ভারতে লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য স্থান! এই জায়গায় শীতকালে তাপমাত্রা পড়ে -৬০°সে, তবু মানুষের জীবন চলছে অবিরাম!

লাদাখের কর্গিল জেলায় অবস্থিত ড্রাস শহরটি ভারতের সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত, এবং বিশ্বব্যাপী এটিকে দ্বিতীয় সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য জায়গা বলে মনে করা হয়—রাশিয়ার ওয়েমিয়াকনের পর। এখানকার শীতকালে তাপমাত্রা…

Manoshi Das

 

লাদাখের কর্গিল জেলায় অবস্থিত ড্রাস শহরটি ভারতের সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত, এবং বিশ্বব্যাপী এটিকে দ্বিতীয় সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য জায়গা বলে মনে করা হয়—রাশিয়ার ওয়েমিয়াকনের পর। এখানকার শীতকালে তাপমাত্রা -৬০° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়, যা মানুষের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবু, প্রায় ২২,০০০ জনসংখ্যার এই ছোট শহরে মানুষেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন করে চলেছে, যা প্রকৃতির কঠোরতার মুখোমুখি হয়েও অদম্য সাহসের প্রতীক। এই নিবন্ধে আমরা ড্রাসের সম্পূর্ণ ইতিহাস, জলবায়ু, জীবনযাত্রা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পাঠকরা স্পষ্ট ধারণা পান।

ড্রাসের অবস্থান ও ভূগোল: হিমালয়ের কোলে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য

হিমালয়ের উত্তরাঞ্চলে, জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ ইউনিয়ন টেরিটরির কর্গিল জেলায় ড্রাস অবস্থিত। এটি জোজি লা পাস এবং কর্গিল শহরের মাঝখানে ন্যাশনাল হাইওয়ে ১ (এনএইচ ১) এর উপর রয়েছে, যা শ্রীনগর থেকে লেহের মূল রাস্তা। স্থানাংক ৩৪°২৫′৪৯″ উত্তর এবং ৭৫°৪৫′১১″ পূর্বে অবস্থিত এই শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৩০০ মিটার (১০,৮০০ ফুট) উচ্চতায়। ড্রাস ভ্যালির কেন্দ্রভাগে রয়েছে এটি, যা সুরু নদীর উপনদী দ্রাস নদী দ্বারা গঠিত। শ্রীনগর থেকে ১৪০ কিলোমিটার, সোনমার্গ থেকে ৬৩ কিলোমিটার এবং কর্গিল থেকে মাত্র ৫৮ কিলোমিটার দূরে এই স্থানটি ‘লাদাখের গেটওয়ে’ নামে পরিচিত।

এই অঞ্চলের ভূগোল অত্যন্ত কঠিন—চারপাশে উঁচু পাহাড়ের চেইন, যেমন জাস্কার পর্বতমালা এবং কারাকোরাম রেঞ্জ। এখানকার মাটি পাহাড়ি এবং পাথুরে, যা কৃষিকাজের জন্য চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। তবে, এই ভূগোলই ড্রাসকে একটি অনন্য সৌন্দর্য প্রদান করে, যেখানে হিমশৈল এবং সবুজ উপত্যকার মিশ্রণ দেখা যায় গ্রীষ্মকালে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, ড্রাসের এই অবস্থান এটিকে সামরিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের কর্গিল যুদ্ধের সময়।

ভূগোলগতভাবে, ড্রাসের আশেপাশে টোলোলিং এবং টাইগার হিলের মতো উঁচু চূড়া রয়েছে, যা যুদ্ধের স্মৃতি বহন করে। এই পাহাড়গুলি বাতাসের প্রবাহকে বাধা দেয়, যা জলবায়ুর কারণে আরও ঠান্ডা করে। সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৫ সালের শুরুতে এখানে ৪জি/৫জি মোবাইল কানেক্টিভিটি চালু হয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য সুবিধা বাড়িয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বসবাসযোগ্য নদীদ্বীপ উমানন্দ – একটি অদ্ভুত প্রাকৃতিক বিস্ময়!

ড্রাসের জলবায়ু: শীতের রাজ্য যেখানে তাপমাত্রা হয়ে যায় অসম্ভব নিচু

ড্রাসের জলবায়ু কন্টিনেন্টাল মেডিটেরানিয়ান ধরনের (কপেন: ডিএসবি), যা উচ্চতার কারণে প্রভাবিত। শীতকাল মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মে পর্যন্ত চলে, যখন গড় নিম্ন তাপমাত্রা -২০° সেলসিয়াস এবং শীর্ষে -২৩° সেলসিয়াস হয়। গ্রীষ্মকাল জুন থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত, গড় তাপমাত্রা ২৩° সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বার্ষিক বৃষ্টিপাত মাত্র ৪০৫.৩ মিলিমিটার, যার বেশিরভাগই ডিসেম্বর থেকে মে মাসে তুষারপাত আকারে হয়—পানির সমতুল্য প্রায় ৫৫০ মিলিমিটার।

তাপমাত্রার রেকর্ড: চরম ঠান্ডার সাক্ষ্য

ড্রাসকে বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে ঠান্ডা বসবাসযোগ্য স্থান বলার দাবি প্রচলিত, যদিও অফিসিয়াল তথ্য এটি সম্পূর্ণভাবে যাচাই করে না। ভারতীয় মেটারোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি) অনুসারে, ১৯১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর ড্রাসে -৪৫° সেলসিয়াসের নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তবে, স্থানীয় বোর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও) এবং অন্যান্য সূত্রে ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে -৬০° সেলসিয়াসের রেকর্ড উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবিটি নিউজ১৮-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে (৮ নভেম্বর, ২০২৫) পুনর্বহুল করা হয়েছে, যেখানে শীতকালের গড় তাপমাত্রা -২০° থেকে -২৫° সেলসিয়াস বলে জানানো হয়েছে।

নিচের টেবিলে ড্রাসের মাসিক গড় তাপমাত্রা দেখানো হলো (উইকিপিডিয়া এবং আইএমডি ডেটা থেকে):

মাস গড় সর্বোচ্চ (°সে) গড় সর্বনিম্ন (°সে) দৈনিক গড় (°সে)
জানুয়ারি -৮.৮ -২৩.৯ -১৬.৪
ফেব্রুয়ারি -৫.২ -২১.৫ -১৩.৪
মার্চ ২.৫ -১৫.২ -৬.৪
এপ্রিল ৮.৯ -৮.৭ ০.১
মে ১৫.২ -১.৫ ৬.৮
জুন ২০.১ ৪.২ ১২.২
জুলাই ২৪.৮ ৮.৫ ১৬.৭
আগস্ট ২৪.৩ ১০.০ ১৭.২
সেপ্টেম্বর ২০.৫ ৫.৩ ১২.৯
অক্টোবর ১৪.২ -৩.১ ৫.৬
নভেম্বর ৫.৮ -১১.৪ -২.৮
ডিসেম্বর -২.১ -১৯.৮ -১১.০

এই টেবিল থেকে স্পষ্ট যে, শীতকালে ড্রাস প্রায় অসম্ভব ঠান্ডা হয়ে ওঠে, যা মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে (৮ তারিখ পর্যন্ত) তাপমাত্রা -১০° থেকে -২০° সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, যা অ্যাকিউওয়েদারের রিপোর্ট অনুসারে।

চাষের মাঠে রোবট! কৃষিতে AI-এর যুগান্তকারী আবিষ্কার ঘটাচ্ছে বেসরকারি সংস্থাগুলি

ড্রাসের জনসংখ্যা ও সংস্কৃতি: বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের একতা

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, ড্রাসের মোট জনসংখ্যা ২১,৯৮৮ জন, যার মধ্যে ৬৪% পুরুষ (১৪,৭৩১) এবং ৩৬% মহিলা (৭,২৫৭)। ০-৬ বছরের শিশু ২,৭৬৭ জন। সাম্প্রতিক অনুমানে (২০২৫) এটি প্রায় ২২,০০০ এ পৌঁছেছে, যা নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে উল্লেখিত। জনসংখ্যার প্রধান জাতিগোষ্ঠী শিনা (৬৫-৭০%, শিনা ভাষা বলে) এবং পুরিগপা (৩০-৩৫%, পুর্গি ভাষা, বালতির সাদৃশ্যপূর্ণ)। ধর্মীয়ভাবে ৯৯% মুসলিম—শিনা গোষ্ঠী সুন্নি (৬৫-৭৫%) এবং পুরিগপা শিয়া (২৫-৩৫%)। অন্যান্য ভাষা: উর্দু এবং বালতি।

সংস্কৃতিতে, ড্রাসের মানুষেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব যেমন লোসার (বৌদ্ধ নববর্ষ) এবং মুসলিম উৎসবগুলি পালন করে। খাবারে আলু, যব, ভেড়ার মাংস এবং চা প্রধান। পরিবারভিত্তিক জীবনযাত্রা এখানে প্রচলিত, যেখানে নারীরা ঘরোয়া কাজ এবং পুরুষেরা কৃষি ও পশুপালন করে। লাদাখ সরকারের রিপোর্ট অনুসারে, জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ১৫.৫% (২০০১-২০১১), যা উচ্চতার কারণে স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এই সম্প্রদায়ের ঐক্য যুদ্ধের সময় প্রমাণিত হয়েছে, যখন স্থানীয়রা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল। আজও, স্কুল এবং মসজিদগুলি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

ইতিহাস: যুদ্ধের ছায়া এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম

ড্রাসের ইতিহাস জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ হিসেবে শুরু হয় ১৮৪৬ সালে। ১৯৪৭-৪৮ সালের পাকিস্তানি আক্রমণে ৬ জুন ১৯৪৮ তারিখে গিলগিত স্কাউটস দ্বারা দখল হয়। নভেম্বর ১৯৪৮-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন বিসন’ এ ড্রাস এবং কর্গিল পুনরুদ্ধার হয়। ১৯৪৯-এর যুদ্ধবিরতি রেখা ড্রাসের ১২ কিলোমিটার উত্তরে চলে, যা ১৯৭২-এর সিমলা চুক্তিতে লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) হয়।

কর্গিল যুদ্ধ: ড্রাসের কেন্দ্রস্থলে যুদ্ধের আগুন

১৯৯৯ সালের মে মাসে পাকিস্তানি বাহিনী ড্রাসের উপরের চূড়াগুলিতে অনুপ্রবেশ করে, যেমন টোলোলিং (৪ কিমি দূরে) এবং টাইগার হিল (৮ কিমি)। এটি কর্গিল যুদ্ধের সূচনা করে, যা জুলাই ১৯৯৯ পর্যন্ত চলে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ৫০০-এর বেশি সৈনিকের জীবন হারায়, কিন্তু চূড়াগুলি পুনরুদ্ধার করে। ব্রিটানিকা অনুসারে, এই যুদ্ধ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। ড্রাসে কর্গিল ওয়ার মেমোরিয়াল (৭ কিমি দূরে) এবং ড্রাস ওয়ার মেমোরিয়াল স্থাপিত, যা বার্ষিকভাবে হাজারো পর্যটক আকর্ষণ করে।

যুদ্ধের পর, ড্রাসের অর্থনীতি পর্যটনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০১৯ সালে, যুদ্ধের ২০ বছর পরেও পাকিস্তানি সরঞ্জামের অবশেষ পাওয়া গেছে, যা ইকোনমিক টাইমসে রিপোর্ট হয়েছে। এই ঘটনা ড্রাসকে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

অর্থনীতি ও কৃষি: কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই

ড্রাসের অর্থনীতি প্রধানত কৃষি এবং পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয়রা যব এবং আলু চাষ করে, যা প্রধান ফসল। লাদাখ সরকারের কৃষি বিভাগ অনুসারে, লাদাখে মোট চাষযোগ্য জমির এক-তৃতীয়াংশ চাষ হয়, যা বার্ষিক ১,০০,০০০ কুইন্টাল খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। ড্রাসে গবাদি পশু এবং ঘোড়া পালনও প্রচলিত, যা পরিবহন এবং দুধের জন্য ব্যবহৃত হয়।

তবে, উচ্চতা এবং ঠান্ডার কারণে কৃষি চ্যালেঞ্জিং। হিমকাথার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতি পর্যটনের প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় (এসএনইউ পিডিএফ), লাদাখের অর্থনীতিতে কৃষি এবং পর্যটনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যেখানে পর্যটন ৪০% অবদান রাখে।

পশুপালনে, ভেড়া এবং ছাগলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা পশম উৎপাদনে সাহায্য করে। সরকারি উদ্যোগে, জৈব চাষ প্রচার করা হচ্ছে, যা ড্রাসের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

টপ ফ্লোর ঠান্ডা রাখার সহজ ও কার্যকরী উপায়

পর্যটন: ঠান্ডার মাঝে লুকানো স্বর্গ

ড্রাস ‘লাদাখের গেটওয়ে’ হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করে, বিশেষ করে উচ্চতার ট্রেকিং এবং যুদ্ধ স্মৃতিস্থলের জন্য। কর্গিল ওয়ার মেমোরিয়াল এবং টোলোলিং রেঞ্জ প্রধান আকর্ষণ। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত লাদাখে ২,০৭,২৫৫ দেশীয় এবং ১৬,৯৩৪ বিদেশী পর্যটক এসেছে, যদিও সহিংসতার কারণে হ্রাস পেয়েছে (অর্গানাইজার রিপোর্ট)। ২০২৪ সালে মোট ৩,৭৬,৩৮৬ পর্যটক ছিল।

সাম্প্রতিক উন্নয়ন: ২০২৫ সালে গুরেজ ভ্যালি থেকে মুস্কোহ ভ্যালির ১৩০ কিমি রাস্তা খোলা হয়েছে, যা যুদ্ধের ল্যান্ডস্কেপ দেখায়। ডিডব্লিউ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্থানীয়রা টেকসই পর্যটন চালু করেছে, যা বছরে ৪,০০,০০০ পর্যটক আকর্ষণ করে।

পর্যটকদের জন্য সেরা সময়: এপ্রিল থেকে অক্টোবর, যখন তাপমাত্রা ১০° থেকে ২৫° সেলসিয়াস। শীতকালে স্নো ট্রেকিং সম্ভব, কিন্তু প্রস্তুতি দরকার।

চ্যালেঞ্জসমূহ: ঠান্ডা, সীমান্ত এবং পরিবেশগত ঝুঁকি

ড্রাসের মানুষেরা চরম ঠান্ডা, অক্সিজেনের অভাব এবং সীমান্তের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শীতকালে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, যা সরবরাহ ব্যাহত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তুষারপাত কমছে, যা জলসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে। দ্য হিন্দুর রিপোর্টে (সেপ্টেম্বর ২০২৫), লাদাখের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী অস্থির, কারণ অর্থনৈতিক অসমতা বাড়ছে।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে, উচ্চতা-সম্পর্কিত রোগ যেমন পালমোনারি এডিমা সাধারণ। সরকারি উদ্যোগে হাসপাতাল এবং স্কুল উন্নত হচ্ছে, কিন্তু আরও বিনিয়োগ দরকার। পরিবেশগতভাবে, পর্যটনের চাপে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে, যা স্থানীয়রা টেকসই উপায়ে মোকাবিলা করছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ড্রাসের উন্নয়নের পথ

ড্রাসের ভবিষ্যত উজ্জ্বল, যদি টেকসই উন্নয়ন হয়। লাদাখ সরকারের পরিকল্পনায় ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্য, যেখানে কৃষি এবং পর্যটন কেন্দ্রীয়। ২০২৫ সালে রোড নেটওয়ার্ক ১,৬৭০ কিমি বাড়িয়েছে, যা সংযোগ উন্নত করেছে। শীতকালীন পর্যটন প্রচার এবং জৈব কৃষি ড্রাসকে আত্মনির্ভর করে তুলবে।

সাম্প্রতিক ঘটনায়, ফ্লাইট সাসপেনশনের পর ৬৮০ পর্যটকের আগমন (ফেসবুক রিপোর্ট) ইঙ্গিত দেয় যে পুনরুদ্ধার সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় জ্ঞান ব্যবহার করলে ড্রাস মডেল হয়ে উঠবে।

ড্রাস শুধু ঠান্ডার জায়গা নয়, এটি সাহস, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির প্রতীক। আরও জানতে, উইকিপিডিয়া বা লাদাখ সরকারের সাইট দেখুন। এই নিবন্ধটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যাতে পাঠকরা সঠিক তথ্য পান।

About Author
Manoshi Das

মানসী দাস একজন মার্কেটিং এর ছাত্রী এবং আমাদের বাংলাদেশ প্রতিনিধি। তিনি তাঁর অধ্যয়ন ও কর্মজীবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজার ও ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। একজন উদীয়মান লেখিকা হিসেবে, মানসী বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, স্থানীয় বাজারের প্রবণতা এবং ব্র্যান্ডিং কৌশল নিয়ে লিখে থাকেন। তাঁর লেখনীতে বাংলাদেশের যুব সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়।