GST Portal Login India 2026: ভারতে জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) পোর্টাল হল একটি কেন্দ্রীভূত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে করদাতারা তাদের সমস্ত জিএসটি সংক্রান্ত কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পারেন । www.gst.gov.in ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনি জিএসটি রেজিস্ট্রেশন, রিটার্ন ফাইলিং, ট্যাক্স পেমেন্ট, রিফান্ডের আবেদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে পারেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে ১.৫১ কোটিরও বেশি সক্রিয় জিএসটি নিবন্ধিত করদাতা রয়েছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ২২.০৮ লক্ষ কোটি টাকার জিএসটি সংগ্রহ হয়েছে ।
জিএসটি পোর্টাল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
জিএসটি পোর্টাল হল ভারত সরকারের একটি সরকারি ওয়েবসাইট যা সমগ্র ভারত জুড়ে জিএসটি সম্মতির জন্য ব্যবহৃত হয় । এটি হোস্ট করা হয়েছে https://www.gst.gov.in/ ঠিকানায়। এই পোর্টালের মাধ্যমে করদাতারা লগইনের আগে এবং পরে বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। জিএসটি পোর্টাল ব্যবহার করে আপনাকে আর সিবিআইসি (CBIC) অফিসে গিয়ে শারীরিকভাবে জিএসটি রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
জিএসটি ব্যবস্থা ২০১৭ সালের ১ জুলাই চালু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। এটি একাধিক পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে একক, সরলীকৃত কর কাঠামোতে রূপান্তরিত করেছে । ডেলয়েটের GST@8 সমীক্ষা অনুসারে, শিল্প জগতের ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা জিএসটি নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ।
জিএসটি পোর্টাল লগইনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
জিএসটি পোর্টালে লগইন করার আগে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার কাছে নিম্নলিখিত তথ্য রয়েছে:
-
বৈধ জিএসটিআইএন (GSTIN) বা ইউআইএন (UIN)
-
ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড
-
রেজিস্টার্ড ইমেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর
-
সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ
জিএসটি রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে, জিএসটি অফিসার যাচাইকরণের পর একটি জিএসটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (GSTIN) বরাদ্দ করেন । এই প্রক্রিয়ায় আপনি একটি ইউজারনেম পাবেন এবং নিজের পছন্দমতো পাসওয়ার্ড সেট করতে পারবেন। সাধারণত জিএসটি নম্বর পেতে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে ।
প্রথমবার জিএসটি পোর্টালে লগইন করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য জিএসটি পোর্টালে প্রথমবার লগইন করার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
ধাপ ১: জিএসটি পোর্টাল হোমপেজে যান
আপনার ওয়েব ব্রাউজারে www.gst.gov.in টাইপ করুন এবং জিএসটি পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন । হোমপেজের উপরের ডান কোণে ‘Login’ বাটন দেখতে পাবেন।
ধাপ ২: প্রথমবার লগইন অপশন নির্বাচন করুন
লগইন পেজের নিচে “First time login: If you are logging in for the first time, click here to login” এই নির্দেশনায় ‘here’ লিঙ্কে ক্লিক করুন । এটি আপনাকে প্রথমবার ব্যবহারকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পেজে নিয়ে যাবে।
ধাপ ৩: প্রভিশনাল আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশ করান
আপনার ইমেল ঠিকানায় প্রাপ্ত প্রভিশনাল আইডি/GSTIN/UIN এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশ করান । প্রদর্শিত ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে লিখুন এবং ‘Login’ বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: নতুন ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড তৈরি করুন
নতুন ক্রেডেন্শিয়াল পেজ প্রদর্শিত হবে যেখানে আপনি নিজের পছন্দের ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশ করতে পারবেন । পাসওয়ার্ড পুনরায় নিশ্চিত করুন এবং ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন। পাসওয়ার্ড তৈরির সময় প্রদত্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করুন এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বেছে নিন।
ধাপ ৫: সফলতার বার্তা এবং প্রোফাইল আপডেট
ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড সফলভাবে তৈরি হলে একটি সাফল্যের বার্তা প্রদর্শিত হবে । এখন আপনি এই নতুন ক্রেডেন্শিয়াল ব্যবহার করে জিএসটি পোর্টালে লগইন করতে পারবেন। প্রথমবার লগইন করার সময় আপনাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ জমা দেওয়ার জন্য একটি নন-কোর অ্যামেন্ডমেন্ট আবেদন ফাইল করার জন্য অনুরোধ করা হবে ।
বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের জন্য জিএসটি পোর্টাল লগইন প্রক্রিয়া
যদি আপনি ইতিমধ্যে প্রথমবার লগইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন এবং আপনার স্থায়ী লগইন ক্রেডেন্শিয়াল থাকে, তাহলে নিম্নলিখিত সহজ ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
-
অফিসিয়াল জিএসটি পোর্টালে যান: আপনার ওয়েব ব্রাউজারে www.gst.gov.in খুলুন এবং হোমপেজের উপরের ডান কোণে ‘Login’ বাটনে ক্লিক করুন
-
লগইন তথ্য প্রবেশ করান: লগইন পেজে আপনার রেজিস্টার্ড ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশ করুন
-
ক্যাপচা কোড লিখুন: স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড সঠিকভাবে টাইপ করুন
-
লগইন বাটনে ক্লিক করুন: ‘LOGIN’ বাটনে ক্লিক করে আপনার জিএসটি পোর্টাল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন
সফলভাবে লগইন করার পর আপনি আপনার ড্যাশবোর্ডে পৌঁছাবেন যেখানে জিএসটি ক্রেডিট, দেয় কর (যদি থাকে), নোটিশ এবং সংরক্ষিত ফর্মের সারসংক্ষেপ দেখতে পাবেন ।
জিএসটি পোর্টালে লগইনের পর উপলব্ধ সেবাসমূহ
জিএসটি পোর্টালে সফলভাবে লগইন করার পর করদাতারা বিস্তৃত সেবা পেতে পারেন:
রেজিস্ট্রেশন সেবা
এই ট্যাবের অধীনে নন-কোর ফিল্ড সংশোধন করার সুবিধা পাওয়া যায়। আপনি ‘Services’ সেকশনে গিয়ে ‘Amendment of Registration’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে পারেন । পরিবর্তনগুলি আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডিতে পাঠানো OTP ব্যবহার করে যাচাই করতে হবে।
লেজার সেবা
এখানে আপনি নিম্নলিখিত সুবিধা পাবেন:
-
ইলেকট্রনিক ক্যাশ লেজার দেখা
-
ইলেকট্রনিক ক্রেডিট লেজার অ্যাক্সেস করা
-
দায় লেজার চেক করা
-
বার্ষিক সামগ্রিক টার্নওভার (AATO) তথ্য
রিটার্ন ফাইলিং
জিএসটি পোর্টালে বিভিন্ন ধরনের রিটার্ন ফাইল করার সুবিধা রয়েছে যেমন GSTR-1, GSTR-3B, GSTR-4, GSTR-9 ইত্যাদি । আপনি রিটার্নের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে এবং পূর্বের জমা দেওয়া রিটার্ন দেখতে পারেন।
পেমেন্ট সেবা
ট্যাক্স পেমেন্টের জন্য চালান তৈরি করা, পেমেন্টের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যায় ।
রিফান্ড সেবা
রিফান্ডের আবেদন করা এবং আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করার বিকল্প রয়েছে। এটি করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত পরিশোধিত ট্যাক্স ফেরত পেতে সাহায্য করে।
ই-ওয়ে বিল সিস্টেম
এই ট্যাব আপনাকে ই-ওয়ে বিল পোর্টালে নিয়ে যায় যেখানে আপনি পণ্য পরিবহনের জন্য ই-ওয়ে বিল তৈরি এবং পরিচালনা করতে পারেন ।
জিএসটি পোর্টালের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং ট্যাব
জিএসটি পোর্টালের হোমপেজে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাব রয়েছে যা কমপ্লায়েন্সের জন্য প্রয়োজনীয়:
সার্চ করদাতা
এই টুলের মাধ্যমে আপনি GSTIN/UIN দ্বারা কোনো করদাতা অনুসন্ধান করতে পারেন এবং তাদের বিস্তারিত যাচাই করতে পারেন। PAN নম্বর দিয়েও জিএসটি নম্বর খুঁজে বের করা সম্ভব । এছাড়াও কম্পোজিশন ডিলার খুঁজে বের করার এবং অস্থায়ী আইডি অনুসন্ধান করার টুল রয়েছে।
জিএসটি আইন এবং বিধি
এই ট্যাবে কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ড (CBIC) এবং রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাণিজ্য কর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক রয়েছে । এখানে CGST আইন, নিয়ম, SGST আইন, সাম্প্রতিক জিএসটি বিজ্ঞপ্তি, সংশোধনী এবং সার্কুলার পাওয়া যায়।
ডাউনলোড সেকশন
এই ট্যাবে দুটি প্রধান বিভাগ রয়েছে – অফলাইন টুল এবং জিএসটি পরিসংখ্যান । সরকার জিএসটি রিটার্ন ফাইল করার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতি প্রদান করে। অফলাইন ইউটিলিটিতে বিভিন্ন জিএসটি ফর্ম এবং রিটার্নের টুল পাওয়া যায়।
সাহায্য এবং করদাতা সুবিধা
এই ট্যাবে অনেক হাউ-টু গাইড, বিভিন্ন জিএসটি ফাইলিংয়ের জন্য সিস্টেম প্রয়োজনীয়তা, ইউজার ম্যানুয়াল, ভিডিও এবং প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ) রয়েছে । এছাড়াও অভিযোগ নিষ্পত্তি পোর্টালের লিঙ্ক পাওয়া যায়। বিনামূল্যে অ্যাকাউন্টিং এবং বিলিং সফটওয়্যার এবং জিএসটি সুবিধা প্রদানকারীদের (GSP) তালিকা পোর্টালে উপলব্ধ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিএসটি পোর্টালে নতুন আপডেট
ভারত সরকার ক্রমাগত জিএসটি পোর্টালে উন্নতি এবং নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করছে:
আধার প্রমাণীকরণ বাধ্যতামূলক
নতুন রেজিস্ট্রেশনের জন্য আধার প্রমাণীকরণ এখন বাধ্যতামূলক । নির্বাচিত রাজ্যগুলিতে বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক যাচাইকরণ চালু করা হয়েছে এবং রিয়েল-টাইম PAN যাচাইকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোম্পানি পরিচালকদের জন্য বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ
২০২৫ সালের ৪ মার্চ থেকে সমস্ত কোম্পানির প্রবর্তক এবং পরিচালকদের তাদের নিজ রাজ্যের যেকোনো জিএসটি সুবিধা কেন্দ্রে (GSK) বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ করতে হবে । এটি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং জিএসটি সিস্টেমের নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করে।
মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA)
২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে সমস্ত জিএসটি পোর্টাল ব্যবহারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) চালু করা হয়েছে । এটি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে এবং অননুমোদিত অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করে।
ই-ইনভয়েস এবং ই-ওয়ে বিল ইন্টিগ্রেশন
ই-ইনভয়েসকে ই-ওয়ে বিল সিস্টেম এবং জিএসটি রিটার্নের সাথে একীভূত করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ের সুবিধা প্রচার করে । ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধার জন্য ইনভয়েসে ডাইনামিক QR কোড চালু করা হয়েছে।
ISD রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে একটি PAN এর অধীনে একাধিক GSTIN সহ ব্যবসায়ের জন্য ISD (Input Service Distributor) রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক । এটি স্বচ্ছতা এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) বরাদ্দের মানসম্মত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
জিএসটি পোর্টাল লগইনে সমস্যা এবং সমাধান
জিএসটি পোর্টালে লগইন করার সময় কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে:
পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে
যদি আপনি জিএসটি লগইন পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে জিএসটি লগইন পেজে উপলব্ধ “Forgot Password” লিঙ্ক ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি বা রিসেট করতে পারেন । একটি পপআপ আপনার রেজিস্টার্ড ইমেল ঠিকানা চাইবে। ইনবক্সে পাঠানো রিসেট লিঙ্ক খুঁজে বের করে নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে রিসেট করুন।
ইউজারনেম ভুলে গেলে
যদি আপনার বিদ্যমান জিএসটি লগইন তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তাহলে রেজিস্টার্ড ফোন নম্বর বা ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করে কিছু মৌলিক তথ্য প্রবেশ করিয়ে ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে পারেন ।
ক্যাপচা সম্পর্কিত সমস্যা
ক্যাপচা সঠিকভাবে দেখা না গেলে রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করুন এবং নতুন ক্যাপচা লোড করুন। নিশ্চিত করুন যে আপনি বড় এবং ছোট হাতের অক্ষর সঠিকভাবে টাইপ করছেন।
ব্রাউজার সম্পর্কিত সমস্যা
কখনও কখনও পুরানো ব্রাউজার বা ক্যাশ সমস্যা লগইনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ব্রাউজার ক্যাশ পরিষ্কার করুন অথবা একটি ভিন্ন ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখুন। জিএসটি পোর্টাল সর্বশেষ সংস্করণের Chrome, Firefox এবং Edge ব্রাউজারে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
জিএসটি পোর্টালের সুবিধা এবং প্রভাব
জিএসটি ব্যবস্থা ভারতীয় অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলেছে:
রাজস্ব বৃদ্ধি
২০২০-২১ অর্থবছরে মোট জিএসটি সংগ্রহ ছিল ১১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা, যার মাসিক গড় ছিল ৯৫,০০০ কোটি টাকা । পরবর্তী বছর এটি বেড়ে ১৪.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ সালে ১৮.০৮ লক্ষ কোটি টাকা হয়। ২০২৩-২৪ সালে জিএসটি সংগ্রহ ২০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছায় এবং ২০২৪-২৫ সালে রেকর্ড ২২.০৮ লক্ষ কোটি টাকা হয়, যা বছরে ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখায়।
MSME সহায়তা
জিএসটি ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে । প্রথমদিকে ২০ লক্ষ টাকা নির্ধারিত ছাড় সীমা পরবর্তীতে পণ্যের জন্য ৪০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। কম্পোজিশন স্কিম ছোট ব্যবসায়ীদের টার্নওভারের উপর নির্ধারিত হারে কর দিতে এবং ন্যূনতম কাগজপত্র সহ কাজ করতে দেয়।
ভোক্তাদের উপকার
জিএসটি একটি ভোক্তা-বান্ধব সংস্কার যা শেষ ব্যবহারকারীকে কর ব্যবস্থার কেন্দ্রে রাখে । একাধিক কর অপসারণ এবং উন্নত কমপ্লায়েন্সের ফলে গড় করের হার কমেছে। খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল, চিনি, স্ন্যাকস এবং মিষ্টির মতো পণ্যে এখন কম করের হার প্রযোজ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা অনুসারে, জিএসটি পরিবারগুলিকে মাসিক খরচে কমপক্ষে ৪ শতাংশ সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে।
লজিস্টিক্স খাতে উন্নতি
জিএসটি লজিস্টিক্স শিল্পকে রূপান্তরিত করেছে । রাজ্য সীমান্তে ট্রাকের দীর্ঘ সারি এবং দুর্নীতি-প্রবণ চেকপয়েন্ট এখন অতীত। পরিবহন সময় ৩৩ শতাংশেরও বেশি উন্নত হয়েছে। কোম্পানিগুলি জ্বালানি খরচ কমিয়েছে এবং প্রধান হাইওয়েগুলি কম যানজট হয়েছে।
জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যবসায়ের গঠন অনুযায়ী বিভিন্ন নথির প্রয়োজন হয়:
-
ব্যবসায়ের PAN কার্ড
-
আধার কার্ড (মালিক/পরিচালকদের)
-
ব্যবসায়ের ঠিকানার প্রমাণ
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং ক্যান্সেল চেক
-
অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর ছবি
-
ব্যবসায়ের গঠনের প্রমাণ (পার্টনারশিপ ডিড, ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট ইত্যাদি)
-
ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC) বা ইলেকট্রনিক ভেরিফিকেশন কোড (EVC)
জিএসটি পোর্টাল ব্যবহারের টিপস এবং সেরা অনুশীলন
জিএসটি পোর্টাল কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
নিয়মিত পোর্টাল চেক করুন
আপনার ড্যাশবোর্ড নিয়মিত চেক করুন যাতে কোনো নোটিশ, অর্ডার বা গুরুত্বপূর্ণ আপডেট মিস না হয় । সময়মতো রিটার্ন ফাইল করুন এবং পেমেন্ট করুন যাতে জরিমানা এড়ানো যায়।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
একটি শক্তিশালী এবং অনন্য পাসওয়ার্ড তৈরি করুন যাতে বড় এবং ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন থাকে। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং একই পাসওয়ার্ড অন্যান্য সাইটে ব্যবহার করবেন না।
নথিপত্র সংরক্ষণ করুন
সমস্ত জিএসটি সম্পর্কিত নথি, রিটার্ন, পেমেন্ট রসিদ এবং যোগাযোগের কপি সংরক্ষণ করুন। এটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স এবং অডিটের সময় সহায়ক হবে।
সাহায্য বিভাগ ব্যবহার করুন
কোনো সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে পোর্টালের সাহায্য বিভাগ, FAQ এবং ইউজার ম্যানুয়াল ব্যবহার করুন । প্রয়োজনে GSP বা ট্যাক্স পেশাদারদের সাহায্য নিন।
জিএসটি কাউন্সিল এবং নীতি-নির্ধারণ
জিএসটি কাউন্সিল হল প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা যা ভারতে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্সের রূপায়ন এবং গাইড করার জন্য দায়ী । এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭৯A অনুসারে গঠিত হয়েছিল। ১২২তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল সংসদ কর্তৃক পাস এবং ১৫টিরও বেশি রাজ্য দ্বারা অনুমোদিত হওয়ার পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশোধনী ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়।
জিএসটি কাউন্সিল নিম্নলিখিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত:
-
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী (চেয়ারপার্সন)
-
কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী
-
রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অর্থমন্ত্রী বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি
গঠনের পর থেকে কাউন্সিল ৫৫টি বৈঠক করেছে এবং জিএসটি ব্যবস্থার বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । এটি সিস্টেম সরলীকরণ, কমপ্লায়েন্স সহজ করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রধান সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সফলতার পরিমাপ
ডেলয়েটের GST@8 রিপোর্ট আট বছরের বাস্তবায়নের পর ভারতীয় ব্যবসায়গুলি কীভাবে জিএসটিকে দেখে তার মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে । জরিপে ৮টি মূল শিল্প থেকে ৯৬৩টি প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মূল হাইলাইট
উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশ জিএসটি সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন । এটি টানা চতুর্থ বছর যেখানে মনোভাব উন্নত হয়েছে। ব্যবসায়গুলি কর ব্যবস্থা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতায় ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছে। MSME-এর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গত বছরের ৭৮ শতাংশ থেকে এই বছর ৮২ শতাংশে বেড়েছে।
শিল্প-ভিত্তিক ইতিবাচক ধারণা
বিভিন্ন শিল্পে জিএসটির ইতিবাচক ধারণা ৮২% থেকে ৯০% এর মধ্যে রয়েছে । গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) ৯০% সর্বোচ্চ ইতিবাচক ধারণা দেখিয়েছে, যেখানে ভোক্তা খাত ৮৯% দেখিয়েছে।
জিএসটি পোর্টালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জিএসটি পোর্টাল করদাতাদের ডেটা সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
-
SSL এনক্রিপশন: পোর্টাল SSL সার্টিফিকেট ব্যবহার করে যা ডেটা ট্রান্সমিশন সুরক্ষিত করে
-
OTP যাচাইকরণ: গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের জন্য দুই-ফ্যাক্টর প্রমাণীকরণ
-
সেশন টাইমআউট: নিষ্ক্রিয়তার পর স্বয়ংক্রিয় লগআউট
-
মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর
করদাতাদেরও তাদের লগইন ক্রেডেন্শিয়াল সুরক্ষিত রাখা এবং কখনোই অন্যদের সাথে শেয়ার না করা উচিত।
জিএসটি পোর্টাল ভারতীয় কর ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে যা ব্যবসা এবং করদাতাদের জন্য কমপ্লায়েন্সকে অনেক সহজ করেছে। www.gst.gov.in পোর্টালে লগইন করা একটি সরল প্রক্রিয়া যা নতুন এবং বিদ্যমান উভয় ব্যবহারকারীদের জন্য পরিষ্কার ধাপে ধাপে নির্দেশিকা প্রদান করে। ১.৫১ কোটিরও বেশি সক্রিয় করদাতা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ২২.০৮ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহ জিএসটি ব্যবস্থার সাফল্য প্রমাণ করে। পোর্টালটি ক্রমাগত আপডেট এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের সাথে উন্নত হচ্ছে, যা এটিকে আরও ব্যবহারকারী-বান্ধব এবং নিরাপদ করে তুলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন আপডেট যেমন বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করেছে। নিয়মিত পোর্টাল ব্যবহার, সময়মতো রিটার্ন ফাইলিং এবং সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে করদাতারা নির্বিঘ্ন জিএসটি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেন। জিএসটি পোর্টাল শুধুমাত্র কর সংগ্রহের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি ভারতের অর্থনৈতিক আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।











