ভারতের স্বাস্থ্যখাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যখন ইউনিয়ন বাজেট পেশ করবেন, তখন দেশের ১৪০ করোড় মানুষের চোখ থাকবে স্বাস্থ্যখাতে কী পরিমাণ বরাদ্দ এবং কী ধরনের সংস্কার আসছে তার দিকে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জন্য প্রায় ১ লক্ষ করোড় টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা মোট বাজেটের মাত্র ১.৯৭ শতাংশ. স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবং শিল্প নেতারা এবার বাজেট ২০২৬-এ কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং জিএসটির মতো সাংগঠনিক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন যা স্বাস্থ্যসেবাকে সহজ, সাশ্রয়ী এবং সর্বজনীন করে তুলবে.
ভারতের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি
২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতের মোট স্বাস্থ্য ব্যয় ছিল ৯,০৪,৪৬১ করোড় টাকা, যা জিডিপির ৩.৮ শতাংশ এবং মাথাপিছু ৬,৬০২ টাকা. সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয়ের হিস্সা মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে. তবে, জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০১৭-এর লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে জিডিপির ২.৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা, যা এখনও অর্জিত হয়নি.
বর্তমানে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যয় জিডিপির মাত্র ১.৮৪ শতাংশ, যেখানে রাজস্ব ব্যয় ৮৭.৩ শতাংশ এবং মূলধনী ব্যয় মাত্র ১২.৭ শতাংশ. এই অপ্রতুল বরাদ্দের ফলে জনগণকে এখনও তাদের পকেট থেকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
আউট-অফ-পকেট ব্যয়ের চাপ
ভারতে আউট-অফ-পকেট স্বাস্থ্য ব্যয় (OOPE) ২০০৪-০৫ সালে ৬৯.৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২১-২২ সালে ৪৭.১ শতাংশে নেমে এসেছে. তবে এটি এখনও বিশ্বের সর্বোচ্চগুলির মধ্যে একটি। বাস্তবে, পরিবারগুলি এখনও তাদের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪৫-৫০ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে দিতে বাধ্য হয়.
২০২২ অর্থবর্ষে উত্তরপ্রদেশে সর্বোচ্চ আউট-অফ-পকেট ব্যয় ছিল প্রায় ৭০০ বিলিয়ন টাকা. অসংক্রামক রোগের (NCDs) জন্য ব্যয় বিশেষভাবে বেশি, যেখানে ১৯৯৫-৯৬ সালে মোট OOPE-এর ৩১.৬ শতাংশ থেকে ২০০৪ সালে বেড়ে ৪৭.৩ শতাংশ হয়েছে. ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং আঘাতের চিকিৎসায় খরচ সবচেয়ে বেশি।
অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা
ভারতে এখন অসংক্রামক রোগ (NCDs) যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ মোট মৃত্যুর ৬৩-৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী, যা ১৯৯০ সালে ছিল মাত্র ৩৭.৯ শতাংশ. ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (ICMR) ২০১৭ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে NCDs-এর কারণে মৃত্যুর হার ৩৭.৯ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে বেড়ে ৬১.৮ শতাংশ হয়েছে.
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, NCDs-সংক্রান্ত মৃত্যুর প্রায় ২৫-২৬ শতাংশ ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে, যা উৎপাদনশীল জনসংখ্যার বিশাল ক্ষতি. ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (IDF) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ০-১৯ বছর বয়সী ২২,৯৪,০০০ শিশু টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত.
অর্থনৈতিক প্রভাব
ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে NCDs এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার হারাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে. এর মধ্যে হৃদরোগ ২.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ১.০৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হবে। NCDs-এর চিকিৎসা খরচ ২০৩০ সালের মধ্যে ৮১.৫৩ বিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১.৫৭ শতাংশ) এবং ২০৬০ সালের মধ্যে ৮৩৮.৬ বিলিয়ন ডলার (জিডিপির ২.৫ শতাংশ) হতে পারে.
স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর ঘাটতি
ভারতের স্বাস্থ্যখাতে মানবসম্পদের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি ১০০০ জনে ২.৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী থাকা উচিত, কিন্তু ভারতে ডাক্তার, নার্স এবং মিডওয়াইফের সংখ্যা এই মানদণ্ডের মাত্র এক-চতুর্থাংশ.
Rubix Industry Insights রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে মৌলিক মান পূরণের জন্য ১,৬০,০০০ ডাক্তার এবং ৬,৫০,০০০ নার্স প্রয়োজন হবে. প্রতি ১০০০ জনে শয্যার ঘনত্ব ১.৬, যা WHO-এর সুপারিশকৃত ন্যূনতম ২-এর চেয়ে কম। নার্স ঘনত্ব প্রতি ১০০০ জনে ১.৯, যা WHO মানদণ্ড ৩-এর চেয়ে কম.
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৫০ লক্ষ সক্রিয় স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন, এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের জন্য আরও ১ করোড় স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন হতে পারে.
গ্রামাঞ্চলে সংকট
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি সবচেয়ে তীব্র। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলিতে (CHCs) বিশেষজ্ঞ পদের প্রায় ৮০ শতাংশ খালি রয়েছে এবং রেডিওগ্রাফির সুবিধা সীমিত. যদিও টেলিমেডিসিন পরামর্শে সাহায্য করতে পারে, তবে এটি ট্রমা, প্রসব, অস্ত্রোপচার বা জরুরি অবস্থা সামলাতে পারে না।
আয়ুষ্মান ভারত: অগ্রগতি এবং সীমাবদ্ধতা
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB PM-JAY) বিশ্বের বৃহত্তম জনস্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প হয়ে উঠেছে. ১৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ৪২.৪৭ করোড় আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে এবং ৯.৬৪ করোড় হাসপাতালে ভর্তি অনুমোদিত হয়েছে. প্রকল্পের আওতায় ৩২,৩২০টি হাসপাতাল তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ১৭,৬৮৫টি সরকারি এবং ১৫,৩৮০টি বেসরকারি.
২০২৫-২৬ সালের ইউনিয়ন বাজেটে AB PM-JAY-এর জন্য ৯,৪০৬ করোড় টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি. প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য অবকাঠামো মিশন (PMABHIM) ৪,২০০ করোড় টাকা পেয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি.
২০২৫-২৬ বাজেটে গিগ শ্রমিকদের জন্য AB PM-JAY সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১ করোড় গিগ শ্রমিক ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধিত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন.
মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা
মানসিক স্বাস্থ্যে ভারতের বরাদ্দ অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্য বরাদ্দ মাত্র ১,০০৪ করোড় টাকা, যা মন্ত্রকের মোট বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ. এটি ২০২৪-২৫ সালের ১,০০০ করোড় টাকা থেকে সামান্য বৃদ্ধি মাত্র।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি (NMHP) এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ পায়. NIMHANS বেঙ্গালুরু, লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আঞ্চলিক মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট তেজপুর এবং জাতীয় টেলি-মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির জন্য প্রধান সহায়তা দেওয়া হয়.
বাজেট ২০২৬-এ প্রত্যাশিত সংস্কার
স্বাস্থ্যখাতের নেতারা বাজেট ২০২৬ থেকে শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন। NATHEALTH-এর সভাপতি আমীরা শাহের মতে, ২০২৫ সাল ছিল অভিপ্রায়ের বছর, ২০২৬ হতে হবে বাস্তবায়নের বছর.
স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ সম্প্রসারণ
-
আয়ুষ্মান ভারত সম্প্রসারণ: প্রকল্পের আওতা আরও বৃদ্ধি করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং কভারেজ পরিমাণ বাড়ানো
-
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় ফোকাস: চিকিৎসা-কেন্দ্রিক মডেল থেকে প্রতিরোধ, প্রাথমিক নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তর
-
বীমা অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি: বীমা কভারেজ গভীর করা এবং প্রিমিয়াম সাশ্রয়ী করা
অবকাঠামো উন্নয়ন
ডাঃ শরণ শিবরাজ পাতিল, SPARSH গ্রুপ অফ হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্যখাতে “বুস্টার ডোজ” এর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন:
-
চিকিৎসা পর্যটনের জন্য শক্তিশালী ধাক্কা
-
চিকিৎসা সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক যুক্তিকরণ
-
মূল্য যুক্তিকরণ সাশ্রয়ী উন্নত করতে
-
এআই-সক্ষম ডায়াগনস্টিকস এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মের জন্য নীতি সমর্থন
-
চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ
২০২৫-২৬ বাজেটে ৫টি দক্ষতা কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে যা বছরে ৩,০০,০০০ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার প্রশিক্ষণ দেবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটাতে.
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ
-
ভারতনেট-এর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করা
-
জিও-ট্যাগড অ্যাম্বুলেন্স সহ জেলা-স্তরের সমন্বয় উন্নত করা
-
স্পষ্ট এবং কার্যকর রেফারাল পথ তৈরি করা
-
প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং তৃতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালী করা
NCDs মোকাবেলা
ডাঃ (প্রফেসর) পুরশোত্তম লাল, মেট্রো গ্রুপ অফ হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান, উল্লেখ করেছেন যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির সাথে – বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে – ভারতে এমন একটি বীমা মডেল প্রয়োজন যা প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেয়.
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
-
প্রাথমিক স্ক্রীনিং এবং ডায়াগনস্টিকসে বৃহত্তর বিনিয়োগ
-
সম্প্রদায়-ভিত্তিক সুস্থতা কর্মসূচি
-
NCDs প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় কর্মসূচি (NP-NCD) শক্তিশালীকরণ
গবেষণা ও উন্নয়ন
ডাঃ আলোক খুল্লার, RJ Corp Healthcare-এর গ্রুপ CEO, বলেছেন বাজেট ২০২৬ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, চিকিৎসা গবেষণা, ক্লিনিকাল ট্রায়াল, কর্মশক্তি উন্নয়ন, রোগ নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক যত্নে টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ফাঁক পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেয়.
-
পুনর্জন্মীয় ঔষধ এবং সেলুলার থেরাপির জন্য সঠিক প্রণোদনা এবং গবেষণা ইকোসিস্টেম প্রয়োজন
-
দেশীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
-
সরল নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং নিশ্চিত সংগ্রহ
প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সারণি
| ক্ষেত্র | বর্তমান অবস্থা | প্রয়োজনীয় পরিবর্তন | প্রত্যাশিত প্রভাব |
|---|---|---|---|
| স্বাস্থ্য বাজেট | জিডিপির ১.৮৪-১.৯% | জিডিপির ২.৫% | সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ উন্নতি |
| OOPE | ৪৭.১% | ৩০% বা তার নিচে | পরিবারের আর্থিক বোঝা হ্রাস |
| স্বাস্থ্যকর্মী ঘাটতি | WHO মানদণ্ডের ১/৪ | ২০৩০ সালের মধ্যে ১,৬০,০০০ ডাক্তার ও ৬,৫০,০০০ নার্স | গ্রামীণ ও শহুরে স্বাস্থ্যসেবার গুণমান বৃদ্ধি |
| মানসিক স্বাস্থ্য বরাদ্দ | স্বাস্থ্য বাজেটের ১% thewire | ন্যূনতম ৫-১০% | মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেস উন্নতি |
| আয়ুষ্মান ভারত কভারেজ | ৪২.৪৭ করোড় কার্ড ibef | সম্প্রসারিত কভারেজ সব আয়ের শ্রেণীতে | বৃহত্তর জনসংখ্যার সুরক্ষা |
ডিজিটাল স্বাস্থ্য রূপান্তর
ভারতের স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তর ২০২৬ সালে অভিপ্রায় থেকে বাস্তবায়নে স্থানান্তরিত হচ্ছে, এআই গ্রহণ এবং নীতি সমর্থন দ্বারা চালিত. NATHEALTH-এর মতে, নীতিনির্ধারকরা এখন স্থূলতা এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) এর মতো উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মনোনিবেশ করছেন.
প্রয়োজনীয় উদ্যোগ:
-
এআই-সক্ষম স্ক্রীনিং এবং ডায়াগনস্টিকস
-
টেলিমেডিসিন এবং ই-স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ
-
ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড (EHR) সিস্টেম শক্তিশালীকরণ
-
প্রতিরোধমূলক সুস্থতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ডিজিটাল সমাধান
স্বাস্থ্য সহকারীর কাজ: সমাজের সেবায় নিয়োজিত অদৃশ্য নায়ক
সংস্কার: অতীত প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ
গত কয়েক বছরে ভারত স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্রগুলির সম্প্রসারণ ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, অনেক প্রচেষ্টা উন্নত অ্যাক্সেস বা কম খরচে অনুবাদ করতে সংগ্রাম করেছে.
সরকারি সুবিধাগুলি অসম থেকে যায়, রাজ্যগুলি প্রয়োজনীয় গতিতে নিয়োগ করতে পারেনি, এবং বেশ কয়েকটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য কর্মসূচি প্যাচি সংযোগ এবং মাটির স্তরে সীমিত প্রশিক্ষণের কারণে আটকে রয়েছে. শহুরে এবং গ্রামীণ এলাকার মধ্যে ফলাফলের পার্থক্য তীব্র থেকে যায়।
ল্যানসেট কমিশনের সুপারিশ
একটি সাম্প্রতিক ল্যানসেট কমিশন রিপোর্ট চিহ্নিত করেছে যে যত্নের অসম মান, ব্যয়ে অদক্ষতা, খণ্ডিত সরবরাহ এবং দুর্বল শাসন সর্বজনীন কভারেজের প্রধান বাধা – রাজনৈতিক ইচ্ছা বা তহবিলের অভাবের পরিবর্তে. কমিশনে একাডেমিয়া, সিভিল সোসাইটি এবং শিল্প থেকে ২৬ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের রোডম্যাপ
স্বল্পমেয়াদী (১-২ বছর)
-
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা
-
মানসিক স্বাস্থ্য বাজেট স্বাস্থ্য বাজেটের ৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা
-
গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ত্বরান্বিত করা
-
NCDs-এর জন্য প্রাথমিক স্ক্রীনিং কর্মসূচি শুরু করা
মধ্যমেয়াদী (৩-৫ বছর)
-
আয়ুষ্মান ভারত সম্প্রসারণ মধ্যবিত্ত পরিবার অন্তর্ভুক্ত করতে
-
দেশীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা
-
প্রতি জেলায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য অবকাঠামো স্থাপন করা
-
২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগ
দীর্ঘমেয়াদী (৫-১০ বছর)
-
সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ অর্জন করা
-
OOPE ৩০ শতাংশের নিচে আনা
-
NCDs-সংক্রান্ত মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমানো
-
ভারতকে গ্লোবাল মেডিক্যাল টুরিজম হাব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা
বাজেট ২০২৬ ভারতের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় হতে পারে যদি এটি জিএসটি-এর মতো রূপান্তরমূলক সংস্কার নিয়ে আসে যা কাঠামোকে সরল করে, অর্থায়ন শক্তিশালী করে, কভারেজ সম্প্রসারিত করে এবং ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে. বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলি – NCDs-এর বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, উচ্চ আউট-অফ-পকেট ব্যয় এবং শহুরে-গ্রামীণ বৈষম্য – জরুরি মনোযোগ দাবি করে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও রয়েছে: একটি তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং জাতীয় কর্মসূচির অভিজ্ঞতা অগ্রগতির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে. যদি অভিপ্রায় এবং স্কেল সহ সরবরাহ করা হয়, এই বাজেট আগামী দশকে একটি স্বাস্থ্যকর, আরও স্থিতিস্থাপক ভারতের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। প্রতিরোধ, কর্মশক্তি সম্প্রসারণ, যত্ন আরও সাশ্রয়ী করা এবং ন্যায্য অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার উপর ফোকাস করে, ২০২৬ সাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং পরিবারের উপর বোঝা কমাতে পারে।











