durand cup kolkata derby east bengal mohun bagan

দিয়ামানতাকোসের জোড়া গোলে বিস্ময়, দেড় বছর পর ডার্বি জয়ে মোহনবাগানকে সেমি থেকে ছিটকে দিয়ে ডুরান্ডের শেষ চারে ইস্টবেঙ্গল

দেড় বছর পর কলকাতা ডার্বিতে লাল-হলুদের রং ছড়িয়েছে। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিমিত্রিয়স দিয়ামানতাকোসের জোড়া গোলে গতবারের রানার্স আপ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। রবিবার সন্ধ্যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ডার্বিতে গ্রিক স্ট্রাইকার দিয়ামানতাকোস…

avatar
Written By : Chanchal Sen
Updated Now: August 17, 2025 9:56 PM
বিজ্ঞাপন

দেড় বছর পর কলকাতা ডার্বিতে লাল-হলুদের রং ছড়িয়েছে। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিমিত্রিয়স দিয়ামানতাকোসের জোড়া গোলে গতবারের রানার্স আপ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। রবিবার সন্ধ্যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ডার্বিতে গ্রিক স্ট্রাইকার দিয়ামানতাকোস নায়ক হয়ে উঠেছেন। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হবে ডায়মন্ড হারবার এফসির, যারা আজই জামশেদপুর এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।

ডার্বিতে জয়ের পিপাসা মেটানোর জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে ইস্টবেঙ্গল। গত ২০২৩ সালের সুপার কাপের পর ডার্বিতে জয় পায়নি লাল-হলুদ। কিন্তু অস্কার ব্রুজোর নেতৃত্বে নতুন দল গঠন করে এই ম্যাচে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়েছে তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মোহনবাগানের তারকা ফুটবলারদের নিস্ক্রিয় করে রাখে লাল-হলুদ।

প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ইস্টবেঙ্গলের দখলে। মহেশ নাওরেম সিংহ, মিগুয়েল ফিগুয়েরা এবং সাউল ক্রেসপো মিলে মাঝমাঠে চাপ তৈরি করেন। মোহনবাগানের আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা ও সাহাল আব্দুল সামাদদের মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকায় বল ধরে আক্রমণ করতে পারেনি সবুজ-মেরুন।

প্রথম ২০ মিনিট পুরোপুরি ইস্টবেঙ্গলের পায়ে থাকে বল। দুইবার কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় মোহনবাগানের গোলের সামনে। কিন্তু প্রাথমিক চাপ সত্ত্বেও প্রথম কোয়ার্টারেই ধাক্কা আসে লাল-হলুদের। ১৫ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদকে। তার পরিবর্তে নামেন দিয়ামানতাকোস, যা পরবর্তীতে শাপে বর হয়ে দাঁড়ায়। 

Euro Cup 2024: ইউরোপীয় ফুটবলের মহামঞ্চ

৩৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের মধ্যে বিপিন সিংকে ফাউল করেন আশিস রাই। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন দিয়ামানতাকোস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও বল আটকাতে পারেননি মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল।

দ্বিতীয়ার্ধে সিল করা জয়

বিরতির পর মোহনবাগান কোচ হোসে মোলিনা পাসাং দরজির পরিবর্তে জেসন কামিংসকে নামান। কামিংস নেমেই সুযোগ তৈরি করেন, কিন্তু বক্সের মধ্যে অরক্ষিত থাকলেও তাকে বল না দিয়ে নিজে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন সাহাল। গোল হয়নি।

৫২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল সুন্দর আক্রমণ তুলে আনে। বক্সের মধ্যে আলবের্তো রদ্রিগেজকে ছুঁয়ে দ্বিতীয় গোল করেন দিয়ামানতাকোস। ২-০ এগিয়ে যায় লাল-হলুদ।

মোহনবাগানের ফেরার চেষ্টা

২ গোল পিছিয়ে থাকার পর মোলিনা দিমিত্রি পেত্রাতোস ও দীপক টাংরিকে নামিয়ে দেন। ৬৫ মিনিটের পর থেকে অল আউট আক্রমণে নামে মোহনবাগান। একের পর এক আক্রমণে লিস্টনের শট পোস্টে লেগে ফেরে। ৬৮ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরতি বলে দূর থেকে শট মারেন অনিরুদ্ধ থাপা। বল জালে জড়িয়ে যায়। মোহনবাগান ব্যবধান কমায় ২-১ এ।

শেষের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। দু’দলের ফুটবলারেরা মাথা গরম করেন। কিন্তু সেই উত্তেজনাকেও সুবিধায় পরিণত করে ইস্টবেঙ্গল। শেষ পর্যন্ত কোনও রকমে গোলরক্ষা করে দেড় বছর পর ডার্বিতে জয় তুলে নেয় লাল-হলুদ।

কৌশলগত সফলতা ব্রুজোর

ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো ডার্বির আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চমক দেখানোর। সেই চমক সত্যিই দেখিয়েছেন তিনি। যে যে জায়গায় গতবার ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা হয়েছিল, সেই সব জায়গা ভরাট করেছেন। প্রান্ত ধরে বিপিন সিংহের মতো গতিশীল ফুটবলার এনেছেন। রক্ষণে আনোয়ার আলির সঙ্গে কেভিন সিবিলেকে জুড়েছেন। 

খেলার মাঠে প্রতিবাদের নতুন মাত্রা: বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় উদ্বেল লাল-হলুদ গ্যালারি

বিশ্বকাপার জেমি ম্যাকলারেনকে বোতলবন্দি করে রেখেছেন আনোয়ার ও সিবিলে। লিস্টন কোলাসোকে থামাতে জোড়া ফুটবলার রেখেছেন। মহম্মদ রাকিপের সঙ্গে কখনও বিপিন, কখনও এডমুন্ড লালরিন্ডিকা যোগ দিয়েছেন।

ডায়মন্ড হারবারের সাফল্য

ইস্টবেঙ্গলের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে এসেছে বাংলারই আরেক দল ডায়মন্ড হারবার এফসি। প্রথমবার ডুরান্ড কাপ খেলতে এসেই সেমিফাইনালে উঠেছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ক্লাব। জামশেদপুরে গিয়ে জামশেদপুর এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সাইরুয়াত কিমার জোড়া গোলে এই জয় এসেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে এই জয়ের গুরুত্ব অনেক। ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখন পর্যন্ত ৪০০টির বেশি ম্যাচ খেলা হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ১৩৭টি ম্যাচ জিতেছে, মোহনবাগান জিতেছে ১৩৪টি। ১২৯টি ম্যাচ ড্রতে শেষ হয়েছে।

আজকের জয়ের মধ্য দিয়ে ইস্টবেঙ্গল শুধু ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালেই পৌঁছায়নি, সম্মান ও আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিনের হতাশা ভুলে নতুন আশায় বুক বেঁধেছে লাল-হলুদ সমর্থকরা। অন্যদিকে গতবারের ফাইনালিস্ট মোহনবাগানকে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই ডুরান্ড কাপের দৌড় থেকে ছিটকে যেতে হলো।

সেমিফাইনালে এখন ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হবে ডায়মন্ড হারবারের। দুই বাংলার দলের এই লড়াইয়ে কে ফাইনালে উঠবে, তা জানা যাবে আগামী ২০ আগস্ট।