ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে হলে ভবন নির্মাণে এই ১০টি নিয়ম মেনে চলুন – না হলে বিপদ অনিবার্য!

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানতে পারে এবং অপ্রস্তুত অবকাঠামোকে মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে, সঠিক নির্মাণ কৌশল অনুসরণ না করলে…

Riddhi Datta

 

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানতে পারে এবং অপ্রস্তুত অবকাঠামোকে মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে, সঠিক নির্মাণ কৌশল অনুসরণ না করলে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূমি ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, এবং বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫৬টি ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়। রাজধানী ঢাকায় রাজউকের ২০১৮ সালের জরিপে দেখা গেছে যে, জরিপকৃত ১.৯৫ লাখ স্থাপনার মধ্যে ৬৭ শতাংশ ভবন বিল্ডিং কোড মানে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণ শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি জীবন রক্ষার একটি মৌলিক উপায়। নভেম্বর ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে ১৫৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের ঝুঁকি কতটা তীব্র তা প্রমাণ করে। সঠিক নকশা এবং নির্মাণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভূমিকম্পের সময় ভবনের সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ২০২৫ সালের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন এমন ভবন তৈরি করা সম্ভব যা শক্তিশালী ভূমিকম্পেও টিকে থাকতে পারে।

বিল্ডিং কোড মেনে চলা অপরিহার্য

বাংলাদেশ ও ভারতের বিল্ডিং কোড

বাংলাদেশে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এবং ভারতে IS 1893 কোড ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবন নির্মাণের জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করে। BNBC অনুযায়ী, বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে – ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর এবং সিলেট। IS 1893 অনুযায়ী ভারতকে পাঁচটি সিসমিক জোনে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে জোন ৫ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ০.৩৬ জোন ফ্যাক্টর বহন করে। এই কোডগুলি অনুসরণ করা শুধুমাত্র আইনগত প্রয়োজন নয়, বরং জীবন রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক।

দাগ নাম্বার দিয়ে জমির মালিকানা যাচাই: ঘরে বসে জানুন প্রকৃত মালিকের নাম

বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের ভয়াবহতা

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক পুরাতন ভবন এই কোড মেনে তৈরি হয়নি। মাটি পরীক্ষা, ভিত্তির বিস্তারিত তথ্য এবং ভূমিকম্প নকশা উপাদানগুলি প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে BNBC ২০২০ এর সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগ প্রায় অনুপস্থিত। এর ফলে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে হাজার হাজার স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

ভূমিকম্প-সহনীয় নির্মাণের আধুনিক কৌশল

বেস আইসোলেশন সিস্টেম

বেস আইসোলেশন ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণের অন্যতম কার্যকর আধুনিক পদ্ধতি। এই সিস্টেম ভবন এবং মাটির মধ্যে শক অ্যাবজর্বারের মতো কাজ করে, যা ভবনকে ভূকম্পন থেকে স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ দেয়। রাবার বিয়ারিং, স্লাইডিং বিয়ারিং এবং হাইব্রিড বিয়ারিং সিস্টেম ব্যবহার করে এটি ভূমিকম্পের শক্তি ভবনে স্থানান্তরিত হওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। এই প্রযুক্তি হাসপাতাল, সেতু এবং উচ্চমানের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০০৯ সালের ল’আকুইলা ভূমিকম্পের পর, Nidyon প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাতটি তিনতলা বেস-আইসোলেটেড আবাসিক ভবন মাত্র ১৮ দিনে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

শিয়ার ওয়াল এবং সিসমিক ব্রেসিং

ভূমিকম্পের সময় পার্শ্ববর্তী শক্তি ভবনকে পেঁচিয়ে বা হেলিয়ে ফেলতে পারে। ক্রস-ব্রেসড স্টিল ফ্রেম এবং রিইনফোর্সড শিয়ার ওয়াল ব্যবহার করে এই শক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিয়ার ওয়াল বিশেষভাবে সফট-স্টোরি ভবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেখানে নিচের তলায় পর্যাপ্ত কাঠামোগত উপাদান নেই। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে শিয়ার ওয়াল সিস্টেম ব্যবহার করলে ভবনের স্থানচ্যুতি ৪৩.৯% থেকে ৬২.৭% পর্যন্ত হ্রাস পায়।

নমনীয় উপকরণ এবং জয়েন্ট

২০২৫ সালে, স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার যা ভাঙ্গা ছাড়াই বাঁকতে পারে, সিসমিক রেজিলিয়েন্স নিয়ে চিন্তাভাবনায় বিপ্লব ঘটাচ্ছে। শেপ-মেমরি অ্যালয় এবং ফাইবার-রিইনফোর্সড পলিমারের মতো নমনীয় জয়েন্ট এবং উপকরণ ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ এবং বিচ্ছুরিত করে, কাঠামোগত ক্ষতি ন্যূনতম রাখে। এনার্জি ডিসিপেশন সিস্টেম যেমন ভিসকাস ড্যাম্পার, ফ্রিকশন ড্যাম্পার এবং ইয়েল্ডিং মেটালিক ড্যাম্পার গাড়ির শক অ্যাবজর্বারের মতো কাজ করে ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ করে।

ফাউন্ডেশন অ্যাঙ্করিং এবং মাটি উন্নয়ন

একটি ভবন তার ভিত্তির মতোই শক্তিশালী। ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশায় উন্নত মাটি পরীক্ষা এবং ফাউন্ডেশন অ্যাঙ্করিং কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকে যা স্লাইডিং বা উল্টে যাওয়া প্রতিরোধ করে। ডিপ সয়েল মিক্সিং এবং মাইক্রো-পাইলের মতো কৌশল এখন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে মান অনুশীলন। যখন বিদ্যমান স্থাপনা শক্ত মাটিতে অবস্থিত না থাকে, তখন কম্প্যাকশন-গ্রাউটিং কৌশল প্রয়োগ করা হয় যেখানে ফুটিং এর চারপাশের মাটিতে সিমেন্টের মতো উপাদান যোগ করে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

নির্মাণ উপকরণ নির্বাচন

ইস্পাত বনাম কংক্রিট

ভূমিকম্প-সহনীয় ভবনের জন্য সঠিক উপকরণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্পাত কংক্রিটের চেয়ে আট গুণ বেশি শক্তিশালী এবং টেনশন ও শিয়ার প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর। ইস্পাত হালকা এবং এর নমনীয়তার সাথে মিলিত হয়ে স্টিল স্ট্রাকচারাল ফ্রেম ভূমিকম্পের প্রভাব শোষণ করতে পারে, ভবনের ধসে পড়া প্রতিরোধ করে। ইস্পাত বিভাজন, সঙ্কুচিত, ফাটল বা বিকৃত হয় না যখন পরিবেশের সংস্পর্শে আসে। অন্যদিকে, রিইনফোর্সড কংক্রিট ফ্রেম এবং দেয়াল ব্যবস্থা বহুতল ভবনের জন্য ভালো সিসমিক পারফরম্যান্স প্রদান করে।

স্টিল-কংক্রিট কম্পোজিট

স্টিল-কংক্রিট কম্পোজিট নির্মাণ উভয় উপকরণের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলি একত্রিত করে। উচ্চ নমনীয়তা থাকার কারণে স্টিল উপাদান ভূমিকম্পের সময় ডাক্টাইল আচরণ প্রদর্শন করে এবং ফ্র্যাকচারের আগে অসংখ্য লোডিং চক্র সহ্য করতে পারে। যদিও স্টিল উপকরণের খরচ বেশি, দ্রুত নির্মাণ, হ্রাসকৃত ডেড লোড এবং অন্যান্য কারণ সামগ্রিক প্রকল্প খরচ ভারসাম্য আনতে পারে।

শিক্ষক আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ ও তৃণমূল বাহিনীর বর্বরতা

খরচ বিশ্লেষণ

ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবন নির্মাণের খরচ প্রচলিত ভবনের তুলনায় ১৬.৪৬% থেকে ২২.১১% বেশি হতে পারে। নেপালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী লোড বিয়ারিং আবাসিক ভবনের খরচ ৪,০১,৬৪৩.৩৬ টাকা থেকে ২১,২১,০৭৮.৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ভবন এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবনের মধ্যে খরচের পার্থক্য প্রায় ২,১০,৩৪৫.০৯ টাকা। যদিও প্রাথমিক খরচ বেশি মনে হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে এটি মেরামত খরচ এবং জীবন রক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় নিশ্চিত করে।

ভবন নকশায় প্রয়োজনীয় বিষয়

ভবনের উচ্চতা এবং আকার

BNBC এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক ভবনের একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা সীমা রয়েছে। ভবনের আকৃতি সরল এবং প্রতিসম হওয়া উচিত কারণ অনিয়মিত আকৃতির ভবনে ভূমিকম্পের সময় টর্শনাল ফোর্স তৈরি হয় যা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। ভবনটি লেটারাল লোড ইফেক্ট সামলাতে সক্ষম হতে হবে।

সঠিক স্থান নির্বাচন

ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ হল সঠিক স্থান নির্বাচন। ভূমিধস এবং লিকুইফ্যাকশন-প্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। ঢাকার অধিকাংশ আবাসন জলাভূমি বা নিম্নভূমিতে নির্মিত হয়েছে, কিন্তু এই জমিগুলি ভরাট করলে লিকুইফ্যাকশনের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পর্যাপ্ত নিষ্ক্রমণ ব্যবস্থা

ভবনে জরুরি অবস্থায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্থান পথ থাকা অত্যাবশ্যক। সিঁড়িগুলি সঠিকভাবে ডিজাইন করা উচিত এবং একাধিক নিষ্ক্রমণ রুট থাকা উচিত। জরুরি আলো এবং স্পষ্ট সাইনবোর্ড জীবন বাঁচাতে পারে।

প্রি-স্ট্রেসড এবং পোস্ট-টেনশনড কংক্রিট

এই পদ্ধতিগুলি কংক্রিট উপাদানগুলিতে সংকোচন চাপ প্রয়োগ করে, ভূমিকম্পের সময় উৎপন্ন টেনসাইল ফোর্স প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের সামগ্রিক নমনীয়তা ও শক্তি বাড়ায়। এই আধুনিক প্রযুক্তি ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

মডুলার এবং প্রিফেব্রিকেটেড নির্মাণ

যদিও সরাসরি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নয়, এই পদ্ধতি ফ্যাক্টরি-নিয়ন্ত্রিত উচ্চ-মানের উপাদান উৎপাদনের সুযোগ দেয়, যার ফলে শক্তিশালী, আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ সংযোগ এবং সাইটে দ্রুত সমাবেশ সম্ভব হয়। সঠিকভাবে ভূমিকম্পীয় লোডের জন্য ডিজাইন করা হলে এটি সামগ্রিক কাঠামোগত অখণ্ডতা উন্নত করতে পারে।

রেট্রোফিটিং বিদ্যমান ভবন

পুরানো ভবনগুলির জন্য রেট্রোফিটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতের ভূমি এলাকার প্রায় ৫৯% ভূমিকম্প-প্রবণ হওয়ায়, বিল্ডিং কোড সম্মতির কঠোর প্রয়োগ জরুরি। সিসমিক মূল্যায়ন কাঠামোগত ক্ষমতা মূল্যায়ন করে এবং প্রয়োজনীয় শক্তিশালীকরণের পরামর্শ দেয়।

আন্তর্জাতিক মান এবং নির্দেশিকা

আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউট প্রকাশিত ACI 318, আমেরিকান সোসাইটি অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স প্রকাশিত ASCE 7, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড EN 1998-1 এর অন্তর্ভুক্ত Eurocode 8, নিউজিল্যান্ডের NZS 1170, ভারতের IS 1893, এবং চীনের GB 50011 সব কটিই ভূমিকম্পীয় নকশার জন্য ব্যাপক নির্দেশিকা প্রদান করে। প্রকৌশলী, স্থপতি এবং নির্মাতাদের জন্য এই মানগুলির সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্মার্টফোনে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা: জীবন বাঁচাতে পারে যে প্রযুক্তি আপনার হাতের মুঠোয়!

সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ

ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, সচেতনতাও প্রয়োজন। গৃহমালিকদের জন্য ভারত সরকারের 2019 সালের Home Owner’s Guide এবং 2021 এর Simplified Guidelines নতুন বাড়ি তৈরি বা মাল্টি-স্টোরি ভবনে ফ্ল্যাট কেনার সময় নিরাপত্তা মান মেনে চলতে সাহায্য করে। নির্মাণ শ্রমিক এবং প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন নির্মাণ একটি জটিল কিন্তু অপরিহার্য প্রক্রিয়া যা জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) এবং IS 1893 এর মতো বিল্ডিং কোড মেনে চলা, আধুনিক প্রযুক্তি যেমন বেস আইসোলেশন, শিয়ার ওয়াল এবং নমনীয় উপকরণ ব্যবহার করা, এবং সঠিক উপকরণ নির্বাচন করা ভূমিকম্পের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। যদিও ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণের প্রাথমিক খরচ ১৬-২২% বেশি হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে এটি জীবন বাঁচায় এবং মেরামত খরচ কমায়। প্রতিটি নতুন ভবন এবং বিদ্যমান স্থাপনা রেট্রোফিটিং এর মাধ্যমে ভূমিকম্প-সহনীয় করা আমাদের সমষ্টিগত দায়িত্ব। সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর বিল্ডিং কোড প্রয়োগ এবং আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা একটি নিরাপদ ভবিষ্যত গড়তে পারি।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।