দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘হাত-ফুসফুস রাস্তায় ছড়িয়ে’, প্রত্যক্ষদর্শীর কাঁপা গলায় ভযঙ্কর বর্ণনা!

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি সুইফট ডিজায়র গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যাতে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় তিনটি গাড়ি পুড়ে ছাই…

Avatar

 

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি সুইফট ডিজায়র গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যাতে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় তিনটি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেছেন, বিস্ফোরণের পর রাস্তায় মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহভাগ ছড়িয়ে ছিল, যার মধ্যে হাত এবং ফুসফুস পর্যন্ত দেখা গিয়েছে। দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেল এবং অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড তদন্ত শুরু করেছে, যাতে এটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হারিয়ানার ফরিদাবাদে আজই ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং অস্ত্রের জব্দের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

দিল্লির লালকেল্লা এলাকা সাধারণত পর্যটক এবং স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ স্থান, কিন্তু এই বিস্ফোরণ সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। বিস্ফোরণটি রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে ঘটে, যখন গাড়িটি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএনআই-কে বলেছেন, “আমরা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিলাম যখন হঠাৎ একটা প্রচণ্ড শব্দ হলো। ফোন এলে জানতে পারলাম বিস্ফোরণ হয়েছে। যখন এলাম, দেখলাম কারো হাত ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে আছে, আরেক জায়গায় একজনের ফুসফুস বেরিয়ে এসেছে। কেউ এমনটা কল্পনাও করতে পারবে না।” এই বর্ণনা শুনে স্থানীয়রা কাঁপছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে পুড়ে যাওয়া গাড়ি এবং ধোঁয়ার মেঘ দেখা যাচ্ছে।

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ: ৮ জনের মৃত্যু, রাজধানীতে হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট!

আহতদের মধ্যে একজন অটো চালক জিয়াশান, যিনি বিস্ফোরণের সময় গাড়িটির ঠিক সামনে ছিলেন। তিনি বলেছেন, “গাড়িটি আমার সামনে দু’ফুট দূরে পার্ক করা ছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণ হলো, আমি বুঝতেই পারলাম না বোমা না অন্য কিছু। চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ল, আর সবাই চিৎকার করে উঠল।” জিয়াশানের হাতে এবং পায়ে পোড়া আঘাত হয়েছে, এবং তিনি এখন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাতটি ফায়ার টেন্ডার পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লেগেছে। তবে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের দোকান এবং ভবন কাঁপতে থাকে, এবং অনেকে পালাতে গিয়ে আহত হয়।

দিল্লি বিস্ফোরণের খবর ছড়াতেই পুলিশ সম্পূর্ণ এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং শহরজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা প্রাথমিক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি একটি ধীরগতির গাড়িতে ঘটেছে, ফরেনসিক টিম তদন্ত করছে। আমরা কোনো ঝুঁকি নেব না।” একই সঙ্গে, ফরিদাবাদে জয়শ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত একজন কাশ্মীরি ডাক্তার মুজাম্মিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বাড়িতে বিস্ফোরক পদার্থ এবং অস্ত্র পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছে, এই বিস্ফোরণটি সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন হামলা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন তুলেছে।

এই দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, “দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণ, আটজন মৃত। ক্যামেরা সর্বত্র, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সর্বত্র, তবু প্রতিরোধ করতে পারল না। আমরা কি শুধু কাগজে নিরাপদ?” আরেক পোস্টে বলা হয়েছে, “এটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা, দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর। শোকাহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি।” রাজনৈতিক নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন; শিরোমণি আকালি দলের হর্সিমরত কৌর বাদল বলেছেন, “এটি দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর আরেক চেষ্টা, এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” দিল্লি পুলিশের এক পোস্টে জানানো হয়েছে, চাঁদনি চক মার্কেট অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

ফোন ব্যাটারি বিস্ফোরণ: জীবন বাঁচাতে এখনই জানুন সতর্কতার উপায়

দিল্লি বিস্ফোরণের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে সন্ত্রাসী হুমকি এখনও অব্যাহত। ২০১১ সালের হাইপ্রো ফার্টিলাইজার প্ল্যান্ট বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এবারেরটি মেট্রো স্টেশনের কাছে হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, “আমরা প্রতিদিন এখান দিয়ে যাই, এখন কীভাবে নিরাপদ থাকব?” কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট এলে কারণ স্পষ্ট হবে, তবে অ্যান্টি-টেরর ইউনিট সক্রিয়। সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

আহতদের চিকিত্সার জন্য হাসপাতালগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং মৃতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দিল্লি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়েছি, কিন্তু এমন তীব্রতার বিস্ফোরণ অস্বাভাবিক।” স্থানীয় বাজারগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #DelhiBlast এবং #RedFortExplosion ট্রেন্ড করছে, যেখানে লোকেরা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি দুর্ঘটনা না, পরিকল্পিত হামলা। সরকারকে দায়বদ্ধতা নিতে হবে।”

দিল্লি বিস্ফোরণের এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। যদি এটি সন্ত্রাসী হামলা হয়, তাহলে গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায়। স্থানীয়রা এখন নিরাপত্তার অপেক্ষায়, এবং দেশব্যাপী সতর্কতা জারি হয়েছে। এই ট্র্যাজেডির মাঝে, নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে বলা যায়, এমন হামলা আর হোক না।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম

আরও পড়ুন