চকচকে তাজা লাল টম্যাটো দেখে ভুলবেন না: আসল বনাম ভেজাল টম্যাটো চেনার বৈজ্ঞানিক ও সহজ উপায়

How to Identify Fake and Artificially Ripened Tomatoes: বাজারে থরে থরে সাজানো চকচকে লাল টম্যাটো দেখলেই আমাদের হাত আপনা থেকেই সেদিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু এই নিখুঁত সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে…

Ishita Ganguly

 

How to Identify Fake and Artificially Ripened Tomatoes: বাজারে থরে থরে সাজানো চকচকে লাল টম্যাটো দেখলেই আমাদের হাত আপনা থেকেই সেদিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু এই নিখুঁত সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী বিষ । বর্তমান বাজারে কৃত্রিমভাবে পাকানো এবং রাসায়নিক মেশানো ভেজাল টম্যাটোর রমরমা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আনন্দবাজার পত্রিকা এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষকেরা দ্রুত লাভের আশায় ইথিলিন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঁচা টম্যাটো রাতারাতি লাল করে বাজারে বিক্রি করছেন । এই ধরনের রাসায়নিকযুক্ত টম্যাটো বাইরে থেকে দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও, এর ভেতরে পুষ্টিগুণের বদলে থাকে বিষাক্ত উপাদান যা মানবদেহে ক্যানসার থেকে শুরু করে লিভার ও কিডনির বড়সড় ক্ষতির কারণ হতে পারে । তাই, শুধুমাত্র উজ্জ্বল রং দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে, নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে কেনার আগেই আসল এবং ভেজাল টম্যাটোর পার্থক্য চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই নিবন্ধে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কেন টম্যাটোতে ভেজাল মেশানো হয়, এর ক্ষতিকর প্রভাব কী এবং কীভাবে খুব সহজেই কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি বাজার থেকেই খাঁটি টম্যাটোটি বেছে নিতে পারবেন।

কেন বাজারে বাড়ছে ভেজাল টম্যাটোর রমরমা?

বাঙালি থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরেই টম্যাটো একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। প্রতিদিনের এই বিপুল চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ের আশ্রয় নিচ্ছেন ।

সাধারণত একটি টম্যাটো প্রাকৃতিকভাবে পাকতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং অফ-সিজনেও টম্যাটো বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় কাঁচা বা আধাপাকা টম্যাটো তুলে সেগুলোকে রাসায়নিকের সাহায্যে পাকানো হয় । ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন গ্যাস, এবং কখনও কখনও ক্ষতিকারক রং ও ইনজেকশন ব্যবহার করে সবজিগুলোকে রাতারাতি লাল টুকটুকে করে তোলা হয়। ২০২৩-২০২৫ সালের একাধিক ভাইরাল ভিডিও এবং সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যে, কৃষকরা অনেক সময় সরাসরি রাসায়নিক মিশ্রিত জলে টম্যাটো চুবিয়ে তা বাজারে পাঠাচ্ছেন । এই পদ্ধতিতে টম্যাটোর বাইরের ত্বক লাল হয়ে গেলেও এর ভেতরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় ।

ভেজাল ও রাসায়নিক যুক্ত টম্যাটো খাওয়ার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভেজাল টম্যাটো দীর্ঘকাল ধরে সেবন করলে মানবদেহে একাধিক জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি হতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা এবং টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড এবং অন্যান্য রাসায়নিক রঞ্জক পদার্থগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ।

স্বল্পমেয়াদী বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া:

ভেজাল টম্যাটো খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেকের শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া এবং হজমের মারাত্মক গোলমাল দেখা দেয় । যাঁদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক স্বাস্থ্যঝুঁকি:
নিয়মিত এই ধরনের রাসায়নিকযুক্ত টম্যাটো খেলে তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি করে।

  • লিভার এবং কিডনির ক্ষতি: রাসায়নিক উপাদানগুলো শরীর থেকে বের করার জন্য লিভার এবং কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অঙ্গগুলো বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

  • স্নায়বিক দুর্বলতা: ক্যালসিয়াম কার্বাইডের প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, মাথাব্যথা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

  • ক্যানসারের ঝুঁকি: ভেজাল টম্যাটোতে ব্যবহৃত রঞ্জক এবং কেমিক্যালগুলো কার্সিনোজেনিক বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় ।

আসল বনাম ভেজাল টম্যাটো: ৫টি সহজ পরীক্ষায় চিনে নেওয়ার উপায়

বাজার থেকে তাজা সবজি কিনে আনার পর যদি দেখেন সেটি আসলে বিষ, তবে তা অত্যন্ত হতাশার। বিশেষজ্ঞরা কিছু অত্যন্ত সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, যার সাহায্যে আপনি সহজেই আসল এবং ভেজাল টম্যাটোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন।

১. রঙের অসামঞ্জস্যতা এবং বাহ্যিক রূপ পর্যবেক্ষণ

প্রাকৃতিকভাবে পাকা টম্যাটো কখনোই একেবারে নিখুঁত বা পুরোটাই উজ্জ্বল লাল রঙের হয় না । একটি আসল টম্যাটোতে লালের পাশাপাশি হালকা হলদেটে বা সবুজাভ আভা দেখতে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বোঁটার কাছাকাছি অংশে । অন্যদিকে, কৃত্রিমভাবে পাকানো বা রং করা টম্যাটোগুলো পুরোটাই অস্বাভাবিক রকমের গাঢ় ও উজ্জ্বল লাল রঙের হয় । এগুলো দেখতে এতটাই নিখুঁত হয় যে মনে হয় যেন প্লাস্টিকের তৈরি। এই ধরনের অত্যধিক চকচকে টম্যাটো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ ।

২. ত্বকের গঠন এবং স্পর্শ পরীক্ষা (Skin Texture Test)

টম্যাটো হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। প্রাকৃতিকভাবে গাছপাকা টম্যাটোর ত্বক নরম এবং মসৃণ হয়। হালকা চাপ দিলেই সেটি সামান্য দেবে যায় । কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো টম্যাটো বাইরে থেকে লাল হলেও ভেতর থেকে কাঁচা থাকে। তাই এগুলো স্পর্শ করলে রবারের মতো অত্যন্ত শক্ত মনে হয় এবং চাপ দিলেও সহজে দেবে যায় না ।

৩. ভেতরের শাঁস এবং বীজ পরীক্ষা (Slice and Observe Test)

টম্যাটো কেনার পর তা আসল নাকি ভেজাল তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এটি মাঝখান থেকে কেটে দেখা।

  • আসল টম্যাটো: প্রাকৃতিকভাবে পাকা টম্যাটো কাটলে এর ভেতরের অংশটিও সুন্দর লালচে এবং অত্যন্ত রসালো হয়। এর বীজগুলো পূর্ণাঙ্গ এবং পাল্প বা শাঁস থেকে সহজেই আলাদা হয়ে যায় ।

  • ভেজাল টম্যাটো: কৃত্রিম টম্যাটো কাটলে দেখবেন এর বাইরের আবরণটি শুধু লাল, কিন্তু ভেতরের অংশটি ফ্যাকাশে, হালকা সবুজ বা সাদাটে রয়ে গেছে । এর বীজগুলোও অপরিপক্ব ও সাদাটে হয় এবং সেগুলো শক্ত শাঁসের সঙ্গে আটকে থাকে ।

৪. গন্ধ এবং স্বাদের পার্থক্য (Smell and Taste Test)

টম্যাটোর নিজস্ব একটি মিষ্টি এবং মাটির মতো সোঁদা গন্ধ থাকে। টম্যাটো নাকের কাছে নিয়ে শুকলে যদি সতেজ এবং স্বাভাবিক সুগন্ধ পান, তবে সেটি আসল । ভেজাল মেশানো বা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো টম্যাটোতে কোনো গন্ধ থাকে না, অথবা এর থেকে ঝাঁঝালো ওষুধের মতো রাসায়নিক গন্ধ বের হয় । খাওয়ার সময় গাছপাকা টম্যাটো টক-মিষ্টি স্বাদের হয়, কিন্তু ভেজাল টম্যাটো খেতে একেবারে পানসে এবং স্বাদহীন হয় ।

৫. জল ও ভিনিগার দ্রবণ পরীক্ষা

বাড়িতে টম্যাটো আনার পর সন্দেহ হলে একটি পাত্রে জল এবং সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে তাতে টম্যাটোগুলো কিছুক্ষণের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। যদি দেখেন জলের ওপরে হালকা রঙের আস্তরণ বা তেলের মতো কিছু ভাসছে, তবে নিশ্চিতভাবে বুঝতে হবে যে ওই টম্যাটোতে রাসায়নিক রং মেশানো রয়েছে । এই রাসায়নিক শরীরের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত।

গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক সারণি: আসল বনাম ভেজাল টম্যাটো

ক্রেতাদের সুবিধার্থে আসল এবং ভেজাল টম্যাটো চেনার প্রধান লক্ষণগুলো নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্যের মানদণ্ড খাঁটি ও গাছপাকা টম্যাটো কৃত্রিম বা ভেজাল টম্যাটো
বাহ্যিক রং লালের সঙ্গে হলদেটে বা সবুজাভ আভা থাকে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল এবং পুরোটাই গাঢ় লাল হয়
ত্বকের গঠন ত্বক নরম এবং হালকা চাপ দিলে সামান্য দেবে যায় রবারের মতো শক্ত থাকে এবং সহজে চাপে দেবে না
ভেতরের শাঁস লালচে, নরম এবং অত্যন্ত রসালো হয় ফ্যাকাশে, সাদাটে বা হালকা সবুজ রঙের হয় এবং শুকনো থাকে
বীজের অবস্থা বীজগুলো পরিপক্ব হয় এবং শাঁস থেকে আলাদা থাকে বীজ অপরিপক্ব (সাদা) থাকে এবং শাঁসের সঙ্গে আটকে থাকে
গন্ধ ও স্বাদ মিষ্টি মাটির গন্ধ থাকে এবং স্বাদ টক-মিষ্টি হয় কোনো গন্ধ থাকে না বা রাসায়নিক গন্ধ বের হয়, স্বাদ পানসে হয়
রাসায়নিকের উপস্থিতি ভিনিগার জলে ডোবালে কোনো রং বা তেল ভাসে না। ভিনিগার জলে ডোবালে জলের ওপর রং বা তেলের আস্তরণ ভাসে
নিরাপদ থাকার জন্য ক্রেতাদের করণীয়

শুধুমাত্র টম্যাটো চিনে কেনাই শেষ কথা নয়, বাজার থেকে যেকোনো ফল বা সবজি কিনে আনার পর তা সঠিকভাবে পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। ভেজালের এই যুগে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন:

১. সঠিকভাবে ধোয়া: বাজার থেকে আনা টম্যাটো সরাসরি রান্নায় ব্যবহার করবেন না বা স্যালাডে কাঁচা খাবেন না। খাওয়ার আগে হালকা গরম জলে সামান্য বেকিং সোডা বা নুন মিশিয়ে টম্যাটোগুলো ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে ত্বকের ওপরে থাকা রাসায়নিকের প্রলেপ অনেকটাই ধুয়ে যায়।
২. অফ-সিজনে কেনাকাটা কমানো: টম্যাটোর নির্দিষ্ট মরশুম ছাড়া অন্যান্য সময়ে বাজারে যে নিখুঁত লাল টম্যাটোগুলো দেখা যায়, তার বেশিরভাগই কৃত্রিমভাবে পাকানো । তাই অফ-সিজনে অত্যধিক চকচকে সবজি এড়িয়ে চলুন।
৩. স্থানীয় কৃষকদের থেকে কেনা: সুপারমার্কেট বা বড় বাজারের বদলে চেষ্টা করুন পরিচিত স্থানীয় কৃষক বা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাজা সবজি কিনতে। একটু খুঁতযুক্ত বা এবড়োখেবড়ো টম্যাটো দেখতে খারাপ হলেও সেগুলো সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন এবং রাসায়নিকমুক্ত হয়।

বর্তমান যুগে মুনাফা লোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে আমরা প্রতিদিন অজান্তেই বিষ গ্রহণ করছি। চকচকে তাজা লাল টম্যাটো দেখেই চোখ বন্ধ করে কিনে ফেলা আমাদের জন্য এক মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হতে পারে, কারণ আসলের ভিড়েই লুকিয়ে রয়েছে সুদৃশ্য ভেজাল সবজি। সামান্য সচেতনতা এবং কেনার আগে ত্বক, গন্ধ, ও ভেতরের গঠন পরীক্ষা করে দেখার মাধ্যমে আমরা এই বিষাক্ত রাসায়নিকের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি। নিজের এবং পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে বাহ্যিক রূপের চেয়ে সবজির গুণগত মান এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। একটু সতর্কতাই আপনাকে ভয়ানক মারণরোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।

About Author
Ishita Ganguly

ঈশিতা গাঙ্গুলী ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে স্নাতক। তিনি একজন উদ্যমী লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন। ঈশিতার লেখার ধরন স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যবহুল, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে আনেন এবং পাঠকদের চিন্তা-চেতনার পরিসরকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন। সাংবাদিকতার জগতে তার অটুট আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন