Heritage Durga Puja in Kolkata: কলকাতা, ‘City of Joy’ বা আনন্দের শহর, দুর্গাপুজোর সময় এক নতুন রূপে সেজে ওঠে। আধুনিক থিম পুজোর ভিড়েও শহরের অলিতে-গলিতে লুকিয়ে আছে বহু শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য, যা আজও বহন করে চলেছে কলকাতার বনেদি বাড়িগুলির দুর্গাপুজো। এই পুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আভিজাত্যের এক জীবন্ত দলিল। ইউনেস্কোর (UNESCO) কাছ থেকে “Intangible Cultural Heritage of Humanity” তকমা পাওয়ার পর, এই উৎসবের ঐতিহ্য এবং বিশেষ করে বনেদি বাড়ির পুজোগুলির গুরুত্ব আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা কলকাতার সেই সেরা ১০টি বনেদি বাড়ির পুজোর গভীরে ডুব দেব, যাদের ইতিহাস ও রীতিনীতি আজও মানুষকে মুগ্ধ করে।
বনেদি বাড়ির পুজো কী এবং কেন এটি এতটা গুরুত্বপূর্ণ?
‘বনেদি’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘বুনিয়াদ’ থেকে, যার অর্থ ভিত্তি বা প্রতিষ্ঠা। বনেদি বাড়ি বলতে কলকাতার সেই সমস্ত প্রাচীন এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলিকে বোঝায় যারা বহু প্রজন্ম ধরে শহরে বসবাস করছেন এবং দুর্গাপুজোকে নিজেদের পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে পালন করে আসছেন। এই পুজোগুলির বয়স ১০০ থেকে ৪০০ বছরেরও বেশি।
বারোয়ারি বা সার্বজনীন পুজোর সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য হলো রীতিনীতি, জাঁকজমক এবং প্রতিমার রূপে। বনেদি বাড়ির পুজোতে জাঁকজমক থাকলেও আড়ম্বরের থেকে ঐতিহ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে দেবীর প্রতিমা সাধারণত একচালার হয়, অর্থাৎ দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ এবং অসুর—সকলেই একটিমাত্র কাঠামোতে অবস্থান করেন। প্রতিমার মুখের আদল এবং সাজসজ্জাতেও থাকে পরিবারের নিজস্বতার ছাপ। এই পুজো শুধু পরিবারের সদস্যদের মিলনক্ষেত্রই নয়, এটি কলকাতার সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক নীরব সাক্ষী।
বনেদি বাড়ি বনাম বারোয়ারি পুজো: মূল পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | বনেদি বাড়ির পুজো | বারোয়ারি বা সার্বজনীন পুজো |
| ইতিহাস | ১০০ থেকে ৪০০+ বছরের পুরনো | সাধারণত কয়েক দশক বা সাম্প্রতিক |
| প্রতিমা | ঐতিহ্যবাহী একচালার ঠাকুর, পারিবারিক রীতি অনুযায়ী নির্মিত | থিম-ভিত্তিক, শৈল্পিক এবং বৈচিত্র্যময় |
| আয়োজন | পরিবারের সদস্যরা আয়োজন করেন | পাড়ার ক্লাব বা কমিটি চাঁদা তুলে আয়োজন করে |
| রীতিনীতি | পরিবারের নিজস্ব প্রথা ও শাস্ত্রীয় মতে পুজো | আধুনিকতার ছোঁয়া এবং শাস্ত্রীয় নিয়মের সরলীকরণ |
| অংশগ্রহণ | মূলত পরিবার, আত্মীয় ও আমন্ত্রিত অতিথিরা | সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত |
কলকাতার সেরা ১০টি বনেদি বাড়ির পুজো
এখানে কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক ১০টি বনেদি বাড়ির পুজোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
১. সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো (বড়িশা)
এটি নিঃসন্দেহে কলকাতার প্রাচীনতম দুর্গাপুজো। ১৬১০ সালে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার (রায় চৌধুরী) এই পুজোর সূচনা করেন। অর্থাৎ, এই পুজোর বয়স ৪০০ বছরেরও বেশি। কথিত আছে, এই পরিবারের কাছ থেকেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর গ্রাম তিনটি কিনেছিল।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার মোট আটটি বাড়িতে দুর্গাপুজো করে, যার মধ্যে বড়িশার ‘আটচালা’ বাড়ির পুজোটি সবচেয়ে বিখ্যাত। এখানেই প্রথম পুজোটি শুরু হয়েছিল।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- এখানে প্রতিমা একচালার এবং ঠাকুরের চালচিত্র পটশিল্পের আদলে তৈরি।
- সন্ধিপুজোয় কামানের তোপ দাগার প্রথা ছিল, যা এখন বন্ধ।
- এখানে দেবীর ভোগে মাসকলাই ডালের বড়া এবং চালতার টক থাকা আবশ্যিক।
- ঠিকানা: বড়িশা, দক্ষিণ কলকাতা।
২. শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো (শোভাবাজার)
রাজা নবকৃষ্ণ দেব ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের জয়ের পর এই পুজোর সূচনা করেন। এই পুজো কলকাতার ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: এই পুজোতে লর্ড ক্লাইভ সহ বহু ব্রিটিশ কর্মকর্তা আমন্ত্রিত থাকতেন। এটি ছিল তৎকালীন বাবু সংস্কৃতি এবং ব্রিটিশদের সঙ্গে স্থানীয় জমিদারদের সম্পর্কের এক অন্যতম নিদর্শন। স্বামী বিবেকানন্দও এই বাড়ির পুজোতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- রাজবাড়িতে দুটি পুজো হয়—বড় তরফের পুজো এবং ছোট তরফের পুজো।
- প্রতিমা সাবেকিয়ানার মূর্ত প্রতীক। দেবীর পরনে থাকে বেনারসি শাড়ি এবং গা-ভর্তি ডাকের সাজ।
- এখানে পশুবলির প্রথা ছিল, যা এখন প্রতীকী বলি হিসেবে পালন করা হয়।
- ঠিকানা: শোভাবাজার, উত্তর কলকাতা।
৩. রানি রাসমণির পরিবারের পুজো (জানবাজার)
দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাত্রী রানি রাসমণির জানবাজারের বাড়িতে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো হয়ে আসছে।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: রানি রাসমণি নিজে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর জামাতা মথুরামোহন বিশ্বাস এবং পরবর্তী প্রজন্ম এই পুজোর দায়িত্ব নেয়। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও এই বাড়ির পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- একচালার প্রতিমার চালচিত্র নন্দী-ভৃঙ্গীসহ কৈলাসের আদলে তৈরি হয়।
- নবমীর দিনে কুমারী পুজোর প্রচলন আছে।
- বিসর্জনের দিন প্রতিমা কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
- ঠিকানা: জানবাজার, মধ্য কলকাতা।
৪. লাহা বাড়ির পুজো (কলেজ স্ট্রিট)
প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এই পুজো তার ঐতিহ্য এবং নিয়মনিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত। লাহা পরিবার মূলত লৌহ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তাদের পুজো আজও কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: মধুসূদন লাহা এই পুজোর সূচনা করেন। এই বাড়ির পুজোতে নিয়মনিষ্ঠাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- এখানে প্রতিমার বাহন সিংহ ঘোড়ার মতো দেখতে, যাকে ‘ঘোটক সিংহ’ বলা হয়।
- হলুদ রঙের প্রতিমা এই বাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
- সন্ধিপুজোয় বাড়ির মহিলারা হাতে ধুনুচি নিয়ে দেবীর সামনে নাচ করেন।
- ঠিকানা: কলেজ স্ট্রিট এলাকা, মধ্য কলকাতা।
৫. জোড়াসাঁকো দাঁ বাড়ির পুজো (জোড়াসাঁকো)
গোকুলচন্দ্র দাঁ ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী। তিনি ১৮৪০ সালে এই পুজোর সূচনা করেন। এই বাড়ির পুজো তার বিশাল প্রতিমা এবং শৈল্পিকতার জন্য পরিচিত।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: দাঁ পরিবারের আভিজাত্য এবং শিল্পরুচির পরিচয় মেলে তাদের পুজোর প্রতিটি পর্বে।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিমার চালচিত্রটি সম্পূর্ণ রূপে রূপোর তৈরি, যা এক অসাধারণ শিল্পকর্ম।
- প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ২২ ফুট, যা বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম দীর্ঘতম।
- এখানে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়, তাই কোনো পশুবলি হয় না।
- ঠিকানা: বিবেকানন্দ রোড, জোড়াসাঁকো।
৬. পাথুরিয়াঘাটা খেলাত ঘোষের পুজো (পাথুরিয়াঘাটা)
খেলাত চন্দ্র ঘোষ ছিলেন উনিশ শতকের এক বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ধনী ব্যক্তিত্ব। তাঁর বাড়ির পুজো জাঁকজমক এবং আভিজাত্যের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ১৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো চলে আসছে।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: এই বাড়ির বিশাল ঠাকুরদালানটি শ্বেতপাথরে নির্মিত এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের আদলে তৈরি, যা পুজোর দিনগুলিতে এক রাজকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- ঠাকুরদালানে নাচঘর বা ‘বলরুম’ রয়েছে, যেখানে পুজোর সময় গান-বাজনার আসর বসত।
- প্রতিমার সাজসজ্জা এবং অলঙ্কারে আভিজাত্যের ছোঁয়া স্পষ্ট।
- দশমীর দিনে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা ছিল, যা এখন প্রতীকীভাবে পালন করা হয়।
- ঠিকানা: পাথুরিয়াঘাটা, উত্তর কলকাতা।
৭. হাটখোলা দত্ত বাড়ির পুজো (হাটখোলা)
এই পুজোটিও প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন। জগৎরাম দত্ত এই পুজোর সূচনা করেন। দত্ত পরিবারের পুজো তার ঐতিহ্য এবং নিষ্ঠার জন্য আজও সমানভাবে সমাদৃত।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: এই বাড়ির পুজোয় দেবীর আরাধনার পাশাপাশি পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার এক বিশেষ রীতি প্রচলিত আছে।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিমার সিংহ এখানে পৌরাণিক ‘নরসিংহ’-এর আদলে গড়া হয়।
- অষ্টমীর দিনে ‘ধুনো পোড়ানো’ নামক এক বিশেষ অনুষ্ঠান পালিত হয়, যেখানে পরিবারের সদস্যরা মনস্কামনা পূরণের জন্য সঙ্কল্প করেন।
- ঠিকানা: নিমতলা ঘাট স্ট্রিট, হাটখোলা।
কলকাতার ৪টি অজানা পুরনো বই বাজার: কলেজস্ট্রীটের বাইরেও রয়েছে বইপ্রেমীদের স্বর্গ!
৮. বদন চন্দ্র রায়ের বাড়ির পুজো (কলুটোলা)
প্রায় ১৬৫ বছরের পুরনো এই পুজো তার স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। রায় পরিবারের এই পুজো আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: বাড়ির ঠাকুরদালানটি কড়ি-বরগার এবং পুরনো দিনের স্থাপত্যের এক সুন্দর নিদর্শন।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- এখানে সন্ধিপুজোর সময় ঠাকুরদালানের সমস্ত আলো নিভিয়ে শুধুমাত্র ১০৮টি মাটির প্রদীপের আলোয় দেবীর আরাধনা করা হয়, যা এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে।
- পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই পুজোর সমস্ত জোগাড় এবং আয়োজন করেন।
- ঠিকানা: কলুটোলা, মধ্য কলকাতা।
৯. ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ির পুজো (বিডন স্ট্রিট)
রামদুলাল দে সরকারের দুই পুত্র আশুতোষ দে (ছাতুবাবু) এবং প্রমথনাথ দে (লাটুবাবু) এই পুজোর সূচনা করেন। প্রায় ২৫০ বছরের বেশি পুরনো এই পুজো কলকাতার বাবু সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: এই পুজোতে তৎকালীন সমাজের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি, এমনকি বিদেশি অতিথিরাও আসতেন।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- এখানে দেবীর সঙ্গে তাঁর দুই সখী—জয়া ও বিজয়া—পূজিত হন।
- প্রতিমার চালচিত্রে দশমহাবিদ্যা এবং অন্যান্য দেব-দেবীর চিত্র খোদাই করা থাকে।
- বিসর্জনের আগে দুটি নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ।
- ঠিকানা: বিডন স্ট্রিট, উত্তর কলকাতা।
১০. ঠনঠনিয়া দত্ত বাড়ির পুজো (ঠনঠনিয়া)
১৮৫৫ সালে প্রসন্ন কুমার দত্ত এই পুজোর সূচনা করেন। এই বাড়ির পুজো তার অনাড়ম্বর কিন্তু নিষ্ঠাপূর্ণ আচারের জন্য বিখ্যাত।
- ইতিহাস ও ঐতিহ্য: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মতো ব্যক্তিত্বরা এই বাড়ির পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে শোনা যায়।
- অনন্য বৈশিষ্ট্য:
- এই বাড়ির প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি হয় না এবং এটি সম্পূর্ণ সাবেকিয়ানার আদলে তৈরি।
- পুজোর ক’দিন নিরামিষ ভোগ রান্না হয় এবং পরিবারের বাইরে কারও সেই রান্নাঘরে প্রবেশের অনুমতি নেই।
- ঠিকানা: কলেজ স্ট্রিট মোড়ের কাছে, ঠনঠনিয়া।
দুর্গাপুজোর অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব
দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির এক বিশাল চালিকাশক্তি।
- অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান: ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটি ২০১৯ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, দুর্গাপুজো পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে প্রায় ₹৩২,৩৭৭ কোটি টাকার অবদান রাখে, যা রাজ্যের মোট জিডিপি-র প্রায় ২.৫৮%। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন, রিটেল, খাদ্য ও পানীয়, এবং পর্যটন শিল্পে বিপুল কর্মকাণ্ড চলে। Source: British Council Report, “Mapping the Creative Economy around Durga Puja”
- পর্যটন: দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম (WBTDCL) বনেদি বাড়ির পুজো পরিক্রমার জন্য বিশেষ ট্যুর প্যাকেজের ব্যবস্থা করে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- ইউনেস্কোর স্বীকৃতি: ২০২১ সালে ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপুজোকে “Intangible Cultural Heritage of Humanity”-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র উৎসবের ধর্মীয় দিকটিকেই নয়, এর সঙ্গে জড়িত শিল্পী, কারিগর, এবং আয়োজকদের সম্মিলিত সৃজনশীলতাকেও সম্মান জানায়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পর্যটনকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে। Source: UNESCO Official Website
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো শহরের আত্মা। থিম পুজোর চাকচিক্য এবং আধুনিকতার মাঝেও এই পুজোগুলি তাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং আভিজাত্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। এগুলি শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, এগুলি হলো সময়ের সরণি বেয়ে হেঁটে চলা, যেখানে প্রতিটি ইট, প্রতিটি দালান এবং প্রতিটি প্রথা এক একটি গল্প বলে। এই পুজোগুলি প্রমাণ করে যে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলতে পারে, যা কলকাতাকে truly ‘The City of Joy’ করে তোলে।











