এবারের দুর্গাপুজোর জন্য অনুমতি নিতে হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘আসান’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পুজো কমিটিগুলোকে আর কোনো কাগজপত্রের ঝামেলায় পড়তে হবে না। অনলাইনেই সব আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন মাত্র কয়েকটি সহজ ধাপে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকার এ বছর দুর্গাপুজোর অনুমতি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করেছে। পুজো কমিটিগুলোকে শুধুমাত্র ‘আসান’ পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন জমা দিতে হবে। এর ফলে আগের মতো বিভিন্ন অফিসে ধর্না দিতে হবে না। বাড়ির বসে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
আবেদনকারীদের প্রথমে ‘আসান’ ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর দুর্গাপুজো অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফর্মটি পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পুজো কমিটির নাম, ঠিকানা, প্রতিমার সংখ্যা, অনুষ্ঠানের তারিখ এবং প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। সাথে কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও আপলোড করতে হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্যও ফর্মে দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নিনিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা। প্রতিটি পুজো মণ্ডপে কমপক্ষে দুইজন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসার কিট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফি-ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ছোট পুজো কমিটির জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা, মাঝারি কমিটির জন্য ১০০০ টাকা এবং বড় পুজো কমিটির জন্য ১৫০০ টাকা। পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ফি জমা দেওয়া যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে, আবেদন জমা দেওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিজিটাল অনুমতিপত্র ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই অনুমতিপত্রের একটি প্রিন্ট কপি পুজো মণ্ডপে সবসময় প্রদর্শন করে রাখতে হবে।
গত বছরের তুলনায় এবারের আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। আগে যেখানে কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন সরকারি অফিসে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হতো, এখন ঘরে বসেই সব কাজ সারা যাচ্ছে। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় ঝামেলাও এড়ানো যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দুর্নীতি রোধেও সহায়ক হবে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবেদনের প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ডেটা সংরক্ষণের সুবিধা থাকায় ভবিষ্যতে পুজো পরিকল্পনা আরো উন্নত করা যাবে।
তবে এই নতুন পদ্ধতিতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পুরানো কমিটির সদস্যরা প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষিত কর্মচারীরা আবেদন পূরণে সাহায্য করবেন।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে, যেসব কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেবে না, তাদের পুজো অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ নিয়মে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাই কমিটিগুলোকে দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এবারও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। পুজো মণ্ডপে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান এবং হাত জীবাণুমুক্ত রাখার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি কমিটিকে এসব নিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকার করে আবেদন জমা দিতে হবে।
পরিবেশ রক্ষার জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে পরিবেশবান্ধব রং এবং উপকরণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বিসর্জনের সময় নদী দূষণ এড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বিসর্জন দিতে হবে। এসব তথ্যও আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে।
শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে কমিটিগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রেখে দিলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। যারা প্রথমবার অনলাইন আবেদন করছেন, তারা সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।
এ বছর দুর্গাপুজোর জন্য প্রত্যাশিত আবেদনের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেশি। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি অধিক সংখ্যক কমিটি আবেদন করতে উৎসাহী হচ্ছে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করলে এবারের দুর্গাপুজো আরো সংগঠিত ও উৎসবমুখর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।











