Frequent Headaches Warning Sign: ঘনঘন মাথাব্যথা হওয়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন, কিন্তু এটি চোখের একটি মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে যা ধীরে ধীরে আপনার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে । গ্লুকোমা, যাকে “দৃষ্টিশক্তির নীরব চোর” বলা হয়, বিশ্বব্যাপী স্থায়ী অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ এবং ভারতে প্রায় ১২.৮ শতাংশ অন্ধত্বের জন্য দায়ী । এই রোগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো যে, প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, কিন্তু একবার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় । ভারতে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্লুকোমা রোগী নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন না, মূলত সচেতনতার অভাবের কারণে ।
গ্লুকোমা কী এবং কেন এটি এত বিপজ্জনক
গ্লুকোমা হলো চোখের একটি জটিল রোগ যা অপটিক নার্ভের ক্ষতি করে, যা চোখ থেকে মস্তিষ্কে দৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য বহন করে । এই রোগের প্রধান কারণ হলো চোখের ভেতরের চাপ (ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার বা IOP) বৃদ্ধি পাওয়া, যা অপটিক নার্ভের ক্ষতি করে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস করে । চোখের ভেতরে একটি তরল পদার্থ (অ্যাকুয়াস হিউমার) ক্রমাগত তৈরি হয় এবং বের হয়, কিন্তু যখন এই তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না, তখন চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অপটিক নার্ভের ক্ষতি শুরু হয় ।
গ্লুকোমাকে “নীরব চোর” বলার কারণ হলো এর সবচেয়ে সাধারণ রূপ, প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা (POAG), এর কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না যতক্ষণ না পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাথমিক ভিজ্যুয়াল ফিল্ড ডিফেক্ট দেখা দেওয়ার সময় গড়ে ২৮.৪ শতাংশ রেটিনাল গ্যাংলিয়ন কোষ ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে যায় । এই কারণেই প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ একবার ক্ষতি হয়ে গেলে তা স্থায়ী হয়।
গ্লুকোমার প্রকারভেদ এবং মাথাব্যথার সম্পর্ক
গ্লুকোমা বিভিন্ন ধরনের হয়, এবং সব ধরনের গ্লুকোমা মাথাব্যথা সৃষ্টি করে না। প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, যা দশজনের মধ্যে নয়জন গ্লুকোমা রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণত মাথাব্যথা সৃষ্টি করে না । তবে অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা মারাত্মক মাথাব্যথা এবং চোখের ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে ।
প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা
এটি গ্লুকোমার সবচেয়ে সাধারণ রূপ এবং এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এই ধরনের গ্লুকোমায় চোখের নিষ্কাশন কোণ খোলা থাকে কিন্তু ট্র্যাবেকুলার মেশওয়ার্ক সঠিকভাবে কাজ করে না, যার ফলে তরল জমা হয় এবং চাপ বৃদ্ধি পায় । এই ধরনের গ্লুকোমা সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না এবং মাথাব্যথা হয় না, এমনকি হালকা মাথাব্যথাও না ।
অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা
এটি একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা যেখানে হঠাৎ নিষ্কাশন কোণ বন্ধ হয়ে যায় এবং চোখের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায় । অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা ইউরোপে প্রতি বছর প্রতি ১,00,000 জনে ২.২ থেকে ৪.১টি ঘটনা ঘটে । এই ধরনের গ্লুকোমায় মাথাব্যথা এবং চোখের ব্যথা সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ, যা চোখ এবং কপালের চারপাশে অনুভূত হয় । এই মাথাব্যথা মাইগ্রেনের মতো তীব্র এবং দুর্বল করে দেওয়ার মতো হতে পারে ।
সেকেন্ডারি গ্লুকোমা
কিছু সেকেন্ডারি গ্লুকোমা যা অত্যন্ত উচ্চ চোখের চাপ সৃষ্টি করে, সেগুলোও মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে । এই ধরনের গ্লুকোমা অন্য কোনো চোখের সমস্যা, আঘাত বা রোগের ফলে হয়।
অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমার লক্ষণ
অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা যা অবিলম্বে চিকিৎসা না করালে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে । এর লক্ষণগুলো হঠাৎ করে দেখা দেয় এবং অত্যন্ত তীব্র হয়:
চোখের ব্যথা: অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা আক্রমণের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো চোখের তীব্র ব্যথা, যা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং সাধারণত শুধুমাত্র একটি চোখে হয় ।
মাথাব্যথা বা কপালে ব্যথা: চোখের ব্যথার সাথে সাথে মাথাব্যথা বা কপালে ব্যথা হয়, যা আক্রান্ত চোখের একই দিকে হয় এবং খুবই তীব্র হতে পারে । যদি হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা বা কপালে ব্যথা, চোখের ব্যথা বা দৃষ্টি সমস্যার সাথে দেখা দেয়, তাহলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত ।
দৃষ্টি হ্রাস বা ঝাপসা দৃষ্টি: অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা আক্রমণে প্রায়ই দৃষ্টি পরিবর্তন যেমন ঝাপসা দৃষ্টি বা দৃষ্টির কিছু অংশ হারানো দেখা যায়, যা হঠাৎ করে আসে এবং প্রায়ই শুধুমাত্র একটি চোখে হয় ।
বমি বমি ভাব এবং বমি: অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা আক্রমণের তীব্র চোখের ব্যথার সাথে প্রায়ই বমি বমি ভাব এবং বমি হয়, যা অত্যন্ত তীব্র এবং দুর্বল করে দেওয়ার মতো হতে পারে । এই উপসর্গগুলো কখনো কখনো গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হিসাবে ভুল নির্ণয় করা হয় ।
রংধনু বা হ্যালো দেখা: কিছু মানুষ অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা আক্রমণে আলোর চারপাশে রংধনু, হ্যালো বা রঙিন বলয় দেখতে পান, বিশেষ করে কম আলোতে । এই অস্বাভাবিক দৃষ্টি বৃদ্ধি চোখের চাপ এবং অ্যাঙ্গেল ক্লোজারের ইঙ্গিত দিতে পারে।
লাল চোখ: আক্রান্ত চোখ লাল হয়ে যায় এবং কর্নিয়া মেঘলা দেখায় ।
পিউপিল পরিবর্তন: পিউপিল মাঝারি প্রশস্ত হতে পারে এবং আর সঠিকভাবে বৃত্তাকার থাকে না, এবং আলোতে প্রতিক্রিয়া সীমিত বা অনুপস্থিত হতে পারে ।
ভারতে গ্লুকোমার পরিসংখ্যান এবং বোঝা
ভারতে গ্লুকোমা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং দেশে অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং পরিসংখ্যান ভারতে গ্লুকোমার ব্যাপক প্রভাব তুলে ধরে:
প্রচলন হার: ভারতে ৪০ বছর এবং তার বেশি বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গ্লুকোমার প্রচলন ২.৬ শতাংশ থেকে ৫.৮ শতাংশের মধ্যে অনুমান করা হয়, অধ্যয়নকৃত জনসংখ্যা এবং প্রয়োগ করা ডায়াগনস্টিক মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে । ২০২০ সালের জন্য সংশ্লেষিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গ্লুকোমার সামগ্রিক প্রচলন ৩.২৩ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে । ২.৭ শতাংশ থেকে ৪.৩ শতাংশ প্রচলন সহ, ভারতে গ্লুকোমার বোঝা ১১.৯ মিলিয়ন এবং অন্ধত্বের প্রচলন ৮.৯ মিলিয়ন ।
অন্ধত্বের অবদান: গ্লুকোমা ভারতে মোট অন্ধত্বের প্রায় ১২.৮ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এটি অপরিবর্তনীয় অন্ধত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ । ২০১৯ সালে, ভারতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে বসবাস করছিল, এবং গ্লুকোমা তৃতীয় সবচেয়ে সাধারণ কারণ (প্রতিসরণ ত্রুটি এবং ছানির পরে) ।
ভবিষ্যৎ প্রজেকশন: ২০৫০ সাল নাগাদ, ভারতে গ্লুকোমার সামগ্রিক প্রচলন ৪.৫২ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়, যা ২৮.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি । এশিয়ায় ২০৪০ সাল নাগাদ ২৭.৮ মিলিয়ন অতিরিক্ত গ্লুকোমা কেস দেখা যাবে বলে অনুমান করা হয়, এবং ভারত ও চীন সর্বাধিক বোঝা ভাগ করবে ।
অনির্ণীত কেস: ভারতে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্লুকোমা কেস অনির্ণীত থাকে, মূলত সচেতনতার অভাবের কারণে । নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্লুকোমা কেস অনির্ণীত থাকে, যা ভারতে ৯০ শতাংশ ।
সাবটাইপ প্রচলন: POAG (প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা) এর সাবটাইপ-নির্দিষ্ট প্রচলন ২.০৭ শতাংশ, PACG (প্রাইমারি অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা) এর জন্য ০.৮১ শতাংশ, এবং সেকেন্ডারি গ্লুকোমা (SG) এবং সিউডোএক্সফোলিয়েশন গ্লুকোমা (PXFG) উভয়ের জন্য ০.২৯ শতাংশ । ২০৫০ সাল নাগাদ, PACG প্রচলন দ্বিগুণ হবে এবং POAG ১৮.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে ।
গ্লুকোমার ঝুঁকির কারণ
গ্লুকোমা যে কারোরই হতে পারে, তবে কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। নিম্নলিখিত ঝুঁকির কারণগুলি গ্লুকোমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে:
| ঝুঁকির কারণ | ঝুঁকি বৃদ্ধি |
|---|---|
| পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস | ৪ থেকে ৯ গুণ বেশি ঝুঁকি |
| ৬০ বছরের বেশি বয়স | ৬ গুণ বেশি ঝুঁকি |
| আফ্রিকান আমেরিকান | ৬ থেকে ৮ গুণ বেশি ঝুঁকি |
| স্টেরয়েড ব্যবহার | ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমায় ৪০% বৃদ্ধি |
| হিস্পানিক বা এশিয়ান বংশোদ্ভূত | উচ্চ ঝুঁকি |
| ডায়াবেটিস | বৃদ্ধি ঝুঁকি |
| উচ্চ রক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ | বৃদ্ধি ঝুঁকি |
| চোখের আঘাত বা অপারেশনের ইতিহাস | বৃদ্ধি ঝুঁকি |
| মাইগ্রেন | বৃদ্ধি ঝুঁকি |
| দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড ওষুধ | বৃদ্ধি ঝুঁকি |
পারিবারিক ইতিহাস এবং জেনেটিক্স: পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে একটি । প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমার প্রাথমিক এবং প্রাপ্তবয়স্ক রূপের সাথে সম্পর্কিত প্রথম জিন হিসাবে মায়োসিলিন (MYOC) জিন রিপোর্ট করা হয়েছে ।
বয়স: বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্লুকোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে । ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি ।
ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস মেলিটাস গ্লুকোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে । গবেষণায় দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং সিস্টেমিক উচ্চ রক্তচাপ, একা বা সংমিশ্রণে, ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমার বৃদ্ধি ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত । হিমোগ্লোবিন A1c উচ্চ থাকলে গ্লুকোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ।
উচ্চ চোখের চাপ: উচ্চ ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার (IOP) গ্লুকোমার সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ । তবে উচ্চ IOP সবসময় গ্লুকোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে না ।
জাতি এবং জাতিগততা: আফ্রিকান আমেরিকানদের গ্লুকোমার ঝুঁকি ৬ থেকে ৮ গুণ বেশি, এবং হিস্পানিক এবং এশিয়ানদেরও উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে ।
অন্যান্য ঝুঁকির কারণ: দীর্ঘমেয়াদী কর্টিসোন (স্টেরয়েড) ওষুধ, চোখের অপারেশন বা আঘাত, মাইগ্রেন, এবং অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া সবই গ্লুকোমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে ।
গ্লুকোমা নির্ণয়: পরীক্ষা এবং পদ্ধতি
গ্লুকোমা নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন, কারণ একটি একক পরীক্ষা গ্লুকোমার উপস্থিতি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে পারে না । প্রাথমিক সনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিকিৎসা প্রগতিশীল দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ করতে পারে ।
টোনোমেট্রি (চোখের চাপ পরিমাপ): টোনোমেট্রি ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার (IOP) পরিমাপ করে, যা গ্লুকোমার সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ । গোল্ডম্যান অ্যাপল্যানেশন টোনোমেট্রি IOP পরিমাপের জন্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড । এই পদ্ধতিতে চোখে অবশকারী ড্রপ দেওয়া হয় এবং কর্নিয়ায় আলতোভাবে চাপ দেওয়ার জন্য একটি ছোট ডিভাইস ব্যবহার করা হয় । আরেকটি বিকল্প হলো নন-কন্ট্যাক্ট টোনোমেট্রি বা “পাফ টেস্ট”, যেখানে বাতাসের একটি দ্রুত ফুঁ চোখের চাপ অনুমান করে ।
অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি (OCT): OCT অপটিক নার্ভ এবং রেটিনাল নার্ভ ফাইবার লেয়ার (RNFL) এর উচ্চ-রেজোলিউশন ইমেজ প্রদান করে । OCT চোখের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই উন্নত ইমেজিং ব্যবহার করে । গ্লুকোমার জন্য OCT পরীক্ষা উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে কাঠামোগত ক্ষতি সনাক্ত করতে পারে, তবে এটি কার্যকরী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য পরীক্ষার সাথে মিলিত করতে হবে । OCT গ্লুকোমা নির্ণয় এবং ব্যবস্থাপনায় অপটিক নার্ভের ক্লিনিকাল মূল্যায়নকে পুনরুৎপাদনযোগ্য, পরিমাণগত পরিমাপের সাথে পরিপূরক করে ।
ভিজ্যুয়াল ফিল্ড টেস্টিং (পেরিমেট্রি): এই পরীক্ষা পেরিফেরাল দৃষ্টিশক্তি হ্রাস সনাক্ত করে, যা গ্লুকোমার প্রাথমিক লক্ষণ । নিয়মিত ভিজ্যুয়াল ফিল্ড টেস্টিং ঝুঁকির কারণ, অকুলার হাইপারটেনশন এবং গ্লুকোমা চিকিৎসা গ্রহণকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
ফান্ডোস্কোপিক পরীক্ষা: এই পরীক্ষা অপটিক নার্ভের ক্ষতি সনাক্ত করার জন্য অপটিক ডিস্ক পরীক্ষা করে ।
গোনিওস্কোপি: এই পরীক্ষা চোখের নিষ্কাশন কোণ পরীক্ষা করে এবং এটি খোলা নাকি বন্ধ তা নির্ধারণ করে । গোনিওস্কোপি বিশেষ লেন্স বা প্রোব ব্যবহার করে কিন্তু কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি করে না ।
প্যাকিমেট্রি: কর্নিয়ার পুরুত্ব পরিমাপ করে, কারণ কর্নিয়ার পুরুত্ব IOP পড়া এবং গ্লুকোমার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে ।
কম্বাইন্ড স্ট্রাকচার-ফাংশন ইনডেক্স (CSFI): সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি এবং স্ট্যান্ডার্ড অটোমেটেড পেরিমেট্রি থেকে রেটিনাল গ্যাংলিয়ন কোষের সংখ্যা অনুমান করা সম্ভব, এবং তারপরে একটি কম্বাইন্ড স্ট্রাকচার-ফাংশন ইনডেক্স (CSFI) তৈরি করার জন্য ফলাফলগুলি একত্রিত করা সম্ভব । CSFI বয়স-মিলে থাকা সুস্থ চোখের তুলনায় হারিয়ে যাওয়া রেটিনাল গ্যাংলিয়ন কোষের অনুমানিত শতাংশ উপস্থাপন করে ।
গ্লুকোমা চিকিৎসা: ওষুধ, লেজার এবং সার্জারি
গ্লুকোমার চিকিৎসার লক্ষ্য হলো চোখের চাপ কমিয়ে অপটিক নার্ভের আরও ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের অগ্রগতি ধীর বা বন্ধ করা । একবার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা যায় না, তাই প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
ওষুধ (চোখের ড্রপ এবং মৌখিক ওষুধ)
গ্লুকোমার প্রথম-লাইন চিকিৎসা সাধারণত চোখের ড্রপ যা চোখের চাপ কমায় । এই ওষুধগুলি হয় চোখে তরল উৎপাদন কমায় বা তরল নিষ্কাশন বৃদ্ধি করে। প্রায়শই, রোগীদের সর্বোত্তম IOP নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক ওষুধের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় । যদিও ওষুধ প্রায়শই গ্লুকোমা ব্যবস্থাপনায় সফল হয়, নির্ধারিত নিয়মের সাথে সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । নিয়মিত চোখের পরীক্ষা এবং সর্বোত্তম চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য চিকিৎসা পরিকল্পনার সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে । প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমার অগ্রগতি গ্লুকোমা চোখের ড্রপ, মৌখিক ওষুধ বা গ্লুকোমা সার্জারির মাধ্যমে বন্ধ বা ব্যাপকভাবে ধীর করা যেতে পারে ।
লেজার চিকিৎসা
যখন একা ওষুধ অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়, তখন সার্জিকাল হস্তক্ষেপ একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠে । গ্লুকোমার ধরনের উপর নির্ভর করে দুটি প্রধান ধরনের লেজার পদ্ধতি রয়েছে:
সিলেক্টিভ লেজার ট্র্যাবেকুলোপ্লাস্টি (SLT): ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা আক্রান্তদের জন্য ব্যবহৃত হয় । লেজার ট্র্যাবেকুলোপ্লাস্টিতে ট্র্যাবেকুলার মেশওয়ার্কে নিষ্কাশন চ্যানেল খুলতে উচ্চ-শক্তির লেজার ব্যবহার করা হয়, ভাল তরল নিষ্কাশন সহজ করে এবং IOP হ্রাস করে । এই আউটপেশেন্ট পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং ঐতিহ্যগত সার্জারির তুলনায় জটিলতার ঝুঁকি কম ।
লেজার পেরিফেরাল ইরিডোটমি (LPI): অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা বা এর প্রিকার্সার পর্যায়ে আক্রান্তদের জন্য সহায়ক ।
সার্জারি
যদি ওষুধ এবং লেজার চিকিৎসা ব্যর্থ হয় বা অনুপযুক্ত হয়, তাহলে গ্লুকোমা ব্যবস্থাপনার জন্য সার্জারি প্রয়োজন । এই পদ্ধতিগুলির লক্ষ্য হলো অ্যাকুয়াস হিউমারের জন্য নতুন নিষ্কাশন পথ তৈরি করা, যা চোখের চাপ কমায় এবং অপটিক নার্ভের ক্ষতি হ্রাস করে । যখন অন্যান্য চিকিৎসা চোখের চাপ পছন্দসই স্তরে কমাতে পারে না, তখন আপনার ডাক্তার কিছু ধরনের ইনসিশনাল সার্জারি সুপারিশ করতে পারে ।
ট্র্যাবেকুলেক্টমি: সবচেয়ে সাধারণ সার্জারি হলো ট্র্যাবেকুলেক্টমি, যেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চোখে একটি নতুন নিষ্কাশন চ্যানেল তৈরি করেন । এটি তরলকে অবরুদ্ধ প্রাকৃতিক নিষ্কাশন সিস্টেম বাইপাস করতে দেয় । কার্যকর হলেও, এই সার্জারি জটিলতার উচ্চ ঝুঁকি এবং আরও বর্ধিত পুনরুদ্ধারের সময়কাল বহন করে ।
ড্রেনেজ ডিভাইস: অন্যান্য সার্জিকাল বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ড্রেনেজ ডিভাইস যেমন শান্ট বা স্টেন্ট সন্নিবেশ ।
মিনিমালি ইনভেসিভ গ্লুকোমা সার্জারি (MIGS): MIGS তরল বহিঃপ্রবাহ বাড়াতে ছোট ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করে । এই সার্জারি একটি হাসপাতাল বা সার্জারি সেন্টারে করা হয়, মাইক্রোস্কোপ এবং মাইক্রোসার্জারি যন্ত্র ব্যবহার করে, এবং চোখে একটি কাটা (ইনসিশন) তৈরি অন্তর্ভুক্ত করে ।
গ্লুকোমা প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণের গুরুত্ব
যদিও গ্লুকোমা প্রতিরোধের কোনো পরিচিত উপায় নেই, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি চিহ্নিত হলে অন্ধত্ব বা উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ করা যেতে পারে । বর্তমানে, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য গ্লুকোমা ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সেরা রূপ । প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং সতর্ক, আজীবন চিকিৎসা বেশিরভাগ মানুষের দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে পারে ।
নিয়মিত চোখের পরীক্ষা
গ্লুকোমার জন্য উচ্চ ঝুঁকির কারণ সহ যে কাউকে ৩৫ বছর বয়সের পরে প্রতি বছর বা দুই বছরে পরীক্ষা করা উচিত । প্রাথমিক সনাক্তকরণ গ্লুকোমা প্রতিরোধের জন্য অত্যাবশ্যক । চক্ষু বিশেষজ্ঞরা উপসর্গ বিকশিত হওয়ার আগে গ্লুকোমার লক্ষণগুলি পরীক্ষা করতে পারেন, যা প্রাথমিক হস্তক্ষেপ এবং চিকিৎসার অনুমতি দেয় । চিকিৎসা রোগের অগ্রগতি ধীর বা বন্ধ করতে পারে । NIH-এর ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডঃ পল সিভিং বলেন, “গবেষণা দেখায় যে গ্লুকোমা আক্রান্ত সমস্ত মানুষের অন্তত অর্ধেক জানেন না যে তাদের এই সম্ভাব্য অন্ধকারী চোখের রোগ রয়েছে। ভাল খবর হলো যে একটি ব্যাপক প্রসারিত চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লুকোমা প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা যেতে পারে ।”
মনিটরিং
নিয়মিত চোখের পরীক্ষা রোগের চলমান মনিটরিংয়ের জন্যও অনুমতি দেয় । গ্লুকোমা সময়ের সাথে সাথে অগ্রসর হতে পারে, এবং চিকিৎসা সেই অনুযায়ী সমন্বয় করতে হতে পারে । নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করে যে চিকিৎসা কার্যকর থাকে এবং অবস্থার অবনতি না হয় ।
সময়মত নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা
যদিও গ্লুকোমা প্রতিরোধের কোনো পরিচিত উপায় নেই, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি চিহ্নিত হলে অন্ধত্ব বা উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ করা যেতে পারে । প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা গ্লুকোমা প্রতিরোধের চাবিকাঠি । গ্লুকোমা ওষুধ উন্নত ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার (IOP) হ্রাস করে অপটিক নার্ভের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে গ্লুকোমার অগ্রগতি ধীর করে । সার্জিকাল চিকিৎসাও উপলব্ধ ।
সচেতনতা এবং শিক্ষা
ভারতে গ্লুকোমার উচ্চ অনির্ণীত হার (৯০ শতাংশ) মূলত সচেতনতার অভাবের কারণে । গ্লুকোমার ঝুঁকির কারণ, লক্ষণ এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এই রোগের বোঝা কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকে, তাহলে আপনাকে স্ক্রীন করা দরকার । যদি আপনি না জানেন যে আপনার পরিবারের কেউ গ্লুকোমা হয়েছে কিনা, তাহলে আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে ।
উচ্চ চোখের চাপের লক্ষণ এবং প্রভাব
উচ্চ চোখের চাপ সবসময় স্পষ্ট উপসর্গের সাথে প্রকাশ পায় না । তবে কিছু লক্ষণ উন্নত চোখের চাপ নির্দেশ করতে পারে:
-
চোখের অস্বস্তি বা ব্যথা: চোখে বা চোখের চারপাশে চাপ বা ব্যথার অনুভূতি ।
-
মাথাব্যথা: বিশেষ করে চোখ বা কপালের চারপাশে কেন্দ্রিত ।
-
ঝাপসা দৃষ্টি: ফোকাস করতে বা স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা ।
-
আলোর চারপাশে হ্যালো দেখা: বিশেষ করে কম আলোতে ।
-
চোখ লাল হওয়া: চোখের লালভাব ।
-
পেরিফেরাল দৃষ্টি হ্রাস: পাশের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ।
ঘন ঘন মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ, বিশেষ করে আবছা আলোতে বা স্ক্রীনে ফোকাস করার সময়, উন্নত ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশারের সতর্ক লক্ষণ হতে পারে । এই উপসর্গগুলি হালকা বা এমনকি স্বাভাবিক মনে হতে পারে, তবে যদি তারা নিয়মিত হয়ে ওঠে, তবে একজন চোখের যত্ন পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা অপরিহার্য । গ্লুকোমার কারণে মাথাব্যথা প্রায়শই অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমায় আরও তীব্র হয় তবে অবস্থার হালকা রূপেও উপস্থিত থাকতে পারে ।
উচ্চ চোখের চাপের প্রভাব
যখন উচ্চ চোখের চাপ অব্যাহত থাকে, তখন এটি চোখের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে:
অপটিক নার্ভের ক্ষতি: বৃদ্ধি চাপ নার্ভ ফাইবার ক্ষতি করে, যা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হতে পারে ।
গ্লুকোমার বিকাশ: উচ্চ চোখের চাপ গ্লুকোমার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ, যা অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ ।
পেরিফেরাল দৃষ্টি হ্রাস: চাপ বৃদ্ধি প্রায়শই প্রথমে পাশের দৃষ্টিশক্তি প্রভাবিত করে, যা কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হ্রাসে অগ্রসর হতে পারে ।
কর্নিয়াল ক্ষতি: অতিরিক্ত চাপ কর্নিয়াল ফোলা বা মেঘলাতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ঝাপসা দৃষ্টি হয় ।
উচ্চ চোখের চাপ কেমন অনুভব হয়? উচ্চ চোখের চাপ, যা অকুলার হাইপারটেনশন নামেও পরিচিত, প্রায়শই লক্ষণীয় উপসর্গ সৃষ্টি করে না । তবে কিছু ব্যক্তি হালকা চোখের অস্বস্তি, মাথাব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তনের মতো উপসর্গ অনুভব করতে পারেন । গুরুতর ক্ষেত্রে, উচ্চ চোখের চাপ গ্লুকোমা হতে পারে, যা চিকিৎসা না করা হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে ।
মাথাব্যথা এবং চোখের চাপের মধ্যে সম্পর্ক
মাথাব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, এবং চোখের চাপ তাদের মধ্যে একটি। চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার সম্পর্ক বোঝা গুরুত্বপূর্ণ:
চোখের পৃষ্ঠে ব্যথা: চোখের পৃষ্ঠে ব্যথা চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার একটি সাধারণ লক্ষণ ।
চোখের পিছনে চাপ: চোখের পিছনে চাপের অনুভূতি টেনশন এবং মাইগ্রেন মাথাব্যথার একটি সাধারণ লক্ষণ ।
দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি বা শুষ্কতা: দীর্ঘস্থায়ী চোখের অস্বস্তি বা শুষ্কতা চোখের চাপ এবং মাথাব্যথা নির্দেশ করতে পারে ।
কম আলোতে দেখতে সমস্যা: কম আলোতে দেখতে অসুবিধা চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার লক্ষণ হতে পারে ।
লাল, চোখ দিয়ে জল পড়া: লাল, চোখ দিয়ে জল পড়া চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার সাথে সম্পর্কিত উপসর্গ ।
চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া: চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার লক্ষণ হতে পারে ।
ঘাড় এবং কাঁধের পেশীতে ব্যথা: ঘাড় এবং কাঁধের পেশীতে ব্যথা চোখের চাপ এবং মাথাব্যথার সাথে সম্পর্কিত ।
মুখের একপাশে ফোলাভাব: মুখের একপাশে ফোলাভাব চোখের চাপ এবং মাথাব্যথা নির্দেশ করতে পারে ।
টেনশন এবং মাইগ্রেন মাথাব্যথার সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে চোখের পিছনে চাপ, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং স্পন্দনশীল মাথা ব্যথা ।
গ্লুকোমা একটি গুরুতর চোখের রোগ যা নীরবে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে, এবং ঘন ঘন মাথাব্যথা, বিশেষ করে চোখের চারপাশে, এই রোগের একটি সতর্ক লক্ষণ হতে পারে। ভারতে গ্লুকোমার বোঝা উল্লেখযোগ্য, প্রায় ১১.৯ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত এবং ৯০ শতাংশ কেস অনির্ণীত থাকে। প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং সময়মত চিকিৎসা দৃষ্টিশক্তি রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একবার ক্ষতি হয়ে গেলে তা স্থায়ী হয়। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা, বিশেষ করে ৩৫ বছরের পরে এবং ঝুঁকির কারণ থাকলে, গ্লুকোমা প্রতিরোধের সেরা রূপ। যদি আপনি ঘন ঘন মাথাব্যথা, চোখের ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি বা আলোর চারপাশে হ্যালো দেখার মতো উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে অবিলম্বে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে, আমরা গ্লুকোমা থেকে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ করতে পারি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারি।











