প্রথম দিনের আগেই রেকর্ড, ‘ধুরন্ধর’-এর ওপেনিংকেও ছাড়াল রণবীরের ‘ধুরন্ধর ২’

রণবীর সিংহ ও আদিত্য ধর জুটির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে বড় বার্তা দিয়ে দিল। ১৮ মার্চের পেইড প্রিভিউ শো থেকেই ছবিটি ভারতে আনুমানিক…

Sangita Chowdhury

রণবীর সিংহ ও আদিত্য ধর জুটির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে বড় বার্তা দিয়ে দিল। ১৮ মার্চের পেইড প্রিভিউ শো থেকেই ছবিটি ভারতে আনুমানিক ₹৫২.৭১ কোটি গ্রস এবং প্রায় ₹৪৩-৪৪ কোটি নেট আয় করেছে। ট্রেড ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের তথ্য উদ্ধৃত করে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঙ্ক এসেছে ১২,২৯২টি শো মিলিয়ে—অর্থাৎ ১৯ মার্চের পূর্ণাঙ্গ মুক্তির আগেই ছবিটি বছরের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনগুলির একটিতে নাম লিখিয়ে ফেলেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ‘ধুরন্ধর ২’-এর পেইড প্রিভিউ-আয়ই প্রথম ‘ধুরন্ধর’ ছবির প্রথম দিনের নেট সংগ্রহকে ছাপিয়ে গিয়েছে। স্যাকনিল্কের ডে-ওয়াইজ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি প্রথম দিনে ₹২৮ কোটি নেট এবং ₹৩৩.৬ কোটি গ্রস তুলেছিল। সেই তুলনায় সিক্যুয়েলটি পূর্ণ মুক্তির আগেই প্রথম কিস্তির ওপেনিং ডে-কে পেরিয়ে যাওয়ায় বলিউডে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির বাজার কতটা বড় হয়েছে, তা স্পষ্ট। প্রথম ছবির দীর্ঘ বক্স অফিস দৌড়ও এই উন্মাদনার বড় কারণ; স্যাকনিল্কের হিসাব বলছে, সেটি ভারতে প্রায় ₹৮৩৯.৯ কোটি নেট এবং বিশ্বজুড়ে ₹১৩০৭ কোটি পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

কেন এত বড় উদ্বোধন

এই বিস্ফোরক শুরু হঠাৎ আসেনি। মুক্তির আগেই ছবিটির অ্যাডভান্স বুকিং নিয়ে একের পর এক রেকর্ডের খবর সামনে আসছিল। দ্য ইকনমিক টাইমস জানিয়েছে, পূর্ণ মুক্তির আগেই PVR INOX-এ ১০ লক্ষেরও বেশি অগ্রিম টিকিট বুকিং হয়ে গিয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু প্রিমিয়ার শোগুলির জন্যই সর্বভারতীয় অগ্রিম বুকিং ₹৪২.৭১ কোটি গ্রস ছুঁয়েছিল, আর ব্লক সিট ধরা হলে তা ₹৪৭.৯১ কোটিতে পৌঁছয়। এর মধ্যে একা হিন্দি সংস্করণের জন্যই ৮.৬২ লক্ষের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ, ছবির ব্যবসার মেরুদণ্ড যে মূলত হিন্দি বাজার, তা প্রথম দিনেই পরিষ্কার।

দাবি শুধু টিকিট বিক্রিতে থামেনি, প্রদর্শন সূচীতেও তার ছাপ পড়েছে। মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক মারাঠা মন্দিরে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’-র বহু বছরের মর্নিং স্লট সরিয়ে ‘ধুরন্ধর ২’কে জায়গা দেওয়া হয়েছে, যা প্রতীকী দিক থেকেও বড় ঘটনা। ইকনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, দর্শকচাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে কোথাও কোথাও ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে শো রাখা হয়, আবার কিছু হলে রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকেও বিশেষ শিডিউল যোগ করা হয়েছে। বলিউডের জন্য এ ধরনের আগাম স্লটিং খুবই বিরল এবং সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছে এই সিক্যুয়েলকে ঘিরে বাজারের আত্মবিশ্বাস কতটা উঁচুতে।

শো বাতিলের ধাক্কাও থামাতে পারেনি

তবে এই রেকর্ড-শুরুর ছবি পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। মুক্তির দিন ঘনিয়ে আসতেই একাধিক প্রিমিয়ার শো বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ার খবরও সামনে আসে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিশেষ করে কন্নড় ও মালয়ালম সংস্করণের কিছু শো পরিকল্পনামাফিক চলেনি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ভাষা মিলিয়ে প্রিমিয়ার শোগুলির জন্য ৯ লক্ষেরও বেশি টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু এই বাতিল ও বিলম্বের ফলে প্রিমিয়ার আয়ে ₹২.২৫ কোটির বেশি ধাক্কা লাগতে পারে। ফলে এখন যে ₹৫২.৭১ কোটি গ্রস বা ₹৪৪ কোটির কাছাকাছি নেট অঙ্ক সামনে এসেছে, সেটিও কিছুটা সংশোধিত হতে পারে—বিশেষত রিফান্ডের হিসাব পুরোপুরি মিটে গেলে।

প্রদর্শক মহলের অভিযোগ আরও তীব্র। গেইটি গ্যালাক্সি ও মারাঠা মন্দিরের কর্ণধার মনোজ দেশাই টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, সময়মতো KDM না পৌঁছনোর কারণেই বহু হলে শো চালানো যায়নি। তাঁর দাবি, শুধু তাঁর নিজস্ব হলেই কয়েকটি শো বাতিল হয়েছে এবং দেশজুড়ে শতাধিক হলে, এমনকি প্রায় ৫০০ থিয়েটারেও এই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। যেহেতু এটি এক প্রদর্শকের দাবি, তাই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত; তবে এটুকু স্পষ্ট, লজিস্টিক সমস্যার ধাক্কা সত্ত্বেও ছবির চাহিদা এত বেশি ছিল যে ব্যবসার মূল গতি থেমে থাকেনি।

ফ্র্যাঞ্চাইজির জোর, তারকাদের ভরসা

‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ পরিচালনা করেছেন আদিত্য ধর। ছবিটি প্রযোজনা করেছে জিও স্টুডিওসB62 স্টুডিওস। মুখ্য ভূমিকায় আছেন রণবীর সিংহ, সঙ্গে রয়েছেন সারা অর্জুন, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, রাকেশ বেদিযামী গৌতম। প্রথম ছবির সাফল্যের পর এই সিক্যুয়েলকে ঘিরে যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রিমিয়ার-আয় সেই প্রত্যাশাকেই আরও শক্ত করল। বলিউডে এখন প্রায় স্থির মত, ‘ধুরন্ধর’ আর একক ছবি নয়—এটি স্পষ্টতই বড় মাপের ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে উঠেছে।

এখন আসল নজর থাকবে ১৯ মার্চের পূর্ণ দিবসের সংগ্রহ এবং প্রথম সপ্তাহান্তের গতিপথে। কারণ, পেইড প্রিভিউ-র অঙ্ক যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত ছবির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে ওয়ার্ড অব মাউথ, পুনরায় দর্শক টানা এবং অ-হিন্দি বাজারে প্রদর্শন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলি কত দ্রুত মেটে তার উপর। তবু এই মুহূর্তে একটি বিষয় পরিষ্কার—‘ধুরন্ধর ২’ শুধু নিজের প্রথম কিস্তিকেই পেছনে ফেলেনি, মুক্তির আগেই ২০২৬ সালের হিন্দি ছবির বক্স অফিস দৌড়ে নিজেকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

About Author