প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি একটি যুগান্তকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি “সর্বকালের সেরা চুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ২৭ সদস্য বিশিষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ ভারতের মধ্যে সীমাহীন পণ্য বিনিময়ের পথ তৈরি করবে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং দুই বিলিয়ন ভোক্তার বাজার নিয়ে গঠিত। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সাথে নয়াদিল্লিতে সম্মেলনে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। চুক্তিটি বিস্তৃত ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস বা বিলোপ করবে এবং বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো (৪.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) শুল্কে সাশ্রয় আনবে।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু এবং কাঠামো
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি একটি ব্যাপক এবং বহুমুখী চুক্তি যা পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন সহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতে, এই চুক্তিটি ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১৩৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে প্রত্যাশিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৯০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বিলোপ করবে এবং সাত বছরের মধ্যে এটি ৯৩ শতাংশ ভারতীয় পণ্যে প্রসারিত হবে। পক্ষান্তরে, ভারত ইইউ রপ্তানির মূল্যের ভিত্তিতে ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস বা বিলোপ করবে। মডেল সিমুলেশন অনুসারে, এই চুক্তি ভারতীয় রপ্তানি ৪১ শতাংশ এবং ইইউ রপ্তানি ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারে, যা বার্ষিক প্রায় ২২ বিলিয়ন ইউরো ইইউর জন্য এবং ৪.২ বিলিয়ন ইউরো ভারতের জন্য আয় সৃষ্টি করবে।
পণ্য বাণিজ্যে শুল্ক হ্রাস এবং বাজার প্রবেশাধিকার
এই চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো ব্যাপক শুল্ক হ্রাস যা উভয় পক্ষের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসবে। ভারত ইইউ থেকে আসা শিল্প পণ্যের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করবে, যার মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ (বর্তমানে ৪৪ শতাংশ), রাসায়নিক পদার্থ (২২ শতাংশ পর্যন্ত), এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য (১১ শতাংশ)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে মোটরযান খাতে, যেখানে ভারতীয় শুল্ক পাঁচ বছরের মধ্যে ১১০ শতাংশ থেকে মাত্র ১০ শতাংশে নেমে আসবে, যদিও এটি কোটার অধীনে থাকবে। ইইউ ৩০ হাজার মোটরযানের বার্ষিক কোটা পাবে, যা যুক্তরাজ্যকে দেওয়া ৩৭ হাজারের চেয়ে কম কিন্তু তবুও উল্লেখযোগ্য।
ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য, ইইউ চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে ৯০ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বিলোপ করবে এবং সাত বছরের মধ্যে এটি ৯৩ শতাংশে উন্নীত হবে। সামুদ্রিক পণ্য (বর্তমানে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত), রাসায়নিক (১২.৮ শতাংশ), প্লাস্টিক এবং রাবার (৬.৫ শতাংশ), পাদুকা (১৭ শতাংশ), বস্ত্র (১২ শতাংশ), মৌলিক ধাতু (১০ শতাংশ), এবং রত্ন ও গহনা (৪ শতাংশ) সহ প্রধান ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কোনো না কোনো ধরনের শুল্ক ছাড় থেকে উপকৃত হবে।
কৃষি পণ্য এবং খাদ্য শিল্পে বিশেষ ব্যবস্থা
কৃষি খাতে, ইইউ থেকে ভারতে আমদানিকৃত পণ্যের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যেখানে পূর্বে গড়ে ৩৬ শতাংশের বেশি শুল্ক ছিল। ইইউ ওয়াইন, বিয়ার এবং জলপাই তেলের উপর ভারতীয় শুল্ক কমবে এবং চূড়ান্তভাবে বিলোপ হবে। প্রিমিয়াম ওয়াইনের উপর ভারতীয় শুল্ক ক্রমান্বয়ে ১৫০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে আসবে। অ-অ্যালকোহলিক বিয়ার এবং ফলের রসের উপর বর্তমানে ৫৫ শতাংশ শুল্ক পাঁচ বছরে বিলোপ হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন মিষ্টান্ন, রুটি, পেস্ট্রি, পাস্তা, চকলেট এবং পোষা প্রাণীর খাবারের উপর বর্তমানে ৩৩ শতাংশ শুল্ক চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বা পর্যায়ক্রমে বিলোপ হবে।
তবে, ভারত তার সংবেদনশীল কৃষি খাত রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। গরুর মাংস, চাল, চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং হাঁস-মুরগি সম্পূর্ণভাবে চুক্তি থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ভারতীয় চা, কফি, মসলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এই চুক্তি থেকে উপকৃত হবে, তবে ভারত তার গম, সিরিয়াল, সয়া এবং নির্দিষ্ট ফল ও সবজির ক্ষেত্রে দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই ভারসাম্যমূলক পদ্ধতি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশীয় অগ্রাধিকার রক্ষার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে।
সেবা খাত এবং পেশাদার সঞ্চালনের সুবিধা
সেবা খাত এবং পেশাদারদের আন্তঃসীমান্ত চলাচল ভারতের জন্য এই চুক্তির মূল অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪৪টি সেবা উপখাতে বাজার প্রবেশাধিকার প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তথ্য প্রযুক্তি এবং আইটি-সক্ষম সেবা, পেশাদার সেবা, শিক্ষা, আর্থিক সেবা, পর্যটন, নির্মাণ এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা। বিনিময়ে, ভারত ইইউ সংস্থাগুলির জন্য ১০২টি সেবা উপখাত খুলে দিয়েছে। ভারত ও ইইউর মধ্যে সেবা বাণিজ্য ২০২৪ সালে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার ছিল এবং চুক্তি কার্যকর হলে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় সেবা রপ্তানি ২০১৯ সালে ১৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে।
চুক্তির একটি প্রধান বিশেষত্ব হলো ভবিষ্যত-প্রস্তুত গতিশীলতা কাঠামো যা পেশাদারদের স্বল্পমেয়াদী এবং অস্থায়ী চলাচল সহজতর করে। এই কাঠামো আন্তঃকর্পোরেট স্থানান্তরিত কর্মী (ICTs), ব্যবসায়িক দর্শক এবং সেবা বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি ICT-র নির্ভরশীল এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশ এবং কাজের অধিকার প্রদান করে। ইইউ চুক্তিভিত্তিক সেবা সরবরাহকারীদের জন্য ৩৭টি খাত এবং উপখাতে এবং স্বাধীন পেশাদারদের জন্য ১৭টি খাতে বাজার প্রবেশাধিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেশাদার সেবা, কম্পিউটার এবং সংশ্লিষ্ট সেবা, গবেষণা এবং উন্নয়ন, এবং শিক্ষা।
ডিজিটাল বাণিজ্য এবং তথ্য প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ
ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চুক্তিটি একটি সুষম পদ্ধতি গ্রহণ করেছে যা বাণিজ্য সুবিধা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। Nasscom-এর মতে, এই FTA ভারতের আইটি রপ্তানিকারকদের জন্য আন্তঃসীমান্ত বিতরণ সহজ করবে এবং গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং সরকারি নীতির জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার সাথে সাথে ডিজিটাল বাণিজ্য শক্তিশালী করবে। চুক্তিটি আন্তঃসীমান্ত তথ্য প্রবাহে কমপ্লায়েন্স কর কার্যকরভাবে বাতিল করে, ইউরোপীয় সদর দপ্তর এবং ভারতীয় গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এর মধ্যে সিমলেস রিয়েল-টাইম ইন্টিগ্রেশন সক্ষম করে। এই বিধান TCS এবং Infosys-এর মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি সেবা সংস্থাগুলির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যারা ক্রমবর্ধমানভাবে অস্থির মার্কিন বাজারের বাইরে তাদের উপস্থিতি বৈচিত্র্যময় করছে।
ভারত TRIPS-সম্মত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা পুনর্নিশ্চিত করেছে যখন জনস্বার্থ রক্ষা করেছে, জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে রক্ষা করেছে, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ডিজিটাল লাইব্রেরিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল বাণিজ্যকে তথ্য স্থানীয়করণ এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। চুক্তিটি TRIPS চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের পর্যাপ্ত এবং কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রচারে সহায়তা করবে।
বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা
চুক্তিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুমানযোগ্য এবং সুরক্ষিত বিনিয়োগ পরিবেশ প্রদানের লক্ষ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে। এতে অ-বৈষম্য, ক্ষতিপূরণ ছাড়া বাজেয়াপ্তকরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং বিনিয়োগকারী ও তাদের বিনিয়োগের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। চুক্তিটি রিটার্ন স্থানান্তরের বিষয়েও নিশ্চয়তা প্রদান করে। ভারত ও ইইউ একটি ব্যাপক কৌশলগত এজেন্ডা ঘোষণা করেছে যা পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বহুমুখী সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করে। উভয় পক্ষ মেরিটাইম নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি এবং প্রতিরক্ষা সংলাপের মতো ক্ষেত্রে একটি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব খসড়া তৈরি করছে।
ইইউ বর্তমানে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ উৎস এবং এই চুক্তি ইউরোপীয় বিনিয়োগ এবং উচ্চ-মানের সেবা ভারতীয় বাজারে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ইইউ বাণিজ্য ইতিমধ্যে ব্লক জুড়ে প্রায় ৮০০,০০০ চাকরি সমর্থন করে এবং বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে চুক্তিটি উৎপাদন, সেবা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে কর্মসংস্থান শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশিত। চুক্তি ২০৩২ সালের মধ্যে ইইউ রপ্তানি দ্বিগুণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু প্রতিশ্রুতি
চুক্তিটিতে একটি উৎসর্গীকৃত বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন অধ্যায় রয়েছে যা পরিবেশ সুরক্ষা বৃদ্ধি করে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করে, নারীর ক্ষমতায়ন সমর্থন করে, বাণিজ্য সম্পর্কিত পরিবেশগত এবং জলবায়ু বিষয়ে সংলাপ এবং সহযোগিতার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। ইইউ এবং ভারত জলবায়ু কর্মের উপর সহযোগিতা এবং সহায়তার জন্য একটি ইইউ-ভারত প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চালু হবে। ইইউ-র বাজেট এবং আর্থিক নিয়ম এবং পদ্ধতির অধীনে, পরবর্তী দুই বছরে ভারতের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং এর দীর্ঘমেয়াদী টেকসই শিল্প রূপান্তর ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো ইইউ সহায়তা প্রদান করা হবে।
ভারত কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM) এর অধীনে একটি মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন আশ্বাস অর্জন করেছে, নিশ্চিত করে যে অন্যান্য দেশের জন্য ইইউ-র কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজমের অধীনে প্রসারিত কোনো নমনীয়তাও ভারতের জন্য প্রযোজ্য হবে। চুক্তিটি কার্বন মূল্য নির্ধারণ স্বীকৃতি, যাচাইকরণ মান এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের, বিশেষত ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম খাতে, সম্মতির প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহায়তা করার জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা স্থাপন করে। ভারত ১.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন শুল্কমুক্ত ইস্পাত ইইউ-তে রপ্তানি করতে পারবে, যা ব্লকে তার বার্ষিক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক।
অর্থনৈতিক প্রভাব এবং আয় সৃষ্টি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, ভারত-ইইউ FTA উল্লেখযোগ্য আয় সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিয়ে আসবে। মডেল সিমুলেশন পরামর্শ দেয় যে চুক্তিটি ভারতীয় রপ্তানি ৪১ শতাংশ এবং ইইউ রপ্তানি ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারে। এটি ইইউ-র জন্য প্রতি বছর প্রায় ২২ বিলিয়ন ইউরো (২৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং ভারতের জন্য ৪.২ বিলিয়ন ইউরো (৪.৭৩ বিলিয়ান মার্কিন ডলার) আয় সৃষ্টি করবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা প্রত্যাশিত হচ্ছে আইটি সেবা, বস্ত্র, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো খাতে। ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের জন্য, কমিশন অনুমান করে যে কাস্টমস শুল্কে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত সাশ্রয় হবে যা উৎপাদন, মজুরি বা কম ভোক্তা মূল্যে পুনর্বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
২০২৪ সালে ভারতে ইইউ রপ্তানি প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ইউরো ছিল, যার মধ্যে পণ্য ৪৮.৮ বিলিয়ন ইউরো এবং সেবা আরও ২৬ বিলিয়ন ইউরো। ভারতের গড় শিল্প শুল্ক ১৬ শতাংশেরও বেশি, যা কোনো প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ। তাই তাদের হ্রাস ইউরোপের পুঁজি-নিবিড় শিল্পের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যারা দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় বাজারে উচ্চ বাধার সম্মুখীন হয়েছে। চুক্তিটি দুটি অর্থনীতির মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল এবং যৌথ উৎপাদন শক্তি আরও সংহত করবে বলে প্রত্যাশিত। এটি রপ্তানিকারকদের জন্য বার্ষিক শুল্কে ৪ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত কমাবে এবং ভারত ও ইউরোপে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জন্য চাকরি সৃষ্টি করবে।
খাতওয়ারি সুবিধা এবং রপ্তানি সুযোগ
মোটরযান শিল্প
মোটরযান খাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। ভারতীয় শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কোটার অধীনে সাপেক্ষে ১০ শতাংশে নেমে আসবে, যখন গাড়ির যন্ত্রাংশ শেষ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত হবে। ভোক্সওয়াগেন, রেনো, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং বিএমডব্লিউ-এর মতো ইউরোপীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের জন্য, এটি বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ অটোমোটিভ বাজারে প্রবেশাধিকার খুলে দেয়।
বস্ত্র এবং চামড়া পণ্য
ভারতীয় বস্ত্র, চামড়াজাত দ্রব্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প, রত্ন এবং গহনা হ্রাসকৃত বা বিলোপিত শুল্ক থেকে উপকৃত হবে বলে প্রত্যাশিত। ভারত সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে এর প্রায় সমস্ত রপ্তানি ইইউ-তে “অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার” পাবে।
খাদ্য এবং পানীয় খাত
চা, কফি, মসলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো পণ্যগুলি এই চুক্তি থেকে লাভবান হবে। ইইউ থেকে ভারতে, জলপাই তেল (বর্তমান শুল্ক ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত) কার্যকর হওয়ার সময় বা পাঁচ বছরের পর্যায়ক্রমের পর বিলোপ হবে।
তথ্য প্রযুক্তি এবং পেশাদার সেবা
ভারতীয় আইটি এবং আইটি-সক্ষম সেবা, পেশাদার সেবা, শিক্ষা, আর্থিক সেবা এবং নির্মাণ খাতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। ভারতীয় সেবা রপ্তানি ২০১৯ সালে ১৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ইউরোতে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই চুক্তি এই গতিপথকে ত্বরান্বিত করবে।
| খাত | বর্তমান শুল্ক | চুক্তির পর শুল্ক | প্রত্যাশিত প্রভাব |
|---|---|---|---|
| মোটরযান | ১১০% | ১০% (৫ বছরে) | ইউরোপীয় গাড়ি আমদানি বৃদ্ধি |
| প্রিমিয়াম ওয়াইন | ১৫০% | ২০% (ক্রমান্বয়ে) | ইইউ পানীয় রপ্তানি বৃদ্ধি |
| সামুদ্রিক পণ্য | ২৬% পর্যন্ত | ০% | ভারতীয় মৎস্য রপ্তানি বৃদ্ধি |
| বস্ত্র | ১২% | ০% | ভারতীয় পোশাক প্রবেশাধিকার উন্নত |
| যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ | ৪৪% | ০% | ইউরোপীয় প্রযুক্তি আমদানি সুবিধা |
| রত্ন ও গহনা | ৪% | ০% | ভারতীয় জুয়েলারি রপ্তানি সম্প্রসারণ |
চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এই বছরের পরে আসতে পারে যখন কর্মকর্তারা পাঠ্যের আইনি বিশদ পর্যালোচনা করেন, যা পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় নেবে বলে প্রত্যাশিত। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এটি অনুমোদন করার পরে এটি ২০২৭ সালের প্রথম দিকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির বিভিন্ন বিধান পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। ইইউ থেকে বাণিজ্য করা পণ্যের ৩০ শতাংশের উপর শুল্ক অবিলম্বে শূন্যে হ্রাস করা হবে। সাত বছরের মধ্যে, ৯০ শতাংশেরও বেশি ইইউ রপ্তানি শুল্ক বিলোপিত বা হ্রাসকৃত দেখতে পাবে। ভারত ইইউ-তে রপ্তানির জন্য চুক্তি শুরুর সাথে সাথে ৯০ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বিলোপ করবে এবং সাত বছরের মধ্যে শূন্য শুল্ক ৯৩ শতাংশ ভারতীয় পণ্য কভার করতে প্রসারিত হবে।
প্রায় ৬ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের জন্য আংশিক হ্রাস এবং কোটা প্রযোজ্য হবে। ইইউ-র গড় শুল্ক হার ৩.৮ শতাংশ থেকে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। মোটরযান শুল্ক হ্রাস পাঁচ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে ঘটবে, যখন প্রিমিয়াম ওয়াইনের শুল্ক ধীরে ধীরে ১৫০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে কমবে। এই পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি দেশীয় শিল্পগুলিকে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সাথে মানিয়ে নিতে সময় দেয় এবং মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত গুরুত্ব
এই চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে আসে যখন উভয় ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা নেভিগেট করছে এবং তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষাবাদী নীতি ভারত এবং ইইউ উভয়কে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে প্রণোদিত করেছে। চুক্তিটি নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক শৃঙ্খলার জন্য তাদের ভাগ করা দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে এবং বহুপাক্ষিকতায় উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, “এটি ভারতের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। এটি ভারতীয় কৃষক এবং ছোট উদ্যোগের জন্য ইউরোপীয় বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার সহজতর করবে, পাশাপাশি উৎপাদন এবং সেবা খাত বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব প্রচার করবে।”
চুক্তিটি ভারতকে নির্ভরযোগ্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বৈশ্বিক এবং ইউরোপীয় মূল্য শৃঙ্খলে সংহত করার লক্ষ্য রাখে। এটি Make in India এবং PLI (উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা) প্রকল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রপ্তানি-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে। চুক্তিটি ভারতের বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে। নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সমান্তরাল অগ্রগতি, সরবরাহ শৃঙ্খল সংহতকরণ এবং ভবিষ্যত-প্রস্তুত ক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ সহ, অংশীদারিত্বের কৌশলগত মাত্রাকে আরও গভীর করে।
চ্যালেঞ্জ এবং বিবেচনা
চুক্তিটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করলেও, কিছু চ্যালেঞ্জ এবং সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে যা সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে হবে। ভারতের জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, যা বিশ্বব্যাপী সাশ্রয়ী ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের শক্তিশালী প্রয়োগের প্রভাব থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। ভারত TRIPS সম্মতি বজায় রেখে জনস্বার্থ রক্ষা করার জন্য যত্নবান পদক্ষেপ নিয়েছে। কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM) ভারতীয় ইস্পাত রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে, যদিও ৫০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। শিল্প নেতারা এবং বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেছেন যে CBAM ভারতীয় ইস্পাত রপ্তানি ইউরোপে হ্রাস করতে পারে, নির্মাতাদের আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিকল্প বাজার অন্বেষণ করতে চাপ দিচ্ছে।
ভারতীয় কৃষক এবং ছোট-স্কেল উৎপাদকদের ইউরোপীয় বাজারে মান এবং সার্টিফিকেশন প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। চুক্তিটির সফল বাস্তবায়নের জন্য শুল্ক পদ্ধতি সরলীকরণ, ব্যবসায়ের সহজতা উন্নতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল অবকাঠামো জোরদার করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুসমর্থন প্রক্রিয়া এবং উভয় পক্ষের দেশীয় রাজনৈতিক বিবেচনাও চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করতে পারে। তবে, উভয় পক্ষের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন সময়মত বাস্তবায়নের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত প্রদান করে।
আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব
ভারত-ইইউ FTA ব্যাপক আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব বহন করে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইইউ-র বর্ধিত জড়িততা এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য স্থাপত্যে চীনের প্রভাব ভারসাম্যের জন্য ভারতের সাথে অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার সংকেত দেয়। চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ায় ইউরোপীয় উপস্থিতি শক্তিশালী করে এবং অঞ্চলে অন্যান্য দেশের সাথে অনুরূপ চুক্তির জন্য একটি মডেল প্রদান করতে পারে। ভারতের জন্য, চুক্তিটি তার “অ্যাক্ট ইস্ট” নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ASEAN জাতির সাথে FTA সহ বাণিজ্য চুক্তির একটি বৃহত্তর পোর্টফোলিও ভারত তৈরি করছে তার অংশ।
চুক্তিটি অন্যান্য দেশের জন্যও প্রভাব রয়েছে, বিশেষত এশিয়ায় যারা ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করে। এটি ইইউ-র সাথে নিজস্ব বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চুক্তিটি টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু কর্মের উপর জোর দেওয়া ভবিষ্যতের বাণিজ্য চুক্তিতে একটি মান স্থাপন করতে পারে, পরিবেশগত এবং সামাজিক বিবেচনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব প্রতিফলিত করে। ইইউ এবং ভারত উভয়ের জন্য, চুক্তিটি বাণিজ্য নীতি শুধু অর্থনৈতিক লাভ সম্পর্কে নয় বরং ভাগ করা মূল্যবোধ, কৌশলগত স্বার্থ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গভীর অংশীদারিত্ব নির্মাণ সম্পর্কে প্রদর্শন করে।
বাস্তবায়নের রোডম্যাপ এবং ভবিষ্যত পদক্ষেপ
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল নিশ্চিত করেছেন যে ভারত এবং ইইউ সফলভাবে FTA-তে আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সম্মেলনে করা হয়েছিল। তিনি চুক্তিটিকে সুষম এবং ভবিষ্যৎমুখী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি করবে এবং দুটি পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি জোরদার করবে। চুক্তির পাঠ্যের আইনি পর্যালোচনা পরবর্তী পাঁচ থেকে ছয় মাসে চলবে, তারপরে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুসমর্থন প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের শেষের দিকে বা ২০২৭ সালের প্রথম দিকে হবে বলে প্রত্যাশিত। চুক্তি ২০২৭ সালের প্রথম দিকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরে, উভয় পক্ষ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যৌথ কমিটি প্রতিষ্ঠা করবে। বাণিজ্য প্রবাহ, বিনিয়োগ প্যাটার্ন এবং কর্মসংস্থান প্রভাবের নিয়মিত পর্যালোচনা পরিচালিত হবে। উভয় পক্ষ মূল খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ক্ষমতা নির্মাণ উদ্যোগ এবং মান সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবসা এবং রপ্তানিকারকদের চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। ভারত-ইইউ প্ল্যাটফর্ম জলবায়ু কর্মের উপর ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চালু হবে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করবে। সামাজিক সুরক্ষা চুক্তিতে পাঁচ বছরের কাঠামো ভারতীয় পেশাদারদের দ্বৈত অবদান সমস্যা সমাধানে প্রগতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী চুক্তি এবং প্রসারিত সহযোগিতা
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াও, ভারত এবং ইইউ বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা উভয় পক্ষের বিনিয়োগকারীদের জন্য উচ্চ, অনুমানযোগ্য সুরক্ষার মান প্রদান করবে এবং নির্বাচিত উচ্চ-বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ-মুখী খাতে বিনিয়োগ প্রচার করবে। “টুওয়ার্ডস ২০৩০: এ জয়েন্ট ইন্ডিয়া-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক এজেন্ডা” নথিতে, উভয় পক্ষ সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর, সবুজ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং শিক্ষা সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করার তাদের অভিপ্রায় রূপরেখা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব মেরিটাইম নিরাপত্তা, সাইবার সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতার মতো সমালোচনামূলক ক্ষেত্র কভার করবে।
মানুষ-থেকে-মানুষ সংযোগ শক্তিশালী করার জন্য, গতিশীলতা কাঠামো ছাত্র বিনিময়, গবেষক গতিশীলতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সহজতর করবে। উভয় পক্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা কর্মসূচির জন্য কাজ করবে। সবুজ প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতা, বিশেষত সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি এবং হাইড্রোজেন প্রযুক্তিতে, একটি মূল অগ্রাধিকার হবে। ইইউ-র সবুজ ডিল এবং ভারতের জাতীয় নির্ধারিত অবদান (NDC) লক্ষ্যের সমন্বয় টেকসই উন্নয়নে পারস্পরিক সুবিধাজনক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
সমাপনী
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রায় দুই দশকের আলোচনার পরিণতি এবং দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক সংহতির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করে। ৯৬.৬ শতাংশ পর্যন্ত পণ্যের উপর ব্যাপক শুল্ক হ্রাস, ১৪৪টি সেবা উপখাতে বর্ধিত বাজার প্রবেশাধিকার, এবং পেশাদার সঞ্চালনের জন্য একটি যুগান্তকারী গতিশীলতা কাঠামোর সাথে, এই চুক্তিটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসবে বলে প্রস্তুত – ইইউ-র জন্য বার্ষিক ২২ বিলিয়ন ইউরো এবং ভারতের জন্য ৪.২ বিলিয়ন ইউরো আয় সৃষ্টি করবে এবং লক্ষ লক্ষ চাকরি সমর্থন করবে। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কর্ম এবং সামাজ











