বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে ইসলামে রয়েছে অসংখ্য কার্যকর ও পরীক্ষিত দোয়া যা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে । কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত এই দোয়াগুলো নবি-পয়গাম্বর এবং অসংখ্য মুমিনের জীবনে প্রমাণিত এবং বাস্তবে পরীক্ষিত । সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৮২% মুসলিম প্রতিদিন নামাজ আদায় করেন এবং ৫৩% মুসলিম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পালন করেন ।
বিপদে দোয়ার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও । নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো কঠিন সমস্যায় পড়তেন, তখনই আল্লাহর কাছে একান্তভাবে প্রার্থনা করতেন । ২০২৫ সালের রমজানে বিশ্বব্যাপী ১.৬ ট্রিলিয়ন সিজদা সম্পন্ন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতির গভীরতা প্রমাণ করে ।
বিপদে পড়লে মুমিন মুসলমানের হতাশ হওয়ার কিছু নেই । মহান আল্লাহ তাআলার উপর আস্থা এবং বিশ্বাসের সঙ্গে দোয়ার যথাযথ আমলেই সম্ভব বিপদমুক্ত হওয়া । আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-ইনশিরাহ-এর ৫-৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “সুতরাং কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে, নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে” ।
বিপদ থেকে মুক্তির ১০টি কার্যকরী দোয়া
সুরা আল-ফাতেহা পাঠ করা
সুরা আল-ফাতেহার বিশেষ একাধিক নাম হলো আল-কাফিয়া বা যথেষ্টকারী এবং আশ-শাফিয়া বা আরোগ্যকারী । এটি আল্লাহর গুণ-প্রশংসার সুরা হওয়ায় এ সুরার আমলের দ্বারা ঝাঁড়-ফুক করাও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত । এই সুরাটি পাঠ করে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যায় এবং এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত।
তাওহীদের দোয়া
আরবি: اَللهُ رَبِّىْ لَا اُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
উচ্চারণ: আল্লাহু রাব্বি; লা উশরিকু বিহি শাইআ
অর্থ: আল্লাহ তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার সঙ্গে কাউকে শরিক করি না । এই দোয়াটি আবু দাউদ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত এবং বিপদের সময় পাঠ করলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়।
হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া
আরবি: لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّى كَنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমিন
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, নিঃসন্দেহে আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত । তিরমিজি হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে থাকাকালীন পাঠ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
হাসবুনাল্লাহ দোয়া
আরবি: حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْل – نِعْمَ الْمَوْلِى وَ نِعْمَ النَّصِيْر
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নেমাল ওয়াকিল; নেমাল মাওলা ওয়া নেমান নাছির
অর্থ: আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কাজ সম্পাদনকারী । আল্লাহ তাআলাই হচ্ছে উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। প্রিয়নবি (সা.) দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ কিংবা দুশ্চিন্তা ও পেরেশানিতে উত্তীর্ণ হতে এ দোয়া পড়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
জান্নাতের ভাণ্ডার
আরবি: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِالله
উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ব্যতিত কোনো উপায় নেই আর কোনো ক্ষমতাও নেই । এ দোয়াটি জান্নাতের গোপন ভাণ্ডারসমূহের একটি এবং বিপদ ও সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বহু মানুষের কাছে পরীক্ষীত দোয়া ।
দুশ্চিন্তা ও বিপদ থেকে মুক্তির বিশেষ দোয়া
ইস্তিগফার ও তাওবার দোয়া
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি
অর্থ: আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই তাওবাহ করে ফিরে আসি । এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
বিপদের সময় রাসূল (সা.)-এর দোয়া
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম
অর্থ: আল্লাহ ব্যতিত সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল । বুখারি হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় পাঠ করতেন।
হাম ও হাজান থেকে মুক্তির দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে । এই দোয়াটি বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি ও মিশকাতে বর্ণিত এবং দৈনন্দিন পেরেশানি থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম দোয়া
আরবি: يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ূমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ
অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকটে সাহায্য চাই । হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট বা চিন্তা, অস্থিরতা তথা হতাশাগ্রস্ত হতেন তখন এই দোয়াটি বলতেন, যা তিরমিজি ও মিশকাতে বর্ণিত।
বিপদগ্রস্তের বিশেষ দোয়া
আরবি: اَللّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ فَلَاتَكِلْنِىْ اِلَي نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরঝু ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি; ত্বারফাতা আইন
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার দয়া কামনা করি, তুমি আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও আমার নিজের হাত ছেড়ে দিও না । হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন এটি বিপদগ্রস্তের দোয়া, যা আবু দাউদ ও মিশকাতে বর্ণিত।
সকাল-সন্ধ্যার সুরক্ষামূলক দোয়া
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) সকাল-সন্ধ্যায় কখনো নিম্নোক্ত দোয়া পড়া বাদ দিতেন না:
আরবি: اللهمَّ إنِّي أسْألُكَ الْعافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيايَ وأَهْلِي ومالِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনইয়া-য়া, ওয়া আহলি ওয়ামালি
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন-দুনিয়া, পরিবার ও ধনসম্পদের নিরাপত্তা কামনা করছি । এই দোয়াটি নাসায়ি, আবু দাউদ ও ইবনু মাজাহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত এবং সার্বিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক দিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করলে কোনো কিছুই কারো ক্ষতি করতে পারবে না: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম” । তিরমিজি ও আবু দাউদে বর্ণিত এই দোয়াটির অর্থ হলো: আল্লাহর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না ।
হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেছেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে যেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা দোয়া পাঠ করে” । এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বিপদ দূর করে দেন এবং হারানো জিনিসের বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন ।
বিপদে ধৈর্যধারণ ও দোয়ার পদ্ধতি
| দোয়ার ধরন | পাঠের সময় | বিশেষত্ব | হাদিস সূত্র |
|---|---|---|---|
| সুরা আল-ফাতেহা | যেকোনো সময় | আল-কাফিয়া ও আশ-শাফিয়া | হাদিস সমর্থিত |
| হাসবুনাল্লাহ | বিপদের সময় | উত্তম কাজ সম্পাদনকারী | রাসুল (সা.) প্রদত্ত |
| ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম | দুশ্চিন্তার সময় | রহমত চাওয়ার দোয়া | তিরমিজি, মিশকাত |
| সকাল-সন্ধ্যার দোয়া | দিনে ২ বার | সার্বিক সুরক্ষা | নাসায়ি, আবু দাউদ |
মুসলিম সম্প্রদায়ের দোয়া ও নামাজের পরিসংখ্যান
২০২৫ সালের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দোয়া ও নামাজের প্রতি গভীর আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯১% মুসলিম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে অগ্রাধিকার দেন এবং ৮৭% কুরআন তেলাওয়াতে নিয়োজিত থাকেন । রমজান মাসে ৭৬% মুসলিম তারাবিহ নামাজে অংশগ্রহণ করেন এবং ৬১% সাদাকা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেন ।
ফিলিপাইনে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৮২% মুসলিম প্রতিদিন অন্তত কয়েকবার সালাত আদায় করেন । এর মধ্যে ৫৩% মুসলিম দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, ২৯% কয়েকবার নামাজ পড়েন, ১৬% মাঝে মাঝে এবং মাত্র ২% একবছর আগে নামাজ পড়েছিলেন । এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবাদত ও দোয়ার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
বিপদের সময় অনুসরণীয় হাদিসের নির্দেশনা
হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী করিম (সা.) যখন কোনো গোষ্ঠীর হাতে ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, তখন বলতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম” । এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, যা আবু দাউদ ও নাসাই হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো এলাকায় মহামারি বা সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে তোমরা যদি সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না । আর বাইরে থাকলে তোমরা আক্রান্ত এলাকায় যাবে না।” এই হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত এবং বিপদের সময় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব প্রমাণ করে ।
দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব
আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করার আগে প্রথমে দরুদ পড়তে হবে এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষও করতে হবে । ইসলামিক শিক্ষায় বলা হয়েছে যে, বিপদে পড়লে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব) বলতে হবে । এরপর “আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ লি খাইরান মিনহা” (হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে পুরস্কৃত করুন এবং এর চেয়ে উত্তম কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করুন) দোয়াটি পাঠ করতে হবে ।
দোয়া কবুলের জন্য হালাল খাবার খাওয়া, ইখলাসের সাথে দোয়া করা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য। মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি এই দোয়াগুলো আন্তরিকতার সাথে পাঠ করে, আল্লাহ তাকে তার বিপদ থেকে মুক্তি দেন এবং তার চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করেন ।
বিপদ থেকে সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত আমল
সুরা ইখলাস এবং মুআওয়াজাতায়েন (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে সমস্ত বিপদ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় । আবু দাউদ ও তিরমিজি হাদিসে বর্ণিত এই আমলটি নবী মুহাম্মাদ (সা.) নিয়মিত করতেন এবং তাঁর সাহাবীদের উৎসাহিত করতেন ।
নিয়মিত ইস্তিগফার পাঠ করা, আল্লাহর জিকির করা, নামাজ নিয়মিত আদায় করা এবং সদকা করা বিপদ থেকে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। ধৈর্যশীল থাকা এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন” ।
বিপদ-আপদ জীবনের অংশ হলেও ইসলাম আমাদের সেগুলো মোকাবেলার জন্য শক্তিশালী অস্ত্র দিয়েছে – আর তা হলো দোয়া ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল। কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত এই দোয়াগুলো শুধুমাত্র শব্দের সমাবেশ নয়, বরং এগুলো আল্লাহর সাথে সংযোগের মাধ্যম এবং বিপদ থেকে মুক্তির প্রকৃত উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের জীবনে এই দোয়াগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত, এবং আজও লক্ষ লক্ষ মুসলিম এই দোয়াগুলোর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। নিয়মিত এই দোয়াগুলো পাঠ করুন, ধৈর্যধারণ করুন এবং আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশায় থাকুন। মনে রাখবেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে” – আল্লাহর এই ওয়াদা চিরন্তন সত্য এবং প্রতিটি বিপদের পরে অবশ্যই স্বস্তি আসবে।











