Bihar high alert JeM militants

অপারেশন সিঁদুরের বদলা নিতে নেপাল হয়ে ভারতে তিন পাক জইশ জঙ্গি, রেড এলার্ট বিহারে

বিহারের পাটনা ও সামসিপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় আজ ভোরে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় তিনজন পাক জইশ-ই-মুহাম্মদ জঙ্গি বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তারা ভারতীয় স্বার্থে আক্রমণ পরিকল্পনা করতে বাংলাদেশকে টার্গেট করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের হাই অ্যালার্টে…

Updated Now: August 28, 2025 10:31 PM
বিজ্ঞাপন

বিহারের পাটনা ও সামসিপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় আজ ভোরে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় তিনজন পাক জইশ-ই-মুহাম্মদ জঙ্গি বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তারা ভারতীয় স্বার্থে আক্রমণ পরিকল্পনা করতে বাংলাদেশকে টার্গেট করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের হাই অ্যালার্টে এসেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং বিহার পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের পদে পদে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

পাটনা সিআইডি অফিসার অমিতাভ শর্মার বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা স্বীকার করেছে, ‘মমতার রাজনীতি’র ফায়দা নিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিলতা কাজে লাগাতে চেয়েছিল। তারা মূলত বাংলা রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থাপনা, পর্যন্ত আঘাত হানার জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করছিল। তবে এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পরই বিহার পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন দফতর যৌথভাবে এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপে নজরদারি বাড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, গত কয়েক মাস ধরে নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে নেপালে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি অঞ্চলে জঙ্গি মডিউলের গতিবিধি। বিহার-নেপাল সীমান্তের ১৪টি চেকপোস্টে নিরাপত্তা বলয় জোরদার হয়েছে। শুক্রবার ভোর চারটায় ত্রিপক্ষীয় মোহরা অভিযানে সন্দেহভাজনদের ধরে তল্লাশি চালানো হয়। সীমান্ত রক্ষীদের উপর কোনোভাবে অস্ত্র বা বিস্ফোরক বহন করতে দেখে ধরা পড়ে তারা।

সীমান্ত নিরাপত্তা বলয়ের যুগ্ম আধিকারিকরাও জানান, গত বছর পশ্চিম বঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার পর নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘মমতার রাজনীতি’র অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় এজেন্টরা নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। সে অনুযায়ী বিহারের নিরাপত্তা অবস্থা অনিরাপদ অবস্থায় দেখাতে চাইছিল পাক জঙ্গিরা। তবে পুলিশ ও সীমান্ত বাহিনীর ব্যবস্থা নিতে পেরে বড় ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনা অচিরেই ফাঁস হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের সাম্প্রতিক মহড়া ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তার আলোকে বিহার সরকারের পক্ষ থেকে আজ নবান্নের ডিসিপ্লিনারি বিভাগকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধিতে চরম দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও কেন্দ্রীয় বাহিনী–আনন্দমোর্চা অভিযানে মিলে সারা রাতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সজাগ অবস্থায় রয়েছে।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে বাংলা ও বিহারে একাধিক জঙ্গি গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা ধরা পড়ে। এবার আবারো নেপাল হয়ে তিন পাক জইশ জঙ্গির ঢুকে পড়ার ঘটনা ফিরে পাঠিয়েছে সেই আগুনের স্মৃতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম সতর্কতা অবলম্বন করায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিহার জুড়ে সীমান্তবর্তী জেলার হোটেল, লজ ও যাতায়াতের পথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে যে কোনো গাড়ি, ব্যক্তিগত চিহ্ন বা সন্দেহজনক ব্যক্তি দেখলে ১০০ নম্বরে ফোন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও বিষয়টি মনিটর করছে এবং টহল বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

পরিশেষে, বাংলা রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক আছে এবং সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে যেকোনো সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত। এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়ায় ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা এখন আরও দৃঢ় হচ্ছে।