How Long to Lie Down After Intercourse for Conception: সহবাসের পরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকা গর্ভধারণের সম্ভাবনা সামান্য বৃদ্ধি করতে পারে, যদিও এটি কোনো নিশ্চিত পদ্ধতি নয় । নেদারল্যান্ডসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ার পর ১৫ মিনিট শুয়ে থাকা মহিলাদের মধ্যে ২৭ শতাংশ সফলভাবে গর্ভধারণ করেছেন, যেখানে তৎক্ষণাৎ উঠে পড়া মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ । শুক্রাণু সাধারণত ২ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ডিম্বনালীতে পৌঁছাতে পারে, গড়ে প্রায় ৫ মিনিট সময় লাগে ।
সহবাসের পর শুয়ে থাকার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
বহু বছর ধরে নারীরা এই প্রশ্ন করে আসছেন যে সহবাসের পরে কতক্ষণ শুয়ে থাকা উচিত। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় এই বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় ইন্ট্রাইউটেরিন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) প্রক্রিয়ার পর ১৫ মিনিট শুয়ে থাকা মহিলাদের গর্ভধারণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল । এই গবেষণায় নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৩৯১ জোড়া দম্পতি অংশগ্রহণ করেছিলেন ।
তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই গবেষণাটি কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ার উপর করা হয়েছিল, স্বাভাবিক সহবাসের উপর নয়। কিন ফার্টিলিটির একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরাসরি এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সহবাসের পরে শুয়ে থাকলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পায় । তবে এটি ক্ষতিকারকও নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
শুক্রাণুর ভ্রমণ প্রক্রিয়া
শুক্রাণুর যাত্রা বেশ জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং। স্খলনের পর শুক্রাণুকে যোনি থেকে জরায়ুমুখ, জরায়ু পার হয়ে ডিম্বনালীতে পৌঁছাতে হয়, যা মোট ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার দূরত্ব । ফ্লো হেলথের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রাণু সাধারণত স্খলনের ১৫ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ডিম্বাণুতে পৌঁছায় ।
শুক্রাণুর এই যাত্রায় শরীর স্বাভাবিকভাবেই সাহায্য করে। যোনিতে শুক্রাণু প্রবেশের মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে যোনির উপরের অংশের পিএইচ মান বৃদ্ধি পায়, যা শুক্রাণুর জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে । স্খলনের প্রায় এক মিনিট পরে বীর্য জেল বা জমাট আকারে পরিণত হয়, যা শুক্রাণুকে জরায়ুমুখের কাছে ধরে রাখতে সাহায্য করে । এরপর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরে এই জেল তরল হয়ে যায় এবং শুক্রাণু আবার সাঁতার কাটতে শুরু করে।
শুক্রাণুর গতিবেগ এবং সময়সীমা
নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটির গবেষণা অনুযায়ী, শুক্রাণু জরায়ুমুখের শ্লেষ্মার মধ্য দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ থেকে ৩ মিলিমিটার গতিতে সাঁতার কাটে । কিছু শুক্রাণু জরায়ুমুখের ভাঁজে জমা হয়ে থাকে এবং পরে জরায়ু গহ্বরে প্রবেশ করে, যা মোট ২ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে । এই কারণেই শুক্রাণু নারী প্রজনন তন্ত্রে পাঁচ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং ডিম্বাণুর জন্য অপেক্ষা করতে পারে।
জাইনোভেদার তথ্য অনুসারে, কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গতি এতটাই দ্রুত হয় যে স্খলনের মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ডিম্বনালীতে পৌঁছে যেতে পারে । তবে গড়ে শুক্রাণুর যাত্রায় ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
কতক্ষণ শুয়ে থাকা উচিত: বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
বেশিরভাগ প্রজনন বিশেষজ্ঞ সহবাসের পরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকার পরামর্শ দেন । এই সময়কাল বীর্যকে জরায়ুমুখের কাছে জমা হতে দেয়, যা শুক্রাণুকে একটি ভালো সূচনা বিন্দু প্রদান করে।
সময়ের বিভাজন
স্নাগি মম ওয়েবসাইটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়সীমার প্রভাব নিম্নরূপ:
-
৫ মিনিটের কম: শুক্রাণু কার্যকরভাবে জমা হওয়ার জন্য খুব কম সময়
-
১০ থেকে ১৫ মিনিট: আরাম এবং জৈবিক সুবিধার মধ্যে সর্বোত্তম ভারসাম্য
-
৩০ মিনিটের বেশি: কোনো অতিরিক্ত প্রমাণিত সুবিধা নেই এবং অস্বস্তি বা অধৈর্যতা সৃষ্টি করতে পারে
এআরসি আইভিএফের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পরে শুয়ে থাকার কোনো অতিরিক্ত সুবিধা প্রমাণিত হয়নি । তাই দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকা বা পা উঁচু করে রাখা অপ্রয়োজনীয়।
কীভাবে শুয়ে থাকবেন
সহবাসের পরে সঠিকভাবে শুয়ে থাকার কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:
-
পিঠের উপর আরামদায়কভাবে শুয়ে থাকুন
-
নিতম্ব সামান্য উঁচু করতে একটি বালিশ ব্যবহার করতে পারেন
-
সহবাসের পরপরই দাঁড়ানো বা বসা এড়িয়ে চলুন
-
তাৎক্ষণিকভাবে বাথরুমে যাওয়া এড়িয়ে চলুন
-
নড়াচড়া মৃদু রাখুন এবং তাড়াহুড়ো করবেন না
-
এই সময়ে আরাম করতে আরামদায়ক বিছানা বা কুশন ব্যবহার করুন
এই সহজ পদক্ষেপগুলি যোনির ভিতরে বীর্য দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি মানসিক চাপ বা অস্বস্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। ফার্টিলিটি সেন্টার ইনস্টিটিউটের ডক্টর জন জে রাপিসার্ডা জানিয়েছেন যে দাঁড়ানো বা বাথরুমে যাওয়া মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে শুক্রাণুকে জরায়ুমুখ থেকে দূরে টেনে নিতে সাহায্য করে ।
গর্ভধারণে শুয়ে থাকার সীমাবদ্ধতা
শুয়ে থাকা একটি সহায়ক পদক্ষেপ হতে পারে, কিন্তু এটি গর্ভধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। গর্ভধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া যা অনেকগুলি কারণের উপর নির্ভর করে ।
গর্ভধারণের মূল নির্ধারক
ডিম্বস্ফোটনের সময়: ডিম্বস্ফোটনের কয়েক দিন আগে বা ডিম্বস্ফোটনের দিনে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে । এটি অবস্থানের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রাণুর গুণমান: সুস্থ এবং গতিশীল শুক্রাণু নিষেকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে । শুক্রাণুর গতিশীলতা (মোটিলিটি) হল ডিম্বাণুতে পৌঁছানোর প্রাথমিক কারণ, মাধ্যাকর্ষণ নয় ।
নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য: জরায়ুমুখের শ্লেষ্মার গুণমান এবং ডিম্বনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ । জরায়ুর স্বাস্থ্য, যেমন বাল্কি ইউটেরাস, গর্ভধারণকে প্রভাবিত করতে পারে ।
সহবাসের নিয়মিততা: উর্বর সময়ের মধ্যে নিয়মিত সহবাস গর্ভধারণের সম্ভাবনা উন্নত করে ।
গর্ভধারণের পদ্ধতি এবং সাফল্যের হার
ফার্টিলিটি সেন্টার লাস ভেগাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক গর্ভধারণের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
| সময়কাল | গর্ভধারণের সম্ভাবনা |
|---|---|
| তিন মাস চেষ্টার পর | ৫০% দম্পতি |
| ছয় মাস চেষ্টার পর | ৭৫% দম্পতি |
| এক বছর চেষ্টার পর | ৮২% দম্পতি |
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টার পরেও যারা গর্ভধারণ করতে পারেননি, তাদের প্রতি মাসে সফলতার হার মাত্র ১-৩% । এই পরিসংখ্যান দেখায় যে সঠিক সময়ে প্রজনন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে সাফল্যের হার:
-
মৌখিক প্রজনন ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৮-১০% সম্ভাবনা
-
মৌখিক প্রজনন ওষুধ এবং ইন্ট্রাইউটেরিন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) একসাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ১২-১৫% সম্ভাবনা
-
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এবং ভ্রূণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৫৫-৬৫% সম্ভাবনা
কেয়ার ফার্টিলিটির তথ্য অনুসারে, ক্রোমোজোমগতভাবে স্বাভাবিক ভ্রূণ স্থানান্তরের ফলে উচ্চ জীবিত জন্মের হার (বয়সের গ্রুপ অনুযায়ী প্রতি স্থানান্তরে ৬২-৭৩%) এবং কম গর্ভপাতের হার (প্রায় ৪-৬%) পাওয়া যায় ।
প্রজনন-বান্ধব সহবাস অবস্থান
শুয়ে থাকার পাশাপাশি, কিছু সহবাস অবস্থান গর্ভধারণে সহায়ক হতে পারে। শেরি রস এমডি, মহিলাদের যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং “শি-অলজি” বইয়ের লেখক, জানিয়েছেন যে গভীর অনুপ্রবেশের অবস্থানগুলি শুক্রাণুকে জরায়ুমুখের যতটা সম্ভব কাছাকাছি রাখতে সাহায্য করে ।
সুপারিশকৃত অবস্থান
মিশনারি অবস্থান: এটি একটি ক্লাসিক এবং সরল পছন্দ। এটি গভীর অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয়, নিশ্চিত করে যে শুক্রাণু জরায়ুমুখের কাছে জমা হয় ।
পেছন থেকে (ডগি স্টাইল): এই অবস্থানে মহিলা চার হাত-পায়ের উপর থাকে এবং পুরুষ পেছন থেকে প্রবেশ করে। এটি গভীর অনুপ্রবেশের সুবিধা দেয় এবং জরায়ুমুখের কাছে শুক্রাণু জমা করতে সহায়তা করতে পারে ।
পা উঁচু করা (পেলভিক টিল্ট): সহবাসের পরে, মহিলা পিঠের উপর শুয়ে নিতম্বের নিচে একটি বালিশ রেখে নিতম্ব উঁচু করতে পারেন। এই অবস্থান মাধ্যাকর্ষণকে শুক্রাণুকে জরায়ুমুখের দিকে পরিচালিত করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয় ।
পাশাপাশি অবস্থান: উভয় সঙ্গী তাদের পাশে শুয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এই অবস্থান গভীর অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয় এবং ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি জাগায় ।
কাঁধে পা: মিশনারি অবস্থানের একটি রূপ, যেখানে একজন মহিলা সহবাসের সময় তার পা তার সঙ্গীর কাঁধে রাখে। এই অবস্থান শুক্রাণুকে জরায়ুমুখের যতটা সম্ভব কাছাকাছি যেতে দেয় এবং মাধ্যাকর্ষণের সুবিধাও পায় ।
অতিরিক্ত প্রজনন পরামর্শ
শুয়ে থাকা এবং সহবাস অবস্থানের বাইরেও, গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
ডিম্বস্ফোটন ট্র্যাকিং
আপনার উর্বর সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাচারাল সাইকেলস জানিয়েছে যে গর্ভধারণ শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত উর্বর সময়ের মধ্যে সম্ভব এবং এই সময় ট্র্যাক করার সরঞ্জাম আপনার প্রজনন লক্ষ্য সমর্থন করতে পারে । উর্বর সময় সাধারণত ডিম্বস্ফোটনের কয়েক দিন আগে থেকে শুরু হয় এবং ডিম্বস্ফোটনের দিনে শেষ হয়।
মানসিক চাপ হ্রাস
মানসিক চাপ প্রজনন ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে । তাই শুয়ে থাকার সময় আরাম করা এবং চাপমুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এআরসি আইভিএফের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে মানসিক চাপ কম এবং যোগাযোগ খোলা থাকলে গর্ভধারণ ঘটে ।
জীবনযাত্রার অভ্যাস
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস প্রজনন ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
সুষম খাদ্য গ্রহণ
-
নিয়মিত ব্যায়াম কিন্তু অতিরিক্ত নয়
-
পর্যাপ্ত ঘুম
-
ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়ানো
-
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
চিকিৎসা পরামর্শ
যদি আপনি এক বছর ধরে (৩৫ বছরের কম বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে) বা ছয় মাস ধরে (৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে) নিয়মিত অসুরক্ষিত সহবাস করার পরেও গর্ভধারণ করতে না পারেন, তাহলে একজন প্রজনন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শেডি গ্রোভ ফার্টিলিটি এবং অন্যান্য ক্লিনিক নিয়মিত এই ধরনের পরামর্শ প্রদান করে।
সাধারণ ভ্রান্ত ধারণা
প্রজনন বিষয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
ভ্রান্ত ধারণা ১: শুয়ে থাকা নিশ্চিত গর্ভধারণ দেয়
সত্য: শুয়ে থাকা সহায়ক হতে পারে কিন্তু এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কিন ফার্টিলিটির গবেষণা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সহবাসের পরে শুয়ে থাকলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা উন্নত হয় এমন কোনো প্রমাণ নেই । তবে এটি ক্ষতিকরও নয়।
ভ্রান্ত ধারণা ২: দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে ভালো
সত্য: ১৫-২০ মিনিটের পরে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা প্রমাণিত হয়নি । তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।
ভ্রান্ত ধারণা ৩: বিশেষ অবস্থানই সবকিছু
সত্য: যদিও কিছু অবস্থান সহায়ক হতে পারে, গর্ভধারণ প্রাথমিকভাবে ডিম্বস্ফোটনের সময় এবং শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে, অবস্থানের উপর নয় ।
ভ্রান্ত ধারণা ৪: তাৎক্ষণিক প্রস্রাব করলে সব শুক্রাণু বেরিয়ে যায়
সত্য: মূত্রনালী এবং যোনিপথ আলাদা, তাই প্রস্রাব করলে শুক্রাণু বের হয় না। তবে শুয়ে থাকার সুপারিশকৃত সময়ের পরে বাথরুম ব্যবহার করা নিরাপদ।
প্রজনন সমস্যার লক্ষণ
কিছু ক্ষেত্রে, শুয়ে থাকা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি যথেষ্ট নাও হতে পারে। নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরামর্শ প্রয়োজন:
-
অনিয়মিত মাসিক চক্র
-
বেদনাদায়ক মাসিক বা শ্রোণী ব্যথা
-
আগের গর্ভপাতের ইতিহাস
-
জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের পরিচিত সমস্যা
-
পুরুষের শুক্রাণু গণনা বা গতিশীলতার সমস্যা
-
৩৫ বছরের কম বয়সে এক বছর বা ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে ছয় মাসের চেষ্টার পরেও ব্যর্থতা
আইইউআই এবং আইভিএফ পদ্ধতিতে শুয়ে থাকা
নেদারল্যান্ডসের গবেষণায় দেখা গেছে যে ইন্ট্রাইউটেরিন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতির পরে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকা গর্ভধারণের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে । প্রধান গবেষক ডক্টর ইঞ্জে কাস্টার্স ব্যাখ্যা করেছেন যে “তাৎক্ষণিক চলাচলের ফলে [শুক্রাণুর] লিক হতে পারে”, যা মহিলা চলাফেরা করলে ডিম্বনালীতে পৌঁছতে বেশি সময় নিতে পারে ।
কাস্টার্স আরও বলেছেন, “যেহেতু স্থিরতা সহজেই করা যায় এবং খুব কম খরচ বহন করে, আমরা ইন্ট্রাইউটেরিন ইনসেমিনেশন চিকিৎসায় একটি মানক পদ্ধতি হিসাবে স্থিরতা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিই” । নেদারল্যান্ডসের ক্লিনিকগুলি ইতিমধ্যে এই পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
কেয়ার ফার্টিলিটির তথ্য
কেয়ার ফার্টিলিটি কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রজনন চিকিৎসার সাফল্যের হার:
-
আইইউআই-এইচ (স্বামী/সঙ্গীর শুক্রাণু ব্যবহার): ৮.৭% সামগ্রিক প্রসব হার
-
আইইউআই-ডি (দাতার শুক্রাণু ব্যবহার): ১২.১% সামগ্রিক প্রসব হার
দাতার শুক্রাণু প্রায়শই অল্প বয়সী মহিলা, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া মহিলা বা সমলিঙ্গের মহিলা দম্পতিদের দ্বারা ব্যবহার করা হয়, যা আইইউআই-এইচের তুলনায় উচ্চতর সাফল্যের হারে অবদান রাখতে পারে।
সহবাসের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকা একটি সহজ এবং নিরাপদ অভ্যাস যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা সামান্য বৃদ্ধি করতে পারে, বিশেষত যখন এটি অন্যান্য প্রজনন-বান্ধব অভ্যাসের সাথে মিলিত হয়। তবে এটি মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে গর্ভধারণ একটি জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া যা ডিম্বস্ফোটনের সময়, শুক্রাণুর গুণমান, সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। নেদারল্যান্ডসের গবেষণা দেখায় যে আইইউআই পদ্ধতির পরে শুয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করে, কিন্তু স্বাভাবিক সহবাসের ক্ষেত্রে প্রমাণ সীমিত। যদি আপনি দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, একজন প্রজনন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, সফল গর্ভধারণের জন্য জৈবিক কারণ, সঠিক সময় নির্ণয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মানসিক প্রশান্তি সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।











