরাট ভাব, বা দাঁড়িয়ে থাকলে বেশি অস্বস্তি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত দিকের অণ্ডকোষ তুলনামূলক ছোটও দেখা যেতে পারে।

এই কারণটি নবজাতকের তুলনায় কিশোরদের ক্ষেত্রে বেশি ভাবা হয়। তাই ১২–১৭ বছরের ছেলের ক্ষেত্রে একদিকে শিরার মতো মোচড়ানো, “ব্যাগ অব ওয়ার্মস” ধরনের অনুভূতি হলে Paediatric Urologist (শিশু মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ) বা Urologist (মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ)-এর মূল্যায়ন দরকার।

৪) Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ) অথবা Retractile Testis (ওঠানামা করা অণ্ডকোষ)

কখনও সমস্যা “একটা বড়” নয়, বরং “একটা ছোট বা খালি” মনে হওয়া। যদি একটি অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে নামেনি, তাকে Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ) বলা হয়। এতে স্ক্রোটাম একদিকে ফাঁকা বা ছোট দেখাতে পারে। আবার কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ মাঝে মাঝে উপরে উঠে যায়, পরে নেমে আসে—এটাকে Retractile Testis (ওঠানামা করা অণ্ডকোষ) বলা হয়। এই দুটো জিনিস এক নয়।

Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ) থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে Specialist (বিশেষজ্ঞ)-এর মূল্যায়ন জরুরি। Guideline (চিকিৎসা-নির্দেশিকা) অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সের পরও যদি অণ্ডকোষ নিজে থেকে না নামে, তাহলে পরের এক বছরের মধ্যে অপারেশনের পরিকল্পনা করা হয়।

৫) Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন) — সবচেয়ে জরুরি কারণ

এটি সেই অবস্থা, যেটাকে কখনওই “দেখি কাল কেমন থাকে” বলে ফেলে রাখা উচিত নয়। Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন)-এ অণ্ডকোষ পাক খেয়ে তার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ তীব্র ব্যথা, দ্রুত ফোলা, লালচে বা অস্বাভাবিক অবস্থান, বমি বমি ভাব বা বমি। এটি Emergency (জরুরি অবস্থা)। দ্রুত চিকিৎসা না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনেক অভিভাবক ভুল করে ভাবে—“শুধু ফোলা, একটু অপেক্ষা করি।” কিন্তু যদি ফোলার সঙ্গে তীব্র ব্যথা থাকে, বাচ্চা হাঁটতে না চায়, কুঁকড়ে থাকে, বা বারবার বমি করে—সেটা বাড়িতে বসে বোঝার বিষয় নয়। সরাসরি Emergency Department (জরুরি বিভাগ)-এ যেতে হবে।

৬) আঘাত, সংক্রমণ বা অন্য কমন নয় এমন কারণ

খেলতে গিয়ে আঘাত, স্থানীয় সংক্রমণ, বা Epididymis (অণ্ডকোষের পেছনের নরম অংশ)-এ প্রদাহ থেকেও অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে অন্য গাঁট বা Mass (অস্বাভাবিক পিণ্ড)-ও কারণ হতে পারে। তাই “বাচ্চা তো খেলতে গিয়ে ঠোকর খেয়েছে” ভেবে যদি ফোলা বা ব্যথা উপেক্ষা করা হয়, তাতে আসল সমস্যার চিকিৎসা দেরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনও একটি থাকলে দেরি করবেন না:

  • হঠাৎ তীব্র ব্যথা
  • একদিকে দ্রুত ফোলা
  • লালচে, গরম, বা খুব স্পর্শকাতর অণ্ডথলি
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • আঘাতের পর ব্যথা ও ফোলা কমছে না
  • অণ্ডকোষ একদম উপরে উঠে গেছে বা অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে
  • বাচ্চা হাঁটতে, বসতে, বা ডায়াপার বদলাতে দিলেই খুব কাঁদছে

এই লক্ষণগুলো থাকলে Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন) বা অন্য জরুরি কারণ বাদ দেওয়া দরকার।

কখন বিষয়টি তুলনামূলক কম জরুরি হতে পারে?

যদি একদিকে অল্প ফোলা থাকে কিন্তু ব্যথা না থাকে, বাচ্চা স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া ও খেলাধুলো করে, জ্বর না থাকে, ফোলা ধীরে ধীরে এসেছে, আর নবজাতক বা ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিন একই রকম থাকে—তবে Hydrocele (হাইড্রোসিল)-এর মতো তুলনামূলক কম জরুরি কারণ হতে পারে। তবু নিজেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বদলে Routine Check-Up (রুটিন চেক-আপ)-এ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো ভালো।

অভিভাবকেরা বাড়িতে কী করবেন, আর কী করবেন না

যা করবেন

  • ফোলা হঠাৎ হয়েছে নাকি ধীরে ধীরে—খেয়াল করুন
  • ব্যথা আছে কি না দেখুন
  • কাঁদলে, দাঁড়ালে, কাশি হলে ফোলা বাড়ে কি না লক্ষ্য করুন
  • সম্ভব হলে Doctor Visit (ডাক্তার দেখানোর সময়) বলার জন্য ছোট নোট করে রাখুন

যা করবেন না

  • জোরে চেপে দেখবেন না
  • নিজে থেকে তেল-মলম, গরম সেঁক, বা ওষুধ দেবেন না
  • হঠাৎ ব্যথাকে “গ্যাস” বা “সামান্য ফোলা” ভেবে অপেক্ষা করবেন না
  • ইন্টারনেটে ছবি দেখে নিজে Diagnosis (রোগনির্ণয়) করার চেষ্টা করবেন না

ডাক্তার কীভাবে পরীক্ষা করেন?

প্রথম ধাপ হলো Physical Examination (শারীরিক পরীক্ষা)। ডাক্তার অণ্ডথলির আকার, ব্যথা, ফোলার ধরন, কুঁচকিতে কোনও Hernia (হার্নিয়া) আছে কি না, এবং অণ্ডকোষ দুটো ঠিক জায়গায় আছে কি না দেখেন। অনেক সময় আলো ফেলে ফোলার ভেতরে তরল আছে কি না বোঝার চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে Ultrasound (আল্ট্রাসাউন্ড) লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি কারণ স্পষ্ট না হয়।

তবে জরুরি সন্দেহ থাকলে, বিশেষ করে Torsion (টরশন)-এর সম্ভাবনা থাকলে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেয়ে সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ দেরি হলে রক্ত চলাচল বন্ধ থাকার ক্ষতি বাড়তে পারে।

কারণভেদে চিকিৎসা কেমন হয়?

সম্ভাব্য কারণকী দেখা যায়সাধারণ করণীয়
Hydrocele (হাইড্রোসিল)ব্যথাহীন, মসৃণ ফোলা; একদিকে বড় দেখাতে পারেঅনেক ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ; না কমলে বা বাড়লে Surgery (অপারেশন) লাগতে পারে
Inguinal Hernia (ইনগুইনাল হার্নিয়া)কাঁদলে/চাপ পড়লে ফোলা বাড়ে; কুঁচকি-থলি জুড়ে ফোলাডাক্তারি মূল্যায়ন; প্রয়োজনে অপারেশন
Varicocele (ভ্যারিকোসিল)কৈশোরে বেশি; বাম দিকে ভারী বা শিরা ফুলে থাকাSpecialist Evaluation (বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন)
Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ)একদিক ফাঁকা/ছোট; অণ্ডকোষ থলিতে নেইনির্দিষ্ট সময়ে Specialist Referral (বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার)
Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন)হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ফোলা, বমি, অস্বাভাবিক অবস্থানতাৎক্ষণিক Emergency Care (জরুরি চিকিৎসা)

Hydrocele (হাইড্রোসিল) প্রায়ই প্রথম বছরের মধ্যে নিজে থেকে সেরে যেতে পারে, কিন্তু স্থায়ী হলে বা বড় হলে অপারেশন দরকার হতে পারে। Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ)-এর ক্ষেত্রে সময়মতো অপারেশন ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আর Torsion (টরশন)-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো।

 বাস্তব উদাহরণ বুঝে নিন

Scenario 1 (উদাহরণ ১): নবজাতক শিশুর একদিকে নরম, ব্যথাহীন ফোলা

এটি Hydrocele (হাইড্রোসিল) হতে পারে। বাচ্চা স্বাভাবিক থাকলে সাধারণত Doctor Follow-Up (ডাক্তারি ফলো-আপ)-এ দেখা হয়, সঙ্গে নজরে রাখা হয় ফোলা কমছে কি না।

Scenario 2 (উদাহরণ ২): ১৪ বছরের ছেলের বাম দিক ভারী লাগে

Puberty (কৈশোর)-র সময় Varicocele (ভ্যারিকোসিল) একটি সাধারণ কারণ হতে পারে। ব্যথা কম হলেও মূল্যায়ন দরকার, কারণ কখনও আক্রান্ত দিকের অণ্ডকোষ ছোট হতে পারে।

Scenario 3 (উদাহরণ ৩): হঠাৎ ব্যথা, ফোলা, সঙ্গে বমি

এটি Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন) ধরে নিয়ে চলাই নিরাপদ। দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

বাবা-মায়েরা যে ভুলগুলো বেশি করেন

  • “বাচ্চা ছোট, নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে” বলে সবকিছু এক ঝুড়িতে ফেলা
  • ব্যথা থাকলেও ১–২ দিন অপেক্ষা করা
  • শুধু ফোলা দেখেই Hydrocele (হাইড্রোসিল) ধরে নেওয়া
  • একবার নেমে এসেছে দেখে Retractile Testis (ওঠানামা করা অণ্ডকোষ) আর Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ)-এর পার্থক্য না বোঝা

শিশুর অণ্ডকোষের সমস্যায় “নজর রাখা” আর “অপেক্ষা করতে থাকা”—এ দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যথা, হঠাৎ পরিবর্তন, বমি, বা লালচে ভাব থাকলে অপেক্ষা নয়, পদক্ষেপ দরকার।

FAQ: অভিভাবকেরা যেসব প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি করেন

বাচ্চার এক অণ্ডকোষ বড়, এটা কি স্বাভাবিক হতে পারে?

হ্যাঁ, সামান্য সাইজের পার্থক্য অনেক সময় স্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে যদি ব্যথা না থাকে, হঠাৎ ফোলা না আসে, আর বাচ্চা স্বাভাবিক থাকে, তাহলে শুধু অল্প পার্থক্য দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তবে পার্থক্য স্পষ্ট হলে বা নতুন করে বাড়লে ডাক্তার দেখানো উচিত।

Hydrocele (হাইড্রোসিল) আর Hernia (হার্নিয়া) কি একই জিনিস?

না, এক নয়। Hydrocele (হাইড্রোসিল)-এ সাধারণত তরল জমে ফোলা হয়, আর Hernia (হার্নিয়া)-তে পেটের ভেতরের অংশ নিচের দিকে চলে আসে। বাইরে থেকে দুটো কখনও মিলতেও পারে, তাই শুধু দেখে আলাদা করা কঠিন। ডাক্তারের পরীক্ষা দরকার।

কোন লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে?

হঠাৎ তীব্র ব্যথা, দ্রুত ফোলা, লালচে ভাব, অস্বাভাবিক অবস্থানে অণ্ডকোষ, বমি, বা আঘাতের পর ব্যথা না কমলে একে জরুরি হিসেবে ধরুন। বিশেষ করে Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন)-এ সময় নষ্ট করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির টোটকা নয়, সরাসরি জরুরি বিভাগে যান।

Undescended Testis (অবতরণ না-করা অণ্ডকোষ) কি বড় হওয়ার কারণ, না ছোট দেখানোর?

এতে সাধারণত একদিকের অণ্ডথলি ছোট, ফাঁকা, বা কম ভর্তি মনে হয়—কারণ অণ্ডকোষটি ঠিকমতো নিচে নামেনি। অনেক সময় অভিভাবকেরা এটাকে “একটা ছোট, একটা বড়” হিসেবেই লক্ষ্য করেন। তাই তুলনামূলক অসমান দেখালেই দুই দিক ঠিক জায়গায় আছে কি না পরীক্ষা করানো জরুরি।

বাড়িতে বসে কি বোঝা যায় কোন সমস্যা হয়েছে?

কিছু ক্লু পাওয়া যায়—যেমন ব্যথা আছে কি না, হঠাৎ নাকি ধীরে হয়েছে, কাঁদলে বাড়ে কি না। কিন্তু নিশ্চিত Diagnosis (রোগনির্ণয়) বাড়িতে করা যায় না। কারণ একই “ফোলা” একেক সময় একেক কারণে হয়। তাই স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ আর ডাক্তারি মূল্যায়ন—দুটোই দরকার।

শেষ কথা

বাচ্চাদের অণ্ডকোষ একটা ছোট আর একটা বড় দেখালে সবসময়ই খারাপ কিছু হয়েছে—এমন নয়। সামান্য পার্থক্য অনেক সময় স্বাভাবিক। কিন্তু যদি স্পষ্ট ফোলা, ব্যথা, হঠাৎ পরিবর্তন, বমি, বা লালচে ভাব থাকে, তবে সেটাকে অবহেলা করবেন না। নবজাতকের ক্ষেত্রে Hydrocele (হাইড্রোসিল) সাধারণ হতে পারে, কিশোরদের ক্ষেত্রে Varicocele (ভ্যারিকোসিল) ভাবা যায়, আর হঠাৎ ব্যথার ক্ষেত্রে Testicular Torsion (টেস্টিকুলার টরশন) আগে বাদ দেওয়া জরুরি।

সবচেয়ে ভালো পথ হলো—লক্ষণ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, আবার ঢিলেও না দিয়ে, সঠিক সময়ে Paediatrician (শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ) বা Paediatric Urologist (শিশু মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ)-এর পরামর্শ নেওয়া। ছোট্ট একটা পর্যবেক্ষণ অনেক বড় জটিলতা আগেভাগেই থামিয়ে দিতে পারে।