লিভার ও গ্যাস্ট্রো সমস্যায় ভুগছেন? ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নিন লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগব্যাধি বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক নীরব মহামারীর রূপ নিয়েছে। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং হেপাটাইটিস ভাইরাসের মতো নানা কারণে গ্যাস্ট্রো-লিভারের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল উন্নতমানের চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং একদল অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের সব ধরনের রোগের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এখানকার বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে সুস্থ জীবন ফিরে পেতে সাহায্য করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিস এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যান্সারের মতো রোগের প্রকোপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইবনে সিনা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগটি একটি আশার আলো হিসেবে কাজ করছে, যেখানে রোগীরা একই ছাদের নিচে সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন। হাসপাতালটি তার নৈতিক ও রোগী-কেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, যা এটিকে লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগের চিকিৎসার জন্য অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রো-লিভার রোগের ভয়াবহ চিত্র: পরিসংখ্যান কী বলছে?
লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসংক্রামক রোগের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন গবেষণাপত্র এবং স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ গ্যাস্ট্রো-লিভারের কোনো না কোনো সমস্যায় আক্রান্ত।
লিভার রোগের পরিসংখ্যান
লিভারের রোগ, বিশেষ করে ভাইরাল হেপাটাইটিস (বি ও সি), নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) এবং লিভার সিরোসিস বাংলাদেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ভাইরাল হেপাটাইটিস: জাতিসংঘের একটি রিপোর্ট (জুন ২০২৪) অনুযায়ী, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি-এর প্রাদুর্ভাব প্রায় ৩.৪৪% এবং হেপাটাইটিস সি-এর প্রাদুর্ভাব ০.৮২%। সাধারণ জনসংখ্যার মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের হার ৪.৯% থেকে ৬.২৫% পর্যন্ত হতে পারে, যা একটি উদ্বেগজনক চিত্র।
- ফ্যাটি লিভার (NAFLD): জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এনসিবিআই (NCBI)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের দিকে মোড় নিতে পারে।
- লিভার সিরোসিস: এটি লিভারের একটি অপরিবর্তনীয় রোগ, যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং ফ্যাটি লিভার। রিসার্চগেটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে (Chronic Liver Diseases – CLDs) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৭% থেকে ৬৯% পর্যন্ত হতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রের রোগের পরিসংখ্যান
বদহজম, গ্যাস, আইবিএস থেকে শুরু করে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ক্যান্সারের মতো রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়।
- আপার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (GI) লক্ষণ: একটি গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭৫.৮% মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে উপরের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় (যেমন – বুক জ্বালা, পেটে ব্যথা, ফোলাভাব) ভোগেন। এর মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এবং ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া অন্যতম।
- ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS): বাংলাদেশে আইবিএস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল বুলেটিনে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশের শহরাঞ্চলে ৭.৮% এবং গ্রামাঞ্চলে ৬.৫% মানুষ আইবিএস-এ আক্রান্ত।
- গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যান্সার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাকস্থলী এবং কোলন ক্যান্সারসহ পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ক্যান্সারের হারও বাড়ছে, যা প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে স্পষ্ট যে, গ্যাস্ট্রো-লিভার রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান কতটা জরুরি। ইবনে সিনা হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইবনে সিনা হাসপাতাল: গ্যাস্ট্রোলিভার চিকিৎসায় এক বিশ্বস্ত নাম
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতাল এবং এর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক শাখাগুলো গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং হেপাটোলজি (লিভার) রোগের চিকিৎসার জন্য সুপরিচিত। হাসপাতালটির গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগটি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং রোগী-কেন্দ্রিক সেবার এক অনন্য সমন্বয়।
কেন ইবনে সিনা হাসপাতালকে বেছে নেবেন?
- অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল: ইবনে সিনা হাসপাতালে দেশের সেরা এবং অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত রোগী দেখেন। তাদের অনেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং গবেষণার সাথে যুক্ত।
- আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা: রোগ সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক এন্ডোস্কপি, কোলোনোস্কপি, ইআরসিপি (ERCP), ফাইব্রোস্ক্যান এবং উন্নত ইমেজিং ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তিগুলো রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
- সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা: গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগটি হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগের (যেমন – সার্জারি, অনকোলজি, রেডিওলজি) সাথে সমন্বয় করে রোগীদের একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা (Comprehensive Care) প্রদান করে।
- রোগী-কেন্দ্রিক পরিষেবা: রোগীদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব দিয়ে এখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে সেবা প্রদান করেন। চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া এবং রোগীদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
ইবনে সিনা হাসপাতালের স্বনামধন্য গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞগণ
ইবনে সিনা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগে অনেক খ্যাতনামা চিকিৎসক যুক্ত আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের প্রোফাইল নিচে তুলে ধরা হলো, যারা তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে রোগীদের আস্থা অর্জন করেছেন।
অধ্যাপক ডাঃ দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ
- যোগ্যতা: এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)
- কর্মস্থল: অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)
- চেম্বার: ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি
সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল: অধ্যাপক ডাঃ দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। পরিপাকতন্ত্র এবং লিভারের জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিএসএমএমইউ-এর মতো দেশের প্রধান চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মর চিকিৎসকদেরও পথ দেখাচ্ছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড এন্ডোস্কোপিক প্রক্রিয়া এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোলজি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তার গবেষণা কর্ম প্রশংসিত হয়েছে, যা তার দক্ষতার পরিচায়ক।
ডাঃ মোঃ কামরুল আনাম
- যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (হেপাটোলজি)
- কর্মস্থল: কনসালটেন্ট, শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
- চেম্বার: ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মালিবাগ
সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল: ডাঃ মোঃ কামরুল আনাম একজন দক্ষ হেপাটোলজিস্ট (লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ)। লিভারের রোগ, বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD), ভাইরাল হেপাটাইটিস এবং লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। রিসার্চগেটে তার বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যা লিভার রোগের চিকিৎসায় তার গভীর জ্ঞান এবং দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তিনি একজন জিআই ইন্টারভেনশনিস্ট হিসেবেও পরিচিত, অর্থাৎ এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল চিকিৎসায় তিনি পারদর্শী।
ডাঃ শিরিন আহমেদ
- যোগ্যতা: এমবিবিএস, এফসিপিএস (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)
- কর্মস্থল: সহকারী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল
- চেম্বার: ইবনে সিনা মেডিকেল ইমেজিং সেন্টার, জিগাতলা
সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল: ডাঃ শিরিন আহমেদ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং হেপাটোলজি উভয় ক্ষেত্রেই একজন প্রতিশ্রুতিশীল বিশেষজ্ঞ। ডায়াবেটিস রোগীদের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা এবং লিভারের রোগের চিকিৎসায় তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। বারডেমের মতো একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে কাজ করার সুবাদে তিনি জটিল এবং মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি কেস ম্যানেজমেন্টে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। তার গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে পোস্ট-ইআরসিপি প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং লিভার সিরোসিসের জটিলতা।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ:
উপরে উল্লিখিত চিকিৎসকরা ছাড়াও ইবনে সিনার বিভিন্ন শাখায় আরও অনেক অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ নিয়মিত রোগী দেখেন। রোগীদের উচিত তাদের সমস্যা অনুযায়ী সঠিক বিশেষজ্ঞ নির্বাচনের জন্য হাসপাতালের তথ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা।
| বিশেষজ্ঞের নাম | যোগ্যতা | কর্মস্থল | চেম্বারের ঠিকানা (ইবনে সিনা) |
| অধ্যাপক ডাঃ দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ | এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি (গ্যাস্ট্রো) | বিএসএমএমইউ | ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি |
| ডাঃ মোঃ কামরুল আনাম | এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি (হেপাটোলজি) | শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট | ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মালিবাগ |
| ডাঃ শিরিন আহমেদ | এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি (গ্যাস্ট্রো) | বারডেম জেনারেল হাসপাতাল | ইবনে সিনা মেডিকেল ইমেজিং সেন্টার, জিগাতলা |
| ডাঃ মোঃ মোখলেসুর রহমান | এমবিবিএস, এফসিপিএস (গ্যাস্ট্রো) | – | ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি |
| অধ্যাপক ডাঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস | এমবিবিএস, এফসিপিএস, বিসিএস, এমডি | – | ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লালবাগ |
দ্রষ্টব্য: ডাক্তারদের চেম্বারের সময় এবং প্রাপ্যতা পরিবর্তনশীল। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যাওয়ার আগে অবশ্যই হাসপাতালের হটলাইনে (+8809610009611) যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে।
ইবনে সিনা হাসপাতালে উপলব্ধ প্রধান চিকিৎসা সেবাসমূহ
ইবনে সিনা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগ একটি ব্যাপক (comprehensive) সেবা প্রদান করে, যার মধ্যে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত।
ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় পরিষেবা
সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো নির্ভুল রোগ নির্ণয়। এই লক্ষ্যে ইবনে সিনা হাসপাতালে বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে।
- আপার জিআই এন্ডোস্কপি (Upper GI Endoscopy): খাদ্যনালী, পাকস্থলী এবং ডিওডেনামের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে আলসার, প্রদাহ, এবং ক্যান্সারের মতো রোগ নির্ণয় করা হয়।
- কোলোনোস্কপি (Colonoscopy): সম্পূর্ণ বৃহদন্ত্র (কোলন) পরীক্ষা করার জন্য এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। কোলন ক্যান্সার, পলিপ এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) নির্ণয়ে এটি অপরিহার্য।
- ইআরসিপি (ERCP – Endoscopic Retrograde Cholangiopancreatography): এটি একটি উন্নত এন্ডোস্কোপিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পিত্তনালী এবং অগ্ন্যাশয়ের রোগ (যেমন – পাথর, টিউমার) নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়।
- ফাইব্রোস্ক্যান (FibroScan): এটি একটি নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা, যার মাধ্যমে লিভারের ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ক্যাপসুল এন্ডোস্কপি (Capsule Endoscopy): একটি ছোট ক্যামেরাযুক্ত ক্যাপসুল গিলে ফেলার মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের ছবি তোলা হয়, যা সাধারণ এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে দেখা সম্ভব নয়।
থেরাপিউটিক বা চিকিৎসা পরিষেবা
শুধুমাত্র রোগ নির্ণয় নয়, এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাও এখানে করা হয়।
- পলিপেক্টমি (Polypectomy): কোলোনোস্কপির সময় কোলন থেকে পলিপ অপসারণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
- ভ্যারিসিয়াল ব্যান্ড লাইগেশন (Variceal Band Ligation): লিভার সিরোসিসের কারণে খাদ্যনালীর শিরা ফুলে গেলে (varices) তা থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- ব্লিডিং কন্ট্রোল (Bleeding Control): পরিপাকতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন, হেমোক্লিপ বা থার্মোকোয়াগুলেশন ব্যবহার করা হয়।
- স্টেটিং (Stenting): পিত্তনালী, খাদ্যনালী বা অন্ত্রের কোনো অংশ সরু হয়ে গেলে তা প্রশস্ত রাখার জন্য স্টেন্ট (একটি ছোট টিউব) স্থাপন করা হয়।
- ফরেন বডি অপসারণ (Foreign Body Removal): অসাবধানতাবশত কোনো বস্তু গিলে ফেললে তা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বের করা হয়।
চিকিৎসার খরচ কেমন হতে পারে?
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ থাকে। ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে, চিকিৎসার খরচ মূলত নির্ভর করে রোগের ধরন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার পদ্ধতির উপর।
ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালের খরচের তালিকা থেকে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। যেমন:
- এন্ডোস্কপি: সাধারণত ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা।
- কোলোনোস্কপি: ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।
- ইআরসিপি (ERCP): এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় এর খরচ ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
এই খরচগুলো একটি আনুমানিক ধারণা মাত্র। নির্দিষ্ট প্যাকেজ এবং চূড়ান্ত খরচের জন্য ইবনে সিনা হাসপাতালের তথ্য কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিপাকতন্ত্র এবং লিভারের রোগ অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করা যায়। ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং রোগী-বান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে গ্যাস্ট্রো-লিভারের চিকিৎসায় এক বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কোনো সদস্য লিভার বা পরিপাকতন্ত্রের কোনো সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।











