ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে?

ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে? (স্টপেজ তালিকা + সময়সূচী)

ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো: এটা ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জংশন/স্টেশনে থামে, যাতে টাঙ্গাইল–সিরাজগঞ্জ–পাবনা অঞ্চলের যাত্রীরা সহজে ওঠানামা করতে পারেন।​ স্টপেজের নাম কখনও একটু আলাদা ভাবে লেখা থাকতে পারে—যেমন “বিমানবন্দর”কে অনেক…

Updated Now: March 5, 2026 9:48 PM
বিজ্ঞাপন

ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো: এটা ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জংশন/স্টেশনে থামে, যাতে টাঙ্গাইল–সিরাজগঞ্জ–পাবনা অঞ্চলের যাত্রীরা সহজে ওঠানামা করতে পারেন।​
স্টপেজের নাম কখনও একটু আলাদা ভাবে লেখা থাকতে পারে—যেমন “বিমানবন্দর”কে অনেক জায়গায় “Dhaka Airport” বলা হয়।​
আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখুন: কিছু তালিকায় “বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব” লেখা দেখা যায়, আবার কিছু টাইমটেবিলে কাছাকাছি/সম্পর্কিত স্টেশন হিসেবে “ইব্রাহীমাবাদ” দেখা যায়—তাই স্টেশনের নাম মিলিয়ে দেখাই ভালো।
যাত্রার দিনভেদে বা রেলওয়ের অপারেশনাল কারণে থামার সময়ে মিনিটখানেক এদিক-ওদিক হতে পারে—এটা স্বাভাবিক।​

রুট এক নজরে (ট্রেন নং ৭৬৯/৭৭০)

ধুমকেতু এক্সপ্রেসের আপ ট্রিপ (৭৬৯) ঢাকা → রাজশাহী, আর ডাউন ট্রিপ (৭৭০) রাজশাহী → ঢাকা।​
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাত্রায় স্টপেজ তুলনামূলক বেশি, আর রাজশাহী থেকে ঢাকায় রাতের ট্রিপে স্টপেজ কিছুটা কম দেখা যায়—বিশেষ করে কিছু স্টপে “শুধু পৌঁছায়” টাইপ এন্ট্রি থাকে।​
আপনি যদি প্রথমবার যান, তাহলে “শুরু স্টেশন + শেষ স্টেশন + মাঝের বড় ৩–৪টা স্টপ” মাথায় রাখলেই গাড়িতে উঠতে সুবিধা হবে।​
নিচে দুই দিকের স্টপেজ তালিকা আলাদা করে দিলাম।​

ঢাকা → রাজশাহী (৭৬৯) স্টপেজ তালিকা

এই দিকটায় ধুমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছেড়ে প্রথমেই বিমানবন্দর/ঢাকা এয়ারপোর্ট, তারপর জয়দেবপুর–টাঙ্গাইল–ইব্রাহীমাবাদ পেরিয়ে সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের একাধিক স্টপে থামে, তারপর পাবনা পাশ দিয়ে ঈশ্বরদী বাইপাস হয়ে নাটোর/রাজশাহীর দিকে ওঠে।​
স্টেশনের ক্রম (ঢাকা → রাজশাহী): Dhaka → Biman Bandar/Dhaka Airport → Joydebpur → Tangail → Ibrahimabad → SH M Monsur Ali → Jamtail → Ullapara → Boral Bridge → Chatmohar → Ishwardi Bypass → Abdulpur → Arani → Rajshahi।​
এই তালিকাটাই সাধারণভাবে “ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে” সার্চ করলে যেটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।​
এখন চলুন, একই তালিকাকে সময়সূচীসহ দেখাই।

রাজশাহী → ঢাকা (৭৭০) স্টপেজ তালিকা

ফেরার ট্রিপে ধুমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে রাত ১১টার পরে ছাড়ে এবং ভোরের দিকে ঢাকা পৌঁছয়—এইটাই অনেকের কাছে সুবিধাজনক নাইট জার্নি।​
স্টেশনের ক্রম (রাজশাহী → ঢাকা): Rajshahi → Arani → Abdulpur → Ishwardi Bypass → Chatmohor → Baral Bridge → Shaheed M. Mansur Ali → Ibrahimabad → Joydebpur → Dhaka Airport → Dhaka।​
এখানেও আপনি দেখবেন, “ঢাকা এয়ারপোর্ট/বিমানবন্দর” স্টপটা ভোরের দিকেই পড়ে।​
এবার পুরো টাইমটেবিলটা আলাদা সেকশনে দিলাম।​

কী জানতে চানদ্রুত উত্তর
ট্রেন নম্বর৭৬৯ (ঢাকা→রাজশাহী), ৭৭০ (রাজশাহী→ঢাকা) ​
ঢাকা→রাজশাহী প্রধান স্টপবিমানবন্দর/ঢাকা এয়ারপোর্ট, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল, ঈশ্বরদী বাইপাস, আব্দুলপুর ​
রাজশাহী→ঢাকা-তে এয়ারপোর্ট স্টপ আছে?আছে—Dhaka Airport স্টপ দেখানো আছে। ​

 

ঢাকা থেকে রাজশাহী: পূর্ণ স্টপেজ ও সময় (ট্রেন ৭৬৯)

ঢাকা থেকে রাজশাহী—এই ট্রিপে ধুমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে ছাড়ে এবং বেলা ১১:৪০-এ রাজশাহী পৌঁছয় (অনলাইন টাইমটেবিল অনুযায়ী)।
যাত্রাপথে প্রতিটা স্টপে মিনিট দু-তিন করে থামার মতো করে ডিপার্চার টাইমও দেওয়া আছে, তাই “কোথায় কোথায় থামে”র সাথে “কখন থামে”—দুটোই একসাথে বুঝে নেওয়া যায়।
আপনি যদি টাঙ্গাইল/সিরাজগঞ্জ লাইনের দিকে যাচ্ছেন, এই ৭৬৯ ট্রেনটাই সাধারণত সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ সকালবেলা রওনা—দিনের আলোতেই অধিকাংশ রাস্তা।
নীচের টেবিলটা Dhaka→Rajshahi (৭৬৯) পূর্ণ স্টপেজ এবং সময়ের তালিকা।

৭৬৯ টাইমটেবিল (Dhaka → Rajshahi)

স্টেশনArrivalDeparture
Dhaka06:00 am
Biman_Bandar06:23 am06:28 am
Joydebpur06:51 am06:53 am
Tangail07:47 am07:49 am
Ibrahimabad08:09 am08:11 am
SH M Monsur Ali08:27 am08:30 am
Jamtail08:38 am08:44 am
Ullapara08:56 am08:59 am
Boral_Bridge09:28 am09:31 am
Chatmohar09:44 am09:47 am
Ishwardi Bypass10:12 am10:15 am
Abdulpur10:33 am10:36 am
Arani10:47 am10:49 am
Rajshahi11:40 am


কোন স্টপটা কার জন্য কাজে লাগে

বিমানবন্দর/ঢাকা এয়ারপোর্ট স্টপটা ঢাকার ভেতরেই দ্রুত ওঠানামার জন্য সুবিধাজনক—বিশেষ করে যাদের কমলাপুর পর্যন্ত আসতে দেরি হয়।​
জয়দেবপুর সাধারণত গাজীপুর–টঙ্গী সাইডের যাত্রীদের জন্য বড় স্টপ, আর টাঙ্গাইল স্টপটা টাঙ্গাইল শহর ও আশেপাশের এলাকার জন্য মূল পয়েন্ট।
ইব্রাহীমাবাদ–শহীদ এম মনসুর আলী–জামতাইল–উল্লাপাড়া—এই স্টপগুলো সিরাজগঞ্জ করিডোরে পড়ে, তাই এই দিকে যাতায়াত করলে স্টেশন নামগুলো আগে থেকে নোট করে রাখুন।​
ঈশ্বরদী বাইপাস/আব্দুলপুরের পরে রুটটা রাজশাহী অঞ্চলের দিকে ঢুকে যায়—আপনি যদি নাটোর/পুঠিয়া এলাকায় নামতে চান, স্টপগুলো মিলিয়ে দেখলে ভালো।

লাইভ ট্র্যাক/খোঁজ নেওয়ার সহজ উপায়

অনেক সময় ট্রেন লেট হলে “কোথায় আছে” জানলে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা চাপ কমে, বিশেষ করে ভোর/রাতের ট্রিপে।
TrainJatri-তে “Live track this Train” সেকশনে ৭৬৯/৭৭০ ট্রেনকে TR 769 বা TR 770 লিখে 16318 নম্বরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।
সব জায়গায় এই সার্ভিস একইভাবে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই, তবে জরুরি সময়ে এটা একটা কাজের রেফারেন্স হতে পারে।
সবচেয়ে নিরাপদ হলো: যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার/অফিশিয়াল হেল্পলাইন থেকেও মিলিয়ে নেওয়া।

কী কাজে লাগবেDhaka→Rajshahi ট্রিপে টিপস
সকাল ৬টার ট্রেনস্টেশনে ৩০–৪৫ মিনিট আগে গেলে চাপ কমে।
গুরুত্বপূর্ণ করিডোরJoydebpur–Tangail–Ibrahimabad–Ishwardi Bypass—এই অংশটা “মাঝের মেরুদণ্ড”।
লাইভ আপডেটTR 769/770, 16318 (TrainJatri রেফারেন্স)


রাজশাহী থেকে ঢাকা: পূর্ণ স্টপেজ ও সময় (ট্রেন ৭৭০)

রাজশাহী থেকে ঢাকার দিকে ধুমকেতু এক্সপ্রেস রাত ১১:২০-এ ছাড়ে এবং ভোর ৪:৪০-এর দিকে ঢাকায় পৌঁছয়—এটা অনলাইন টাইমটেবিলে দেখানো আছে।​
এই ট্রিপটা যারা রাতের জার্নি পছন্দ করেন বা অফিস/কাজ শেষে রাতের ট্রেন ধরতে চান, তাদের জন্য প্র্যাক্টিকাল—কারণ সকালে ঢাকায় ঢুকে পড়া যায়।​
তবে রাতের ট্রিপ বলে নিরাপত্তা, খাবার/পানি, ফোন চার্জ—এই জিনিসগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে নিলে ভালো।​
নীচের টেবিলটা Rajshahi→Dhaka (৭৭০) স্টপেজ এবং সময়ের তালিকা।​

৭৭০ টাইমটেবিল (Rajshahi → Dhaka)

স্টেশনসময় (ডিপার্চার/পৌঁছানো)
Rajshahi11:20 PM ​
Arani11:51 PM ​
Abdulpur12:05 AM ​
Ishwardi Bypass12:22 AM ​
Chatmohor12:45 AM ​
Baral Bridge1:05 AM ​
Shaheed M. Mansur Ali1:57 AM ​
Ibrahimabad2:16 AM ​
Joydebpur3:32 AM ​
Dhaka Airport4:02 AM ​
Dhaka4:40 AM ​


রাতের ট্রিপ—কী মাথায় রাখবেন

রাতের ট্রেনে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক ফাঁকা থাকতে পারে, তাই টিকিট, আইডি, এবং লাগেজ নিরাপত্তা—সবটা নিজেই খেয়াল রাখতে হয়।​
Dhaka Airport স্টপটা ভোরের দিকে, তাই এয়ারপোর্ট এরিয়া/উত্তরা–টঙ্গী সাইডে নামার প্ল্যান থাকলে এটা সুবিধার।​
যদি আপনার গন্তব্য কমলাপুরই হয়, তাহলে শেষ স্টপ Dhaka-তেই নামবেন—টাইমটেবিলে সেটাই ফাইনাল স্টেশন হিসেবে দেখানো।​
এ ধরনের রাতের ট্রেনে কখনও কখনও মিনিট ১০–২০ এদিক-ওদিক হওয়া অস্বাভাবিক নয়—তাই ভোরের কানেক্টিং কাজ থাকলে একটু বাফার রাখুন।​

স্টেশন নামের “ভ্যারিয়েশন”

একই স্টেশনকে বিভিন্ন সাইটে ভিন্ন নামে লেখা হতে পারে—যেমন Biman Bandar বনাম Dhaka Airport।​
আবার “বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব” বনাম “ইব্রাহীমাবাদ”—দুটো নামই বিভিন্ন তালিকায় দেখা যায়, তাই আপনার টিকিট/স্টেশন বোর্ডে যে নাম আছে সেটাকেই প্রাইমারি ধরুন।
যদি সন্দেহ থাকে, যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টারে জিজ্ঞেস করে নিলে কনফিউশন থাকে না।​
এই ছোটখাটো বিষয়গুলোই বাস্তবে “ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে” প্রশ্নের উত্তরকে আরও ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।​

কোন পরিস্থিতিকী করবেন
ভোরে এয়ারপোর্টে নামবেনDhaka Airport স্টপ (৪টার দিকে) মাথায় রাখুন। ​
রাতের লেট নিয়ে চিন্তাভোরের অ্যাপয়েন্টমেন্টে বাফার রাখুন। ​
স্টেশন নাম নিয়ে কনফিউশনBiman Bandar = Dhaka Airport (অনেক তালিকায়) ​


সাপ্তাহিক ছুটি, সময় বদল ও আপডেট কীভাবে চেক করবেন

অনলাইন টাইমটেবিল অনুযায়ী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা→রাজশাহী রুটে বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।​
আর রাজশাহী→ঢাকা রুটে সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার—এটাও একই ধরনের টাইমটেবিলে উল্লেখ আছে।​
তবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছুটির দিন নিয়ে মাঝে মাঝে গরমিল দেখা যায়, তাই আপনার যাত্রার দিন নিশ্চিত হওয়াটা জরুরি।
সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো: যাত্রার আগে স্টেশন/অফিশিয়াল চ্যানেল + আপডেটেড ট্রেন টাইমটেবিল—দুটো মিলিয়ে নেওয়া।​

কেন সময়সূচী বদলাতে পারে

রেলওয়েতে অপারেশনাল কারণ, সিগন্যালিং, ট্র্যাক মেইনটেন্যান্স, কিংবা কোনও বিশেষ দিনের চাপ—এসব কারণে ট্রেনের টাইমিং বা স্টপেজে অস্থায়ী বদল আসতে পারে।​
তাই ব্লগ/থার্ড-পার্টি টাইমটেবিলকে “রেফারেন্স” ধরে এগোনো ভালো, কিন্তু ফাইনাল কথাটা স্টেশন থেকেই নিন।​
আপনি যদি বড় কোনও ভ্রমণ প্ল্যান (ফ্লাইট/বাস কানেকশন) করেন, সে ক্ষেত্রে এই যাচাইটা আরও দরকার।​
এক কথায়, আপডেট না দেখে শুধু পুরনো স্ক্রিনশটের উপর ভরসা করবেন না।​

দ্রুত আপডেট চেক করার বাস্তব উপায়

TrainJatri-র মতো সাইটে স্টেশনভিত্তিক টাইমটেবিল দেওয়া থাকে, যেটা দ্রুত রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
Nobolok-এর মতো সাইটে দুই দিকের স্টেশন ও সময় একসাথে দেওয়া থাকে—বিশেষ করে Rajshahi→Dhaka ট্রিপে Dhaka Airport স্টপও দেখায়।​
তারপরও যাত্রার ১২–২৪ ঘণ্টা আগে স্টেশন কাউন্টার/রেলওয়ে হেল্পলাইন থেকে “আজ ট্রেন চলবে তো?”—এই একবার জিজ্ঞেস করলেই মানসিক শান্তি থাকে।​
এভাবেই “ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে” প্রশ্নের উত্তরটা আপনি একদম আপ-টু-ডেট করে নিতে পারবেন।​

বিষয়অনলাইন টাইমটেবিলে যা দেখা যায়
ঢাকা→রাজশাহী অফ-ডেবৃহস্পতিবার ​
রাজশাহী→ঢাকা অফ-ডেবুধবার ​
আপডেট চেকTrainJatri/Nobolok রেফারেন্স + স্টেশন কনফার্ম ​


টিকিট, ভাড়া, ক্লাস ও যাত্রা টিপস (ব্যবহারিক গাইড)

স্টপেজ জানার পাশাপাশি টিকিট–ভাড়া–ক্লাস জানা থাকলে প্ল্যানিংটা আরও স্মুথ হয়, বিশেষ করে ছুটির সময় বা পরীক্ষার সিজনে।
ধুমকেতু এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় সাধারণত সিটভিত্তিক ভ্রমণটাই বেশি দেখা যায়, আর ক্লাসভেদে ভাড়া বদলায়।​
নীচের ভাড়া/ক্লাসের তথ্যটা অনলাইন তালিকা থেকে নেওয়া—বাস্তবে ভাড়া আপডেট হতে পারে, তাই বুকিংয়ের সময় অফিসিয়াল সিস্টেমে দেখানো দামটাই ফাইনাল ধরুন।​
এবার যাত্রার কিছু প্র্যাক্টিকাল টিপসও দিলাম, যেগুলো নতুন যাত্রীদের কাজে লাগে।

আসন শ্রেণি ও ভাড়ার একটা ধারণা

একটি অনলাইন তালিকায় ধুমকেতু এক্সপ্রেসের জন্য শোভন চেয়ার, “প্রথম সিট”, এসি সিট, এসি বার্থ—এই ক্যাটেগরি ও ভাড়া (১৫% ভ্যাটসহ) উল্লেখ আছে।​
ওই তালিকা অনুযায়ী শোভন চেয়ার ৩৪০ টাকা, “প্রথম সিট” ৫৭০ টাকা, এসি সিট ৬৮০ টাকা, এসি বার্থ ১০২০ টাকা।​
বাস্তবে আপনি যে দিন টিকিট কাটবেন, সেই দিনের ফেয়ার চার্ট/অনলাইন বুকিং-দামই ধরে এগোনো ভালো—কারণ ভাড়া ও ভ্যাট নীতি আপডেট হতে পারে।​
তবে তুলনামূলকভাবে বোঝা যায়: এসি বার্থ সবচেয়ে প্রিমিয়াম, আর শোভন চেয়ার সবচেয়ে বাজেট-ফ্রেন্ডলি।​

টিকিট কাটার সময় ছোট কিছু টিপস

বড় স্টেশন (ঢাকা/রাজশাহী) থেকে উঠলে সাধারণত কাউন্টার ভিড় হয়, তাই অনলাইন বুকিং থাকলে সেটা সময় বাঁচায়।
আপনি যে স্টপ থেকে উঠবেন, সেই স্টেশনে ট্রেন “থামে” কিনা আগে নিশ্চিত হন—কারণ একই রুটের সব ট্রেন সব স্টেশনে থামে না।​
যদি আপনার গন্তব্য Dhaka Airport/Biman Bandar হয়, তাহলে কোন দিকের ট্রিপে কখন সেখানে থামে—টেবিল দেখে তবেই প্ল্যান করুন।​
আর রাতের ট্রিপে (৭৭০) ভোরে নামতে হলে অ্যালার্ম/রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন—কারণ ঘুম ভেঙে স্টেশন মিস হওয়া খুব কমন সমস্যা।

শেষ কথা

“ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে” মনে রাখার সহজ ট্রিক: ঢাকা–এয়ারপোর্ট–জয়দেবপুর–টাঙ্গাইল–(সিরাজগঞ্জের কয়েকটা স্টপ)–ঈশ্বরদী বাইপাস–আব্দুলপুর–আড়ানী–রাজশাহী—এই কোর স্টপগুলো আগে মাথায় নিন।​
তারপর আপনার নিজের দরকারি স্টেশনটা (যেমন জামতাইল/উল্লাপাড়া/চাটমোহর) আলাদা করে মার্ক করে রাখুন—যাত্রার দিন কনফিউশন হবে না।​
আর সবচেয়ে জরুরি: যাত্রার আগের দিন স্টেশন বা অফিসিয়াল চ্যানেলে একবার মিলিয়ে নিলে টাইমিং/স্টপেজ বদল নিয়ে ঝামেলা কমে।​
এইভাবেই আপনি ধুমকেতু এক্সপ্রেসে নিরাপদ, প্ল্যানড আর ঝামেলাহীন ট্রিপ করতে পারবেন।

আরও কিছু তথ্য একনজরে

১. ধুমকেতু এক্সপ্রেসের টিকেটের দাম কত?

ধুমকেতু এক্সপ্রেসে মোট চারটি আসন শ্রেণিতে টিকেট পাওয়া যায়, আর ভাড়াটা শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা। সবচেয়ে বাজেট অপশন হলো শোভন চেয়ার — ঢাকা থেকে রাজশাহী পুরো রুটে প্রায় ৩৪০–৪০৫ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)। এর পরে আসে স্নিগ্ধা ক্লাস, যেটা এসি-কুশন চেয়ার — ভাড়া প্রায় ৭৭১ টাকা, আর এসি সিট পড়ে প্রায় ৯২৬ টাকা। রাতে শুয়ে যেতে চাইলে এসি বার্থ নিতে হবে, যার ভাড়া প্রায় ১,৩৮৬ টাকা — এটাই সবচেয়ে প্রিমিয়াম। মাঝের স্টেশন থেকে উঠলে ভাড়া কম হবে — যেমন জয়দেবপুর থেকে ঢাকা শোভন চেয়ারে মাত্র ২১০ টাকা। ভাড়া সময়ের সাথে আপডেট হতে পারে, তাই টিকেট কাটার সময় বুকিং সিস্টেমে দেখানো দামটাকেই ফাইনাল ধরুন।

আসন শ্রেণিআনুমানিক ভাড়া (ঢাকারাজশাহী)
শোভন চেয়ার৩৪০–৪০৫ টাকা
স্নিগ্ধা৭৭১ টাকা ​
এসি সিট৯২৬ টাকা ​
এসি বার্থ১,৩৮৬ টাকা ​


২. ধুমকেতু এক্সপ্রেস কোন দিন ছুটি?

ধুমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা → রাজশাহী রুটে (ট্রেন নং ৭৬৯) সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে বৃহস্পতিবার। আর বিপরীত দিকে রাজশাহী → ঢাকা রুটে (ট্রেন নং ৭৭০) বন্ধ থাকে বুধবার। এই দুটো দিন ট্রেন চলে না, তাই এই দিনগুলোতে যাওয়ার প্ল্যান থাকলে বিকল্প ট্রেন দেখতে হবে। অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে অফ-ডে নিয়ে মাঝে মাঝে একটু গরমিল দেখা যায়, কারণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে ছুটির সময়সূচি পরিবর্তন করে। তাই যাত্রার ঠিক আগের দিন বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল সাইট বা স্টেশন থেকে নিশ্চিত করে নেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ জাতীয় দিবস বা ঈদের সিজনে বিশেষ ট্রেন চালু হতে পারে, সেসময় সাধারণ অফ-ডে নাও মানা হতে পারে।

রুটট্রেন নংসাপ্তাহিক বন্ধ
ঢাকা → রাজশাহী৭৬৯বৃহস্পতিবার ​
রাজশাহী → ঢাকা৭৭০বুধবার


৩. ধুমকেতু এক্সপ্রেসে কী কী সিট ক্লাস আছে?

ধুমকেতু এক্সপ্রেসে মোট চারটি সিট ক্লাস আছে — শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট এবং এসি বার্থ। শোভন চেয়ার হলো সবচেয়ে সাধারণ ও সাশ্রয়ী অপশন — সাধারণ বসার সিট, এসি নেই, কিন্তু জানালার ধারের সিটে সকালের দৃশ্য দেখতে বেশ ভালো লাগে। স্নিগ্ধা ক্লাসে এসি-কুশন সিট থাকে, আরামে বসে যাওয়া যায়—মিড-রেঞ্জ বাজেটে এটা বেশি জনপ্রিয়। এসি সিট আরও উন্নত, কিন্তু রাতের দীর্ঘ জার্নিতে যারা ঘুমাতে চান, তাদের জন্য এসি বার্থ সেরা—শুয়ে যাওয়া যায়, কার্টেন টানা, পুরো প্রাইভেসি। নতুন যাত্রীদের জন্য পরামর্শ: দিনের ট্রিপে স্নিগ্ধা, আর রাতের ট্রিপে (৭৭০) এসি বার্থ নিলে জার্নি অনেকটাই কমফোর্টেবল হয়।

সিট ক্লাসধরনউপযুক্ত যাত্রী
শোভন চেয়ারসাধারণ বসার সিট, এসি নেই ​বাজেট যাত্রী
স্নিগ্ধাএসি-কুশন চেয়ার ​কমফোর্ট চান, বাজেটে
এসি সিটপূর্ণ এসি আসন ​প্রিমিয়াম দিনের ট্রিপ
এসি বার্থশুয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ​রাতের দীর্ঘ জার্নি


৪. ধুমকেতু এক্সপ্রেস বুকিং কীভাবে করব?

ধুমকেতু এক্সপ্রেসের টিকেট দুইভাবে কাটা যায় — অনলাইনে এবং সরাসরি স্টেশন কাউন্টার থেকে। অনলাইনে বুকিং করতে হলে প্রথমে www.eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেইল ও ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পরে “Purchase” অপশনে গিয়ে যাত্রার তারিখ, শুরুর স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, ক্লাস এবং সিট সংখ্যা সিলেক্ট করতে হবে। সিট বেছে নেওয়ার পর মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) বা ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করলেই ই-টিকেট ডাউনলোড হয়ে যাবে। যাত্রার সময় সফট কপি বা প্রিন্ট কপি দুটোই গ্রহণযোগ্য, তবে সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ফটো আইডি রাখতে হবে। ছুটির মৌসুম বা ঈদের সময় সিট দ্রুত ভরে যায়, তাই ৫–৭ দিন আগে থেকেই বুকিং দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. ঢাকা–রাজশাহী রুটে অন্য কোন দ্রুত ট্রেন আছে?

ঢাকা–রাজশাহী রুটে ধুমকেতু ছাড়াও মোট পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে, আর এর মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস সবচেয়ে দ্রুততম। বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) ঢাকা থেকে দুপুর ১:৩০-এ ছাড়ে, মাত্র একটি স্টপ (ঈশ্বরদী) দিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায়—এটাই রুটের সবচেয়ে কম সময়ের ট্রেন। সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩) ছাড়ে বিকেল ২:৪০-এ, পৌঁছায় রাত ৮:৩০-এ — প্রায় ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট লাগে। পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯) রাতের ট্রেন, রাত ১০:৪৫-এ ছাড়ে, ভোরে রাজশাহী পৌঁছায় — প্রায় ৫:৩০ ঘণ্টার জার্নি। মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) বিকেল ৩টায় ছাড়ে এবং রাত ১০:৪০-এ পৌঁছায়, স্টপেজ বেশি থাকায় সময় বেশি লাগে। সংক্ষেপে, দ্রুত যেতে চাইলে বনলতা, রাতে যেতে চাইলে পদ্মা আর সকালে পৌঁছাতে চাইলে ধুমকেতু — এই তিনটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।​

ট্রেনঢাকা থেকেরাজশাহী পৌঁছানোবন্ধের দিন
বনলতা এক্সপ্রেস১:৩০ PM৬:০৫ PMশুক্রবার ​
সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস২:৪০ PM৮:৩০ PMরবিবার ​
মধুমতি এক্সপ্রেস৩:০০ PM১০:৪০ PMবৃহস্পতিবার ​
পদ্মা এক্সপ্রেস১০:৪৫ PM৪:২৫ AMমঙ্গলবার ​
ধুমকেতু এক্সপ্রেস৬:০০ AM১১:৪০ AMবৃহস্পতিবার ​