Delhi Red Fort Blast: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটনাস্থলে একটি গাড়িতে হাই-ইনটেনসিটি বিস্ফোরণের ফলে আশেপাশের তিন-চারটি যানবাহন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ এবং অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে, যদিও বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার পর রাজধানীতে হাই সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি হয়েছে এবং মুম্বাই ও উত্তরপ্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঐতিহাসিক লাল কেল্লার চারপাশে ভয়ের ছায়া ফেলেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি প্রতীক।
লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ঘটনা সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটে। চোখের পলকে একটি গাড়ি বিস্ফোরিত হয়ে যায়, যার ফলে আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়া এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র অনুসারে, বিস্ফোরণের শব্দ দু’কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত শোনা গেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানান, ২০টি ফায়ার ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছিল এবং সাতটি ২৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের লোক নায়ক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ স্পোকসম্যান সঞ্জয় ত্যাগী বলেছেন, “ঘটনাস্থল কার্ডন অফ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণ দেশের রাজধানীতে নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ফোন ব্যাটারি বিস্ফোরণ: জীবন বাঁচাতে এখনই জানুন সতর্কতার উপায়
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একজন স্থানীয় বাসিন্দা এনডিটিভিকে বলেন, “একটা ভয়ংকর শব্দ হলো, আমাদের জানালা কাঁপতে থাকে। একটা বিশাল আগুনের গোলা দেখা গেল।” আরেকজন সাক্ষী এএনআইকে জানান, “রাস্তায় একটা হাত দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই। এটা বর্ণনা করা যায় না।” সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ি এবং ধোঁয়ায় ঢাকা এলাকা দেখা যাচ্ছে। টুইটারে (এক্স) অনেকে নিরাপত্তা ব্যর্থতার কথা বলছেন। এক পোস্টে লেখা, “লাল কেল্লার পার্কিং লট, দিল্লির সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গাগুলোর একটা, সেখানে বিস্ফোরক পৌঁছানো এবং বিস্ফোরণ—এটা বড় ব্যর্থতা।” এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে জনগণের মধ্যে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পটভূমিতে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঐতিহাসিক দুর্গ মুঘল যুগের প্রতীক এবং প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের স্থান। পর্যটকদের জনপ্রিয় স্পট হওয়ায় এখানে সবসময় কড়া নিরাপত্তা থাকে। তবে গত কয়েক বছরে দিল্লিতে কয়েকটি সন্দেহজনক ঘটনা ঘটেছে, যেমন ২০২০ সালে লাল কেল্লায় কৃষক আন্দোলনকারীদের দাঙ্গা। পুলিশের স্পেশাল সেল এবং এনআইএ তদন্তে জড়িত, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটা সাধারণ দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। সূত্র জানাচ্ছে, বিস্ফোরণের ধরন দেখে এটাকে টেরর অ্যাটাক হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। গতকাল ফরিদাবাদে আরডিএক্স সহ অস্ত্র নিয়ে দুজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের তদন্তে ফোরেনসিক টিম এবং বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড কাজ করছে। ঘটনাস্থলে ছয়টি গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশা পুড়ে ছাই হয়েছে। এনএসজি টিমও স্থলে পৌঁছেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজ চলছে। এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “আমরা সব সম্ভাব্য কোণ থেকে তদন্ত করছি, জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” এই লাল কেল্লা বিস্ফোরণের খবর ছড়াতেই রাজধানীর মেট্রো স্টেশন এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় কমে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনার পরপরই মুম্বাই এবং উত্তরপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্রের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এডিজিপি অমিতাভ যশ বলেন, “সব জেলা, সংবেদনশীল স্থান এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ডিজিপির নির্দেশে প্যাট্রোলিং এবং চেকিং বাড়ানো হবে।” কলকাতাতেও উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লেখা, “এই বিস্ফোরণের সময় বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে—এটা উদ্বেগজনক।” এই ব্যবস্থাগুলো দেশব্যাপী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের শক্তি দেখাচ্ছে।
লাল কেল্লা বিস্ফোরণের প্রভাব শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা টেররিস্ট নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। গত মাসে কাশ্মীর এবং হরিয়ানায় স্লিপার সেল ধ্বংস করা হয়েছে, যা এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। জনগণের মধ্যে ভয় দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পর্যটক এবং বাসিন্দাদের মধ্যে। এক পোস্টে বলা হয়েছে, “এটা দুর্ঘটনা না হলে যুদ্ধের কাজ কী?” তবে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া তীব্র। বিজেপি চণ্ডীগড়ের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট লিখেছে, “লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণের দুঃখজনক খবর। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা। এমন আক্রমণ আমাদের শান্তি নষ্ট করতে পারবে না।” আরেক পোস্টে বলা হয়েছে, “বিহারের শেষ ধাপের ভোটের একদিন আগে এই টাইমিং অদ্ভুত।” এই মন্তব্যগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক উদ্বেগও মিশে গেছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকাররা সতর্ক করছেন, গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে।
নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন: ভারতের সর্বাধিক রাজস্ব উৎপাদনকারী রেল হাব
লাল কেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে এনআইএ এবং দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকের ধরন আরডিএক্স-এর মতো হতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকাটি সবসময় ভিড় করে, যা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ফায়ার টিমের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জীবন রক্ষায় সাহায্য করেছে। এখন জিজ্ঞাসা হচ্ছে, এমন ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যাবে। কর্তৃপক্ষ আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। লাল কেল্লা বিস্ফোরণের ফলে রাজধানীতে জীবন স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় সবাই, যাতে এর পিছনের সত্য উন্মোচিত হয়। আহতদের সুস্থতা এবং মৃত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন, দেশের শান্তি রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা জাল প্রয়োজন।











