ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একটি নীরব বিপ্লব ঘটছে, যা দেশকে পরবর্তী দশকের মধ্যে একটি গ্লোবাল টেকনোলজি পাওয়ারহাউস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে। সাম্প্রতিকতম তথ্য এবং বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতের ‘ডিপটেক’ (Deeptech) বা গভীর প্রযুক্তি বাজার এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধির পথে রয়েছে। প্রখ্যাত কৌশল পরামর্শদাতা সংস্থা Redseer Strategy Consultants-এর একটি একেবারে নতুন (নভেম্বর ২০২৫) রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের ডিপটেক বাজারের বর্তমান আকার প্রায় ৯-১২ বিলিয়ন ডলার (FY2025) এবং এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃদ্ধি শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি বা অ্যাপ-ভিত্তিক অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল নয়; এটি চালিত হচ্ছে দুটি মূল স্তম্ভ দ্বারা: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উদ্ভাবন এবং গ্লোবাল রোবটিক্সের চাহিদা। গত পাঁচ বছরে এই ক্ষেত্রের সুযোগ ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ভারত এখন কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং মৌলিক প্রযুক্তির উদ্ভাবক হিসেবেও আবির্ভূত হচ্ছে।
এই বিশাল সম্ভাবনার পিছনে রয়েছে ভারতের কৌশলগত অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি। তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভারত “চীনের বাইরে একটি বিশ্বস্ত, কম খরচের স্কেল হাব” হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এই রূপান্তর রাতারাতি ঘটেনি। এটি সরকারি নীতি, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী, উচ্চ-মূল্যের আইপি (Intellectual Property) তৈরির দিকে ঝুঁকছেন, তখন ভারতের ডিপটেক সেক্টর তাদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
ডিপটেক (Deeptech) আসলে কী?
প্রথমে বোঝা দরকার ‘ডিপটেক’ শব্দটি সাধারণ ‘টেকনোলজি’ থেকে কেন আলাদা। ডিপটেক সেই সমস্ত কোম্পানিকে বোঝায় যেগুলি মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রকৌশলগত উদ্ভাবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
সহজ ভাষায় সংজ্ঞা
ডিপটেক স্টার্টআপগুলি বাজারের সাধারণ চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যমান প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে অ্যাপ বা সফ্টওয়্যার তৈরি করে না। পরিবর্তে, তারা এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যা সম্পূর্ণ নতুন সমাধান তৈরি করে এবং প্রায়শই বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে।
এগুলির মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত:
- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML): বিশেষত জেনারেটিভ AI এবং জটিল ডেটা মডেলিং।
- বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): নতুন ওষুধ আবিষ্কার, জিনোমিক্স এবং সিন্থেটিক বায়োলজি।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং (Quantum Computing): প্রথাগত কম্পিউটারের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত গণনার ক্ষমতা।
- রোবটিক্স (Robotics) এবং অটোমেশন: অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন এবং হিউম্যানয়েড রোবট।
- স্পেসটেক (SpaceTech): স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, রকেট প্রপালশন এবং মহাকাশ অনুসন্ধান।
- অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস (Advanced Materials): নতুন ধরনের সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানো-মেটেরিয়াল ইত্যাদি।
বাংলা টেক ব্লগ: প্রযুক্তির সর্বশেষ খবর জানার সেরা ৮টি উৎস
ডিপটেক বনাম সাধারণ টেক স্টার্টআপ
একটি সাধারণ ই-কমার্স বা ফুড ডেলিভারি অ্যাপ (সাধারণ টেক) কয়েক মাসের মধ্যে তৈরি এবং লঞ্চ করা যেতে পারে, তবে একটি ডিপটেক স্টার্টআপের প্রায়শই দীর্ঘ সময় লাগে।











