বিশ্ব ২০২৪ সালে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী বছরের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ—যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি । একইসাথে, বিশ্বজুড়ে জেন-জেড প্রজন্মের নেতৃত্বে অভূতপূর্ব বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে, যা বাংলাদেশ, কেনিয়া, নেপাল, মরক্কো থেকে মাদাগাস্কার পর্যন্ত বিস্তৃত । ইউক্রেন, গাজা, সুদান এবং মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধ এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ—দুটি মিলে ২০২৪-২৫ সালকে একটি বৈশ্বিক সংকটের বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রাম (UCDP) জানিয়েছে যে ২০২৪ সালে ৬১টি সক্রিয় সংঘাত ছিল, যা ১৯৪৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ ।
বিশ্বব্যাপী সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র
২০২৪ সাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে সবচেয়ে হিংসাত্মক বছরগুলোর একটি হিসেবে রেকর্ড করেছে । Armed Conflict Location and Event Data (ACLED) এর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী সংঘাতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ হিংসাত্মক ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি ।
লেবাননে হিংসাত্মক ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৫৮ শতাংশ এবং রাশিয়ায় ৩৪৯ শতাংশ । SIPRI (Stockholm International Peace Research Institute) এর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মোট প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার, যা ২০১৮-২৪ সময়কালে সর্বোচ্চ । এই রক্তাক্ত পরিস্থিতি শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই—বেসামরিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ও ক্ষয়ক্ষতি
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ২০২৪ সালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬৭,০০০ থেকে ৭৬,০০০ জন নিহত হয়েছে । Council on Foreign Relations এর মতে, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছে । গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আক্রমণে ২০২৪ সালে ৩৫,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা ১৯৪৮ সাল থেকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর । অক্টোবর ২০২৩ থেকে মোট ৪৫,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৪,৫০০ শিশু রয়েছে ।
UCDP এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের গাজা ও লেবাননে হিজবুল্লাহ-বিরোধী যুদ্ধে প্রায় ২৬,০০০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশ ছিল বেসামরিক মানুষ । Action on Armed Violence (AOAV) জানিয়েছে যে ২০২৪ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং গাজা একাই বিশ্বব্যাপী বেসামরিক হতাহতের ৩৯ শতাংশের জন্য দায়ী ।
| সংঘাত/দেশ | আনুমানিক মৃত্যু (২০২৪) | প্রধান প্রভাবিত এলাকা |
|---|---|---|
| ইউক্রেন | ৬৭,০০০-৭৬,০০০ | সমগ্র ইউক্রেন |
| গাজা ও পশ্চিম তীর | ৩৫,০০০+ | ফিলিস্তিনি অধিকৃত অঞ্চল |
| সুদান | তথ্য সীমিত | দারফুর, খার্তুম |
| মিয়ানমার | তথ্য সীমিত | রাখাইন রাজ্য |
ছাত্রদের হুঙ্কারে কেঁপে উঠল রাজপথ: কোটা আন্দোলনের অজানা কাহিনী!
সুদান ও মিয়ানমারের ভুলে যাওয়া মানবিক বিপর্যয়
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান গৃহযুদ্ধ একটি বিপর্যয়কর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে । সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (SAF) এবং দ্রুত সহায়তা বাহিনীর (RSF) মধ্যে যুদ্ধ ইতিমধ্যে ২০ মাস অতিক্রম করেছে, যেখানে বেসামরিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ভুগছে । ডিসেম্বর ২০২৪ এবং জানুয়ারি ২০২৫-এ খার্তুমে বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে ।
দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
সুদানে ২.৪৬ কোটি মানুষ—দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা—তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে । ইন্টিগ্রেটেড ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) এর ডিসেম্বর ২০২৪-এর রিপোর্ট পাঁচটি এলাকায় দুর্ভিক্ষ চিহ্নিত করেছে, যা উত্তর দারফুরের জামজাম ক্যাম্পে আগস্ট ২০২৪-এ দুর্ভিক্ষ ঘোষণার পর এসেছে । জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক অফিসের পরিচালক ইদেম ওয়োসোরনু সতর্ক করে বলেছেন যে সুদান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা সংকটের মধ্যে রয়েছে ।
মিয়ানমারেও পরিস্থিতি সমানভাবে ভয়াবহ, যেখানে সামরিক জান্তা পদ্ধতিগতভাবে মানবিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে । রাখাইন রাজ্যে ২০ লাখ মানুষ, যার মধ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও রয়েছে, এপ্রিল ২০২৫-এর মধ্যে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে । জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ জান্তার সাহায্য সীমাবদ্ধকরণকে “পদ্ধতিগত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন ।
জেন-জেড প্রজন্মের বৈশ্বিক জাগরণ
২০২৪-২৫ সালে বিশ্বজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে অভূতপূর্ব বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে, যা ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে একটি প্রজন্মের হতাশা প্রকাশ করছে । অ্যালিয়ান্জ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র শীর্ষ ২০টি দেশে ৮০,০০০ এর বেশি বিক্ষোভ ও দাঙ্গা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক এবং স্পেন রয়েছে । উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে ১৮ শতাংশ বিক্ষোভ তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলেছে ।
বাংলাদেশ: ছাত্র-বিপ্লব ও সরকার পতন
বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-এ কোটা সংস্কার আন্দোলন একটি বিশাল ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়, যা দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটায় । জুলাই ১ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে ছিল । জুলাই ১৯-এ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে সরকার টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে ।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছে । আগস্ট ৫, ২০২৪-এ শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান । নভেম্বর ২০২৫-এ একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে । এই আন্দোলন “জেন জেড প্রতিবাদ” শব্দটিকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে ।
কেনিয়া: অর্থনৈতিক বোঝা ও পুলিশি নিপীড়ন
কেনিয়ায় জুন ২০২৪-এ প্রস্তাবিত ফিন্যান্স বিল নিয়ে জেন-জেড-নেতৃত্বাধীন ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় । বিলটি রুটি, স্যানিটারি পণ্য এবং ডিজিটাল সেবার উপর কঠোর কর আরোপ করতে চেয়েছিল । ২০২৩ সালের ফিন্যান্স অ্যাক্টে বাধ্যতামূলক হাউজিং লেভি আরোপের মাত্র এক বছর পরে এটি এসেছিল, যখন কেনিয়াবাসী ইতিমধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে ভুগছিল ।
তরুণ কেনিয়ানরা X এবং TikTok-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগঠিত হয়ে ফিন্যান্স বিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে একে অপরকে শিক্ষিত করে এবং দেশব্যাপী সমন্বিত বিক্ষোভ আয়োজন করে । প্রাথমিকভাবে সরকার এই প্রতিবাদকে অনলাইন শব্দ হিসেবে উপেক্ষা করলেও, জুনের মাঝামাঝি হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আসে । আন্দোলনে অসন্তোষের মূলে ছিল অর্থনৈতিক বোঝা, পুলিশি সহিংসতা এবং সরকারি সংস্কারের ব্যর্থতা ।
মরক্কো, নেপাল, মাদাগাস্কার: ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদ
মরক্কোতে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ “জেন জেড ২১২” নামে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে তরুণরা দুর্নীতি, উচ্চ বেকারত্ব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অপর্যাপ্ত পাবলিক সেবা এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য অবকাঠামো প্রকল্পে বিশাল ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে । নেপালে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যাপক জেন-জেড আন্দোলন শুরু হয়, যা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে ২২ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করে ।
মাদাগাস্কারে “জেন জেড মাদা” নামে একটি যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন প্রথমে Facebook এবং TikTok-এ সমন্বিত হয়, পরে আরও ঐতিহ্যবাহী নাগরিক সমাজ সংগঠন ও ইউনিয়নের সাথে সহযোগিতা করে । পেরুতে জেন জেড দুর্নীতি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এবং বিতর্কিত পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছে।
| দেশ | বিক্ষোভ শুরু | প্রধান দাবি | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | জুলাই ২০২৪ | কোটা সংস্কার, সরকার পতন | প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ, ১,৪০০ মৃত্যু |
| কেনিয়া | জুন ২০২৪ | ফিন্যান্স বিল প্রত্যাহার | সরকার বিল পুনর্বিবেচনা |
| মরক্কো | সেপ্টেম্বর ২০২৫ | দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার | চলমান |
| নেপাল | সেপ্টেম্বর ২০২৫ | সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার | প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত |
জেন-জেড প্রতিবাদের পেছনে কারণ
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন জেড প্রজন্ম ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরবর্তী সময়ে বেড়ে উঠেছে । লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের রাজনৈতিক যোগাযোগ অধ্যাপক বার্ট কামারার্টস বলেছেন যে এই প্রজন্ম নিজেদের “প্রতারিত” বোধ করে, কারণ তাদের স্বার্থ প্রায়ই উপেক্ষা করা হয় । ফলস্বরূপ, জেন জেড উদারনৈতিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রতি সংশয়বাদী, যদিও তারা গণতান্ত্রিক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে মূল্য দেয় ।
ডিজিটাল প্রতিবাদ থেকে রাস্তায়
জেন জেড প্রতিবাদের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার । এই অনলাইন অবকাঠামো প্রতিবাদকে আরও স্বতঃস্ফূর্ত, বিকেন্দ্রীভূত এবং নেতৃত্বহীন করে তোলে, যা কর্তৃপক্ষের জন্য দমন করা কঠিন করে তোলে । যখন জেন জেড-এর ডিজিটাল প্রতিবাদ সফলভাবে শ্রেণী ও প্রজন্মগত বিভাজন অতিক্রম করে, তখন তারা অতিরিক্ত গতি, শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অর্জন করে ।
ইউকে-ভিত্তিক চেঞ্জ ল্যাবের পরিচালক ব্যাখ্যা করেছেন যে এই যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলি একটি সম্মিলিত বিশ্বাসে সংযুক্ত যে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাঠামো তাদের প্রজন্মের সমস্যা—দুর্নীতি, জলবায়ু পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক বৈষম্য—সমাধানে ব্যর্থ । যখন প্রাতিষ্ঠানিক পথগুলি অবরুদ্ধ মনে হয়, তখন প্রতিবাদ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে ।
WHO Global Internship Programme: যোগ্যতা, উদ্দেশ্য এবং আবেদন প্রক্রিয়া জানুন
নাগরিক অশান্তি: ব্যবসায়ের প্রধান উদ্বেগ
অ্যালিয়ান্জ কমার্শিয়ালের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৫০ শতাংশের বেশি কোম্পানির উত্তরদাতা নাগরিক অশান্তিকে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে । কলম্বিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে নাগরিক অশান্তি বা ধর্মঘট, দাঙ্গা এবং নাগরিক হট্টগোলের (SRCC) প্রভাব শীর্ষ উদ্বেগ হিসেবে স্থান পেয়েছে ।
২০২৪ সালে “সুপার ইলেকশন বছর”-এর পর, সরকারগুলির নীতি পরিবর্তন ভবিষ্যতে অনেক দেশে বিক্ষোভ ও সংঘাতের ট্রিগার ফ্যাক্টর হতে পারে । এছাড়াও, শুল্ক যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক কষ্টও প্রতিবাদের কারণ হতে পারে । ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থীদের—যারা দক্ষিণপন্থী এবং বামপন্থী উভয় মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত—সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধিও আগামী বছরে ব্যবসার জন্য একটি বড় উদ্বেগ ।
২০২৫: আরও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ?
Council on Foreign Relations (CFR) তাদের “কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৫” প্রতিবেদনে ৩০টি বৈশ্বিক সংঘাত চিহ্নিত করেছে যা ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করতে পারে । এই তালিকায় রয়েছে ইউক্রেনে রাশিয়ার আরও সামরিক অগ্রগতি, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের বৃদ্ধি যা শক্তি ও পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী পদক্ষেপ ।
ACLED-এর কনফ্লিক্ট ওয়াচলিস্ট ২০২৫-এ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা বৃদ্ধির সতর্কতা দিয়েছে । ২০২৪ সালে ২০২৩-এর তুলনায় সংঘাত ইভেন্ট ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এর বেশিরভাগই ছিল মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে উদ্ভূত সংঘাতের কারণে ।
নরওয়ের পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (PRIO) সতর্ক করেছে যে বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে অভূতপূর্ব মাত্রায় সহিংসতার ঢেউ অনুভব করছে । ২০২৪ সাল একটি ভয়াবহ নতুন রেকর্ড চিহ্নিত করেছে: রাষ্ট্র-ভিত্তিক সংঘাতের সর্বোচ্চ সংখ্যা । এই পটভূমিতে, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা থেকে পশ্চাদপসরণ—বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা—একটি গভীর ভুল হবে যার দীর্ঘমেয়াদী মানবিক জীবনের পরিণতি রয়েছে ।
সিরিয়ায় নতুন অনিশ্চয়তা
সিরিয়া ২০২১-এর পর প্রথমবারের মতো ইমার্জেন্সি ওয়াচলিস্টের শীর্ষ পাঁচে ফিরে এসেছে । ২০২৪ সালের শেষের দিকে, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গ্রুপ একটি আকস্মিক আক্রমণ চালায়, যা সরকারি বাহিনীর দ্রুত পতন ঘটায় । অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গ্রুপ এখন দামেস্ক নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং প্রেসিডেন্ট আসাদ কথিতভাবে মস্কোতে পালিয়ে গেছেন । সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায়, নতুন মানবিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৪-২৫ সালে বিশ্ব এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে—একদিকে ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও মিয়ানমারে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ, অন্যদিকে বাংলাদেশ, কেনিয়া, মরক্কো ও নেপালে জেন-জেড-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ঢেউ। ২ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি প্রাণ হারিয়েছে সংঘাতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি, এবং ৬১টি সক্রিয় সংঘাত ১৯৪৬ সাল থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্থাপন করেছে। একইসাথে, তরুণ প্রজন্ম তাদের হতাশা প্রকাশ করছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে। জেন জেড প্রতিবাদ প্রমাণ করেছে যে ডিজিটাল সংগঠন এবং রাস্তার আন্দোলনের সংমিশ্রণ সরকার পরিবর্তনেও সক্ষম। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বিশ্ব এখন একটি জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে সংঘাত ও প্রতিবাদ উভয়ই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।











