বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা । ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, নেপাল ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ঢাকা সফর করবেন । দীর্ঘ তিন দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু: একটি যুগের অবসান
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন । ৮০ বছর বয়সে তাঁর এই মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে । দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি । গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয় ।
কারা আসছেন ঢাকায়: বিদেশি প্রতিনিধিদের তালিকা
দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ থেকে
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এবং ভারতের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন । এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । পাকিস্তান থেকে আসছেন জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, যিনি খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা সফর করবেন । এছাড়া পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ঢাকায় আসার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে ।
নেপাল ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা আসছেন বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন । ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএন ধুনগেল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদও ঢাকা সফর করবেন । এই সকল দেশের প্রতিনিধিরা ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন ।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদেরও খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে । চীন, ইরান, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে । ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন ।
জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ৩১ ডিসেম্বর বুধবার বাদ জোহর দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মাঠ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে । জানাজার পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে ।
বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম প্রত্যাশিত হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে । জানাজা উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ রাখা হবে । এছাড়া বিশেষ মেট্রোট্রেন পরিষেবাও চালু করা হবে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ।
গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে: খালেদা জিয়ার উত্থানের রাজনৈতিক পটভূমি
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শোক বার্তা
| দেশ | শোক বার্তা ও প্রতিক্রিয়া |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে |
| ফ্রান্স | বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়া দেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে |
| জাপান | প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দুইবার জাপান সফর করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে মূল্যবান অবদান রাখেন |
| ভারত | ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা সফর করবেন |
| পাকিস্তান | পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন |
| ইরান | খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয় নেতা এবং তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ |
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন । ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন । ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন ।
এরপর থেকে ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় । উল্লেখ্য যে, খালেদা জিয়া নিজে যে নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেছেন, সেই নির্বাচনে কখনো পরাজিত হননি ।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার কার্যকাল
প্রথম মেয়াদ (১৯৯১-১৯৯৬)
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন লাভ করে । ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন । তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন, পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পরে ।
তাঁর প্রথম প্রশাসনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন । এই সংস্কার বাংলাদেশকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যায়, যা দেশের আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় ।
তাঁর প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয় । কর্মসংস্থানের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতে পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ছিল ২৯% । প্রায় দুই লক্ষ নারী তাঁর নীতির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে যোগদান করেন ।
দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬)
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও বিরোধী দলগুলোর বয়কটের কারণে বিতর্কিত হয়ে ওঠে এই নির্বাচন । তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে দেন । তিনি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেন ।
১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও ১১৬টি আসন নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয় ।
প্রিয়জনের মৃত্যু নিয়ে ১০০+ স্ট্যাটাস: শোকাহত মনের অব্যক্ত কথা
তৃতীয় মেয়াদ (২০০১-২০০৬)
২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে এবং খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হন । তাঁর এই মেয়াদ ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয় । তবে এই সময়কালে বাংলাদেশ দুর্নীতি সূচকে (Corruption Perceptions Index) বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয় ।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন । তাঁর সমর্থকরা তাঁকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ-আধিপত্যপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির জন্য কৃতিত্ব দেন । অন্যদিকে সমালোচকরা শাসন ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন ।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাহিনী খালেদা জিয়ার জীবন, নেতৃত্ব এবং তাঁর রেখে যাওয়া বিতর্ক থেকে অবিচ্ছেদ্য ছিল । দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর উত্থান দীর্ঘস্থায়ী তাৎপর্য বহন করে, যা প্রমাণ করে যে নারীরা ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ-আধিপত্যপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করতে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম ।
কারাবাস ও মুক্তি: খালেদা জিয়ার শেষ বছরগুলি
২০১৮ সালে শেখ হাসিনার শাসনামলে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছিলেন । তাঁকে একটি এতিমখানা ট্রাস্টের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলার বিদেশি অনুদান আত্মসাৎ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল । স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয় । তৎকালীন সরকার তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেয় ।
২০২৪ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে । ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত মামলায় তাঁকে খালাস দেয়, যা তাঁকে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিত । নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয় । তিনি জানুয়ারিতে লন্ডনে যান এবং মে মাসে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ।
বিএনপির ভবিষ্যৎ ও তারেক রহমান
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব তাঁর পুত্র তারেক রহমানের হাতে চলে যাবে বলে প্রত্যাশিত । ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর গত সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন । আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন এবং দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে ।
নভেম্বরে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে খালেদা জিয়া আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, কারণ দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করছিল । স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কারাবাস সত্ত্বেও, নভেম্বরে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তাৎপর্য
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শোক বার্তা এসেছে, যা তাঁর আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণ করে । বিশেষত ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঢাকা সফর বাংলাদেশের সঙ্গে এই দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল । পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকা সফর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে ।
শোক বইয়ে স্বাক্ষর
ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বিএনপির গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে শোক বই স্বাক্ষর করতে আসছেন । ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে শোক বই খোলা হয় এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রথম শোক বই স্বাক্ষর করেন । তারপর পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং পরে সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ইরানের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা শোক বই স্বাক্ষর করেন । ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাও গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোক বই স্বাক্ষর করেন ।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাবশালী উপস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি নজির স্থাপন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর তাঁর আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব প্রমাণ করে। তাঁর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জানাজা হবে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মহীয়সী নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।











